বৃহঃস্পতিবার ১২ই ডিসেম্বর ২০১৯ |

ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা থেকে সাবধান

 সোমবার ২২শে এপ্রিল ২০১৯ সকাল ০৯:৩৯:৩৯
ফ্রি

ভিসা কী এবং কেন প্রয়োজন?

ভিসা হলো কোন দেশে অস্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি স্বরূপ সেই দেশের ইমিগ্রেশন কর্তৃক প্রদত্ত অনুমতিপত্র যা পাসপোর্টের ওপর বিশেষ ভাবে সিল হিসেবে দেয়া থাকে। ভিসা ছাড়া কোন দেশে বৈধভাবে প্রবেশ করা যায় না। শ্রমিক হিসেবে বিদেশে কাজ করতে গেলে পাসপোর্টে অবশ্যই এমপ্লয়মেন্ট (কর্ম সম্পর্কিত) ভিসা যুক্ত করতে হবে।

ভুয়া ভিসা/জাল ভিসা

ভুয়া বা জাল ভিসায় দেশ ত্যাগের চেষ্টা করলে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আটক ও আইনভঙ্গের জন্য বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

ইমিগ্রেশন অতিক্রম করতে পারলেও বিদেশে পৌঁছানোর পর বিদেশের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে আটক এবং কারাগারে প্রেরিত হতে পারেন। এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জেল হতে পারে এবং দেশে ফিরে আসলেও আইনের মুখোমুখি হতে হয়।

ভুয়া ভিসা নিয়ে কারো পক্ষেই সফল অভিবাসনের মাধ্যমে অভিবাসনের খরচ তুলে আনা সম্ভব নয়।

‘ফ্রি ভিসা’

কোন অবস্থায় ‘ফ্রি ভিসা’ নিয়ে বিদেশ যাওয়া উচিত নয়। ‘ফ্রি ভিসা’ বলে কোন ধরনের ভিসা নেই। 

তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসা’ নিয়ে বিদেশ গেলে পুলিশ/ চাকরিদাতার দ্বারা বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ও হয়রানির শিকার হতে হয়। চাকরিদাতা বলতে পারে শ্রমিক তার কর্মস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছে। কাতারে যাওয়ার জন্য খরচের কোন আনুষ্ঠানিক হার নির্ধারণ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নেই। বেশির ভাগ মানুষ যায় রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে অথবা কোনো আত্মীয়ের পাঠানো ভিসার মাধ্যমে। ‘ফ্রি ভিসা’ বলে কাতারের আইনে কোনো ভিসা নেই। 

কিছু কিছু কফিল আছে যারা ফ্রি ভিসার নামে বাংলাদেশী দালালদের সাথে ব্যবসা করে। এতে করে কোনো কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই, তবে প্রতি বছর অনেক রিয়াল খরচ করে চুক্তি নবায়ন করতে হয়, নবায়ন না করলে পুলিশ ধরলে কেউ নিশ্চয়তা দেয় না, বছরের পর বছর জেলে থাকতে হয়। এইভাবে বিদেশে যাওয়ার ফলে অনেক বাংলাদেশী শ্রমিক বিদেশে গিয়েও বেকার বসে থাকেন। এদের মধ্যে হতাশা তৈরী হয়, ফলে তারা মাদকগ্রহণসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে।

মনে রাখবেন, কাতারে আপনি যে কোম্পানি বা ব্যক্তির ভিসায় আসবেন, আপনাকে সেখানেই কাজ করতে হবে। অন্য কোথাও কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়লে সোজা পুলিশের হাতে আটক হবেন এবং দেশে ফেরত যেতে হবে। 

আরও পড়ুন: প্রবাসীদের লাগেজে সরকারের নতুন নিয়ম

ভিসা সংগ্রহ করার সময় করণীয়

  1. লাইসেন্সপ্রাপ্ত বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যাবার কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
  2. সরকারের তালিকাভূক্ত এজেন্সি ছাড়া অন্য কোনো এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া যাবে না।
  3. কোনো দালাল বা সাব এজেন্টের সাহায্য নিলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিμুটিং এজেন্সির সাথে তাদের সম্পর্ক যাচাই করতে হবে।
  4. আত্মীয় পরিজনের কাছ থেকে ভিসা সংগ্রহ করলে তা সঠিক কিনা বিএমইটি/ ডিইএমও অফিস থেকে যাচাই করে নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে অভিবাসনেচ্ছুক ব্যক্তি নিজেই ভিসা যাচাই করতে পারেন।
  5. ইংরেজি ছাড়া অন্যকোন ভাষায় ভিসা হয়ে থাকলে অনুবাদকের সাহায্য নিতে হবে।
  6. আত্মীয়-পরিজন হতে ভিসা নিয়ে বিএমইটিকে পাশ কাটিয়ে অভিবাসন করা উচিত না। উক্ত ভিসার ভিত্তিতে
  7. বিএমইটি’র ছাড়পত্র নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিএমইটি’র ছাড়পত্র বা স্মার্ট কার্ড ছাড়া অভিবাসন করলে
  8. অভিবাসী শ্রমিক অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন। এছাড়াও বিএমইটি’র ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশ গেলে অভিবাসী
  9. শ্রমিক যদি কোনো প্রতারণার শিকার হয় তবে বিএমইটি তাকে সাহায্য করে।
  10. কেউ জালিয়াতি বা প্রতারণা করলে বিএমইটি, ডিইএমও এবং অভিবাসন সংক্রান্ত বিশেষ কোর্টে বিচার পাওয়া যায়। জালিয়াতির বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল কোর্টেও বিচার চাওয়া সম্ভব।
  11. প্রতিটি টাকা পয়সা লেনদেনের সময় রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স ও ফোন নম্বর সম্বলিত রশিদ গ্রহণ করতে হবে।
  12. সম্ভব হলে লেনদেনের সময় এক বা একাধিক স্বাক্ষী রাখা উচিত।


মনে রাখতে হবে

  1. সরকারী উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যে যেতে টিকেটসহ সর্বমোট ৮৪,০০০ (চুরাশি হাজার) টাকা সরকারিভাবে ধার্য করা হয়েছে।
  2. নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে যেতে ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা লাগে।
  3. যেহেতু কাতারের সাথে অভিবাসী শ্রমিক সম্পর্কিত কোন চুক্তি নাই তাই রিক্রটিং এজেন্সি শ্রমিককে প্রতারিত করতে পারে।
  4. কাতার একটি উন্নত আয়ের দেশ তাই রিক্রুটিং এজেন্সি শ্রমিককে প্রলুব্ধ করে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কাতারে অভিবাসনের ব্যবস্থা করে, যা কখনোই যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত নয়। কারণ বাংলাদেশের স্বল্পদক্ষ শ্রমিকগণ কাতারে যে মজুরি পায় তা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মত বিশাল বিনিয়োগ তুলে এনে নিজের ও পরিবারের অভাব মোচন করা দূরূহ হয়ে পড়ে

আরও পড়ুন:

কাতারে স্থায়ীভাবে থাকতে হলে যা করবেন

পরামর্শ ডেস্ক

সংশ্লিষ্ট খবর