বৃহঃস্পতিবার ১২ই ডিসেম্বর ২০১৯ |

কোম্পানির কাছ থেকে টিকেট পাওয়ার নিয়ম

তামীম রায়হান |  শনিবার ১৮ই মে ২০১৯ বিকাল ০৪:০০:১১
কোম্পানির

কাতারে কর্মরত বিদেশি কর্মীর ইকামা বা পরিচয়পত্রের মেয়াদ শেষে যদি নিয়োগকর্তা আর সেটি নবায়ন না করেন এবং কর্মীকে দেশে পাঠিয়ে দিতে চান, সেক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা ওই কর্মীর দেশে চলে যাওয়ার জন্যটিকেট করে দেবে। 

যখন কোনো কারণবশত কোম্পানির সঙ্গে কর্মীর সম্পর্ক ছিন্ন হয় এবংনিয়োগকর্তা যদি কর্মীর ইকামা বা পরিচয়পত্র বাতিল করে দেন, তবে সেক্ষেত্রেও নিয়োগকর্তা ওই কর্মীকে তার দেশে চলে যেতেটিকেট দেবেন।

এ প্রসঙ্গে একটি বিষয় বিশেষভাবে জেনে রাখা ভালো, সেটি হচ্ছে- একজন কর্মী যদি নিজ প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনোপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এবং এই অপরাধে ধরা পড়ার পর তাকে দেশে চলে যেতে হয়, তবে সেক্ষেত্রে তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, সেই প্রতিষ্ঠান তার টিকেটের মূল্য বহন করবে। 

তবে বিদেশি কর্মী যদি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করে থাকেন, কিন্তু এখন আর সেই প্রতিষ্ঠানটি খুজে পাওয়া যাচ্ছে না, তবে এই কর্মী দেশে যাওয়ার বেলায় নিজের টিকেট নিজে বহন করবে।কারণ,এই কর্মী তো নিজের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন না, ফলে তিনি টিকেটের হকদার হিসেবে বিবেচিত হবেন না।

নিজের প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে ধরাপড়ার পর কোনো কর্মীকে যখন দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তখন যদি ওই কর্মী নিজের অর্থে দেশে যেতে অক্ষম হন কিংবা যে কোম্পানিতে কাজকরতে গিয়ে তিনি ধরা পড়েছেন, সেই কোম্পানির খোজ পাওয়া না যায়, তবে এক্ষেত্রে কর্মীর আসল নিয়োগকর্তা তার টিকেটের মূল্য বহনকরবেন।

যদি কোনো নিয়োগকর্তা সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকেন এবং তারঅধীনে কর্মরত কোনো কর্মীর টিকেট দিতে তিনি অস্বীকার করেন, তবে সেক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় চাইলে তার বেতন থেকে টিকেটেরমূল্যপরিমাণ অর্থ কেটে রাখতে পারবে।

কাতারে কোনো বিদেশি কর্মীর মৃত্যু হলে ওই কর্মীর লাশ দেশেপাঠানোর সমুদয় খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবে। আর যদি লাশ কাতারে দাফন করতে হয়, সেক্ষেত্রেও দাফনের সব খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবে।

কাতারের শ্রম আইন অনুসারে, কাতারের বাইরে থেকে কোনো কর্মীকে নিয়োগ দেওয়ার পর ওই কর্মীকে প্রথমবারের মতো কাতারে আসার টিকেট দেবে নিয়োগকর্তা। এরপর চুক্তিপত্র অনুসারে প্রতি বছর বা দুই বছর পরপর দেশে যাওয়া ও আবার কাতারে আসার টিকেট দেবে নিয়োগকর্তা। চুক্তিপত্রের মেয়াদ শেষে কর্মী দেশে চলে যেতে চাইলে সেক্ষেত্রেও কর্মীকে চলে যাওয়ার জন্য টিকেট দিতে বাধ্য থাকবেন নিয়োগকর্তা।

এই টিকেট কেবলমাত্র কর্মীর নিজ দেশে যাওয়া-আসার বেলায় প্রযোজ্য হবে। কর্মীকে যে দেশ থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেই দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে যাওয়া-আসার জন্য টিকেট দিতেনিয়োগকর্তা বাধ্য নন।

কাতারে থাকাকালে অনেক কর্মী উপরোক্ত বিষয় জানেন না বলেনিজেদের এই অধিকার ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। কখনো কখনো চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকার পরও কর্মীর অজ্ঞতার সুযোগে কোম্পানি তাকে টিকেট দেয় না। এটি কাতারের আইন অনুসারে অবৈধ। এসব ক্ষেত্রে কর্মী চাইলে কাতারের শ্রম মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। 

আরও জেনে রাখুন

ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা থেকে সাবধান

কোথায় গাড়ি থামালে কত জরিমানা

কফিলের কোম্পানি ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করার নিয়ম

তামীম রায়হান

কাতার প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক

সংশ্লিষ্ট খবর