বৃহঃস্পতিবার ৯ই এপ্রিল ২০২০ |

রিয়াদে প্রকাশ্যেই ধূমপান করছেন সৌদি নারীরা

 বুধবার ১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ ভোর ০৫:০৭:১১
রিয়াদে

রিয়াদের বিলাসবহুল একটি ক্যাফেতে চেয়ারে বসে চারদিকে খুব সতর্কতার সঙ্গে চোখ রাখছেন রিমা। দেখছেন সেখানে কেউ তার পরিচিত আছেন কিনা। এরপরই ইলেক্ট্রনিক সিগারেটে টান মেরে বাতাসে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছাড়লেন তিনি। সৌদি আরবের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৭ বছর বয়সী এই তরুণী এএফপিকে বলেন, আমি মনে করি প্রকাশ্যে এই ধূমপান আমার সদ্যজয়ী স্বাধীনতার অবাধ চর্চার অংশ।

বিশ শতকের গোড়ার দিকের পাশ্চাত্যের নারীবাদীদের মতো একুশ শতকে সৌদি আরবে সামাজিক পরিবর্তনের যুগে এসে দেশটির নারীরা সিগারেট, সিসা পাইপ অথবা ভ্যাপিং টানাকে ‘মুক্তির প্রতীক’ হিসেবে নিয়েছেন।

সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী ডি ফ্যাক্টো নেতা ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সামাজিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশটিকে ব্যবসাবান্ধব করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। তার এসব উদ্যোগের কারণে দেশটির নারীরা এখন প্রকাশ্যে গাড়ি চালানো, খেলার মাঠে অংশগ্রহণ ও কনসার্টে যোগ দিতে পারছেন। মাথার চুল সোনালি রংয়ের হিজাবে ঢেকে চিরায়ত কালো কাপড়ের আবায়া পরিহিত সৌদি এই তরুণী বলেন, পুরুষদের মতো নারীরাও এখন অবাধে ধূমপান করতে পারেন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নারী বলেন, এখানে নারীদের ধূমপান এখনো অসম্মানজনক এবং কেলেঙ্কারি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এক মেয়ে বন্ধুর ধূমপানের খবর পরিবারের সদস্যরা জেনে যাওয়ার পর তাকে মাদকাসক্ত ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় উল্লেখ করে ওই নারী বলেন, আমার পরিবার যখন আমাকে একজন ধূমপায়ী হিসেবে মেনে নেবে, তখন আমার অধিকারগুলো পূর্ণ শ্রদ্ধা পাবে।

সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অনুষদের ২০১৫ সালের এক গবেষণার বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানায়, দেশটির হাই স্কুলগামী প্রায় ৬৫ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী গোপনে ধূমপান করেন। যে দেশটিতে মাত্র কয়েক বছর আগেও নেইল পলিশ ব্যবহার অথবা হিজাবের ফাঁক গলে চুল বেরিয়ে পড়ার কারণে মেয়েদের তাড়া করে ধরত ধর্মীয় পুলিশ, সেই দেশটিতে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনো বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উত্তর রিয়াদের একটি ক্যাফেতে কর্মরত লেবানিজ এক ওয়েটার বলেন, আমাদের অধিকাংশ নারী গ্রাহক এখন সিসার অর্ডার করেন। এটি এমন একটি বিষয় যা তিন মাস আগেও ছিল কল্পনাতীত।

সংশ্লিষ্ট খবর