সোমবার ২৫শে মে ২০২০ |

কাতারে বিমানবন্দরের ইতিহাস

 শনিবার ২৩শে মার্চ ২০১৯ রাত ১২:২৬:২৪
কাতারে

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাতারের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এটি বর্তমানে বিশ্বের আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বিমানবন্দরগুলোর একটি। রাজধানী দোহা থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৬ সালে। 

২০১৪ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হলেও এর পূর্ণ নির্মাণকাজ এখনো চলমান। কিন্তু আজ থেকে অনেক বছর আগে- কেমন ছিল কাতারের বিমানবন্দরের চিত্র, এই সংক্ষিপ্ত লেখায় আমরা চেষ্টা করবো ফিরে যেতে ফেলে আসা দিনগুলোর সেই পুরনো কাতারে।

সেকালে কাতারে একাধিক বিমানবন্দর ছিল। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীদের জন্য ব্যবহৃত হতো একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এটির দূরত্ব ছিল তৎকালীন দোহা থেকে পাঁচ কিলোমিটার। বিমান ওঠানামার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছিল তাতে। ছয় হাজার তিনশ ফুট লম্বা এবং দেড়শ ফুট একটি রানওয়ে ছিল। 

যে কোনো সামরিক এবং বেসামরিক বিমান এই রানওয়েতে স্বাচ্ছন্দ্যে ওঠা নামা করতে পারত। সাধারণত সপ্তাহে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট তখন এই বিমানবন্দরে অবতরণ করত।  

মূল বিমানবন্দর ভবনে বিশ্রামস্থল, কার্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা অফিস এবং পাসপোর্ট-ভিসার ইমিগ্রেশন শাখা ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অফিস ছিল। তবে সেকালে এই বিমানবন্দরটি একটি বিদেশি কোম্পানি পরিচালনা করত। কোম্পানির নাম ছিল ‘রেডিও আন্তর্জাতিক এভিয়েশন কোম্পানি’। বিমানবন্দরে কর্মরত বেশিরভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছিলেন বিদেশি।

এই বিমানবন্দরের বাইরে একটি বেশ বড় ও প্রশস্ত বিমানবন্দর ছিল মিসাইয়িদ এলাকায়। ওই বিমানবন্দরে ছোটও বড় সব ধরণের উড়োজাহাজ অবতরণ করত। বিভিন্ন বিদেশি তেল কোম্পানি এবং ব্রিটেনের এয়ারফোর্স সদস্যরা এই বিমানবন্দর ব্যবহার করত। ‍

এছাড়া দুখান এলাকায় মূল শহর থেকে দু কিলোমিটার দূরে আরেকটি ছোট বিমানবন্দর ছিল, যা কেবলমাত্র তেলকোম্পানিগুলোর প্লেন ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত হত। দুখানের এই বিমানবন্দরটি ছিল কাতারের সবচেয়ে পুরনো ও প্রথম বিমানবন্দর। ১৯৪০ সালে যখন কাতারে প্রথম তেলখনি আবিষ্কৃত হয়, এর কিছুকাল পরই এই বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হয়।

আজকের মতো সেকালে আকাশজগতে কাতার এয়ারওয়েজের এমন রাজত্ব ছিল না। বরং বাহরাইনভিত্তিক একটি উড়োজাহাজ কোম্পানি উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশে অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহন করত। এটি প্রায় প্রতিদিনই এই অঞ্চলের ছয়টি দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করত। সেকালে এটির নাম ছিল ‘তাইরানুল খালিজ’ বা গালফ এয়ার। প্রতিদিন এই গালফ এয়ারের ফ্লাইট পরিচালিত হত বাহরাইন থেকে সৌদিআরব, কাতার, শারজাহ ও দুবাইয়ে। আর সাপ্তাহিক ফ্লাইট পরিচালিত হত ওমান ও অন্যান্য দুয়েকটি শহরে।

সেকালে কাতারের রাজধানী দোহা থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর শহরে আকাশপথের দূরত্ব ছিল এরকম- শারজাহ ৩৫৯ কি.মি., আবুধাবি ২৯৮ কি.মি., বাহরাইন ১৪৭ কি.মি., কুয়েত ৬০৯ কি.মি., যাহরান ১৮০ কি.মি., রিয়াদ ৫২০ কি.মি., কায়রো ২১২০ কি.মি., দামেশক ১৭০৭ কি.মি., বৈরুত ১৯৪০ কি.মি., আম্মান ১৮৬৫ কি.মি., বসরা ৭০৪ কি.মি.,।

আরো পড়ুন: যেভাবে কাতার প্রথম তেলের খনি পেল

আজকের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে বার্ষিক হারে ৩০ মিলিয়ন যাত্রীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অচিরেই এর পূর্ণ অংশ নির্মাণ কাজ শেষ হলে তা বছরে ৫০ মিলিয়ন যাত্রীকে সেবা দিতে সক্ষম হবে। ঘন্টায় বর্তমানে এতে ১০০টির বেশি ফ্লাইট ওঠানামা করে থাকে। কয়েক দশক আগে মাত্র একটি সাধারণ বিমানবন্দর থেকে আজকে বিস্ময়কর বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে কাতারের দক্ষতা ও দূরদর্শিতা অবশ্যই প্রশংসনীয়।


গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

তামীম রায়হান

কাতার প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক

সংশ্লিষ্ট খবর