সোমবার ২৫শে মে ২০২০ |

কাতারে যেসব গোত্রের বসবাস

 মঙ্গলবার ২রা এপ্রিল ২০১৯ দুপুর ১২:২১:০২
কাতারে

কাতারে একটি স্থানীয় বাজারের পুরনো ছবি

গোত্রগত বা বংশীয় পরিচয় আরবদের অবিচ্ছেদ্য ঐতিহ্য ও রীতি। যুগ যুগ ধরে আরবীয় সামাজিক জীবনে গোত্রীয় পরিচয় ও বংশজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আজকের আধুনিক সময়ে অন্যান্য আরব দেশের মতো কাতারেও এ প্রথা বহাল রয়েছে। কাতারে এমন স্থানীয় লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না যার নামের শেষে তার বংশের উল্লেখ নেই। এক কথায়, শুধু কাতার নয়, বরং আরব দুনিয়ায় বংশীয় পরিচয়বিহীন কেউ নেই বললেই চলে। 

কাতারে যেসব স্থানীয় নাগরিক বাস করেন, তারা প্রধানত দু ধরণের গোত্রে বিভক্ত। হাদারি ও বাদু। সহজ বাংলায়, শহুরে ও গ্রাম্য। আদিকাল ধরে যারা শহুরে সমাজে বাস করে, তারা চিরকাল হাদারি বা শহুরে গোত্র হিসেবে প্রসিদ্ধ। আর যাদের পূর্বপুরুষদের বাস ছিল গ্রামাঞ্চলে বা মরুর বুকে, তারা চিরকালই বাদু বা গ্রাম্য হিসেবে পরিচিত।

শহুরে গোত্র: এ ধরনের গোত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোত্র আলথানি। এই গোত্রের বংশানুক্রমিক নেতৃত্বের ফলে কাতার আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। আলথানি মূল গোত্র আরবের ঐতিহাসিক প্রসিদ্ধ গোত্র বনু তামিম। এঁদের অধিকাংশের বসবাস দোহায়। কাতারের বর্তমান আমির ও তাঁর পূর্ববর্তী আমিরদের নামের শেষে তাই আলথানি শব্দের উল্লেখ থাকে। যেমন বর্তমান আমিরের নাম শেখ তামিম বিন হামাদ আলথানি, তাঁর আগে কাতারের আমির ছিলেন শেখ হামাদ বিন খলিফা আলথানি। 


এরকম শহুরে বড় বড় গোত্রগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে- আসসুওয়াইদি, আলমুসাল্লাম, আলকুওয়ারি। এসব গোত্র থেকে আবার অনেক উপগোত্র তৈরি হয়েছে, যেগুলো নিজেদের মতো করে গোত্রীয় পদবি ব্যবহার করে থাকে।

আর গ্রামীণ গোত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় গোত্রটির নাম বনু হাজের। এছাড়া আরও রয়েছে আলমানাছির। এছাড়া আলনোয়াইম গোত্রের অনেকেও কাতারে বসবাস করেন। এটি আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহৎ গোত্রগুলোর একটি।  

উপসাগরীয় অঞ্চলে অনেক এমন গোত্র রয়েছে, যেগুলোর লোকেরা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যেমন, একই গোত্রের অনেকে সৌদিআরবে, অনেকে কাতারে, অনেকে বাহরাইনে, ওমানে এবং আরব আমিরাত ও কুয়েতে বসবাস করছে।

তবে তেলখনি আবিষ্কারের পরবর্তী সময়ে অনেক গ্রামীণ গোত্র শহুরে জীবনধারায় অভ্যস্ত হতে শুরু করে। স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা এবং জীবনমানে আধুনিকতায় আকৃষ্ট হয়ে প্রাচীন জীবনধারা থেকে অনেকে বেরিয়ে আসে।

তেলখনি আবিষ্কারের পূর্ববর্তী সময়ে কাতারের স্থানীয় লোকেরা সাগরের কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করত। সেসময় ডুব দিয়ে মুক্তা অনুসন্ধান এবং মাছ ধরা ছিল মূলত এদের প্রধান পেশা। আজকের আধুনিক কাতারে যারা তেলখনি ও গ্যাসখনিতে বিভিন্ন বড় বড় পদে কর্মরত, তাদেরই পূর্বপুরুষরা জীবনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেছেন সাগর চষে বেড়িয়ে।

১৯১২-১৯১৩ সালে তৎকালে কাতারে যেসব গোষ্ঠীর বসবাস ছিল, এর একটি তালিকা আজো সংরক্ষিত রয়েছে। সেখানে দেখা যায়, সেসময় কাতারজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় যেসব গোত্র বসবাস করত, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- বনু তামিম, আলমুহান্নাদি, আলবুআইনিন, আবু আলি, আলখোলায়ফি, আলমাআয়িদ, আলকুবাইসি, আসসুওয়াইদি, আলমান্নাই, আসসাদাহ, আলহুমায়দি, আলআম্মারি, আদদাওসারি, আলমুসাল্লাম ইত্যাদি। বর্তমানে আরও যেসব গোত্র কাতারে বাস করছে, এর মধ্যে রয়েছে, আসসোলায়তি, আলরোমাইহি, আলমান্নাই, আলগানেম, আলকাবি, আলমালেকি প্রভৃতি।

কিছু গোত্র এমনও আছে, যারা একসময়ে অভাব ও দারিদ্রের কারণে কাতার ছেড়ে চলে গিয়েছিল পারস্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। পরবর্তীতে সেখানে বিবাদ শুরু হওয়ায় তারা আবারও কাতারে ফিরে আসে। এমন গোত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে আলফখরু। এই আলফখরু থেকে উৎপত্তি হয়েছে আদদারওয়িশ, আলউবাইদান, আলখাল, আলজিদা, আলজাবের, আলহাম্মাদি, আলউবাইদালি, আলআনছারি, আলআব্দুলগানি ইত্যাদি।

কাতারে একটি অন্যতম বড় গ্রামীণ গোষ্ঠী আলমাররি। এদের গোত্রের নাম আলমুররা। মূলত কাতার ও সৌদিআরবে এই গোত্রের অধিকাংশ লোক বসবাস করে থাকেন। পাশাপাশি কুয়েত, বাহরাইন, মিসর, আরব আমিরাতেও এই গোষ্ঠীর অনেকে ছড়িয়ে আছেন।

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

তামীম রায়হান

কাতার প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক

সংশ্লিষ্ট খবর