সোমবার ২৫শে মে ২০২০ |

কাতারে শাসকদের ইতিহাস

 বুধবার ৩রা এপ্রিল ২০১৯ বিকাল ০৫:৩৯:১৩
কাতারে

উপসাগরীয় অঞ্চলে ছয়টি দেশের অন্যতম একটি দেশ কাতার। আলথানি বংশ কাতার ভূখন্ড শাসন করে আসছে যুগ যুগ ধরে। এই ভূখন্ডের শাসক হিসেবে যে ব্যক্তি মনোনীত হন, তাকে বলা হয় আমির। আমির রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই যুবরাজ হিসেবে কাউকে মনোনীত করেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের নিয়োগ দেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে শাসকদের উপাধি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন- সৌদিআরবের শাসককে মালিক (বাদশাহ অথবা রাজা), ওমানের শাসককে সুলতান, বাহরাইনের শাসককে মালিক, কুয়েতের শাসককে আমির ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসককে রইসুদ দাওলা (রাষ্ট্রপ্রধান) বলা হয়ে থাকে। তবে আরব আমিরাতের ছয়টি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রদেশের শাসককে ‘হাকেম’ বলা হয়ে থাকে।

ব্রিটেনের কাছ থেকে কাতার পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৭১ সালে। কাতারের সংবিধানে বলা আছে, কাতার শাসন করবে আলথানি বংশ। যুগ যুগ ধরে বংশ পরস্পরায় আলথানি পরিবারের নেতৃত্বে কাতার এগিয়ে চলেছে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের যাত্রায়।

ইতিহাসে দেখা যায়, আমির আহমদ বিন আলি বিন আব্দুল্লাহ আলথানি ১৯৪৯ সালে তার বাবার কাছ থেকে ক্ষমতার উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত হন। এর আগে, শেখ আব্দুল্লাহ বিন জাসেম আলথানি কাতার শাসন করেন ১৯১৩ সাল থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত। শেখ আহমদ বিন আব্দুল্লাহর হাতে কাতার পরিচালিত হয় ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত।

এরপর কাতার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ খলিফা বিন হামাদ আলথানি। তিনি ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯৫ সালে কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব নেন শেখ হামাদ বিন খলিফা আলথানি। ২০১৩ সালে তিনি নিজেরে ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আলথানির হাতে ক্ষমতার ভার ছেড়ে দেন।

কাতার যতদিন ব্রিটেনের অধীন ছিল, তখন পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ব্রিটেনের প্রভাব ও আধিপত্য ছিল। সেকালে ব্রিটেন অবশ্য এই অঞ্চলের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করত না। ফলে তখন থেকে কাতার স্বায়ত্ত্বশাসিতভাবে নিজের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেয়ে আসছে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিশ শতকের শুরুর দিকে কাতারের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৩২ হাজার। এর মধ্যে চার হাজার ছিল বেদুইন। বাকিরা স্থায়ীভাবে কাতারের বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করত।

উপসাগরীয় অঞ্চলের ইতিহাস সম্পর্কিত একটি বইয়ে লেখা আছে, সেকালে কাতারবাসীর কাছে ছিল ৪৩০টি উট, ২৫০টি ঘোড়া, পরিবহন ও মালামাল আনানেওয়ার জন্য ১৪০টি যানবাহন এবং মাছ শিকারের জন্য ২৫০টি নৌকা ও ৮১৭টি বড় আকারের নৌকা।

বিশ শতকেরও আগ থেকে কাতারবাসীর জীবিকা নির্বাহের প্রধান উপায় ছিল মুক্তা অনুসন্ধান। সাগরের গভীর তলদেশ থেকে মুক্ত আহরণ করে তা বিক্রি করে আয় করত কাতারবাসী। এছাড়া কিছু লোক মাছ শিকার করে নিজেদের জীবিকার যোগান নিশ্চিত করত।

কাতার শাসকদের কল্যাণে সেসময় থেকে কাতারবাসী নিজেদের পারস্পরিক ঐক্য ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় কাতাতের গোত্রীয় বিবাদ ও কলহ ছিল না বললে চলে।

সেকালের কাতার আজ পৃথিবীর মানচিত্রে বিস্ময়ের অপর নাম। বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতা এবং যোগ্য নেতৃত্বের কল্যাণে এই দেশ আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ।

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

তামীম রায়হান

কাতার প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক

সংশ্লিষ্ট খবর