বুধবার ২৫শে নভেম্বর ২০২০ |

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে দলের নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ সংবাদ |  বৃহঃস্পতিবার ১৩ই জুলাই ২০১৭ সন্ধ্যা ০৬:৫২:৪৪
অর্থমন্ত্রীর

গালফ বাংলা: সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থপাচার যৎসামান্য। গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দেয়া বিবৃতিতে দলের নেতাদের মধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।


কেউ বলছেন, অর্থমন্ত্রীর কাছে এ টাকা যৎসামান্য হতে পারে তবে আমাদের কাছে অনেক টাকা। আবার কেউ বলছেন, সুইস ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা যে লেনদেন করেন তার পরিষ্কার ধারণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।


আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীর ওই বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা বলছেন, অর্থমন্ত্রী মাঝে মধ্যে যে বক্তব্য দেন তা দলের জন্য ক্ষতিকর হয়।


দলের নেতারা বলছেন, সব সত্য সব সময় বলা উচিত নয়। এটি নিয়ে বিরোধী রাজনীতিকরা নির্বাচনের আগে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তারা বলেন, এর আগে অর্থমন্ত্রী সোনালী ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রী ওই সময় বলেন, `এটা তেমন কিছু নয়।'


আলাপকালে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, এ ঋণ জালিয়াতি ও সুইস ব্যাংকে অর্থপাচার আজ নতুন নয়। এটা বিএনপি সরকারের আমলেও হয়েছে। তাদের অর্থমন্ত্রী কিন্তু এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি।


নেতারা বলেন, সামনে নির্বাচন। এ সময় আমাদের মন্ত্রীরা যদি এমন কথা বলেন তাহলে বিরোধীরা এটাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন।


জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নেতারা এমন কথা বললেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে সাহস করেননি। তাদের বক্তব্য কোড করা যাবে না শর্তে আলোচনায় অর্থমন্ত্রীর অতীতের বেশকিছু বক্তব্য উঠে আসে।


আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, আমরা ছোট নেতা। আমাদের বক্তব্য প্রকাশ করলে ভবিষ্যতে অসুবিধা হতে পারে। তবে দলের সিনিয়র নেতারা বললে কোনো অসুবিধা হবে না।


সংসদে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন জাগো নিউজকে বলেন, সুইস ব্যাংকে যে অর্থপাচার হচ্ছে সেটা অর্থমন্ত্রীর কাছে যৎসামান্য হতে পারে, কিন্তু আমাদের কাছে অনেক টাকা। তিনি বলেন, ১০ টাকাও যদি পাচার হয় সেটা আমাদের দেশের টাকা। এটা অবশ্যই দেশের জন্য ক্ষতিকর।


‘পাচার হওয়া জিনিসটাই তো খারাপ। অর্থমন্ত্রী মাঝে মধ্যে এমন এমন বক্তব্য দেন যা আমি সমর্থন করি না। যেমন- এর আগে সোনালী ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হলো। এ প্রসঙ্গে উনি (অর্থমন্ত্রী) বললেন, চার হাজার কোটি টাকা তেমন কিছু না। এ ধরনের বড় বড় লেকচার দিলে হবে না। চার হাজার কোটি টাকা থাকলে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা করতে পারতাম। এখনও আমাদের দেশে লাখ লাখ গরিব মানুষ আছে। তাদের কাছে ১০-২০ টাকা অনেক কিছু। সেই দেশের অর্থমন্ত্রী এমন অসংলগ্ন কথা বলতে পারেন না।’


আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে জাগো নিউজকে বলেন, আমি মনে করি অনেক সাংবাদিক না জেনে না বুঝে রিপোর্টিং করেন। যে কারণে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।


তিনি বলেন, বিদেশে ও সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থপাচার নিয়ে অর্থমন্ত্রী পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, সুইস ব্যাংকের মাধ্যমে কীভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য হয়। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য মোটামুটি বিভিন্নভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। সুইজারল্যান্ডেও আমাদের যথেষ্ট লেনদেন আছে, ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থা অনেক উন্নত। ফলে নিকটস্থ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের দেনা-পাওনার হিসাব নিষ্পত্তি সুইস ব্যাংকের মাধ্যমেও হয়।


এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন জাগো নিউজকে বলেন, অর্থমন্ত্রী অনেক সময় বেফাঁস কথা বলেন। এটা হয়তো বা বয়সের কারণে। তবে কাউকে হেয় বা কোনো গোষ্ঠীকে ছোট করার জন্য বলেননি। সুইস ব্যাংকে পাচার যৎসামান্য বলে তিনি যে কথা উল্লেখ করেছেন, সেই টাকা হয়তো তিনি বাজেটের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বিশাল অঙ্কের বাজেটের কাছে ওই টাকা হয়তো তার কাছে যৎসামান্য মনে হয়েছে। এর আগেও তিনি সোনালী ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি নিয়ে দেয়া বক্তব্যে সমালোচনার মুখে পড়েন।


প্রসঙ্গত, হলমার্ক ও বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। বেসিক ব্যাংকের জালিয়াতিও ছিল ব্যাংকিং ইতিহাসে নজিরবিহীন। শেয়ারবাজারে দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে লাখ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে খন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে। তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।




//এইচএন

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

সৌজন্যে: জাগো নিউজ

সংশ্লিষ্ট খবর