বুধবার ২৫শে নভেম্বর ২০২০ |

ঢাকার রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ফেরা-না ফেরা

বাংলাদেশ ব্যুরো |  সোমবার ১৭ই জুলাই ২০১৭ রাত ১০:২৪:৩৮
ঢাকার

বাংলাদেশের সংসদের বাইরে থাকা প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে গেছেন। ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় একটি ফ্ল্যাইটে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে উড়াল দেওয়ার তিনদিনের মধ্যেই তার দেশে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশটির ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির প্রধান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার ঢাকার সচিবালয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় সংশয় প্রকাশ করেছেন। প্রায় কাছাকাছি সময়ে দলটির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণনেতা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও প্রশ্ন তুলেছেন খালেদা জিয়া দেশে ফিরবেন কি না। এই দেশে ফেরা নিয়ে ২০১৫ সালেও খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ক্ষমতাসীনদলের নেতারা। তবে বিএনপির নেতারা সরকারের আচরণে বেদনাহত হয়েছেন। সমালোচনা করেছেন তীব্রভাবে। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ ধরনের প্রশ্নতোলা অবান্তর এবং সঠিক কাজ নয়।

যদিও বিএনপিরনেতারা দায়িত্ব নিয়ে বলছেন না, তাদের দলনেত্রী কবে দেশে ফিরবেন। খালেদা জিয়া লন্ডনে গেছেন এবং সেখানে তার বড় ছেলে তারেক রহমানের ঠিক করা একটি বাসায় উঠেছেন। দল থেকে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়া পায়ের চিকিৎসা নিতেই লন্ডন গেছেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, চিকিৎসা শেষ হওয়ার উপর নির্ভর করছে চেয়ারপারসনের দেশে ফেরা।

তবে খালেদা জিয়া লন্ডনে কেবল নিজের চিকিৎসা নিয়েই থাকছেন না, এটা অকেটাই পরিস্কার। সেখানে তার দলের কয়েকজন ধন্যাঢ্যনেতা ইতোমধ্যেই লন্ডন পৌঁছেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ব্যবসায়ী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, তাবিথ আউয়াল, শামা ওবায়েদসহ অনেকে।


ঢাকার প্রভাবশালী একাধিক গোয়েন্দাসূত্র গালফবাংলাকে জানায়, প্রায় দুই মাস আগে থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেছে অনেক আমলা। এমনকী বিএনপির কয়েকজননেতাও বিভিন্নদেশ ঘুরে লন্ডনেই থিতু হয়েছেন। সেখানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদের বৈঠকের কথাও রয়েছে।


এদিকে নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানায়, জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাও লন্ডনে যেতে পারেন। তবে এটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নয়।


খালেদা জিয়ার লন্ডন থেকে দেশে ফেরা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এমন কথা বলা তার উচিত হয়নি। ২০১৫ সালে যখন খালেদা বিদেশ গিয়েছিলেন, তখনও আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছিলেন, তিনি আসবেন না। কিন্তু তিনি ফিরেছিলেন। এবারও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশে ফিরবেন।


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যে নেত্রী শত-শত নির্যাতনের মধ্যে লড়াই করছেন, তিনি ফিরে আসবেন না, এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। তিনি অবশ্যই তার চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরবেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন।



গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

সংশ্লিষ্ট খবর