বৃহঃস্পতিবার ২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০২১ |

কাতারে কোনো প্রবাসী মারা গেলে কী করবেন?

 রবিবার ২৭শে ডিসেম্বর ২০২০ দুপুর ১২:৪৬:০৫
কাতারে

অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনায় প্রবাসে যে কোনো অভিবাসী কর্মীর মৃত্যু হতে পারে। এছাড়া স্বাভাবিক অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করার ঘটনাও ঘটে থাকে বিদেশের মাটিতে।

মৃত্যু নামক এই অলঙ্ঘনীয় বিধান থেকে মুক্তি নেই আমাদের কারোর। তাই কাতারে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হলে কী করণীয়, সেটি আজকের আইনি পরামর্শের আলোচ্য বিষয়।

কাতারে অসুস্থ হয়ে যারা হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন, তাদের মৃত্যু সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব ধরণের সহায়তা দিয়ে থাকে। ফলে এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির বন্ধু বা স্বজনদের ভোগান্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। 

তবে হাসপাতালের বাইরে সড়কে দুর্ঘটনায় বা রুমে যে কোনো অবস্থায় কারো মৃত্যু হলে তাঁর বেলায় কী করণীয়, সেটি আমাদের জেনে রাখা উচিত।

প্রথমে আপনি ৯৯৯ এ ফোন করে ঘটনাটি জানাবেন। সেখান থেকে এম্বুলেন্স এসে লাশ নিয়ে যাবে কাতারের হামাদ কেন্দ্রীয় হাসপাতালে। 

এখানে মানবিক সেবার জন্য একটি বিশেষ অফিস রয়েছে। এই অফিস থেকে মৃত ব্যক্তির লাশ গ্রহণ ও দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব সেবা একইসঙ্গে পাওয়া যায়। ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোতে দৌড়াদৌড়ির কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।

এই মানবিক সেবা অফিস থেকে একইসঙ্গে একই সময়ে কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কাতার জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, হামাদ মেডিকেল কর্পোরেশন, হাসপাতাল এবং কাতার এয়ারওয়েজের সেবা নেওয়া যাবে। 

এক্ষেত্রে মৃতব্যক্তির লাশ গ্রহণের বেলায় মৃত ব্যক্তির মৃত্যুসনদ, পুলিশ প্রত্যয়নপত্র লাগবে। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির পাসপোর্ট এবং লাশ গ্রহণকারী ব্যক্তির পরিচয়পত্রের অনুলিপি জমা দিতে হবে।

কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস মৃত ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরণের সেবা দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ যে কোনো সময়ে ২৪ ঘন্টা এ সম্পর্কিত সেবা গ্রহণ করা যাবে। দূতাবাস থেকে সেবা নিতে হলে মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেখাতে হয়। 

এরপর দূতাবাস থেকে অনাপত্তি পত্র ইস্যু করা হয়। এটির জন্য কোনো ধরণের ফি দিতে হয় না। 

মনে রাখবেন, কাতারের আইন অনুসারে মৃত কর্মীর রাশ দেশে পাঠানোর খরচ কোম্পানি বহন করে থাকে। তবে কোম্পানি যদি তাঁর লাশ দেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় খরচ যোগান দিতে অস্বীকার করে বা কোম্পাানি খুঁজে পাওয়া না যায়, সেক্ষেত্রে দূতাবাস বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অনুরোধক্রমে বিনামূল্যে ওই কর্মীর লাশ পরিবহনের ব্যবস্থা করে থাকে।

বাংলাদেশের বিমানবন্দরে মৃত প্রবাসী কর্মীর লাশ গ্রহণের সময় দূতাবাস থেকে দেওয়া অনাপত্তি পত্র দেখাতে হয়। এর পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির লাশ গ্রহণকারীদের জন্য ইস্যুকৃত স্থানীয় পৌরমেয়র বা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দেওয়া উত্তরাধিকারী সনদ দেখাতে হয়। 

এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রবাসী কর্মীর লাশ পরিবহন ও দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়।

এসবের পাশাপাশি কোনো কর্মী যদি দুর্ঘটনাবশত বা কর্মস্থলে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন, সেক্ষেত্রে মৃত কর্মীর পক্ষ হয়ে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দূতাবাস বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে থাকে।

কাতার সম্পর্কে জানতে আরও পড়ুন 

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

কাতার,কাতারের খবর,কাতার প্রবাসী,দোহা,দোহার খবর,আজকের কাতার,আজকের দোহা,কাতারের দোহা,দোহার নিউজ,কাতারের সংবাদ,কাতার প্রবাসীদের খবর,Qatar,Doha,Qatar News,Doha News,Today Qatar News,Qatar Bangladesh,Qatar Bangla News,Doha Bangla News

গালফ বাংলা

সংশ্লিষ্ট খবর