ক্ষতিপূরণ ছাড়া হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবে না ইরান
Loading...

ক্ষতিপূরণ ছাড়া হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবে না ইরান
ক্ষতিপূরণ ছাড়া হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপপ্রধান সাইয়্যেদ মেহদি তাবাতাবায়ী গতকাল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, যুদ্ধের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবে না। ট্রানজিট ফির ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন আইনি কাঠামো বা ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চরম হতাশা ও ক্ষোভ থেকে অশালীন ও অর্থহীন কথাবার্তা বলছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন
Loading...
এদিকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দিতে আবারো কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রণালি বন্ধ রাখলে ইরানকে ‘নরক’ বানিয়ে ছাড়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ইরানে আগামী মঙ্গলবার একই সঙ্গে ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিবস’ ও ‘সেতু দিবস’ পালিত হতে যাচ্ছে। ইরানকে উদ্দেশ করে তিনি লিখেছেন, ‘ওই অভিশপ্ত প্রণালি খুলে দাও, নয়তো তোমাদের নরকে বাস করতে হবে—শুধু তাকিয়ে দেখো।’ ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার আলটিমেটাম দিলেন তিনি।
এদিকে ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন চলতি বছরের শুরুর দিকে কুর্দিদের মাধ্যমে ইরানি বিক্ষোভকারীদের কাছে অস্ত্র পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। তবে তার ধারণা, সে অস্ত্রগুলো শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের হাতে পৌঁছেনি। ঠিক কাদের মাধ্যমে বা কোন প্রক্রিয়ায় এ অস্ত্র পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।
তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘আমরা তাদের কাছে প্রচুর বন্দুক পাঠিয়েছিলাম, আর সেগুলো পাঠিয়েছিলাম কুর্দিদের মাধ্যমে। আমার বিশ্বাস কুর্দিরাই শেষ পর্যন্ত সেই অস্ত্র নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে।’ একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হতে পারে। তিনি হুমকি দেন, যদি ইরান চুক্তিতে না আসে তাহলে সবকিছু উড়িয়ে দেবেন এবং ইরানের তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার মতো পদক্ষেপও নিতে পারেন।
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ট্রাম্পের ‘বেপরোয়া পদক্ষেপ’ পুরো অঞ্চলকে অগ্নিগর্ভ করে তুলতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারকে একপ্রকার জীবন্ত নরকে ঠেলে দিচ্ছে।
বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশনা অনুসরণ করায় পুরো অঞ্চল যুদ্ধের আগুনে জ্বলতে পারে। গালিবাফ আরো সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধাপরাধের মাধ্যমে কোনো লাভ হবে না; বরং একমাত্র সমাধান হলো ইরানের জনগণের অধিকারকে সম্মান করা এবং এ বিপজ্জনক খেলা বন্ধ করা।
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
এদিকে ইরানে বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক ক্রুকে ব্যাপক অভিযানের পর উদ্ধার করেছে মার্কিন সেনারা। কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তাকে ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ কথা জানান। ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা তাকে পেয়েছি! গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
’ উদ্ধার অভিযানের বর্ণনা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানি সামরিক বাহিনী বিপুলসংখ্যক সদস্য নিয়ে হন্যে হয়ে তাকে খুঁজছিল এবং প্রায় ধরেও ফেলেছিল। আমরা দিনের আলোতেই তাকে উদ্ধার করেছি, যা বেশ অস্বাভাবিক ছিল। উদ্ধারকারী দলটিকে প্রায় ৭ ঘণ্টা ইরানের আকাশসীমায় অবস্থান করতে হয়েছিল।’
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
অবশ্য ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি গতকাল মার্কিন ওই অভিযান নস্যাৎ করে দেয়ার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন বাহিনী ইরানের মধ্যাঞ্চলে অনুপ্রবেশ করে ওই পাইলটকে বের করে নেয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিল। সে সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে মার্কিন অভিযানকে নস্যাৎ করে দেয়।
একই সঙ্গে ইরান দাবি করেছে, অভিযানে উদ্ধারকারী দলের পাঁচ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বরাতে এ তথ্য দিয়েছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি। সেখানে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে ভূপতিত একটি যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ মার্কিন ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের সময় চালানো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং ইসরায়েলের ব্যবহৃত হারমেস ৯০০ মডেলের একাধিক ড্রোন ধ্বংস করেছে। দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ইসফাহান প্রদেশে ঘটেছে বলে জানানো হয়।
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির আকাশসীমায় একাধিক সামরিক উড়োজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া আইআরজিসির এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইরানি বাহিনী দুটি মার্কিন সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ভূপাতিত করেছে। বিধ্বস্ত বিমানগুলোর ছবিও প্রকাশ করেছে আইআরজিসি।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে উদ্ধারে অভিযান চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পরিবহন বিমান বিকল হয়ে যায়। এগুলো যাতে ইরানের হাতে না পড়ে, সেজন্য বিমান দুটি ধ্বংস করার নির্দেশ দেয়া হয়।
ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে
Loading...
আরো পড়ুন
- ইরান যুদ্ধে লেবানন কেন ইসরায়েলের টার্গেট
- নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি উন্মোচন করল কাতার রিটেইল জায়ান্ট ‘আল মীরা’
- সমাজকর্মে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি: আমিরের কাছ থেকে ‘রওদা পুরস্কার’ পেলেন রফিকের সিইও
- কাতারের আকাশসীমায় ইরানের ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত
- ক্ষতিপূরণ ছাড়া হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবে না ইরান
Loading...






