২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্ভাবন ‘গ্লুকোওয়াচ’: এআই দিয়ে মাপা যাবে ডায়াবেটিস

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্ভাবন ‘গ্লুকোওয়াচ’:  এআই দিয়ে মাপা যাবে ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস রোগীদের বারবার আঙুল ফোটানোর কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে 'গ্লুকোওয়াচ' নামের এক নতুন স্মার্টওয়াচ উদ্ভাবন করেছেন কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। রক্ত না তুলে বা কোনো ধরনের ব্যথা ছাড়াই ডিভাইসটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে রক্তে গ্লুকোজের সঠিক মাত্রা মেপে দিতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. খালিদ আবু আল সৌদ-এর নেতৃত্বে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একদল ছাত্রী—নোরা আল বার্দিনি, মাজুন আল শাহওয়ানি, ফাতিমা আল কাবী ও সারা আল মুহান্নাদি এই সাফল্য অর্জন করেছেন। উদ্ভাবনটি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেটেন্টের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে।

কীভাবে কাজ করে এই 'গ্লুকোওয়াচ'?

গ্লুকোওয়াচ মূলত হৃদস্পন্দনের গতি, রক্তচাপের রিডিং ও আনুষঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্লুকোজের পরিমাণ হিসাব করে।

এর মূল সুবিধাগুলো হলো:

  • ব্যথামুক্ত পর্যবেক্ষণ: কোনো সূঁচ না ফুটিয়ে বা রক্ত না তুলে স্বাভাবিক উপায়ে গ্লুকোজ মাপা যায়।

  • মোবাইল অ্যাপ: একটি স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারী নিজেই নিজের স্বাস্থ্যের আপডেট দেখতে পারবেন।

  • জরুরি সংকেত: গ্লুকোজের মাত্রা বেশি বা কম হলে সাথে সাথে অ্যাপের মাধ্যমে সতর্কবার্তা চলে আসবে, যা চাইলে চিকিৎসক বা স্বজনদের কাছেও পাঠানো যাবে।

প্রজেক্ট থেকে আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি সাধারণ গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্ট হিসেবে কাজটির যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা পরে পূর্ণাঙ্গ গবেষণায় রূপ নেয়। ২০২৩ সালে কুয়েতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন ফেয়ার অফ দ্য মিডল ইস্ট’-এ এই উদ্ভাবনটি স্বর্ণপদক জয় করে।

সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য

গবেষক দলটি এখন এর এআই মডেলকে আরও নিখুঁত করার কাজ চালাচ্ছে, যাতে ডিভাইসটির হিসাব একদম নিখুঁত হয়। সব ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর এটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ড. আবু আল সৌদ জানান, 'কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০'-এর অংশ হিসেবেই এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। অনুমোদন পেলেই সাশ্রয়ী মূল্যে কাতারসহ বিশ্বের ডায়াবেটিস রোগীদের হাতে এটি তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

অফিসে ঘন ঘন ক্ষুধা পেলে যা করবেন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
অফিসে ঘন ঘন ক্ষুধা পেলে যা করবেন

কর্মজীবি মানুষেরা দীর্ঘ সময় পার করেন অফিসে। দীর্ঘ এই সময়ের মাঝে বার বারই ক্ষুদা লাগে। ঘন ঘন এই ক্ষুদা লাগার কারণেই আমরা ভুলভাল কিছু খাবার খেয়ে ফেলি। যার ফলে আমাদের শরীর অলস হয়ে যায় , আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই । তখন আর আমাদের কাজের দিকে আগ্রহ থাকে না। তবে এ ভুল করা যাবে না, ঘন ঘন ক্ষুদা লাগলে খাবার খাবেন তবে সেটা স্বাস্থ্যকর নাকি সেটা বিবেচনা করে খাবেন।

বাদাম শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটা খাবার। এর মধ্যে থাকে তিনটি প্রধান প্রোটিন থাকে। এদের মধ্যে হেলদি ফ্যাট, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ বাদামে থাকা বেশ উপকারী প্রোটিন। হেলদি ফ্যাট হার্ট ভালো এবং সুস্থ রাখতে যাদুকরির মত কাজ করে। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন পেশী গঠন করতে এটি খুবই সাহায্য করে। ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশে কার্ভাইড্রেটের পরিমাণ কম থাকে, তবে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে অনেকটা সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে পাশাপাশি হজম শক্তিতে দারুন কাজ করে।

তাই অফিসের উদেশ্যে যখন বাসা থেকে বের হবেন তখন, হালকা মশলা, পেয়াজ, মরিচ, লেবু এবং লবণ দিয়ে মাখিয়ে একতা ছোট বক্সে করে নিয়ে আসুন। আর কাজের ফাকে সেটা উপভোগ করুন। এতে আপনার মনও ভরলো , স্বাস্থ্যও ভালো থাকলো।

সেদ্ধ ডিম ভাজা

ডিম শরীরের জন্য খুবই স্বাস্থ্যকর একতি খাবার। ডিমে থাকে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ক্যালরি এবং কার্বহাইড্রেট। এছাড়াও ডিমে থাকে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ বা মিনারেলস। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, হাড় মজবুত ও সুস্থ রাখতে সহায়তা করে এবং রক্তাল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।

আবার এটা খুব সহজেই বাসা থেকে ক্যারি করে নিয়ে আসা যায়। তবে সমস্যা হচ্ছে সবাই শুধু সিদ্ধ ডিম খেতে পারে না, তাই একটু অন্যরকম কিছু করে নিন। যেমন ডিম সিদ্ধ করে লম্বালম্বি আধখানা করে ভাগ করে নিন। কড়াইয়ে অল্প তেল বা মাখন দিয়ে পেঁয়াজ, সঙ্গে কাঁচামরিচ যোগ করুন। আঁচ কমিয়ে ডিম উল্টে-পাল্টে নিন। লবণ-গোলমরিচ ছড়িয়ে নিলেই হবে। টিফিনে এমন খাবার খাকলে, বাইরের অস্বাথ্যকর ভাজাভুজিতে কারো নজরই যাবে না।

সবুজ মুগের চাট

সবুজ মুগ স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী একটি খাদ্য। এতে রয়েছে কপার, ফাইবার এবং প্রোটিনসহ বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর উপাদান। এই খাবারে থাকা প্রোটিন ও ফাইবার শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এদিকে অঙ্কুরিত সবুজ মুগ ত্বক ও রোগ প্রতিরোধের জন্য খুবই দারুন কাজ করে। তাই অফিসের অবসরে অঙ্কুরিত সবুজ মুগ দিয়েই চাট বানিয়ে নিয়ে আসুন। মুগ হালকা ভাপিয়ে তাঁর মধ্যে লেবুর রস, পেয়াজ, মরিচ এবং চাট মশলা দিয়ে মাখিয়ে নিয়ে আসুন। এটি খেতে খুবই সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর।

দীর্ঘ ফ্লাইটে শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখতে মেনে চলুন এই অভ্যাসগুলো

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
দীর্ঘ ফ্লাইটে শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখতে মেনে চলুন এই অভ্যাসগুলো

হাজার হাজার ফুট উঁচুতে উড়োজাহাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় আবদ্ধ থাকা, কেবিনের কৃত্রিম ও শুষ্ক আবহাওয়া, ভিন্ন টাইম জোন এবং শারীরিক দূরত্বের ক্লান্তি আমাদের স্বাভাবিক জীবনকে কিছুটা হলেও ব্যাহত করে।

জেটল্যাগ আর শারীরিক অবসাদ অনেক সময় ভ্রমণের আনন্দ ম্লান করে দেয়। অথচ একটু সচেতনতা, সঠিক পূর্বপ্রস্তুতি এবং ভ্রমণের প্রতিটি ধাপে নিজের প্রতি সামান্য যত্ন এই দীর্ঘ আর নিস্তেজ ভ্রমণকে করে তুলতে পারে দারুণ প্রশান্তিময় ও আরামদায়ক। আপনি যেন গন্তব্যে পৌঁছে ক্লান্তির বদলে একরাশ সতেজতা নিয়ে নামতে পারেন, সে জন্য পুরো ভ্রমণ আরামদায়ক করার কিছু কৌশল জেনে নিন।

ভ্রমণের পূর্বপ্রস্তুতি এবং সঠিক পোশাক নির্বাচন

দীর্ঘ উড়োজাহাজে ভ্রমণের আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক পোশাক বেছে নেওয়া। উড়োজাহাজে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয় বলে ঢিলেঢালা, আরামদায়ক পোশাক পরা উচিত। লেগিংস বা সোয়েটপ্যান্টস এ ক্ষেত্রে সেরা পছন্দ। বিমানে সাধারণত পায়ের পাতা ফুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই সহজে খুলে ফেলা যায় এমন জুতা এবং পা গরম রাখার জন্য এক জোড়া সুতি বা উলের মোজা সঙ্গে রাখা ভালো।

ফ্লাইট চলাকালীন নড়াচড়া

একটানা একই জায়গায় বসে থাকা শরীরের রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায়। তাই ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর উঠে দাঁড়ানো এবং করিডরে কিছুটা হাঁটাচলা করা জরুরি। ওয়াশরুমে যাওয়ার বাহানায় অথবা বিমানের পেছনের দিকে খালি জায়গায় গিয়ে শরীর কিছুটা প্রসারিত করে নেওয়া যায়।

পর্যাপ্ত হাইড্রেশন এবং সঠিক খাবার খাওয়া

বিমানের ভেতরে বাতাস শুষ্ক থাকে বলে দ্রুত শরীর পানিশূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ২৫০ মিলিলিটার পানি পান করা উচিত। সিকিউরিটি চেকের পর ব্যবহারের জন্য একটি খালি রিফিলযোগ্য পানির বোতল সঙ্গে রাখলে খুব সহজে বিমানে পানি পান করা যায়। চা, কফি ও অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, এগুলো শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেয় এবং ডিহাইড্রেশন বাড়ায়। তবে টমেটো জুস পান করা যেতে পারে। এটি বিমানে বেশ পুষ্টিকর এবং বারবার ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন কমায়। খাবারের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াজাত ভারী খাবারের বদলে শসা, আঙুর, আপেল বা তরমুজের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল এবং কাঠবাদামের মতো হালকা ও সহজে হজমযোগ্য খাবার বেছে নেওয়া ভালো।

ভ্রমণ আরামদায়ক করার অতিরিক্ত সরঞ্জাম

দীর্ঘ যাত্রায় প্রশান্তি এবং ভালো ঘুমের জন্য সঙ্গে কিছু জরুরি জিনিস রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন ঘাড়ের জন্য একটি ভালো নেক পিলো, চোখের মাস্ক, কানের ইয়ারপ্লাগ, ময়শ্চারাইজিং ক্রিম ও লিপবাম সঙ্গে রাখতে পারেন। সম্ভব হলে টিকিট কাটার সময় উইন্ডো সিট বা অতিরিক্ত লেগরুম আছে এমন সিট বেছে নিন। এতে হেলান দিয়ে ঘুমানো সহজ হবে এবং অন্য যাত্রীদের চলাচলের জন্য বারবার উঠতে হবে না।

ডিজিটাল ও মানসিক বিনোদনের সঠিক পরিকল্পনা

ফ্লাইটের দীর্ঘ সময় মানসিক একঘেয়েমি কাটাতে বিনোদনের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া খুব দরকার। ফ্লাইটে ওঠার আগে মোবাইল বা ট্যাবলেটে আপনার পছন্দের সিনেমা, ওয়েব সিরিজ বা অডিও বুক ডাউনলোড করে রাখুন। কারণ, অনেক সময় বিমানের বিনোদনব্যবস্থায় বিকল্পের পরিমাণ সীমিত হতে পারে। স্ক্রিন টাইম বেশি হলে চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তাই মাইন্ডফুলনেস মিউজিক বা রিল্যাক্সিং পডকাস্ট শুনে চোখ বন্ধ করে মানসিক বিশ্রাম নিন।

অবতরণের পর শরীর পুনরুদ্ধার

বিমান থেকে নামার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা শরীরে রক্তসঞ্চালন পুনরায় স্বাভাবিক করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দরে এস্কেলেটর বা লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে যাওয়া ভালো। গন্তব্যে বা হোটেলে পৌঁছে বিছানায় শুয়ে পা দুটি সামান্য উঁচুতে তুলে ধরে বাতাসে সাইকেল চালানোর মতো নড়াচড়া করলে পায়ের ক্লান্তি ও ব্যথা দ্রুত দূর হয়। পর্যাপ্ত পানি পান করে এবং হালকা খাবার খেয়ে শরীর নতুন টাইম জোন ও বায়ুচাপের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সময় দিন।

সূত্র: সেইফ অ্যান্ড হেলদি ট্রাভেল