১৮ অক্টোবর ২০২৬

সৌদিতে হুতিদের ‘বেপরোয়া’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সৌদিতে হুতিদের ‘বেপরোয়া’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

সৌদি আরবের ওপর ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এসব হামলার মধ্যে সৌদি রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে চালানো ‘বেপরোয়া হামলাও’ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ এ নিন্দা জানায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২০ বার হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও গ্রিসের প্রতিনিধি ইভাঞ্জেলোস সেকেরিসের প্রকাশ করা যৌথ বিবৃতিতে ১৫ সদস্যের পরিষদ জানায়, সৌদি আরবের ওপর হুতিদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুতিদের ধারাবাহিক হামলা ও হুমকিরওদ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের নিজস্ব অধিকার রয়েছে বলে নিরাপত্তা পরিষদ নিশ্চিত করেছে।

বিমানবন্দরে হামলার পর বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা মদিনা অঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ইসলামের অন্যতম পবিত্র শহর মদিনায় হামলার এ খবর সামনে এলেও হুতিরা এর দায় অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি এর আগে একাধিকবার বলেছে, তারা ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোতে হামলা চালাবে না।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা। হামলায় প্রাসাদ চত্বরে অবস্থিত কমান্ড সেন্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কেন্দ্র ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এবং তাদের সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ব্যবহার করত।

ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ জানিয়েছেন, এ হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই স্থানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং বেসামরিক কর্মচারীরা রয়েছেন।

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে।

সৌদিতে হুতিদের ‘বেপরোয়া’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সৌদিতে হুতিদের ‘বেপরোয়া’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

সৌদি আরবের ওপর ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এসব হামলার মধ্যে সৌদি রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে চালানো ‘বেপরোয়া হামলাও’ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ এ নিন্দা জানায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২০ বার হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও গ্রিসের প্রতিনিধি ইভাঞ্জেলোস সেকেরিসের প্রকাশ করা যৌথ বিবৃতিতে ১৫ সদস্যের পরিষদ জানায়, সৌদি আরবের ওপর হুতিদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুতিদের ধারাবাহিক হামলা ও হুমকিরওদ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের নিজস্ব অধিকার রয়েছে বলে নিরাপত্তা পরিষদ নিশ্চিত করেছে।

বিমানবন্দরে হামলার পর বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা মদিনা অঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ইসলামের অন্যতম পবিত্র শহর মদিনায় হামলার এ খবর সামনে এলেও হুতিরা এর দায় অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি এর আগে একাধিকবার বলেছে, তারা ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোতে হামলা চালাবে না।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা। হামলায় প্রাসাদ চত্বরে অবস্থিত কমান্ড সেন্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কেন্দ্র ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এবং তাদের সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ব্যবহার করত।

ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ জানিয়েছেন, এ হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই স্থানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং বেসামরিক কর্মচারীরা রয়েছেন।

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে।

হরমুজে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউম, কোথা থেকে এলো এসব?

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
হরমুজে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউম, কোথা থেকে এলো এসব?
হরমুজ প্রণালিতে সাগরে ভাসতে দেখা গেছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সাগরে ভাসতে দেখা গেছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল। বুধবার সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনারবাহী জাহাজ জিএফএস প্রাইড ডুবে যাওয়ার পর এসব পণ্য সংগ্রহ করতে ছোট নৌকা নিয়ে সাগরে নামতে দেখা যায় কয়েকজনকে।

জাহাজটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনও ধরনের প্রজেক্টাইলের আঘাতে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ। তবে ইরানের দাবি, ‘জাহাজটি নৌমাইনের আঘাতে ডুবেছে’।

ইন্ডিয়া টুডে টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ডুবে যাওয়া জাহাজের আশপাশে সাগরে ছড়িয়ে থাকা পণ্য ছোট নৌকায় সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি।

জাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটি ডুবে যায়। সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজের ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

জিএফএস প্রাইডে দুবাই থেকে পরিবহন করা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কনটেইনার পণ্য ছিল বলে জানা গেছে। এসব পণ্যের মধ্যে দামি পারফিউম ও আইফোনও ছিল।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দাবি, নৌমাইনের আঘাতে জাহাজটি ডুবে গেছে। তবে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ বলছে, অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজটি কীভাবে ডুবেছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

সূত্র: দ্য সিএস জার্নাল

ইরানে স্টারলিংক ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
ইরানে স্টারলিংক ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ স্টারলিংককে ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করে অভিযোগ করেছে, শত্রুরা এটি গুপ্তচরবৃত্তি ও সামরিক অভিযানে ব্যবহার করছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সাইবারস্পেস কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ আমিন আগামির বলেন, স্টারলিংকের সংযোগ ব্যাহত করার মতো একাধিক ব্যবস্থা দেশটির কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে। তার দাবি, শত্রুরা সামরিক নির্দেশনা, গুপ্তচরবৃত্তি ও তথ্য সংগ্রহের কাজে এই সেবা ব্যবহার করছে।

ইরানে স্টারলিংক ব্যবহার বা নিজের কাছে রাখার দায়ে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আর এর যন্ত্রাংশ আমদানি বা বিতরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

চলতি বছর ইরানে দুই দফায় দীর্ঘ সময়ের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর টানা ৮৮ দিন ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ ছিল।

সরকারি সেন্সরশিপ এড়িয়ে যোগাযোগের জন্য স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও যুদ্ধ আরও তীব্র হলে ইন্টারনেটে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা।

সূত্র: আলজাজিরা

২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবল দুটি পণ্যবাহী জাহাজ, বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবল দুটি পণ্যবাহী জাহাজ, বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক
হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স

গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির কাছে পৃথক দুটি ঘটনায় অজ্ঞাত হামলার শিকার হয়ে দুটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ইরান হামলা বাড়ানোর মধ্যে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। খবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটির বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার প্রণালি অতিক্রম করার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ জিএফএস প্রাইড হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং পরে সেটি ডুবে যায়। জাহাজের সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সিএনএন যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, জাহাজটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সময় তা থেকে কালো ধোঁয়া উঠছে। পরবর্তী সময়ে ধারণ করা ভিডিও ও স্যাটেলাইট চিত্রে পানিতে ছড়িয়ে থাকা পণ্য এবং তেলের একটি ছোট স্তর দেখা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, জাহাজটি অনুমোদনহীন পথে চলতে গিয়ে সমুদ্রের মাইনে আঘাত করেছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা এ দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ড্রোন হামলার কারণে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ কেপ দাও ডুবে গেছে বলে গত বুধবার জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা (আইএমও)। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাহাজটি প্রথমবারের মতো অজ্ঞাত বস্তু থেকে হামলার শিকার হয়েছিল। এ ঘটনায় ভারতের একজন নাবিক নিহত হন।

আইএমওর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর হরমুজ প্রণালিতে অনেক জাহাজ হামলার শিকার হলেও, ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে ডুবে যাওয়া জাহাজের মধ্যে এগুলো দ্বিতীয় ও তৃতীয়।

অকার্যকর পুরোনো মিত্রতা ও সংকটের নতুন যুগে মধ্যপ্রাচ্য

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
অকার্যকর পুরোনো মিত্রতা ও সংকটের নতুন যুগে মধ্যপ্রাচ্য

শনিবার হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। এই নিবন্ধ লেখার সময় পর্যন্ত জানা গেছে, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে এক নতুন মোড় নিল।

ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিই ছিল কোনো উপসাগরীয় দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণঘাতী হামলা। এ ধরনের মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনায় সৌদি আরব অভ্যস্ত নয়। হতবিহ্বলজনক এই বিপুল মৃত্যু সেখানে এক রক্তাক্ত প্রতিশোধের আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

গত এক বছরে উপসাগরীয় অঞ্চল নতুন এক অস্থিরতার যুগে ঢুকে পড়েছে, যা সাময়িক নয় এবং কোনোভাবেই পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। প্রথম দর্শনে এটি কিছুটা অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে। গাজা ও ইরানের তুলনায় এখানে হতাহতের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম। তবে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তার এই ধারাবাহিক অবক্ষয় পুরো অঞ্চলকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যা সেখানকার শাসকদের পক্ষে হজম করা কঠিন।

প্রথম অভাবনীয় ও দুঃসাহসিক ঘটনাটি ঘটেছিল ঠিক এক বছর আগে। তার পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে কাতারের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। দোহারের আকাশ আর চারদিকে ছড়ানো স্প্লিন্টারের সেই দৃশ্য ছিল কাতারিদের জন্য এক তীব্র হতাশার মুহূর্ত। কারণ তারা এতদিন ইরানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে।

তবে তখনও ইরানের পক্ষ থেকে কিছুটা সতর্কবার্তা ও সমন্বয় ছিল, যা নির্দেশ করছিল– এটি কেবল মুখ রক্ষার একটি পদক্ষেপ। কিন্তু ২০২৫ সালে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা বা সমন্বয় ছাড়াই দোহায় আঘাত হানে ইসরায়েল। হামাস সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো সেই হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি ও একজন কাতারি নাগরিক নিহত হন।

এর মধ্য দিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী রীতি ও বিশ্বাসের অন্তিম যাত্রা শুরু হয়। এর আগে ধারণা ছিল যে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতার মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলের জীবন ও সার্বভৌমত্বের পবিত্রতা নিশ্চিত রাখা সম্ভব।

এরপর এলো ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইরান যুদ্ধ, যা উপসাগরীয় দেশগুলোকে পুরোপুরি এই সংঘাতের দাবানলে টেনে আনে। ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানে রাজনৈতিক, সামরিক ও লজিস্টিকস সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে তেহরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমানে।

ইরান একযোগে সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি কেন্দ্র ও পানি শোধন প্লান্টগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, যেসব অবকাঠামো মূলত এসব দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। তবে জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়া, মাসের পর মাস স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকা এবং বিমানবন্দর ও আকাশসীমা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হয় বহু গুণ।

উপসাগরীয় শাসকদের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে অন্য জায়গায়। পর্যটন, উদ্যোক্তা, খেলাধুলা ও বিনোদনের এক আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার যে স্বপ্ন তারা দেখেছিল, এসব হামলা সেই ভাবমূর্তিকে পুরোপুরি চুরমার করে দিয়েছে। ফর্মুলা ওয়ান, গলফ ও বক্সিংয়ের বিশ্বমানের আয়োজন টানতে তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল। কিন্তু কয়েকটি সস্তা ড্রোন এসে এক নিমেষে তাদের সব বিনিয়োগ ঝুঁকিতে ফেলে দিল।

এর পরিণতিতে শুরু হলো এক বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা, যা এতদিন সুপ্ত থাকা পুরোনো শত্রুতাগুলোকে আবার জাগিয়ে তুলেছে। সংখ্যালঘু শিয়া অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির রাজধানী সানা দখল করে নিলে ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এরপর ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত একটি জোট হুতিদের উৎখাত করতে এক নির্মম সামরিক অভিযান শুরু করে।

এটি এক দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়, যা লাখ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। এতে সৃষ্টি হয় এক চরম মানবিক বিপর্যয়। ২০২২ সালে যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়; হুতি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সৌদি-সমর্থিত সরকারের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তি না হলেও দেশটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যেও কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল।

ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে পারছেন না। গাজার ক্ষত এখনও তাজা। অন্যদিকে ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন অংশে বিমান হামলা ও দখলদারিত্ব বজায় রেখেছে। এ অঞ্চলে হুতি বিদ্রোহীদের এই পুনরুত্থান এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। যে অঞ্চল আজ সম্পদ ও প্রাণ হারাচ্ছে এবং আটকে গেছে এমন এক পুরোনো মিত্রতার মাঝে, যা আর কাজ করছে না। অঞ্চলটি এখন এমন এক নতুন শত্রুতার মুখে, যা মোকাবিলা করা তাদের জন্য অত্যন্ত বিপর্যয়কর।

নাসরিন মালিক: গার্ডিয়ানের কলাম লেখক