বুধবার ২১শে অক্টোবর ২০২০ |
‘মাসুদ রানা’ নিয়ে মামলা

আবিষ্কারক কাজী, ২৬০ বইয়ের লেখক হাকিম

 মঙ্গলবার ১৬ই জুন ২০২০ দুপুর ০২:৫৫:১২
আবিষ্কারক

প্রায় ১০ বছর আগে নিজেকে থ্রিলার সিরিজ ‘মাসুদ রানা’র লেখক দাবি করে বাংলাদেশ কপিরাইট রেজিস্ট্রার অফিসে অভিযোগ জানিয়েছিলেন শেখ আবদুল হাকিম। বিষয়টি প্রথমে গুরুত্ব পায়নি। গত বছর আবার অভিযোগ করেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে আইনি লড়াই শেষে গতকাল রোববার বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস আবদুল হাকিমের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

এর ফলে ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব পেতে যাচ্ছেন আবদুল হাকিম।

সেবা প্রকাশনীর জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মাসুদ রানা’র লেখক হিসেবে সবাই মূলত কাজী আনোয়ার হোসেনকেই জানেন। কিন্তু এ সিরিজের প্রথম ১৮টি বইয়ের পরের ২৬০টি বইয়ের লেখক তিনি নন। এর লেখক শেখ আবদুল হাকিম। অথচ একটি বই বাদে কোনোটিতেই কপিরাইট স্বত্ব নেই তাঁর। একইভাবে সেবা প্রকাশনীর আরেক জনপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ ‘কুয়াশা’রও ৫০টি বই আবদুল হাকিমের লেখা হলেও লেখক হিসেবে নাম রয়েছে কাজী আনোয়ার হোসেনের।

গত বছরের ২৯ জুলাই আবদুল হাকিম ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব বা মালিকানা দাবি করে সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে শুনানি শেষে গতকাল রায় দেওয়া হয়।

রায়ে বলা হয়, সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে কপিরাইট বোর্ড বা বিজ্ঞ আদালত থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগপর্যন্ত আবেদনকারীর দাবি করা ও তালিকাভুক্ত বইগুলোর প্রকাশ বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য প্রতিপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হলো। এ ছাড়া প্রতিপক্ষকে আবেদনকারীর কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন করা প্রকাশিত বইগুলোর সংস্করণ ও বিক্রীত কপির সংখ্যা এবং বিক্রয়মূল্যের হিসাব বিবরণী এ আদেশ জারির পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী  জানান, ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই শেখ আবদুল হাকিম অভিযোগ করার পর অভিযোগকারী ও প্রতিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে শুনানি হয়। শুনানিতে আবদুল হাকিম লিখিতভাবে নিজেই তাঁর যুক্তি তুলে ধরেন। কাজী আনোয়ার হোসেনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তাঁর আইনজীবী। জাফর রাজা বলেন, আনোয়ার হোসেন চাইলে ৯০ দিনের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারবেন। এখানে তিনি হেরে গেলে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, প্রথম থেকে ২০টি সিরিজের লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন। কাজেই বলা যায়, ‘মাসুদ রানা’র ব্র্যান্ডিং কাজী আনোয়ার হোসেনই করেছেন, আবিষ্কারকও তিনি।

‘মাসুদ রানা’ ও ‘কুয়াশা’ সিরিজের লেখক হিসেবে স্বীকৃতিতে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে শেখ আবদুল হাকিম বলেন, ‘এ দুর্যোগের সময়ও খবরটি আমাকে দারুণ আনন্দ দিয়েছে, আমি খুশি। “মাসুদ রানা”র ২৬০টি এবং “কুয়াশা”র ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে আমি স্বীকৃতি পেয়েছি।’

যোগাযোগ করা হলে সেবা প্রকাশনীর পক্ষে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরও খবর

বিশ্ব শান্তি সূচকে বাংলাদেশের ৪ ধাপ উন্নতি

ঢাকায় কাতার এয়ারওয়েজের অফিসে প্রবাসীদের বিকোভ

কুয়েতে এমপি পাপুলের মামলায় নতুন মোড়

কাতারে দুপুরে বাইরে কাজ করা নিষিদ্ধ

করোনায় বিশ্বজুড়ে এক হাজার প্রবাসীর মৃত্যু

ভিডিও : করোনার দুর্যোগেও কাতারের চমক : উদ্বোধন হলো তৃতীয় বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামের 

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

সাহিত্য ডেস্ক

সংশ্লিষ্ট খবর