বুধবার ২১শে অক্টোবর ২০২০ |

এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে

 সোমবার ১২ই অক্টোবর ২০২০ রাত ০৯:৩৮:৫৩
এক

দেশের জিডিপির প্রায় ৫২ শতাংশে অবদান রাখছে অপ্রাতিষ্ঠানিক ও রেমিট্যান্স খাত। এর মধ্যে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের অবদান প্রায় ৪০ শতাংশ। আর করোনা মহামারিতে দেশের এ দুটি খাতই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতসংশ্লিষ্ট সাড়ে ছয় কোটি মানুষের মধ্যে চাকরি হারিয়েছে কিংবা পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছে কয়েক কোটি মানুষ। আর বিশ্বের ১৬০টি দেশে থাকা এক কোটি প্রবাসীর মধ্যে করোনাকালে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন তিন লাখ কর্মী। একটা সময় স্বজনের মুখে হাসি ফোটানো এসব মানুষ এখন পরিবারের বোঝায় পরিণত হয়েছেন।

করোনাদুর্যোগে বেকার হয়ে পড়া বিপুল এই জনসম্পদের কর্মসংস্থানে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একটি বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। ‘রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট বা রেইজ’ শীর্ষক এই প্রকল্পে এক লাখ লোকের চাকরির পাশাপাশি তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে।

বিদেশফেরতদের উদ্যোক্তা বানাতে পুঁজি কিংবা আবারও বিদেশে চাকরির বাজারে ঢুকতে আনুষঙ্গিক প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। এ নিয়ে দ্রুতই একটি পাইলট প্রকল্প চালু হচ্ছে। প্রকল্পে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত নিয়ে কাজ করবে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। আর বিদেশফেরতদের নিয়ে কাজ করবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পিকেএসএফের ডিএমডি ফজলুল কাদের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্পটি চালু হলে তা হবে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দেশে কর্মসংস্থানে এটি বড় ভূমিকা রাখবে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা খুবই কম সুদে ঋণ পাবে। আগামী নভেম্বরেই পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’

সূত্র মতে, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রবাসীদের আয়ে ফিরিয়ে আনার এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক দেবে এক হাজার ২৭১ কোটি টাকা। বাকি প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা দেবে পিকেএসএফ।

প্রকল্পের প্রধান টার্গেট থাকবে, করোনাকালে চাকরি হারানো কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করা। দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রায় এক লাখ মানুষকে ব্যবসাবিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ বা ৩৫ হাজার নারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

এ ছাড়া করোনায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ হাজার উদ্যোক্তাকে বিশেষভাবে সহায়তা করা হবে। সাত হাজার ‘সফল উদ্যোক্তা বা ওস্তাদের’ মাধ্যমে ৪০ হাজার যুবককে সহায়তা করা হবে। তাদের সবাই ঋণসহ আনুষঙ্গিক সব ধরনের সহায়তা পাবে।

উদ্যোক্তারা এই প্রকল্প থেকে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। ভবিষ্যতে এই ঋণের পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে। ঋণের সুদহার হবে মাত্র ১৮ শতাংশ। অন্যান্য ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এ ক্ষেত্রে ২৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়ে থাকে। একেবারে নতুন উদ্যোক্তারাও প্রকল্প থেকে অর্থায়ন পাবে। প্রকল্পে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের টার্গেট করা হবে।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির তথ্য মতে, করোনা মহামারির শিকার হয়ে এরই মধ্যে প্রায় তিন লাখ কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। তাঁদের ৮৭ শতাংশেরই আয়ের পথ বন্ধ। সরকারি-বেসরকারি কোনো সাহায্য পাননি ৯১ শতাংশ। ৭৪ শতাংশ প্রবাসী প্রচণ্ড মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ভয়ে আছেন। ৫২ শতাংশের জরুরিভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এসব তথ্য বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটিতে প্রবাসীদের পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রবাসীরা চাইলে দেশের চাকরিতে প্রবেশ করতে পারবেন। উদ্যোক্তা হতে চাইলে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। পুনরায় বিদেশে যেতে চাইলে আরো দক্ষ হয়ে উঠতে খাতভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নতুন করে বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদেরও এই প্রকল্পের অধীন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

কাতারের সব খবর পেতে আজই লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন এই পেজে

কাতারের আরও খবর

গালফবাংলায় প্রকাশিত যে কোনো খবর কপি করা অনৈতিক কাজ। এটি করা থেকে বিরত থাকুন। গালফবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন।
খবর বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন: editorgulfbangla@gmail.com

কাতার,কাতারের খবর,কাতার প্রবাসী,দোহা,দোহার খবর,আজকের কাতার,আজকের দোহা,কাতারের দোহা,দোহার নিউজ,কাতারের সংবাদ,কাতার প্রবাসীদের খবর,Qatar,Doha,Qatar News,Doha News,Today Qatar News,Qatar Bangladesh,Qatar Bangla News,Doha Bangla News,প্রবাস,প্রবাসীর খবর

সংশ্লিষ্ট খবর