২০ অক্টোবর ২০২৬

কাতার ১০ বছরের ভিসা দিচ্ছে কাদের এবং কীভাবে?

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
কাতার ১০ বছরের ভিসা দিচ্ছে কাদের এবং কীভাবে?

দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি পেশাজীবী ও বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখতে নতুন পথে হাঁটছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশ কাতার। উদ্যোক্তা ও শীর্ষ নির্বাহীদের লক্ষ্য করে ১০ বছরের আবাসিক ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ‘ওয়েব সামিট কাতার ২০২৬’–এ ঘোষিত এই কর্মসূচি কাদের জন্য, কীভাবে আবেদন করা যাবে এবং কারা সুবিধা পাবেন— সবকিছুই স্পষ্ট করা হয়েছে নতুন নির্দেশনায়।

উদ্যোক্তা ও শীর্ষ নির্বাহীদের লক্ষ্য করে দেশটি ১০ বছরের আবাসিক ভিসা কর্মসূচি চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘ওয়েব সামিট কাতার ২০২৬’–এ এই ঘোষণা দেয়া হয়।


কারা আবেদন করতে পারবেন

এই কর্মসূচি কেবল দুই শ্রেণির জন্য। তারা হলেন— উদ্যোক্তা এবং শীর্ষ নির্বাহী। সাধারণ পেশাজীবী, ফ্রিল্যান্সার কিংবা অবসরপ্রাপ্তদের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।


উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা

উদ্যোক্তাদের এমন উচ্চপ্রভাবসম্পন্ন বা উদ্ভাবননির্ভর ব্যবসা গড়ে তুলতে হবে, যা কাতারের বেসরকারি খাতের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এই ক্যাটাগরিতে যোগ্যতা অর্জন করতে হলে কাতার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পার্ক (কিউএসটিপি)–এর মতো স্বীকৃত কাতারি ব্যবসা ইনকিউবেটরের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাগবে।

এছাড়া আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও দিতে হবে। এর অংশ হিসেবে গত তিন মাস ধরে ন্যূনতম ৩৬ হাজার ৫০০ কাতারি রিয়াল (প্রায় ১০ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ লাখেরও বেশি টাকা) ব্যালান্স থাকা ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে। এটি বিনিয়োগের বিকল্প নয়; বরং মৌলিক আর্থিক সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্যই নির্ধারিত।

শীর্ষ নির্বাহী

এই ক্যাটাগরিতে চেয়ারম্যান, সিইও, সিএফও, সিওও, সিটিও এবং নির্বাহী পরিচালকরা অন্তর্ভুক্ত। আবেদনকারীর কাতারের ভেতরে বা বাইরে যেকোনও প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে পাঁচ বছরের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এক্ষেত্রে বৈধ স্থানীয় চাকরির চুক্তি বাধ্যতামূলক। যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নির্বাহীরা আবেদন করতে পারবেন, সেগুলো হলো— কাতার স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত পাবলিক কোম্পানি, কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংক অনুমোদিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংক বা কাতার ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটস অথরিটি নিয়ন্ত্রিত বীমা কোম্পানি এবং সরকারি বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা, আর্থিক, আইনি বা হিসাবসেবা দেয়া পরামর্শক প্রতিষ্ঠান।

এই ভিসার বেতনসীমাও বেশি। চেয়ারম্যান ও সি-সুইট পদে ন্যূনতম মাসিক আয় হতে হবে ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল (প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পৌনে ১৭ লাখ টাকা)। অন্য নির্বাহী পরিচালক পদে এই সীমা বেড়ে দাঁড়াবে ৮০ হাজার রিয়াল (প্রায় ২২ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা)।

কীভাবে আবেদন করবেন

কর্মসূচিটি বর্তমানে চালুর পর্যায়ে রয়েছে। অবশ্য কবে নাগাদ এটি চালু হতে পারে তার নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে ইনভেস্ট কাতার–এর মাধ্যমে যোগ্যতার শর্তগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।

কাতারের বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক ভিসার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়ায় শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির চুক্তি, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ পেশাগত ও আর্থিক নথি প্রস্তুতের মতো বিষয় থাকতে পারে।

উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ইনকিউবেটর বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন লাগবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের Hukoomi পোর্টাল, ‘Start from Qatar’ বা Jusoor (Qatar Manpower Solutions & Co.) পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদি ভিসা প্রক্রিয়ায় সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগে। কারণ এখানে মেডিকেল পরীক্ষা ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ও যাচাই করা হয়ে থাকে। বিদ্যমান পাঁচ বছরের ভিসাধারীরা নতুন ১০ বছরের ভিসায় আপগ্রেড করতে পারবেন কি না তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

অন্য কোনও বিকল্প আছে?

রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের মাধ্যমে কাতারে আবাসিক ভিসার সুযোগ আগে থেকেই রয়েছে। অনুমোদিত ফ্রি-হোল্ড আবাসিক এলাকায় ৭ লাখ ৩০ হাজার কাতারি রিয়াল (প্রায় ২ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা) বিনিয়োগ করলে স্পনসর ছাড়াই নবায়নযোগ্য আবাসিক ভিসা পাওয়া যায়।

আর ৩৬ লাখ ৫০ হাজার রিয়াল (প্রায় ১০ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি ২৪ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট কোটা সাপেক্ষে স্থায়ী আবাসনের আবেদন করা যায়।

স্থায়ী বসবাসকারীদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুবিধাও থাকে। নতুন উদ্যোক্তা ও নির্বাহী ভিসার থেকে এটি আলাদা হলেও কাতারের সামগ্রিক দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক কৌশলের অংশ।

নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব ঘোষণা দিতে যাচ্ছে কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব ঘোষণা দিতে যাচ্ছে কাতার

দোহায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সামরিক সক্ষমতা জোরদার করতে নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে তার দেশ।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিগগিরই এ অংশীদারত্বের ঘোষণা দেওয়া হবে।

উপপ্রধানমন্ত্রী আল-থানি বলেন, সম্প্রতি কাতার তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পর্যালোচনা করেছে। এ ক্ষেত্রে আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন হামলা মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা ও পানির নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

আল-থানি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মৌলিক বিষয়গুলোতে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।’ তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রতিটি দেশের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে।’

কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়েছে। তার দাবি, চলমান সংঘাতের সময় যৌথ অভিজ্ঞতা ও কয়েক দশকের সামরিক বিনিয়োগের ফলে ৯০ শতাংশের বেশি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

তেল-গ্যাসের বিশ্ববাজারে আসতে চলেছে বড় বিপর্যয়! কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
তেল-গ্যাসের বিশ্ববাজারে আসতে চলেছে বড় বিপর্যয়! কাতার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্বে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় ধাক্কা এখনও আসেনি বলে সতর্ক করেছেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি।

তার আশঙ্কা, আগামী দিন ও মাসগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

সোমবার দোহায় গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আল থানি বলেন, জ্বালানির ক্ষেত্রে আমরা এখনও সংকটের চূড়ায় পৌঁছাইনি। আগামী দিন ও মাসগুলোতে এর আরও প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

কাতার ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সামনে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তাঝুঁকি তুলে ধরে আল থানি বলেন, এর মধ্যে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কাও রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকা-েও প্রভাব পড়তে পারে।

গত মার্চে কাতারের রাস লাফান শিল্প কমপ্লেক্সে ইরানের হামলায় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব স্থাপনা মেরামত করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আল থানি বলেন, আমরা বিস্মিত হয়েছিলাম।

তবে ওই ঘটনার পর ইরানের সঙ্গে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ হামলা থেকে কাতার শিক্ষা নিয়েছে উল্লেখ করে আল থানি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো অপ্রত্যাশিত হামলা থেকে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপের বিরোধিতা করেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ট্রানজিট ফি আরোপ করা উচিত নয়। এই নৌপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা শেষ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেনি কাতার : ইরানের হামলার পরও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে দোহা বলে জানিয়েছেন আল থানি। তার ভাষায়, আমরা কখনোই যোগাযোগ বন্ধ করি না। দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

হামলার আগে ইরানের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ককে আস্থাভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেন আল থানি। দুই দেশের অভিন্ন সমুদ্রতলীয় গ্যাসক্ষেত্র এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে তার মতে, টেকসই সমাধানের জন্য আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংলাপ প্রয়োজন।

এতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্যদেশগুলো, পাকিস্তান ও তুরস্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মিত্রদেরও যুক্ত করতে হবে। আল থানি বলেন, আমাদের আস্থা তৈরি করতে হবে।

ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কয়েক দশকের বৈরিতার পর ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে গড়ে ওঠা সহযোগিতার উদাহরণ তুলে ধরেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইরান আমাদের প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে বসবাসের উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

আরও পড়ুন

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

কাতারের কাছ থেকে যেভাবে বিমান উপহার পেয়েছিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে কাতার : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন আল থানি। তার দাবি, গত তিন থেকে চার দশকে দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা সামরিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির ফলে ৯০ শতাংশের বেশি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও চলছে বলে জানান তিনি। এ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি অন্য অংশীদার দেশগুলোর সামরিক কর্মীরাও অবস্থান করেন। চলমান সংঘাতের সময় ইরান এই ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছিল।

কাতারের দাবি, মার্চের শুরুর দিকে একটি হামলার সময় তারা ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এ ছাড়া নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আল থানি। তিনি বলেন, কাতার এখন আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা ও সাইবার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

আল থানি বলেন, আজ আমি আনন্দের সঙ্গে আরও ঘোষণা করছি, শিগগিরই আমরা একটি নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেব। তবে এ উদ্যোগে কোন কোন আঞ্চলিক দেশ যুক্ত থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে নিজেদের ভূখ- রক্ষার প্রস্তুতি থাকবে না। তার ভাষায়, মধ্যস্থতা করার অর্থ এই নয় যে আমাদের পক্ষ থেকে যেকোনো প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত নয়- এমনটা ভাবতে হবে।

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক উত্তেজনা, শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা এবং দেশটির ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বিভিন্ন লঙ্ঘনের বিষয়টি বৈরুত সফরে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি।

লেবানন সফরকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর বিষয়ে আল থানি বলেন, ইসরায়েলের ক্রমাগত উত্তেজনা সৃষ্টির বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর পাশাপাশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা এবং লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের লঙ্ঘন নিয়েও কথা হয়েছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার উপায় এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিও আলোচনায় এসেছে।

আল থানি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পাদিত সব চুক্তি বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন তিনি।

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে কাতারের এই অবস্থান সামনে এল। আল থানি বলেন, প্রস্তাবটির পাশাপাশি জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বিতভাবে হওয়া সব চুক্তি কার্যকর করাও গুরুত্বপূর্ণ।

অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে কাতার ও মিসর। সম্প্রতি মিশরের রাজধানী কায়রোতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত বৈঠকে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি এবং মিসরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহমুদ তৌফিক নিজ নিজ দেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন।

সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে অপরাধ দমন এবং নিরাপত্তা ইস্যু যৌথভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে উভয় দেশ একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

লেবাননের দুর্বল হয়ে পড়া জ্বালানি খাত পুনরুজ্জীবিত করা এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট সমাধানে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কাতার।

এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন লেবানন ও কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

লেবানন সফরকালে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেন, জ্বালানি খাতে সহযোগিতার জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং বাস্তবসম্মত সমাধান উপস্থাপনে তাঁরা একমত হয়েছেন।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেবাননের সঙ্গে এ প্রকল্প নিয়ে বহু বছর ধরেই আলোচনা চলছে। এটি পুরোনো একটি উদ্যোগ হলেও এখন বাস্তবায়নের মুখ দেখতে যাচ্ছে।

জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ কাতারের এই উদ্যোগ লেবাননের দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সমস্যার সমাধানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

দেশটির জ্বালানি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে প্রকল্পটির বিস্তারিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সূত্র: ডন