৯ জুন ২০২৬

সৌদিতে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেফতার

প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
সৌদিতে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেফতার

আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবে এক সপ্তাহে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। রবিবার সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে গালফ নিউজ।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৮ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৭৬০ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৬৯০ জনকে ইতোমধ্যে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ৪ হাজার ৬০ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনে ২ হাজার ৫৭৪ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ হাজার ১২৬ জন রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থা যৌথ অভিযান চালিয়ে এই প্রবাসীদের গ্রেপ্তার করেছে।

এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় এক হাজার ১৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ইথিওপিয়ান ৭০ শতাংশ, ২৮ ইয়েমেনি ও বাকি ২ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

একই সময়ে অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টা করায় আরও ২৫ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন এবং আশ্রয় দেওয়ায় সৌদিতে বসবাসরত ১৬ ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই সপ্তাহে ৪ হাজার ৬৯০ জন অবৈধ প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর ১৪ হাজার ৪৯৫ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে ভ্রমণ নথিপত্র সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। বহিষ্কারের আগে ভ্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও ৮৫০ জনকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ হাজার ৪৫৫ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৩১৯ জন নারীসহ মোট ২১ হাজার ৭৭৪ জন প্রবাসী বর্তমানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে অবৈধভাবে প্রবেশে সহায়তার চেষ্টাকারী ব্যক্তির ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে বারবার সতর্ক করে দিয়ে আসছে।

মরু অঞ্চলের দেশ সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বসবাস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক সৌদিতে কর্মরত রয়েছেন। সৌদি আরবের স্থানীয় গণমাধ্যম নিয়মিতভাবে দেশটিতে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন ধরপাকড় অভিযান ও অবৈধ প্রবাসীদের আটকের খবর প্রকাশ করছে।

কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, আহত ৫ বাংলাদেশি আশঙ্কামুক্ত

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। তবে স্বস্তির খবর হলো, তারা সবাই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, আহত ৫ বাংলাদেশি আশঙ্কামুক্ত

বুধবার (৩ জুন) ভোরে সংঘটিত এই হামলায় বিমানবন্দরটির ১ নম্বর টার্মিনাল ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো ঘটনায় একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত এবং অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন।

আহত বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে ছুটে গেছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন। তিনি চিকিৎসাধীন প্রবাসীদের সার্বিক চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

হামলায় আহতদের মধ্যে যাত্রী, বিমানবন্দর কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকা পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে– শারমিন আখতার (মানিকগঞ্জ): গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন; মো. রাসেল শেখ (ফরিদপুর): হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন; মো. খলিল গাজী (সাতক্ষীরা): হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন; শিরিন আখতার (পটুয়াখালী) ও মো. শরিফুল ইসলাম (ধামরাই, ঢাকা): প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ইতিমধ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

আহত প্রবাসীরা কুয়েতের ফারওয়ানিয়া হাসপাতাল এবং শেখ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আহতদের দেখতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। রাষ্ট্রদূত জানান, আহত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করতে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হওয়ার মাত্র একদিন পরই ১ নম্বর টার্মিনালে এই হামলার ঘটনা ঘটল। ফলে উক্ত টার্মিনাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল আবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ৪ নম্বর টার্মিনাল থেকে কুয়েত এয়ারলাইনস এবং ৫ নম্বর টার্মিনাল থেকে জাজিরা এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।

জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের জন্য স্থানীয় নাগরিক ও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা এখন এই দুটি এয়ারলাইনসের ওপরই ভরসা করছেন। ফলে টার্মিনাল দুটিতে যাত্রীদের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফ্লাইট ও আসনসংখ্যার তুলনায় যাত্রী বেশি হওয়ায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিমানের ভাড়াও।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রবাসী বাবা-ছেলের মৃত্যু

প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রবাসী বাবা-ছেলের মৃত্যু

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় নির্মাণাধীন ঘরের পানির পাম্পের বৈদ্যুতিক লাইন সচল করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রবাসী বাবা ও তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) প্রবাসী মো. আইন উদ্দিন (৫০) এবং তার ছেলে রাশেদ মিয়া (১৭)।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামে আইন উদ্দিনের একটি নতুন বসতঘর নির্মাণের কাজ চলছিল। এদিন দুপুরে ওই নির্মাণাধীন ঘরের পানির পাম্পের বৈদ্যুতিক লাইনে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় মো. আইন উদ্দিন ও তার ছেলে রাশেদ মিয়া বৈদ্যুতিক সংযোগটি সচল করার চেষ্টা করেন। মেরামতের এক পর্যায়ে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।

পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকতার মিয়া জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের মরদেহের সুরতহালসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

সৌদিতে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেফতার

প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
সৌদিতে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেফতার

আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবে এক সপ্তাহে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। রবিবার সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে গালফ নিউজ।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৮ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৭৬০ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৬৯০ জনকে ইতোমধ্যে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ৪ হাজার ৬০ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনে ২ হাজার ৫৭৪ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ হাজার ১২৬ জন রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থা যৌথ অভিযান চালিয়ে এই প্রবাসীদের গ্রেপ্তার করেছে।

এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় এক হাজার ১৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ইথিওপিয়ান ৭০ শতাংশ, ২৮ ইয়েমেনি ও বাকি ২ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

একই সময়ে অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টা করায় আরও ২৫ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন এবং আশ্রয় দেওয়ায় সৌদিতে বসবাসরত ১৬ ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই সপ্তাহে ৪ হাজার ৬৯০ জন অবৈধ প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর ১৪ হাজার ৪৯৫ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে ভ্রমণ নথিপত্র সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। বহিষ্কারের আগে ভ্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও ৮৫০ জনকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ হাজার ৪৫৫ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৩১৯ জন নারীসহ মোট ২১ হাজার ৭৭৪ জন প্রবাসী বর্তমানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে অবৈধভাবে প্রবেশে সহায়তার চেষ্টাকারী ব্যক্তির ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে বারবার সতর্ক করে দিয়ে আসছে।

মরু অঞ্চলের দেশ সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বসবাস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক সৌদিতে কর্মরত রয়েছেন। সৌদি আরবের স্থানীয় গণমাধ্যম নিয়মিতভাবে দেশটিতে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন ধরপাকড় অভিযান ও অবৈধ প্রবাসীদের আটকের খবর প্রকাশ করছে।

কসবায় বন্ধুর ছুরিকাঘাতে সৌদি প্রবাসী তরুণ খুন

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
কসবায় বন্ধুর ছুরিকাঘাতে সৌদি প্রবাসী তরুণ খুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কাঠেরপুল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আনোয়ার হোসেন (২২) উপজেলার রানিয়ারা বিঞ্চুপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন একই গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আনোয়ার ও সাব্বির দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে একটি সেলুনে এক যুবককে মারধরের ঘটনায় আনোয়ার প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাব্বিরের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরই জেরে শুক্রবার রাতে কাঠেরপুল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি অটোরিকশা থেকে আনোয়ারকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মেশকাতুজ্জয়ামান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়েছিল।

নিহতের বাবা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে সৌদি আরব প্রবাসী ছিল। দেশে ফিরে একটি খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছিল। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পূর্ব বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

রাঙ্গুনিয়ার নিখোঁজ প্রবাসী ফারুকের হাত-পা বাঁধা লাশ বোয়ালখালীর পাহাড়ে উদ্ধার

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
রাঙ্গুনিয়ার নিখোঁজ প্রবাসী ফারুকের হাত-পা বাঁধা লাশ বোয়ালখালীর পাহাড়ে উদ্ধার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিন পর মো. ফারুক (২৫) নামের এক প্রবাসীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাঙ্গুনিয়ার পার্শ্ববর্তী বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার একটি পাহাড়ি লিচু বাগান থেকে শনিবার (৬ জুন) দুপুর ২টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী সীমান্ত এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত ফারুক জঙ্গল সরফভাটা ১নং ওয়ার্ডের মীরের খীল এলাকার মাতব্বর বাড়ির ওসমান ও গুলতাজ দম্পতির সন্তান। তিনি একজন ওমান প্রবাসী বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন সরফভাটার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন ফারুক। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার সকালে বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার পাহাড়ে একটি লিচু বাগানে লুঙ্গি ও টিশার্ট পরিহিত হাত-পা বাঁধা এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। দুপুরে বোয়ালখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরে জানা যায়, লাশটি নিখোঁজ প্রবাসী ফারুকের।

এ বিষয়ে বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ফারুক গত ২ জুন বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। বোয়ালখালীর গুচ্ছগ্রামে তার এক ভগ্নিপতির বাড়ি রয়েছে। তবে যে পাহাড় থেকে লাশ উদ্ধার হয়েছে, সেটি গুচ্ছগ্রাম থেকে বেশ দূরে। আমরা ঘটনাস্থলে থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।

এদিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ফারুকের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় হলেও মরদেহটি উদ্ধার হয়েছে বোয়ালখালী সীমান্ত থেকে। তাই রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ঘটনার ছায়াতদন্ত ও বোয়ালখালী পুলিশকে সহযোগিতা করলেও, আইনগত মূল ব্যবস্থা ও মামলা বোয়ালখালী থানাতেই দায়ের হবে।

অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা সংঘটিত এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।