৯ জুন ২০২৬

বন্ধুর ছদ্মবেশে গুপ্তচর, যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
বন্ধুর ছদ্মবেশে গুপ্তচর, যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ওয়াশিংটন থেকে পাওয়া এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের ভেতরে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজের বরাতে বলা হচ্ছে, পেন্টাগনের গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটি মনে করছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান জানতে এই নজরদারি চালানো হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু মানব গোয়েন্দা নয়, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতিটিকে সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল এমন নজরদারি চালাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

তবে অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস। তাদের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইসরায়েল কখনোই মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করে না এবং এমন কোনো চেষ্টা করেনি। বরং দুই দেশ বিভিন্ন সংকটে একসঙ্গে কাজ করে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

একইসঙ্গে হোয়াইট হাউসও এই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের দপ্তর থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। লেবাননে হামলা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েও আলোচনা চলছে।

কিছু সূত্রের দাবি, ইরানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান অব্যাহত থাকলেও সতর্কতা বাড়ানো হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে কূটনৈতিক যোগাযোগেও আরও সাবধানতা অবলম্বনের ইঙ্গিত মিলছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ফের পতন

প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ফের পতন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবার সুদহার বাড়ার আশঙ্কায় দাম কমেছে।

সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমার পাশাপাশি সাপ্তাহিক হিসেবেও পণ্যটি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩১৩.১১ ডলারে নেমেছে। এর আগে শুক্রবার স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে গত ২৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৩৬.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওয়ান্ডার (ওয়ান্ডা) জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আরো কঠোর অবস্থানের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিচ্ছে। এছাড়া মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ফলনও স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন আগের সেশনে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর আরো বেড়েছে। ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধারণের সুযোগব্যয়ও বেড়েছে।

এদিকে, ইসরাইল সোমবার জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ও মধ্য ইরানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানোর পরও এই হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো সুদবিহীন ধাতুর জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাজারের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে। বর্তমানে ডিসেম্বরের মধ্যে সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৭২ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

বেথ হাম্যাক বলেছেন, নতুন কর্মসংস্থান তথ্য দেখাচ্ছে শ্রমবাজার প্রায় পূর্ণ কর্মসংস্থানের অবস্থায় রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি উচ্চ থাকায় সেটি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিগগিরই সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি মূল্যবান ধাতুর বাজারে স্পট সিলভারের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭.৫৬ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১,৭৬৭.১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ১,২২৫.৬৬ ডলারে ছিল।

ফিলিপাইনে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়েছে ভবন

প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
ফিলিপাইনে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়েছে ভবন

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হেনেছে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। তীব্র এই কম্পনে কেঁপে ওঠে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা। ভূমিকম্পের পরপরই উপকূলীয় এলাকায় জারি করা হয়েছে সুনামির সতর্কতা এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। কম্পনের তীব্রতায় বেশ কিছু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং রাস্তাঘাটে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।

একের পর এক আফটারশক
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, মূল ভূমিকম্পটির পর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬টি আফটারশক (অনুকম্পন) রেকর্ড করা হয়েছে। এগুলোর মাত্রা রিখটার স্কেলে ১ দশমিক ৩ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৭ পর্যন্ত ছিল। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি থাকা জেনারেল সান্তোস সিটি থেকে। সরকারি বার্তা সংস্থা ফিলিপাইন ইনফরমেশন এজেন্সির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের বড় বড় ভবন ও বিপণিবিতান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিপাইনের অত্যন্ত জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড চেইন জলিবির অন্তত দুটি শাখা হুড়মুড় করে ভেঙে সড়কের ওপর ধসে পড়ছে। আতঙ্কিত মানুষকে এ সময় দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে দেখা যায়।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত একজন নিহত এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেনারেল সান্তোস সিটির একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

শহরের মাস্টার সার্জেন্ট রবার্ট ডাগন জানান, ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। তবে এই মুহূর্তে আমরা উদ্ধারকাজ নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকায় ঠিক কতগুলো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকারীরা।

সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি
ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ফিলিপাইন রেড ক্রস। এরই মধ্যে সংস্থাটির উদ্ধারকারী দল মাঠে নেমে কাজ শুরু করেছে।

এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ফিলিপাইন রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই করছেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় করা হচ্ছে।

উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রসৈকত থেকে দূরে এবং উঁচু স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

বন্ধুর ছদ্মবেশে গুপ্তচর, যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
বন্ধুর ছদ্মবেশে গুপ্তচর, যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ওয়াশিংটন থেকে পাওয়া এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের ভেতরে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজের বরাতে বলা হচ্ছে, পেন্টাগনের গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটি মনে করছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান জানতে এই নজরদারি চালানো হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু মানব গোয়েন্দা নয়, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতিটিকে সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল এমন নজরদারি চালাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

তবে অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস। তাদের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইসরায়েল কখনোই মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করে না এবং এমন কোনো চেষ্টা করেনি। বরং দুই দেশ বিভিন্ন সংকটে একসঙ্গে কাজ করে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

একইসঙ্গে হোয়াইট হাউসও এই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের দপ্তর থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। লেবাননে হামলা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েও আলোচনা চলছে।

কিছু সূত্রের দাবি, ইরানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান অব্যাহত থাকলেও সতর্কতা বাড়ানো হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে কূটনৈতিক যোগাযোগেও আরও সাবধানতা অবলম্বনের ইঙ্গিত মিলছে।

ইরান এখনো চুক্তিতে রাজি হয়নি, কারণ তারা ‘শক্তিশালী ও অহংকারী’: ট্রাম্প

তিনি বলেন, ‘আমি খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। মাত্র তিন মাস হয়েছে। আপনারা জানেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল। অথচ আমাদের মাত্র তিন মাস চলছে, আর এখনই সবাই বলছে, ‘আপনি কবে জিতবেন?’
প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
ইরান এখনো চুক্তিতে রাজি হয়নি, কারণ তারা ‘শক্তিশালী ও অহংকারী’: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, ইরানের নেতারা 'শক্তিশালী' এবং 'অহংকারী' হওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাননি।

তবে তিনি যোগ করেন, শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে আসা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।

উইসকনসিনের চিপেওয়া ফলস-এ এনবিসি নিউজের 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'তারা শক্তিশালী, তারা অহংকারী। এমন কিছু বিষয় আছে যা তারা কখনো করবে বলে ভাবেনি, কিন্তু এখন তাদের সেগুলো করতে হবে। তাদের কোনো বিকল্প নেই, তবে এতে কিছুটা সময় লাগবে।'

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নেতারা যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে দুই দেশ গত এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং কয়েক দফায় এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। তবে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

চলমান এই সংঘাতের জেরে কয়েক মাস আগেই তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এই অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ও ওয়াশিংটনের রিপাবলিকান নেতাদের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সেইসব সমালোচকদের কড়া সমালোচনা করেন, যারা তাকে ইরানের সঙ্গে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তাগিদ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, 'এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বছরের পর বছর সময় লাগে।'

ইরানি নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'এই মানুষগুলো ৪৭ বছর ধরে লড়াই করছে। তারা আমেরিকানদের হত্যা করছে। তাদের কারণে আমাদের মানুষ পা হারিয়েছে, হাত হারিয়েছে এবং তাদের মুখমণ্ডল বীভৎসভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।'

বর্তমান সংঘাতের সময়সীমার সঙ্গে ভিয়েতনাম যুদ্ধের তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, 'আমি খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। মাত্র তিন মাস হয়েছে। আপনারা জানেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল। অথচ আমাদের মাত্র তিন মাস চলছে, আর এখনই সবাই বলছে, 'আপনি কবে জিতবেন?'

তিনি আরও বলেন, 'আমি যদি ডেমোক্র্যাট হতাম, তবে কেউ এভাবে কথা বলত না। কিন্তু আমি এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, তাই এটা আমার কাছে কোনো ব্যাপার না।'

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, সংঘাতের এ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ইরানের কাছে এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, 'বেশিরভাগ ড্রোন কারখানা, উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এলাকাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের এখনও সক্ষমতা আছে। তাদের কাছে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। আমি শতাংশের হিসেবে বলব, হয়তো তাদের ২১ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে। সংখ্যার বিচারে এটি অনেক হতে পারে, তবে আমরা যখন প্রথম হামলা চালিয়েছিলাম সেই তুলনায় এটি কিছুই নয়।'

এদিকে ইরান চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পারস্য উপসাগরজুড়ে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে প্রমাণ করেছে যে তাদের এখনও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। এমনকি তারা কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও আঘাত হেনেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘকাল ধরেই ইরানের কড়া সমালোচক। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দাবি করেছেন যে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্যই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানে এই হামলা চালানো প্রয়োজন ছিল।

গত বুধবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ওপর যে অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, তা শ্রম দিবসের পরও বহাল থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।

ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের নেতাদের সাথে চুক্তিতে না পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, 'আমরা কি চুক্তিতে সই করব নাকি অন্য পথে হাঁটব? আর অন্য পথটি কিন্তু মোটেও সুখকর হবে না।'

ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে ইসরাইলি সেনাবাহিনী

প্রকাশ: রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে ইসরাইলি সেনাবাহিনী

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির গত রাতে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে সেনাবাহিনী ‘ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার দুয়ারে আছে’। ক্রমবর্ধমান অভিযানের চাপ ও সৈন্য সংকট এই পরিস্থিতির কারণ বলে জানান তিনি।

চ্যানেল ১৩ নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জামির মন্ত্রীদের বলেছেন, ‘আমি আপনাদের সামনে ১০টি লাল পতাকা তুলছি। আইডিএফের এখন একটি সেনা নিয়োগ আইন, রিজার্ভ ডিউটি আইন এবং বাধ্যতামূলক সেনা সেবার মেয়াদ বাড়ানোর আইন দরকার। অচিরেই আইডিএফ তার নিয়মিত কাজ করতে পারবে না এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাও টিকে থাকবে না।’

এই ধরনের সতর্কবার্তা জামির এর আগেও দিয়েছেন। জানুয়ারিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি সতর্ক করেন যে সৈন্য সংকট খুব শিগগিরই সেনাবাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী বারবার আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে যে যুদ্ধের চাপ ও অন্যান্য সামরিক চ্যালেঞ্জের কারণে তাদের ১২ হাজার সৈন্যের ঘাটতি রয়েছে।

২০২৪ সালের জুনে ইসরাইলের সর্বোচ্চ আদালত রায় দেন যে হারেদি ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের দশকের পর দশক ধরে চলে আসা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এরপর থেকে অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলো তাদের সম্প্রদায়কে সেনাবাহিনীর বাইরে রাখতে আইন করার দাবি জানিয়ে আসছে। বর্তমানে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৮০ হাজার হারেদি পুরুষ সামরিক সেবার যোগ্য বলে মনে করা হয়, কিন্তু তারা এখনো সেনাবাহিনীতে যোগ দেননি।