৭ জুন ২০২৬

পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বানকে স্বাগত জানালেন মাখোঁ

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বানকে স্বাগত জানালেন মাখোঁ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ শুক্রবার ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কির পক্ষ থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, মস্কোর সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরু করার সময় এসেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মন্টেনেগ্রোতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বলকান অঞ্চলের নেতাদের এক শীর্ষ সম্মেলনে মাখোঁ বলেন, ‘আমি মনে করি, এখন যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব ইউক্রেন ও রাশিয়ার। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয়রাই সহায়তা করতে পারে।’

জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার পুতিনের উদ্দেশে এক বিরল খোলা চিঠিতে মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব দেন।

মাখোঁ ওই চিঠিকে ‘একটি ভালো উদ্যোগ’ বলে অভিহিত করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মানিও ক্রেমলিন প্রধানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য জেলেনস্কির আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ‘ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চান এবং যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কীভাবে সংলাপ পুনঃস্থাপন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে চান’।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আমি মনে করি এখনই সেই সময়।’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের প্রশ্নে ইউরোপে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

মাখোঁ বলেন, ‘যেসব বিষয়ে আমাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, সেসব নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা ও যোগাযোগের কাঠামো গড়ে তুলতেও আমরা অত্যন্ত আগ্রহী।’

তিনি বলেন, ‘এর অর্থ হলো আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা, প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের সহাবস্থান এবং অবশ্যই ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষা করা।’

মাখোঁ জানান, তিনি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে শক্তিশালী করতে গঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এ অংশ নেওয়া পশ্চিমা দেশগুলোকে আগামী ১৪ জুলাই ফ্রান্সের জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্যারিসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

‘আলবেনিয়া বিক্রির জন্য নয়’, ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের রিসোর্ট প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
‘আলবেনিয়া বিক্রির জন্য নয়’, ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের রিসোর্ট প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

আলবেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ভিয়োসা-নার্তা সংরক্ষিত এলাকার কাছে একটি সমুদ্রসৈকতে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরোর এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই সংরক্ষিত এলাকাটি মূলত ফ্ল্যামিঙ্গো পাখি, সিলদের আবাসস্থল। এছাড়া সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজননকেন্দ্র হিসেবেও জায়গাটি ব্যবহৃত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যুক্ত একটি কোম্পানির বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে আলবেনিয়ার মানুষ। পরিবেশগতভাবে স্পর্শকাতর একটি এলাকায় এই রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী তিরানার রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ।

আলবেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ভিয়োসা-নার্তা সংরক্ষিত এলাকার কাছে একটি সমুদ্রসৈকতে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরোর এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই সংরক্ষিত এলাকাটি মূলত ফ্ল্যামিঙ্গো পাখি, সিলদের আবাসস্থল। এছাড়া সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজননকেন্দ্র হিসেবেও জায়গাটি ব্যবহৃত হয়। জ্যারেড কুশনারের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান 'অ্যাফিনিটি পার্টনারস' এই রিসোর্ট প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।

পরিবেশবিদেরা এই প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের দাবি, এটি নির্মিত হলে কয়েক শ হেক্টর সমুদ্রসৈকত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া প্রতিবছর যেসব ফ্ল্যামিঙ্গো এই এলাকায় ডিম পাড়ে বা যাতায়াত করে, তাদের জীবনও হুমকির মুখে পড়বে।

পক্ষীবিদ লেডি সেলজেকায় জানান, বিশ্বের মোট ফ্ল্যামিঙ্গোর ১ শতাংশেরও বেশি আলবেনিয়ায় রয়েছে।

তিনি রয়টার্সকে বলেন, 'অবশ্যই দেশে বিনিয়োগ আসাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, অর্থনীতির জন্যও এটি খুব দরকারি। কিন্তু আপনাকে খুব বুঝেশুনে জায়গা বেছে নিতে হবে। এই এলাকাটিকে এমনি এমনি তো আর "সংরক্ষিত এলাকা" বলা হয় না।'

গত সপ্তাহে ওই এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি আনা এবং প্রাথমিক কাজ শুরু হওয়ার পরই স্থানীয়ভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে তিরানায় বিশাল গণবিক্ষোভে রূপ নেয়।

বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীরা আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামার কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল গোলাপি রঙের ফ্ল্যামিঙ্গোর প্রতিকৃতি। তারা 'বিপ্লব' এবং 'প্রকল্প বন্ধ করো' বলে স্লোগান দেন। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল: 'এডি রামা, পদত্যাগ করুন।'

এই বিক্ষোভের কয়েক ঘণ্টা পর, শুক্রবার কিছু স্থানীয় বাসিন্দা পরিস্থিতি দেখতে ওই এলাকায় যান। এ সময় সেখানে পুলিশকে টহল দিতে দেখা যায়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লেখিকা লিন্ডিতা কোমানি বলেন, 'আলবেনিয়া বিক্রির জন্য নয়। আলবেনিয়া আলবেনিয়ার মানুষের এবং এখানে কী হবে তা আমরাই ঠিক করব। আলবেনিয়া শাসন করা গুটিকয় দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ আমাদের সম্পত্তি, প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে যা খুশি তা-ই করতে পারেন না।'

অবশ্য শুক্রবার ওই এলাকায় কোনো নির্মাণশ্রমিক বা ভারী যন্ত্রপাতির দেখা মেলেনি, যেগুলো গত কয়েক দিন ধরে মাটি প্রস্তুত করার কাজ করছিল।

কী বলছে সরকার?

প্রধানমন্ত্রী এডি রামা এই প্রকল্পের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। অন্যদিকে ডেভেলপাররা জানিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্য হবে 'দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের উন্নয়ন।'

আলবেনিয়ার অর্থনীতি ও উদ্ভাবন মন্ত্রী ডেলিনা ইব্রাহিমাজ বৃহস্পতিবার জানান, প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগের জন্য পরিবেশগত প্রভাব যাচাইয়ের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। প্রকল্পটিকে অবশ্যই পরিবেশ আইন পুরোপুরি মেনে চলতে হবে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।

আলবেনিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'এটিএ' তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, ইউরোপীয় পরিবেশগত নির্দেশিকা এবং আলবেনিয়ার আইন অনুযায়ী—সংরক্ষিত উপহ্রদ ও আশপাশের পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে, এমন যেকোনো প্রকল্পের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষার নিশ্চয়তা রয়েছে।

একটি বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে এই রিসোর্ট নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন কুশনার। ওই একই মহাপরিকল্পনায় সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের সাবেক সেনাসদর দপ্তরেও একটি বিলাসবহুল কমপ্লেক্স বানানোর কথা ছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে গত বছর তিনি সার্বিয়ার সেই প্রকল্প থেকে পিছু হটেন।

ইরানের হাতে এখনো ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত রয়েছে: ট্রাম্প

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
ইরানের হাতে এখনো ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত রয়েছে: ট্রাম্প

ইরানের অধিকাংশ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেলেও দেশটির হাতে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে ইরানের এখনো ২১ থেক ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। খবর এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের চিপেওয়া ফলসে এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তারা (ইরান) শক্তিশালী ও গর্বিত। কোনো সমঝোতা বা আলোচনা করতে হবে এমন কিছু তারা ভাবেনি। কিন্তু সেটাই করতে হবে। তাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই। তবে সময় লাগবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে পরোক্ষ আলোচনা চললেও সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলার ঘিরে তা কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তার ওপর সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা আবারো বেড়েছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর দাবির সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের বিষয় সমাধান করতে সময় লাগে। বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।

সংঘাতের সময়কাল নিয়ে ট্রাম্প ভিয়েতনাম যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, আমি খুব দ্রুত এগোচ্ছি। মাত্র তিন মাস হয়েছে। অথচ সবাই জানতে চায়, কবে জয় আসবে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, অধিকাংশ ড্রোন কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে, অধিকাংশ উৎক্ষেপণ ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই অকার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এখনও সক্ষমতা রয়েছে। তাদের কাছে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও কিছু ড্রোন আছে। তিনি আরো জানান, আমরা প্রথম হামলা চালানোর সময় তাদের যে সক্ষমতা ছিল, এখন তা আর নেই।

ট্রাম্প বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে— আমরা কি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করব, নাকি অন্য পথ বেছে নেব? আর সেই অন্য পথ মোটেও সুখকর নয়।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের আশঙ্কা সত্যি হতে শুরু করেছে : জাতিসংঘ

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের আশঙ্কা সত্যি হতে শুরু করেছে : জাতিসংঘ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের আশঙ্কা সত্যি হতে শুরু করেছে : জাতিসংঘ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে আরও কয়েক কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারে- এমন ‘নৈরাশ্যজনক’ পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে জাতিসংঘ। জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর সংঘাতের সূচনা হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এর কয়েক সপ্তাহ পর জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে বলেছিল, তেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম বিশ্ব খাদ্যনিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠবে।

ডব্লিউএফপি মার্চে সতর্ক করেছিল, জুনের শেষ পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের দাম যদি ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থির থাকে, তাহলে বিশ্বজুড়ে আরও প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়বে।

এরা চলতি বছরের শুরুতে খাদ্যনিরাপত্তাহীন হিসেবে চিহ্নিত প্রায় ৩২ কোটি মানুষের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছিল।

তীব্র বাকযুদ্ধ ও সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে জটিল আলোচনা চললেও যুদ্ধ বন্ধ এবং তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।

সংঘাত শুরুর প্রায় তিন মাস পর ডব্লিউএফপি’র খাদ্য ও পুষ্টি বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক জ্যাঁ-মার্টিন বাউয়ার এএফপিকে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে নেতিবাচক পরিস্থিতির পূর্বাভাস এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ক্ষুধা বাড়ছে।’ চাল ও গমের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির দিকেও তিনি ইঙ্গিত করেন।

বাউয়ার বলেন, ‘বছরের শুরুতে যে নৈরাশ্যজনক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা এখন সত্যি হতে শুরু করেছে। আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

ডব্লিউএফপি’র বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জ্বালানি, খাদ্যমূল্য ও আয়সংক্রান্ত ধাক্কা এবং বাণিজ্যিক বিঘেœর মাধ্যমে এ সংকটের ব্যাপক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব বিষয় আগে থেকেই বিদ্যমান দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে দ্রুত খাদ্যনিরাপত্তা ও মানুষের জীবিকায় দৃশ্যমান প্রভাব ফেলছে।

সংস্থাটি বিভিন্ন মাত্রায় সংকটের প্রভাব পড়া কয়েকটি দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে সোমালিয়ায়, বছরের শেষ নাগাদ আরও ২৫ লাখ মানুষ ন্যূনতম খাদ্যসামগ্রী কেনার সামর্থ্য হারাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ডব্লিউএফপি’র মতে, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের অস্থিতিশীল দেশটিতে প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে অক্ষম হবে। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৪৭ শতাংশ।

বাউয়ার সতর্ক করে বলেন, ‘পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর যে বৈশ্বিক জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট দেখা দিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।’

তবে এবার পরিস্থিতি আরও কঠিন। কারণ তখন সক্রিয় থাকা মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা এখন বৈশ্বিক তহবিলের বড় ধরণের কাটছাঁটের কারণে চাপে রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর এ চাপ বেড়েছে।

বাউয়ার বলেন, ‘২০২২ সালে মানবিক কর্মসূচিগুলোর অর্থায়ন তুলনামূলক ভালো ছিল। তখন মানবিক সহায়তা কর্মীরা যেসব এলাকায় কাজ করতেন, এখন অনেক জায়গায় তারা আর নেই।’

এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত পরিবহন জটিলতা ও মূল্যস্ফীতিও বিশ্বব্যাপী ত্রাণ কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলেছে।

ডব্লিউএফপি’র বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা এখন দ্বিমুখী চাপে পড়েছে। একদিকে প্রয়োজন বাড়ছে, অন্যদিকে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে সহায়তা প্রদানে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।’

সংস্থাটি জানায়, ২০২৬ সালে তাদের মূল পরিকল্পনার তুলনায় ১৫ লাখ কম মানুষকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।

ডব্লিউএফপি সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত যদি ছয় মাস স্থায়ী হয়, তাহলে ৯০ লক্ষাধিক মানুষ মানবিক সহায়তা হারাতে পারেন।

বাউয়ার বলেন, সোমালিয়ায় কয়েক মাসের মধ্যেই বিতরণের জন্য ডব্লিউএফপি’র খাদ্য মজুত প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘খাদ্যনিরাপত্তার দিগন্তে কালো মেঘ জমছে।’

পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বানকে স্বাগত জানালেন মাখোঁ

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বানকে স্বাগত জানালেন মাখোঁ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ শুক্রবার ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কির পক্ষ থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, মস্কোর সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরু করার সময় এসেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মন্টেনেগ্রোতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বলকান অঞ্চলের নেতাদের এক শীর্ষ সম্মেলনে মাখোঁ বলেন, ‘আমি মনে করি, এখন যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব ইউক্রেন ও রাশিয়ার। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয়রাই সহায়তা করতে পারে।’

জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার পুতিনের উদ্দেশে এক বিরল খোলা চিঠিতে মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব দেন।

মাখোঁ ওই চিঠিকে ‘একটি ভালো উদ্যোগ’ বলে অভিহিত করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মানিও ক্রেমলিন প্রধানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য জেলেনস্কির আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ‘ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চান এবং যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কীভাবে সংলাপ পুনঃস্থাপন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে চান’।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আমি মনে করি এখনই সেই সময়।’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের প্রশ্নে ইউরোপে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

মাখোঁ বলেন, ‘যেসব বিষয়ে আমাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, সেসব নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা ও যোগাযোগের কাঠামো গড়ে তুলতেও আমরা অত্যন্ত আগ্রহী।’

তিনি বলেন, ‘এর অর্থ হলো আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা, প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের সহাবস্থান এবং অবশ্যই ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষা করা।’

মাখোঁ জানান, তিনি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে শক্তিশালী করতে গঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এ অংশ নেওয়া পশ্চিমা দেশগুলোকে আগামী ১৪ জুলাই ফ্রান্সের জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্যারিসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের ‘ঝিমুনি’: ‘কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ বলে ডেমোক্র্যাটদের উপহাস

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের ‘ঝিমুনি’: ‘কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ বলে ডেমোক্র্যাটদের উপহাস

ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন চলাকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চোখ বন্ধ করে 'ঘুমিয়ে পড়েছেন' বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পকে 'দ্য কমান্ডার-ইন-স্লিপ' উপাধিতে ভূষিত করে তীব্র উপহাস করছে ডেমোক্র্যাটরা।

বৃহস্পতিবার বিকালে হোয়াইট হাউসে 'ক্লিন কোল' বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) প্রশাসক লি জেলডিন এবং ইন্টেরিয়র সেক্রেটারি ডগ বারগাম যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার চেয়ারে হেলান দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে 'তন্দ্রাচ্ছন্ন' অবস্থায় দেখা গেছে বলে দাবি বিরোধীদের।

ট্রাম্পের এই ঝিমুনির সুযোগ লুফে নিতে দেরি করেনি ডেমোক্র্যাট শিবির ও লিবারেলরা। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যাঙ্গাত্মকভাবে বলা হয়, 'দ্য কমান্ডার-ইন-স্লিপ ডিউটিতে যোগ দিয়েছেন।'

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুলের প্রেস অফিস থেকে মন্তব্য করা হয়, 'লি জেলডিনের কথা শোনার চেয়ে ঘুমানো অনেক ভালো।'

অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের টিম লিখেছে, 'ডোজি ডন (ঝিমুনি ডন) ফিরে এসেছেন।'

সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনও এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রায়ই জো বাইডেনকে 'স্লিপি জো' বলে কটাক্ষ করতেন। হান্টার বাইডেন উপহাস করে লিখেছেন, 'দেখুন... আমি তো আগেই বলেছিলাম ওটা একটা ক্লোন। তারা মনে হয় ব্যাটারি চার্জ দিতে ভুলে গেছে।'

তবে হোয়াইট হাউস এই অভিযোগ অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউস র‍্যাপিড রেসপন্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি প্রগ্রেসিভ অ্যাকাউন্টের পোস্টের জবাবে লেখা হয়, 'তোমরা যারা এসব বলছ, তোমাদের পোস্ট করা ক্লিপেই দেখা যাচ্ছে তার চোখ খোলা রয়েছে।'

এর আগে গত ১১ মে-ও ট্রাম্পের চোখ বন্ধ করা একটি ছবি নিয়ে একই বিতর্ক উঠেছিল। সে সময় হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল প্রেসিডেন্ট কেবল 'চোখ পিটপিট' করছিলেন। এবারও 'হেডকোয়ার্টার্স' নামক অ্যাকাউন্টটি যখন ট্রাম্পের ঘুমিয়ে পড়ার দাবি করে, তখন হোয়াইট হাউস সেটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়।

এই ঘটনাটি ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ জোনাথন রেইনার একে 'অস্বাভাবিক' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক শারীরিক পরীক্ষায় তার ঘুমের ব্যাঘাতের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এটা মোটেও স্বাভাবিক নয়।'

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ টেড লিউ দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সুস্থ নন। তিনি বলেন, 'তিনি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এবং ক্যাবিনেট মিটিংয়ে জেগে থাকতে পারছেন না। হোয়াইট হাউসের পরিষ্কার করা উচিত কেন ট্রাম্পকে বারবার হাসপাতালে যেতে হয় এবং ডাক্তাররা কেন তাকে বারবার কগনিটিভ টেস্ট (মানসিক সক্ষমতা যাচাই) দিচ্ছেন।' লিউ আরও যোগ করেন, কোনো কোম্পানির সিইও যদি বোর্ড মিটিংয়ে এভাবে ঘুমিয়ে পড়তেন, তবে তাকে বরখাস্ত করা হতো।

বুধবার এক শুনানিতে টেড লিউ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান, রুবিও কি ট্রাম্পকে কখনো কোনো বৈঠকে ঘুমিয়ে পড়তে দেখেছেন কি না। জবাবে রুবিও বলেন, 'আমি তাকে কখনোই ঘুমাতে দেখিনি। বরং তিনি একদমই ঘুমান না।'

তবে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক ড. শন বারবাবেলা সম্প্রতি এক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর জানিয়েছেন, ট্রাম্প 'চমৎকার স্বাস্থ্যের' অধিকারী এবং তার হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও স্নায়বিক অবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী।