৭ জুন ২০২৬

যুদ্ধ চলাকালে আজারবাইজানে ইরান সীমান্তে কমান্ডো পাঠিয়েছিল ইসরায়েল, ঘাঁটি ছিল সোমালিল্যান্ডেও

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
যুদ্ধ চলাকালে আজারবাইজানে ইরান সীমান্তে কমান্ডো পাঠিয়েছিল ইসরায়েল, ঘাঁটি ছিল সোমালিল্যান্ডেও
আজারবাইজান সীমান্তে ইরানের একটি ওয়াচ টাওয়ার। ছবি: এএফপি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল গোপনে আজারবাইজানে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করেছিল। একই সময়ে দেশটি সোমালিল্যান্ডে যুদ্ধবিমান জ্বালানি ভরার একটি ঘাঁটি পরিচালনা করেছিল। এমনটাই দাবি করা হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজারবাইজান-ইরান সীমান্তজুড়ে কয়েক ডজন ইসরায়েলি কমান্ডো ও মোসাদ এজেন্ট মোতায়েন ছিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকটবর্তী অবস্থানটি ছিল ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবরিজ থেকে প্রায় ৬০ মাইল বা ৯৬ কিলোমিটার দূরে। ইসরায়েল যুদ্ধ চলাকালে তাবরিজে হামলা চালিয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়েছে সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে এই বাহিনীর দায়িত্ব ছিল কোনো ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরান ভূপাতিত করলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা। পরে তাদের মিশনের পরিধি বাড়ানো হয়। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সহায়তা করতে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ড্রোন পরিচালনার দায়িত্বও দেওয়া হয় তাদের।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজারবাইজানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত অভিযানের মধ্যে অন্যতম ছিল যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিশেষ অভিযান বিভাগের প্রধান রহমান মোগাদ্দামকে হত্যা করা।

মোগাদ্দাম ইরানের ভেতরে ও বাইরে কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এসব কর্মীকে ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতা, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ইসরায়েলি ও পশ্চিমা সামরিক স্থাপনা, বন্দর এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলাচলকারী ইসরায়েলি জাহাজ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে সিএনএনের এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলে অবস্থিত আজারবাইজান দূতাবাস। এক বিবৃতিতে দূতাবাস বলেছে, ‘বহুবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আজারবাইজানের ভূখণ্ড কোনো তৃতীয় দেশ অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান, গোয়েন্দা কার্যক্রম বা অন্য কোনো বৈরী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করেছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা পুরোপুরি অসত্য। আজারবাইজান কখনোই তার ভূখণ্ডকে এমন কাজে ব্যবহার করতে দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না।’

এ সময় সিএনএনের সমালোচনা করে দূতাবাস অভিযোগ করে, সংবাদমাধ্যমটি সাংবাদিকতার ‘বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাগত নৈতিকতার নীতিমালা’ লঙ্ঘন করেছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা করে আসছে যে, ইসরায়েল আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে পারে। কারণ আজারবাইজান ইসরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহকারী এবং জ্বালানি অংশীদার। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল যখন ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালায়, তখন আজারবাইজান তেহরানকে আশ্বস্ত করেছিল যে তাদের ভূখণ্ড এ ধরনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

ইরানের প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ১ কোটি মানুষ জাতিগতভাবে আজারি। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতা নিয়ে তেহরান দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন।

আজারবাইজান ও সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের কথিত গোপন তৎপরতা নিয়ে সিএনএনের এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আরও কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেগুলোতে দাবি করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট মোতায়েন করেছিল এবং ইরাকে দুটি গোপন ঘাঁটি পরিচালনা করেছিল।

সিএনএন জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে তারা সোমালিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। গত ডিসেম্বরে ইসরায়েল পূর্ব আফ্রিকার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ হয়। এ পদক্ষেপে আরব লীগ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

বর্তমানে ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যারা সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সোমালিল্যান্ডের বন্দরনগরী বেরবেরায় বড় ধরনের বাণিজ্যিক ও সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলা অভিযান শুরু করে। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধের কারণে যুদ্ধ অবসানের আলোচনা অগ্রগতি পায়নি। যুদ্ধের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ওয়াশিংটনের কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা চাইলে এখনই সেটি নিয়ে আসতে পারি। আমার মনে হয় না, আমরা চাইলে তারা আমাদের থামাতে পারবে। তবে এর প্রয়োজন নেই। সেটি সমাধিস্থ অবস্থায় রয়েছে।’

ইসরায়েল ধ্বংসের অঙ্গীকার করা ইরানি নেতৃত্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না বলে দাবি করে আসছে। তবে দেশটি এমন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যার কোনো শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নেই বলে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ। ধারণা করা হচ্ছে, গত জুনে ১২ দিনব্যাপী ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালানোর পর উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ ভূগর্ভে আটকা পড়ে রয়েছে।

২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় না হলে চুক্তি নয় : ইরান

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় না হলে চুক্তি নয় : ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো শান্তি চুক্তি করতে হলে প্রথমে ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ছাড় করতে হবে।

তিনি এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বিশ্বাসের পরীক্ষা বলে উল্লেখ করেন।

মোহসেন রেজায়ি আরও সতর্ক করে বলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা শুধু পারস্য উপসাগরে সীমাবদ্ধ থাকবে না; লোহিত সাগর, ভূমধ্যসাগর ও ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে খামেনির আরেক উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের চাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের শক্তি বৃদ্ধির ফলে আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে অস্থায়ী সমঝোতার পথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন।

ভেলায়াতির মতে, এটি ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের নীতির ব্যর্থতা এবং প্রতিরোধ শক্তির একটি বড় সাফল্য।

যুদ্ধ বিস্তারের ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
যুদ্ধ বিস্তারের ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এখন স্থবির অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ একজন শীর্ষ উপদেষ্টা। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি আরও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে গড়াতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই বলেন, দুই দেশের আলোচনায় বর্তমানে ‘ডেডলক’ তৈরি হয়েছে এবং এই অচলাবস্থা কাটাতে উদ্যোগ নিতে হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই।

তিনি বলেন, “আলোচনা স্থবির অবস্থায় আছে। ট্রাম্পকে এই অচলাবস্থা ভাঙতে হবে। এখন সিদ্ধান্তের বল তার কোর্টে।”

২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদই প্রধান বাধা
রেজাই’র মতে, যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার ইরানি সম্পদ মুক্তির ওপরই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

ইরান নীতিগতভাবে দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই ১২ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী ধাপে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করতে হবে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন যে, এই অর্থ ছাড় দিলে ওয়াশিংটনের হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চাপের একটি হাতিয়ার দুর্বল হয়ে পড়বে।

রেজাই বলেন, এই অর্থ ছাড় ‘আস্থা গঠনের পরীক্ষা’ হিসেবে কাজ করবে। তার ভাষায়, “এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। এটি আমাদের নিজেদের অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের নয়।”

যুদ্ধ আরও বিস্তারের হুঁশিয়ারি
সাক্ষাৎকারে রেজাই কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক সংঘাতে জড়ায়, তবে যুদ্ধ শুধু পারস্য উপসাগরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তিনি বলেন, ইরান প্রয়োজনে সামরিক অভিযান বিস্তৃত করে হরমুজ প্রণালী, ভারত মহাসাগর, বাব আল-মানদাব প্রণালী, লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।

তার দাবি, “আমরা যুদ্ধকে নতুন মাত্রা দেব এবং যেখানে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে আঘাত হানব।”

তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, বর্তমানে নতুন যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

কৌশলগত জলপথ নিয়ে দাবি
ইরানের প্রভাবশালী এই নিরাপত্তা উপদেষ্টা আরও দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমান যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। তার মতে, এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশ পরিবাহিত হয়।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই জলপথ ব্যবহারের জন্য ইরান ‘রক্ষণাবেক্ষণ ফি’ আদায় করতে পারে, যা কোনও ধরনের শুল্ক নয়, বরং পরিচালন ব্যয়ের অংশ।

পারমাণবিক চুক্তি ও ট্রাম্প প্রসঙ্গ
রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে ট্রাম্পের সরে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যৎ আলোচনায় আস্থা তৈরি কঠিন।

তিনি আরও জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি ‘এখনই অসম্ভব’।

এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেন, তিনি ও খামেনি নাকি ‘ভালো সম্পর্ক’ বজায় রাখছেন এবং ভবিষ্যতে বৈঠক হলে তা সম্মানের হবে।

যুদ্ধ ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য
রেজাই দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ইরানের জন্য ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তিনি বলেন, এটি ইরানের ৪৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে দেশটি যুদ্ধে জয়ী হয়েছে বলে তারা মনে করে।


তিনি আরও বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থল হামলার কথা চিন্তা করে, তবে ইরান ‘তার প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা বিশ্বকে দেখাবে’।

রেজাই ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার ছিলেন এবং পরে ইরানের নীতি নির্ধারণী সংস্থা এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলে যোগ দেন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রায়িসির প্রশাসনেও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তার বক্তব্য ইরানের নিরাপত্তা ও নীতি নির্ধারণী মহলের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

কুয়েতের কাছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ড্রোন-প্রতিরোধী অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
কুয়েতের কাছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ড্রোন-প্রতিরোধী অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

কুয়েতের কাছে ১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অস্ত্র ও প্রযুক্তি বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। খবর এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, কুয়েতকে ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি কেনার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এসব প্রযুক্তি সরবরাহ করবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো-বহির্ভূত প্রধান মিত্র দেশের নিরাপত্তা আরো জোরদার করবে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হওয়ার পর দেশটির কর্মকর্তারা ‘ইরানি আগ্রাসনের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তবে তেহরান এ হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানের দাবি, ঘটনাটি ছিল ‘মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি’ এবং হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার জেরে শুরু হওয়া সংঘাত থামাতে গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে সেই যুদ্ধবিরতি বহাল থাকা সত্ত্বেও দুই পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি করলো যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি করলো যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় ১৪টি দেশের জন্য নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

একই সঙ্গে ওইসব দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) নির্দেশনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো এই জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।

ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।

তাই এ অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সবসময় সতর্ক থাকার পাশাপাশি সর্বশেষ পরিস্থিতির খবর নিয়মিত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যেকোনও সময় হামলা বা বৈরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এ কারণে নাগরিকদের আগাম নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়স্থলের অবস্থান জেনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের সর্বশেষ ভ্রমণ নির্দেশনায় দেশগুলোকে দুটি প্রধান ঝুঁকির স্তরে ভাগ করেছে।

লেভেল-৩ সতর্কতার আওতায় রয়েছে বাহরাইন, ইসরায়েল, পশ্চিম তীর, জর্ডান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এসব দেশে ভ্রমণের আগে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এই সতর্কতায় সরাসরি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নেই।

অন্যদিকে, লেভেল-৪ সতর্কতার তালিকায় রয়েছে ইরান, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া, গাজা ও ইয়েমেন। চলমান সংঘাত, সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি এবং অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এসব এলাকায় মার্কিন নাগরিকদের কোনওভাবেই ভ্রমণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কমেনি। সাম্প্রতিক কয়েকটি সামরিক ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওই হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হন এবং অন্তত ৬৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে নতুন করে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, চলমান উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

কুয়েত-বাহরাইনে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ইরানের

প্রকাশ: শনিবার, জুন ০৬, ২০২৬
কুয়েত-বাহরাইনে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ইরানের

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। তবে এর মধ্যে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং একটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর দিকে ধেয়ে আসা ইরানি হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত এবং ইরানের কয়েকটি রাডার স্থাপনায় আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টা পর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

সেন্টকমের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, “ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্রটি তার নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।”

মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও মার্কিন সেনা সদস্য হতাহত হয়েছেন- এমন কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ইরান যে দাবি করেছে, তা সরাসরি নাকচ করেছে সেন্টকম। বিবৃতিতে বলা হয়, “বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরে হামলা বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরানের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

কুয়েত ও বাহরাইন উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর অবস্থিত, যা পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং আরব সাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঘটনার পর কুয়েত, বাহরাইন এবং আশপাশের উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে হামলার ফলে কোনও বেসামরিক হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সংঘাত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল-জাজিরা