ইরানের অধিকাংশ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেলেও দেশটির হাতে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে ইরানের এখনো ২১ থেক ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। খবর এএফপি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের চিপেওয়া ফলসে এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তারা (ইরান) শক্তিশালী ও গর্বিত। কোনো সমঝোতা বা আলোচনা করতে হবে এমন কিছু তারা ভাবেনি। কিন্তু সেটাই করতে হবে। তাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই। তবে সময় লাগবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে পরোক্ষ আলোচনা চললেও সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলার ঘিরে তা কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তার ওপর সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা আবারো বেড়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর দাবির সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের বিষয় সমাধান করতে সময় লাগে। বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।
সংঘাতের সময়কাল নিয়ে ট্রাম্প ভিয়েতনাম যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, আমি খুব দ্রুত এগোচ্ছি। মাত্র তিন মাস হয়েছে। অথচ সবাই জানতে চায়, কবে জয় আসবে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, অধিকাংশ ড্রোন কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে, অধিকাংশ উৎক্ষেপণ ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই অকার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এখনও সক্ষমতা রয়েছে। তাদের কাছে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও কিছু ড্রোন আছে। তিনি আরো জানান, আমরা প্রথম হামলা চালানোর সময় তাদের যে সক্ষমতা ছিল, এখন তা আর নেই।
ট্রাম্প বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে— আমরা কি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করব, নাকি অন্য পথ বেছে নেব? আর সেই অন্য পথ মোটেও সুখকর নয়।