১২ জুলাই ২০২৬

চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন মেসি, কী হয়েছিল সেখানে?

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন মেসি, কী হয়েছিল সেখানে?

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন লিওনেল মেসি। ডান চোখে আঘাত পান আর্জেন্টিনার এই তারকা। এরপর তাকে চিকিৎসা নিতে হয় মাঠেই।

ইউরোপিয়ান দলটি সমতায় ফেরার পর হাইড্রেশন ব্রেকের সময় নজর কাড়ে একটি দৃশ্য। মেডিকেল স্টাফরা সরাসরি ছুটে যান আর্জেন্টিনার অধিনায়কের কাছে। কিছুক্ষণ আগে পাওয়া আঘাতের জন্য তার ডান চোখে বরফ লাগিয়ে দেওয়া হয়।

এই ম্যাচেও নিজের কীর্তি ধরে রেখেছেন মেসি। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে দিয়ে গোল করিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডে পেলের সমান হয়ে যান তিনি।

এছাড়া ম্যাচে রেফারি জোয়াও পিনেইরোর সঙ্গেও একটি ঘটনায় জড়ান মেসি। রেফারির কথা বলার ধরন নিয়ে তার সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে যান তিনি, রেগে যান এতে।

তিনি বলেন, ‘ঠিকভাবে কথা বলুন, অসম্মান করবেন না। আমার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলুন, আমিও তো আপনার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলেছি।’ পরে অবশ্য পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।

চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন মেসি, কী হয়েছিল সেখানে?

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন মেসি, কী হয়েছিল সেখানে?

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন লিওনেল মেসি। ডান চোখে আঘাত পান আর্জেন্টিনার এই তারকা। এরপর তাকে চিকিৎসা নিতে হয় মাঠেই।

ইউরোপিয়ান দলটি সমতায় ফেরার পর হাইড্রেশন ব্রেকের সময় নজর কাড়ে একটি দৃশ্য। মেডিকেল স্টাফরা সরাসরি ছুটে যান আর্জেন্টিনার অধিনায়কের কাছে। কিছুক্ষণ আগে পাওয়া আঘাতের জন্য তার ডান চোখে বরফ লাগিয়ে দেওয়া হয়।

এই ম্যাচেও নিজের কীর্তি ধরে রেখেছেন মেসি। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে দিয়ে গোল করিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডে পেলের সমান হয়ে যান তিনি।

এছাড়া ম্যাচে রেফারি জোয়াও পিনেইরোর সঙ্গেও একটি ঘটনায় জড়ান মেসি। রেফারির কথা বলার ধরন নিয়ে তার সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে যান তিনি, রেগে যান এতে।

তিনি বলেন, ‘ঠিকভাবে কথা বলুন, অসম্মান করবেন না। আমার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলুন, আমিও তো আপনার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলেছি।’ পরে অবশ্য পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।

নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ড

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ড

আসরজুড়ে একের পর এক চমক জাগিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠা নরওয়ে শুরুতেই ইংল্যান্ডকে ধাক্কা দেয়। তবে সেই ধাক্কা সামলে দলকে পথ দেখান জুড বেলিংহ্যাম। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন এই তারকা মিডফিল্ডার। তার নৈপুণ্যে টমাস টুখেলের দল বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে মায়ামি গার্ডেন্সের হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে প্রথমার্ধে আন্দ্রেয়াস শেলদেরিপকের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে।

এর আগে নকআউট পর্বে কখনও জয় না পাওয়া নরওয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নজর কাড়ে। গ্রুপ পর্বে রানার্সআপ হয়ে শেষ বত্রিশে আইভরি কোস্টকে হারানোর পর কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে বিদায় করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে।

নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমে নরওয়ে শুরু থেকেই ফেভারিট ইংল্যান্ডের চোখে চোখ রেখে লড়াই করে। বলের দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানতালে। নরওয়ে ১৩টি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে ইংল্যান্ড ১৪টি শট নিয়ে আটটি লক্ষ্যে রাখে।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ইংল্যান্ডই বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে আক্রমণের পর আক্রমণ চালায়। তবে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে খুব বেশি কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা। প্রথম হাইড্রেশন বিরতির পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে হ্যারি কেইনের নেওয়া ফ্রি-কিক ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

প্রথম ২৫ মিনিট নিজেদের রক্ষণ সামলানোর পর পাল্টা আক্রমণে ওঠে নরওয়ে। ৩৪তম মিনিটে জন স্টোন্সের ভুলে সুযোগ তৈরি হলেও জর্ডান পিকফোর্ড দ্রুত এগিয়ে এসে আর্লিং হলান্ডের আগে বল নিয়ন্ত্রণে নেন। পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে মার্টিন ওদেগোরের বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে জোরালো শটে গোল করেন আন্দ্রেয়াস শেলদেরিপ। বল পিকফোর্ডের ওপর দিয়ে দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার প্রথম গোল এবং জাতীয় দলের হয়ে ১৮ ম্যাচে দ্বিতীয় গোল।

গোলের পরও নরওয়ে আক্রমণ চালিয়ে যায়। ৪৪তম মিনিটে দ্রুতগতির এক আক্রমণে আলেকসান্দের সোরলথ দারুণ সুযোগ পেলেও সঠিক সময়ে শট বা পাস দিতে ব্যর্থ হন।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। অ্যান্থনি গর্ডনের পাস থেকে ডি-বক্সে একাধিক ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে কোনাকুনি শটে গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম।

তবে গোলটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। নরওয়ের গোলরক্ষক আরিয়ান হশল নিলাদের লম্বা কিকে বল মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় স্টেডিয়ামের স্কাই ক্যামেরার তারে লাগে বলে দাবি করে নরওয়ে। এরপর সেই বল থেকেই ইংল্যান্ড আক্রমণে উঠে গোল করে। গোল হওয়ার পর নিলাদ, হলান্ড ও নরওয়ের কোচ রেফারির কাছে আপত্তি জানালেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে হ্যারি কেইন বল জালে পাঠালেও তিনি অফসাইডে থাকায় গোল বাতিল হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে কর্নার থেকে তুরবিয়ন হেইগ্যাম গোল করলেও তার আগে হলান্ড ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করায় গোলটি বাতিল করা হয়।

দ্বিতীয় হাইড্রেশন বিরতির পর নরওয়ে আবারও ইংল্যান্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ৭৫তম মিনিটে ক্রিস্তোফের আয়েরের হেড পিকফোর্ডকে পরাস্ত করলেও বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে বুকায়ো সাকার বিপজ্জনক ক্রস থেকে এবেরেচি এজের সামনে সুযোগ তৈরি হওয়ার আগেই বল ক্লিয়ার করেন নরওয়ের ডিফেন্ডাররা।

যোগ করা সময়ে গোলরক্ষক আরিয়ান হশল নিলাদের একটি ভুলে প্রায় বিপদে পড়েছিল নরওয়ে। জেড স্পেন্সের চাপে তার শট স্পেন্সের পায়ে লেগে পোস্টের বাইরে চলে গেলে রক্ষা পায় দলটি।

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে হ্যারি কেইনের হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন নিলাদ। কিন্তু পরের আক্রমণেই ভুল করেন তিনি। মর্গ্যান রজার্সের জোরালো শট গ্লাভসে আটকে রাখতে ব্যর্থ হলে ফিরতি বলে জালে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করা এই মিডফিল্ডারের এবারের বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ছয়ে।

৯৯তম মিনিটে জেড স্পেন্সকে অস্কার বব ফেলে দিয়েছেন মনে করে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। তবে ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে পুনরায় দৃশ্য দেখে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পেনাল্টি বাতিল করেন।

অতিরিক্ত সময়ের বিরতিতে আর্লিং হলান্ডকে তুলে ইয়োর্গেন স্ত্রান্দ লারসেনকে মাঠে নামান নরওয়ের কোচ স্তলে সুরবাকেন।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতায় ফেরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও আর গোলের দেখা পায়নি নরওয়ে। ফলে চমক জাগানো তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় কোয়ার্টার-ফাইনালেই।

অন্যদিকে ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর চতুর্থবারের মতো কোয়ার্টার-ফাইনালের বাধা পেরিয়ে সেমি-ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। এর আগে ১৯৯০ ও ২০১৮ সালেও শেষ চারে খেলেছিল ইংলিশরা।

বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর সেমিফাইনালে স্পেন

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬
বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর সেমিফাইনালে স্পেন

২০১০ বিশ্বকাপ জেতার পর থেকে নকআউটে জেতাই ভুলে গিয়েছিল স্পেন। সে কারণে ১৬ বছর লেগে গেল মাঝপথে। তবে অবশেষে সেই খরাটা কাটাল স্প্যানিশরা। বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন।

লস অ্যাঞ্জেলেসের ইনগেলউডে সোফি স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের ৩১ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন ফাবিয়ান রুইজ। পেদ্রির জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া রুইজই হয়ে ওঠেন প্রথমার্ধের নায়ক। ডান পাশ থেকে লামিন ইয়ামালের কাটব্যাক পান দানি অলমো। তার শট ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তবে বক্সে থাকা রুইজের শট আর ঠেকাতে পারেননি তিনি।

তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি বেলজিয়াম। ৪০ মিনিটে সমতা ফেরান শার্ল ডি কেটেলারা। ডান পাশ থেকে আসা ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন তিনি। আগের ম্যাচেও জোড়া গোল করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধে ৭০ মিনিটের মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কোর্তোয়া। তার জায়গায় গোলপোস্টে দাঁড়ান সিন লেমেন্স।

এরপর একবার গোল হজমের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল স্পেন। গোলরক্ষক উনাই সিমন বক্সের বাইরে চলে এলে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন অ্যালেক্সান্ডার সালমেকার্স। মাঝে থাকা রোমেলু লুকাকুর দিকে বাড়ানো তার ক্রস দারুণভাবে ঠেকান এইমেরিক লাপোর্তে। বড় বিপদ থেকে বাঁচে স্পেন।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগে জয়সূচক গোলটি করেন মিকেল মেরিনো। পাউ কুবারসির শট ঠেকিয়েছিলেন বদলি গোলরক্ষক লেমেন্স, তবে ফিরতি বলে বক্সে থাকা মেরিনোর শট আর ঠেকাতে পারেননি তিনি। আগের ম্যাচে পর্তুগালের বিদায় নিশ্চিত করা মেরিনোই এবার হলেন স্পেনের জয়ের নায়ক।

এই জয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল স্পেন। বিদায় নিশ্চিত হলো বেলজিয়ামের।

মরক্কোকে ২-০ গোলে উড়িয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬
মরক্কোকে ২-০ গোলে উড়িয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। অন্যদিকে, কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হলো মরক্কোর স্বপ্নের বিশ্বকাপ যাত্রা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফ্রান্স। তবে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি তারা।

প্রথমার্ধে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ফ্রান্সের সামনে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় তারা। স্পট কিক নিতে আসেন ফরাসি অধিনায়ক নিজেই। কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারায় এগোয় ম্যাচ। বলের দখল ধরে রেখে মরক্কোর রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে ফ্রান্স। ৫৬ মিনিটে দেজিরে দুয়ের নেওয়া নিচু শটও সামলে নেন বুনু।

তবে ম্যাচের ৬০ মিনিটে শেষ পর্যন্ত ভাঙে গোলের অপেক্ষা। বাম প্রান্তের আক্রমণ থেকে বল পান দুয়ে। বক্সের বাইরে থাকা এমবাপ্পের দিকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। খুব কম জায়গার মধ্যেও নিজের অসাধারণ দক্ষতায় শট নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেন এমবাপ্পে। তার বাঁকানো শট দূরের কোণে জড়িয়ে যায় জালে। বুনু ঝাঁপিয়েও রুখতে পারেননি সেই দুর্দান্ত ফিনিশ।

এদিক গোলের পর মরক্কোর খেলোয়াড়রা আক্রমণের শুরুতে হ্যান্ডবলের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ করেন। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন রেফারি।

এর মাত্র ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। এমবাপ্পের গতির কারণে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠেন তিনি। বক্সে ঢুকে নিচের কোণ লক্ষ্য করে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান পিএসজির এই ফরোয়ার্ড। এবারও বুনুর প্রতিরোধ কাজে আসেনি।

২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও লড়াই ছাড়েনি মরক্কো। তবে ফ্রান্সের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভেদ করে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।

ম্যাচের ৭৬ মিনিটে মাঠে বসে পড়েন ফ্রান্স অধিনায়ক। এর আগেও কয়েকবার অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা গিয়েছিল তাকে। এরপর কিছুটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন এমবাপ্পে।। তার জায়গায় নামেন জিন-ফিলিপ মাতেতা।

ম্যাচের ৮৩ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ তৈরি হয় মরক্কোর। বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক থেকে আশরাফ হাকিমির বাড়িয়ে দেওয়া বল পেয়ে জোরালো শট নেন আজ্জেদিন উনাহি। তবে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ সেটি পাঞ্চ করে বিপদমুক্ত করেন। এটিই ছিল মরক্কোর ম্যাচে প্রথম লক্ষ্যে থাকা শট।

শেষ মুহূর্তে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্সও। ইনজুরি সময়ের চতুর্থ মিনিটে মাতেতা ওয়ান-অন-ওয়ান অবস্থায় মরক্কোর ডিফেন্ডার ইসা দিয়োপকে পেছনে ফেলে গোলরক্ষক বুনুর মুখোমুখি হন। কিন্তু আবারও দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন বুনু।

তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায় ফ্রান্স। আর গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর এবারের বিশ্বকাপ অভিযান থেমে যায় কোয়ার্টার ফাইনালেই।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারাল আর্জেন্টিনা, এক নম্বরে ফিরল ফ্রান্স!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৯, ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে মাঠের বাইরে কিছুটা হতাশাজনক খবর পেল আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থানটি হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। লিওনেল মেসির দলকে পেছনে ফেলে আবারও শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে ফ্রান্স।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেলেও পয়েন্টের মারপ্যাঁচে পিছিয়ে পড়েছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শীর্ষস্থান নিজেদের করে নিয়েছে ফরাসিরা। নতুন হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের বর্তমান পয়েন্ট ১ হাজার ৯২৫.৮৬ এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টিনার পয়েন্ট ১ হাজার ৯২৫.১৫। দুই দলের পয়েন্টের ব্যবধান এতটাই কম যে, বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এই অবস্থান আবারও ওলটপালট হয়ে যেতে পারে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগের আন্তর্জাতিক বিরতি ও প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর সমীকরণ কাজে লাগিয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। সে সময় ফ্রান্স আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরে এবং স্পেন ইরাকের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে মূল্যবান পয়েন্ট হারিয়েছিল। বিপরীতে আর্জেন্টিনা হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডকে হারিয়ে এক নম্বর দল হিসেবেই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল। তবে টুর্নামেন্ট চলাকালীন প্রতিটি ম্যাচের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসাব হালনাগাদ হওয়ায় এখন আবার চূড়ায় ফিরল ফ্রান্স।

শীর্ষস্থান হারানোর এই খবরটি পরিসংখ্যানের দিক থেকে নেতিবাচক হলেও, ফুটবল দুনিয়ার একটি প্রচলিত ‘কুসংস্কার’ বা ইতিহাস অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফুটবল ইতিহাসে দেখা গেছে, বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে যে দল ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকে, তারা কখনোই সেই আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারে না।

যেহেতু আর্জেন্টিনা এক নম্বর দল হিসেবে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল, তাই এই কুসংস্কার বা অপয়া পরিসংখ্যানের গেরো নিয়ে অনেক সমর্থকের মনেই এক ধরনের শঙ্কা ছিল। এখন শীর্ষস্থান হাতছাড়া হওয়ায় আর্জেন্টিনার অতিপ্রাকৃতিক বা কুসংস্কারে বিশ্বাসী সমর্থকেরা হয়তো কিছুটা স্বস্তিই পাবেন। তারা মনে করছেন, এক নম্বর স্থান হারানোর মাধ্যমে ট্রফি ধরে রাখার মিশনের ওপর থেকে অন্তত এই অপয়া পরিসংখ্যানের চাপটি দূর হলো।