১২ জুলাই ২০২৬

কাতার,জর্ডান,কুয়েত ও বাহরাইনে বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলার দাবি ইরানের

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
কাতার,জর্ডান,কুয়েত ও বাহরাইনে বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলার দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা নিশানা করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

ইরানে আজ রোববার নতুন দফায় মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার পর আইআরজিসি এমন দাবি করেছে। আজই কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে তারা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, তাদের বাহিনী জর্ডানের বিমানঘাঁটির একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি এমকিউ-৯ ড্রোন রাখার জন্য নির্ধারিত হ্যাঙ্গারগুলোও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

আইআরজিসি অপর এক বিবৃতিতে বলেছে, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে তারা।

আইআরজিসির দাবি, হামলায় বিমানঘাঁটির যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস হয়েছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও আজ সকালে দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কীকরণ সাইরেন বাজিয়েছে। সেই সঙ্গে নাগরিকদের নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, তারা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে সফলভাবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। কাতার কর্তৃপক্ষ দেশের সাধারণ নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং প্রশাসনের সব নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

আইআরজিসি ওমানের দুকম বন্দরেও হামলা চালানোর দাবি করেছে। তারা বলেছে, ওই বন্দরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর ব্যবহৃত রসদ সহায়তা কেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্মকে নিশানা করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার জবাবে ওমানে এই হামলা চালানো হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা কার্যকরভাবে প্রতিহত করছে তারা। নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে এগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, সেগুলো মূলত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার শব্দ।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বাজানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়, দেশটির সেনাবাহিনী কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে তারা কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর একটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, একটি গোলাবারুদের গুদাম ও একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একটি যোগাযোগব্যবস্থা ও একটি রাডার স্থাপনা ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলার জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

হরমুজে জ্বলছে জাহাজ, উদ্ধারকারী নৌকায় আশ্রয় নিলেন নাবিকেরা

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
হরমুজে জ্বলছে জাহাজ, উদ্ধারকারী নৌকায় আশ্রয় নিলেন নাবিকেরা

হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার কনটেইনার জাহাজের নাবিকেরা সেটি পরিত্যাগ করেছেন। তারা জাহাজ থেকে নেমে একটি উদ্ধারকারী নৌকায় আশ্রয় নিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং আক্রান্ত জাহাজের নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছ থেকে এই হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় ‘এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি’ নামের সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

সেন্টকম আরো জানিয়েছিল, ওই হামলার পর জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং ইঞ্জিন রুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে জাহাজটি আর তার যাত্রা বজায় রাখতে পারেনি। এ ছাড়া জাহাজের একজন বেসামরিক নাবিক সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।

হরমুজ বন্ধের পর ইরানে তৃতীয় দফায় হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
হরমুজ বন্ধের পর ইরানে তৃতীয় দফায় হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে এটি ইরানে তাদের ‘তৃতীয় দফার’ সামরিক হামলা।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। আইআরজিসির দাবি, হরমুজে অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার না করায় একটি জাহাজকে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে থামানো হয়েছিল। ওই ঘটনার পরই প্রণালিটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সেন্টকমের দাবি, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি নামের জাহাজে আইআরজিসি হামলা চালানোর পরই যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলা শুরু করেছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটির ইঞ্জিনরুম গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এটি আর যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারেনি। জাহাজটির এক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলেও দাবি করেছে তারা।

ব্রিটিশ ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, জাহাজের ক্রুরা হামলার পর জাহাজ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন এবং বর্তমানে তাঁরা একটি লাইফবোটে অবস্থান করছেন।

সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে দাবি করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলার জন্য জবাবদিহির মুখে পড়ার পরও ইরানকে সমঝোতা স্মারক মেনে চলার আরেকটি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আবারও তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওই বিবৃতি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তার মূল্য দিতে হবে।’

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওমান উপকূলের কাছে তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার পর ইরানে একাধিক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। পাল্টা জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

এর মধ্যেই গত বুধবার (৮ জুলাই) আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের হামলার পর যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

হরমুজ প্রণালি ফের অনির্দিষ্টকাল বন্ধের ঘোষণা ইরানের

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
হরমুজ প্রণালি ফের অনির্দিষ্টকাল বন্ধের ঘোষণা ইরানের

আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, হরমুজে অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার না করায় একটি জাহাজকে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে থামানো হয়। ওই ঘটনার পরই হরমুজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে।

আজ রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও জাহাজটি নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করেনি। পরে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে সেটিকে থামানো হয়। এই ঘটনার পর এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অবসান না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। এ সময় কোনো জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হলে এ অঞ্চলে শত্রুপক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র) নতুন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের শুরুতেই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছিল। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

ইরানের দাবি—আলোচনা ভেস্তে দিতেই হরমুজে হামলা, প্রকাশ্য অঙ্গীকারের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রেরইরানের দাবি—আলোচনা ভেস্তে দিতেই হরমুজে হামলা, প্রকাশ্য অঙ্গীকারের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার তাদের রয়েছে। একই সঙ্গে এ পথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে তেহরান।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এ অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান, দাবি ইসরাইলের

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬
ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান, দাবি ইসরাইলের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান—এমনটাই দাবি করেছে ইসরাইলি গোয়েন্দারা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছিল যে, তাদের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরান তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে, সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যটি ট্রাম্পকে হত্যার একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা সংক্রান্ত ছিল।

তবে এ বিষয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্র সরকার বা ইরান কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর আগে ওয়াশিংটন একাধিকবার দাবি করেছিল, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার কয়েকটি পরিকল্পনা করেছিল, যা তারা নস্যাৎ করে দিয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় গিয়ে ট্রাম্পও ইরানের কাছ থেকে নিজের জীবনের প্রতি হুমকির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান তাকে তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে।

খামেনির জানাজা পড়ালেন ১০১ বছর বয়সি ইমাম

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬
খামেনির জানাজা পড়ালেন ১০১ বছর বয়সি ইমাম
শিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও প্রবীণ ধর্মীয় পণ্ডিত গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামেদানি।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনির শেষ জানাজা পড়িয়েছেন শিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও প্রবীণ ধর্মীয় পণ্ডিত ১০১ বছর বয়সি গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামেদানি।

বৃহস্পতিবার ইরানের পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে খামেনির দাফন সম্পন্ন করার আগে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শতায়ু পেরোনো এই বর্ষীয়ান শিয়া আলেম ও ইসলামি গবেষক মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং শ্রদ্ধেয় এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত।

গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামেদানি ১৯২৫ সালের মার্চ মাসে ইরানের হামাদান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকা এই প্রবীণ আলেম ইরানের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র কোম নগরীতে দীর্ঘদিন শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম নীতিনির্ধারক ও ধর্মীয় অভিভাবক হিসেবে কাজ করছেন।

ছাত্রজীবনে তিনি আল্লামা তাবাতাবাই এবং গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ বোরুজেরদীর মতো ইসলামি ইতিহাসের বিখ্যাত ও কালজয়ী তাত্ত্বিক পণ্ডিতদের অধীনে সরাসরি শিক্ষা লাভ করেন। তার এই সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সব সময় ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও খামেনি সরকারের অন্যতম প্রধান এবং কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর, তিনি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইরানি সম্প্রদায়ের অবস্থা ও ধর্মীয় বিষয়াবলি পর্যালোচনার জন্য সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোয় কট্টরপন্থী এবং ঐতিহ্যবাহী শিয়া মূল্যবোধকে রক্ষা করার পেছনেও তার অবস্থান ছিল আপসহীন। শিয়া অনুসারীদের কাছে একজন ‘মারজা’ বা অনুকরণীয় পথপ্রদর্শক হিসেবে খামেনির মৃত্যুর পর বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংহতি প্রকাশে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করছেন। আর এ কারণেই খামেনির শেষ ইচ্ছা ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই প্রভাবশালী ও প্রবীণ নেতাকে মাশহাদের ঐতিহাসিক জানাজা পরিচালনার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল।