২৮ জুন ২০২৬

‘ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না’, হামলার পরেই ট্রাম্পের হুমকি

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
‘ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না’, হামলার পরেই ট্রাম্পের হুমকি

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে টানা দ্বিতীয়দিনের মতো ইরানে বোমাবর্ষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নতুন হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন আর ধৈর্য ধরবে না এবং প্রয়োজনে সামরিকভাবে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ইরানের আর কোনো অস্তিত্বই না থাকে।

এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আবারও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

নতুন হামলা নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
শনিবার ইরানে দ্বিতীয় দফার এই হামলা শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, শনিবারের এই হামলা আরও বড় এবং তীব্র লড়াইয়ের পূর্বাভাস মাত্র।

ইরান বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে অভিযোগ এনে ট্রাম্প লেখেন, ‘খুব সম্ভবত তারা কখনোই শিখবে না। এমন একটা সময় আসতে পারে যখন আমরা আর যুক্তি দিয়ে কথা বলব না। আমরা সামরিকভাবে সেই কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হব, যা আমরা সফলভাবে শুরু করেছি। আর যদি তেমনটা ঘটে, তবে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না!’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানগুলো হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে সিরিক শহর, বন্দর-ই লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে এই হামলা চালানো হয়।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছে, তাদের অন্তত পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র বোমাবর্ষণ করেছে। সেন্টকমের দাবি, ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন মজুত কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানতে দেরি করেনি ইরান। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী কুয়েতের মার্কিন ‘আলি আল সালেম’ বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামার ‘পোর্ট সালমান’-এ অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও এই সংঘাতের ফলে সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার মুখে। শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী ‘কিকু’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়। সেন্টকমের দাবি, ইরান এই হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবারও আরেকটি সিঙ্গাপুরের কনটেইনার জাহাজে একই ধরনের ড্রোন হামলা হয়েছিল। এই দুটি ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে এই নতুন বিমান হামলা শুরু করে।

ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধের ঘোষণা হিজবুল্লাহর

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধের ঘোষণা হিজবুল্লাহর

ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত ইসরায়েল-লেবানন ঐতিহাসিক ‘ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি’র কয়েক ঘণ্টার মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে গৃহযুদ্ধ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তিকে ‘অবমাননাকর, লজ্জাজনক এবং বৈরুতের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন’ আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনের প্রধান নঈম কাসেম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ করার কোনো প্রশ্নই আসে না এবং মাঠের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

এদিকে চুক্তি সইয়ের পর শনিবারই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন, যা চুক্তি-পরবর্তী প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। হিজবুল্লাহ সমর্থকদের বিক্ষোভে বৈরুতসহ পুরো লেবানন এখন উত্তাল।

গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে এই ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সই হয়। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী— দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের (অস্ত্র সমর্পণ) সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার এক কড়া বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ প্রধান নঈম কাসেম বলেন, দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে আমরা মাঠের প্রতিরোধ লড়াই চালিয়ে যাব। কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা মাঠ ছেড়ে যাইনি, আর এখনো যাব না। এই চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে লেবানন সরকার আগামী বহু বছরের জন্য ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে বৈধতা দিল, যা ভবিষ্যতে এই ভূমিকে জায়নবাদী রাষ্ট্রের অংশ করে নেওয়ার পথ সুগম করবে।

হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ আরও চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবানন সেনাবাহিনী যদি ওয়াশিংটনের এই চুক্তি জোর করে বাস্তবায়ন করতে চায়, তবে দেশে ‘গৃহযুদ্ধ’ বেঁধে যাবে।

চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুক্রবার রাত থেকে রাজধানী বৈরুতের রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার হিজবুল্লাহ সমর্থক। তারা শহরের বিভিন্ন সড়ক ও বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার মূল রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লেবানন সেনাবাহিনী দেশবাসীকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। সেনা কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলার কোনো অবনতি বা নাগরিক শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা সহ্য করা হবে না। এরই মধ্যে বিক্ষোভকারীদের দমনে এবং দাঙ্গাবাজদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিউটর বিচারক আহমাদ রামি আল-হাজ।

চুক্তিতে কাগজে-কলমে শান্তির কথা বলা হলেও, বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আল-জাজিরার লেবানন প্রতিনিধি জিনা খোদর জানিয়েছেন, চুক্তির মূল টেক্সটে ইসরায়েলি সেনা ‘প্রত্যাহার’ শব্দটিই নেই। এটি মূলত দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের পরোক্ষ সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পথ।

তাছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ইঙ্গিত দিয়েছেন, হিজবুল্লাহ অস্ত্র সমর্পণ করলেও সুরক্ষার স্বার্থে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে থেকে যেতে পারে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইতিমধ্যে দেশটির বাহিনীকে দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা জোনে’ দীর্ঘমেয়াদে অবস্থানের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে লেবাননের রাজনৈতিক মহল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দেশটির সাবেক বিচারমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আশরাফ রিফি চুক্তির প্রশংসা করে বলেছেন, লেবানন অবশেষে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মতো আচরণ করছে। লেবাননের সিদ্ধান্ত আর ইরানের এজেন্ডার কাছে জিম্মি থাকতে পারে না। ফ্রি প্যাট্রিয়টিক মুভমেন্টের নেতা জিবরান বাসিলও চুক্তিটি ইতিবাচকভাবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক নাবিল খুরি আল-জাজিরাকে বলেন, এই চুক্তিটি পুরোপুরি ইসরায়েলের স্বার্থরক্ষা করেছে, কিন্তু লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং আত্মঘাতী।

কুয়েত-বাহরাইনের ৮ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
কুয়েত-বাহরাইনের ৮ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের সিরিক শহর ও কেশম দ্বীপে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত আটটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান চালায় বলে জানিয়েছে তারা। খবর প্রেস টিভির।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ আটটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা’ হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরানের এই সামরিক বাহিনী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর আগে দিনটির শুরুতে ‘শত্রুপক্ষ’ ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় চৌকিতে মার্কিন হামলা চালানোর পরই এই পাল্টা অভিযান পরিচালিত হয়।

আইআরজিসি বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বভাবই হলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও চুক্তি লঙ্ঘন করা। তারা ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় চৌকিতে হামলা চালিয়েছে। তারা এ হামলাকে হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসি নৌবাহিনীর একটি অনুপ্রবেশকারী জাহাজের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের জবাব হিসেবে দাবি করেছে।’

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সামুদ্রিক নৌযানের তদারকির দায়িত্ব ইরানের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ‘এখন থেকে নিয়ম লঙ্ঘনকারী যেকোনও নৌযানের বিরুদ্ধে আগের তুলনায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। শত্রুপক্ষ ভবিষ্যতে যেকোনও অজুহাতে নতুন করে আগ্রাসন চালালে তার জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর ও বিধ্বংসী।’

আইআরজিসির এই বিবৃতি এমন সময় এল, যখন এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় চৌকিতে হামলা চালানোর দাবি ওঠে। এরপর পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানায় ইরান।

পাল্টাপাল্টি হামলায় টালমাটাল যুদ্ধবিরতি, ফের মুখোমুখি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
পাল্টাপাল্টি হামলায় টালমাটাল যুদ্ধবিরতি, ফের মুখোমুখি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে টানা দ্বিতীয়দিনের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বাজছে বিমান হামলার সাইরেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইরানের সিরিক শহর, বন্দর-ই লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শেয়ার করা একটি ভিডিওতে এই হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছে, তাদের অন্তত পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র বোমাবর্ষণ করেছে।

সুতোয় ঝুলছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।

শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী ‘কিকু’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়। সেন্টকমের দাবি, ইরান এই হামলা চালিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ‘এভার লাভলি’ নামের আরেকটি সিঙ্গাপুরের কনটেইনার জাহাজেও একই ধরনের ড্রোন হামলা হয়েছিল। এই দুটি ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করে।

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে সরানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে সরানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ই-৩এস উড়োজাহাজফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর কয়েকটি ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে মার্কিন প্রশাসন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাহরাইনে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নৌঘাঁটি সংস্কারের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনা হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে এই অঞ্চলের কিছু সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে স্থানান্তর করতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে বাহরাইনে পঞ্চম মার্কিন নৌবহরের সদর দপ্তরটি বারবার আক্রান্ত হয়।

কুইনিপিয়াকের জরিপ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি রয়ে গেছে। এ ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বড় কোনো মতভেদ নেই।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এ হামলায় মার্কিন কমান্ড সদর দপ্তর এবং আরও অন্তত এক ডজন স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পেন্টাগন (মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর) এখন পর্যন্ত এ ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

এদিকে এ যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মনোভাবেও ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে, যা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) নামে পরিচিত। এ চুক্তি অনুযায়ী, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।

এ সমঝোতার পর যুক্তরাষ্ট্রের কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশব্যাপী পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ লাভজনক হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ইরানি সরকারের আসন্ন হুমকি দূর করতে’ এ যুদ্ধ শুরু করেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করাই ছিল অভিযানের মূল লক্ষ্য।

তবে কুইনিপিয়াকের জরিপ বলছে, চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির কারণে লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে জনগণের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, এ চুক্তির পরও ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা পুরোপুরি রয়ে গেছে। এ ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বড় কোনো মতভেদ নেই।

উভয় শিবিরেরই অধিকাংশ সমর্থক মনে করেন, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের চুক্তি সই

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের চুক্তি সই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের টানা পাঁচ দফা আলোচনার পর অবশেষে একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামোর অধীনে চুক্তিতে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের ঠিক আগে সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একে ‘শুরুর সূচনা’ বলে অভিহিত করেছেন।

পরবর্তীতে এক লিখিত বিবৃতিতে রুবিও জানান, এই চুক্তির আওতায় জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা) ‘মানবিক সহায়তা’ প্রদান করবে।

তবে এই অর্থ কেবল লেবাননের জন্য নাকি ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত শহরগুলোর জন্যও বরাদ্দ, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। এছাড়া লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করতে ট্রাম্প প্রশাসন আরও ৩০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা) অর্থ ফেরত দেবে বলেও জানান তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই চুক্তিটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার ও তাদের সন্ত্রাসী অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া এবং ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর থেকে হুমকি দূর করে তাদের নিজ সীমান্তে ফিরে যাওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া তৈরি করবে। এছাড়া ওয়াশিংটনের তত্ত্বাবধানে লেবাননের জন্য একটি ‘মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ’ গঠন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

টানা তিন দিনের নিবিড় বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রুবিও হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ না করে বলেন, ইসরায়েলিরা বারবার লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। তবে এই হামলা লেবাননের জনগণ বা সরকার করেনি, করেছে একটি বহিরাগত শক্তি (হিজবুল্লাহ), যারা এই ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে চেয়েছে।

উল্লেখ্য, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সাথে সরাসরি কোনো আলোচনায় বসতে রাজি না হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে পরোক্ষ বা ব্যাকচ্যানেল যোগাযোগ রক্ষা করেছে বলে জানা গেছে। লেবাননের আনুষ্ঠানিক সামরিক বাহিনীর চেয়ে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি।

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াদ এই বৈঠকগুলোকে ‘দীর্ঘ এবং কঠিন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আজকের এই চুক্তিটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধার, স্থায়ীভাবে বৈরিতা অবসান এবং আমাদের সাধারণ মানুষকে নিজ ভূমিতে শান্তিতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।

অন্যদিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েকিয়েল লেইটার লেবাননের নারী রাষ্ট্রদূতের প্রশংসা করে বলেন, আলোচনার টেবিলে মোয়াদ তার দেশের জন্য ‘সিংহের মতো’ লড়াই করেছেন। তিনি দাবি করেন, এখন ইরান ও হিজবুল্লাহ এই প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ বাইরে এবং ইসরায়েল-লেবানন শান্তির পথ উন্মুক্ত।

চুক্তি হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র এখনই খুব বেশি বদলাচ্ছে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ অবস্থান করবে এবং এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন।

নেতানিয়াহু আরও জানান, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর দক্ষিণে এবং উত্তরে দুটি পাইলট জোন বাস্তবায়ন করবে। ইসরায়েলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে সেসব এলাকা থেকে সরে গেলে লেবাননের সেনাবাহিনী সেখানে নিয়ন্ত্রণ নেবে।

তবে প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্রের অভাবে ভুগতে থাকা লেবাননের সেনাবাহিনী কীভাবে এই দায়িত্ব পালন করবে বা তারা হিজবুল্লাহর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ইতিমধ্যে ইসরায়েল লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানে চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দফার চুক্তি সই হয়। এর পরপরই লেবাননের সাথে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হলো।

নেতানিয়াহু একে ইরানের জন্য বড় ধাক্কা উল্লেখ করে বলেন, ইরান আমাদের জোরপূর্বক দক্ষিণ লেবানন থেকে তাড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু মূলত ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে তাদের জানিয়ে দিয়েছে যে—এটি সম্পূর্ণ আমাদের বিষয়, এখানে তাদের নাক গলানোর কোনো সুযোগ নেই।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৪ হাজার ২০০-এর বেশি লেবাননি নাগরিক নিহত হয়েছেন।