২৮ জুন ২০২৬

রোমে ৩ বাংলাদেশি খুনের ঘটনায় মোস্ট ওয়ান্টেড শাহাদাত

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
রোমে ৩ বাংলাদেশি খুনের ঘটনায় মোস্ট ওয়ান্টেড শাহাদাত

ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইতালির পুলিশের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ট্রিপল মার্ডার মামলার সন্দেহভাজনের নাম শাহাদাত হোসেন। তাঁর জন্ম ১৯৮৩ সালের ১০ মে এবং তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য বা সূত্র জানা থাকলে রোম কোয়েস্টের মোবাইল টিমের 3346903295 নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি নিহত পরিবারের পূর্বপরিচিত ছিলেন। এছাড়া তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

এদিকে নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের বাবা মোহাম্মদ সিরাজ দাবি করেছেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। তাঁর ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনিবার সকালে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে হত্যাকাণ্ডের আগে সন্দেহভাজনের একটি ফেসবুক পোস্ট। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‌‌‘একজন মানুষ শুধু নিজে একা মরে না, নিজেও মরে অন্যকে মরার মতো করে রেখে যায়। তাই মরার সময় প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে মরা উচিত। তাতে কারও জন্য কাউকে কষ্ট পেতে হয় না।’ পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ইতালির পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৪০), তাঁর স্ত্রী আরজু বেগম (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের বড় ছেলে আমির হোসেন অয়নকে (১৮) উদ্ধার করে ইতালির জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বর্তমানে নিহত তিনজনের মরদেহ ইতালির একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ইতালির পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

মাতারবাড়ীতে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, আটক ১

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
মাতারবাড়ীতে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, আটক ১

মহেশখালীর মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মগডেইল এলাকায় প্রবাসী বাড়িতে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তদের হামলা, ডাকাতির ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ প্রশাসন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রবাসী বাদশা মিয়ার বাড়িতে হানা দেয়। হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির প্রধান ফটকে জোরে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলতে বলে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে দরজা না খুললে তারা জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, একপর্যায়ে কয়েকজন হামলাকারীর সঙ্গে তাদের মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি হয়। তখন বাড়ির লোকজন সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুর্বৃত্তরা অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ধস্তাধস্তির মধ্যেও পরিবারের সদস্যরা পিছু হটেননি। দীর্ঘ সময়ধরে বাকবিতণ্ডা চলাকালে হামলাকারীরা বাড়ি লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

গুলিবর্ষণের ঘটনায় বাড়ির থাই গ্লাস, জানালার কাচ ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুলির আঘাতে দেয়ালে স্পষ্ট চিহ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারটি। এ সময় বাড়িতে থাকা নারী, শিশু ও বয়স্ক সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

হামলার শিকার বাড়িটি দুবাই প্রবাসী শাহজাহান, জাহেদ ও তারেক এবং মালয়েশিয়া প্রবাসী রুবেল ও সাঈদীর পরিবারের বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, দুবাই প্রবাসী শাহজাহান ছোট ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। এমন সময়ে এ হামলার ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে। পরিবারের দেওয়া তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেলিম ওরফে সেলিম ফকিরকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার সঙ্গে মগডেইল এলাকার সেলিম ফকির ছাড়াও নাছির উদ্দীন, কায়সার, মান্নান, বাপ্পি আকাশসহ আরও কয়েকজন জড়িত। এছাড়া স্থানীয়ভাবে পরিচিত রাইফেল আমিন ও আতাউল্লাহর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে মাতারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মোজাহের বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় সেলিম ফকিরকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা, গ্রেপ্তার ১

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রবাসীর ১৫ বছর বয়সী ছেলে রাফিজ মিয়াকে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান আসামি লাল্টু মিয়া (৪১) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া গ্রামের জামালপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের কিশোর রাফিজ মিয়া একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। রাত ১১টার দিকে তার দাদি আমেনা খাতুনের মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের ওপার থেকে রাফিজের কান্নার শব্দ শোনানো হয় এবং তাকে ছেড়ে দিতে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রাফিজের বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে এই অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে রাফিজকে মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে টাকা না পেয়ে ওই রাতেই গলায় রশি পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে দিয়ে ও তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে কয়েক দফা মুক্তিপণের টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা।

ঘটনার আট দিন পর, ১৩ জুন কুতুবপুরের লাল ব্রিজ মাঠ সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশের একটি পুকুর থেকে রাফিজের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

এর আগে ১০ জুন রাফিজের দাদি আমেনা খাতুন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি যৌথ টিম কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গত ২৬ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলা থেকে প্রধান পলাতক আসামি লাল্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে লাল্টু মিয়া হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং তার দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে আমরা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।"

রোমে ৩ বাংলাদেশি খুনের ঘটনায় মোস্ট ওয়ান্টেড শাহাদাত

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
রোমে ৩ বাংলাদেশি খুনের ঘটনায় মোস্ট ওয়ান্টেড শাহাদাত

ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইতালির পুলিশের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ট্রিপল মার্ডার মামলার সন্দেহভাজনের নাম শাহাদাত হোসেন। তাঁর জন্ম ১৯৮৩ সালের ১০ মে এবং তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য বা সূত্র জানা থাকলে রোম কোয়েস্টের মোবাইল টিমের 3346903295 নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি নিহত পরিবারের পূর্বপরিচিত ছিলেন। এছাড়া তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

এদিকে নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের বাবা মোহাম্মদ সিরাজ দাবি করেছেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। তাঁর ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনিবার সকালে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে হত্যাকাণ্ডের আগে সন্দেহভাজনের একটি ফেসবুক পোস্ট। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‌‌‘একজন মানুষ শুধু নিজে একা মরে না, নিজেও মরে অন্যকে মরার মতো করে রেখে যায়। তাই মরার সময় প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে মরা উচিত। তাতে কারও জন্য কাউকে কষ্ট পেতে হয় না।’ পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ইতালির পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৪০), তাঁর স্ত্রী আরজু বেগম (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের বড় ছেলে আমির হোসেন অয়নকে (১৮) উদ্ধার করে ইতালির জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বর্তমানে নিহত তিনজনের মরদেহ ইতালির একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ইতালির পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

ধর্ষণ থেকে বাঁচতে প্রতিবন্ধী যুবককে গলা কেটে হত্যা প্রবাসীর স্ত্রীর

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
ধর্ষণ থেকে বাঁচতে প্রতিবন্ধী যুবককে গলা কেটে হত্যা প্রবাসীর স্ত্রীর
ইনসেটে নিহত বাহারের পুরোনো ছবি।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এনায়েতুর রহমান ওরফে বাহার (৩৫) নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী এক নারীকে আটক করা হয়েছে। এনায়েতুর রহমান তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন বলে আত্মরক্ষার্থেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল আটটার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত এনায়েতুর রহমান ও প্রবাসী সুমন চৌধুরীর বাড়ি পাশাপাশি। কয়েক বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

প্রায় এক মাস আগে ছুটিতে দেশে এসে সুমন চৌধুরী তার স্ত্রীর প্রতি এনায়েতুর রহমানের অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে এনায়েতুর রহমান কিছুটা শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। চার দিন আগে সুমন আবার কর্মস্থলে চলে যান।

এ বিষয়ে নিহত এনায়েতুর রহমানের মা নেহারা বেগম জানান, তার ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। দুই হাতের কবজি ও আঙুল কার্যকর না থাকায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারতেন না।

এসময় সকালে প্রতিবেশী নারী ঘরে ডেকে নিয়ে তার ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ওসি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, এনায়েতুর রহমান তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। আত্মরক্ষার্থেই তিনি তাকে হত্যা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গ্রিসে বাংলাদেশি টিকটকারের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
গ্রিসে বাংলাদেশি টিকটকারের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করার অভিযোগে মো. হাসান নামে বাংলাদেশি যুবকের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করেছে গ্রিস সরকার। একইসঙ্গে তাকে বহিষ্কারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

যুবকটি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা। বিগত ৩-৪ বছর ধরে তিনি গ্রিসে বসবাস করছেন।

সম্প্রতি গ্রিসের ঐতিহাসিক শহর নাফপ্লিওতে অবস্থানরত ওই যুবকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গ্রিসের বিভিন্ন শীর্ষ টিভি চ্যানেল ও একাধিক পত্রিকায় ফলাও করে সেই ভিডিও সংক্রান্ত সংবাদ প্রচার করা হয়।

গ্রিক সংবাদমাধ্যম প্রথোথেমার খবরে বলা হয়েছে, ভিডিওটিতে ওই যুবক অন্যান্য বাংলাদেশিদের গ্রিসে আসার আহ্বান জানান। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা গ্রিসের নাফপ্লিওতে কাজের জন্য আছি, যাদের কাগজপত্র নেই তাদের চিন্তার কারণ নেই। ৫০ বছর এই জায়গাগুলোতে থাকলেও পুলিশ আসবে না।’

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর গ্রিক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। তদন্তের মাধ্যমে গ্রিক পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানোর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করে তাকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, “এ ধরনের প্রচারণা মানবপাচারকারী চক্রের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে পারে এবং অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশে আগ্রহী ব্যক্তিদের ভুল বার্তা দেয়। তাই এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করবে।”

গ্রিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অভিবাসন নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন যেকোনও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

গ্রিসের আরেকটি জাতীয় দৈনিক ‌‘দিমোক্রাতিয়ায়’ প্রকাশিত অভিবাসন ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভরিসের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি ছিল সুপরিকল্পিত প্রচারণার অংশ, যার মাধ্যমে দেশে বিদ্যমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে তুলে ধরা হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপহাসের বিষয় হয়ে উঠছে। এই প্রচারণার উদ্দেশ্য ছিল খুবই নির্দিষ্ট। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আরও সম্ভাব্য অবৈধ অভিবাসীদের গ্রিসে আসার জন্য উৎসাহিত করা এবং তাদের এই যাত্রা শুরু করতে প্ররোচিত করা।

এদিকে, গ্রিসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে- তা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, গত ২-৩ বছরে লিবিয়া হয়ে সাগরপথে গ্রিসে প্রবেশ করা কিছু টিকটকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা ও ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন।

কয়েকজন ব্যক্তির ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের’ কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের কাছে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশি কমিউনিটি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।