মহেশখালীর মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মগডেইল এলাকায় প্রবাসী বাড়িতে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তদের হামলা, ডাকাতির ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ প্রশাসন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রবাসী বাদশা মিয়ার বাড়িতে হানা দেয়। হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির প্রধান ফটকে জোরে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলতে বলে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে দরজা না খুললে তারা জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, একপর্যায়ে কয়েকজন হামলাকারীর সঙ্গে তাদের মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি হয়। তখন বাড়ির লোকজন সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুর্বৃত্তরা অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ধস্তাধস্তির মধ্যেও পরিবারের সদস্যরা পিছু হটেননি। দীর্ঘ সময়ধরে বাকবিতণ্ডা চলাকালে হামলাকারীরা বাড়ি লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
গুলিবর্ষণের ঘটনায় বাড়ির থাই গ্লাস, জানালার কাচ ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুলির আঘাতে দেয়ালে স্পষ্ট চিহ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারটি। এ সময় বাড়িতে থাকা নারী, শিশু ও বয়স্ক সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
হামলার শিকার বাড়িটি দুবাই প্রবাসী শাহজাহান, জাহেদ ও তারেক এবং মালয়েশিয়া প্রবাসী রুবেল ও সাঈদীর পরিবারের বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, দুবাই প্রবাসী শাহজাহান ছোট ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। এমন সময়ে এ হামলার ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে। পরিবারের দেওয়া তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেলিম ওরফে সেলিম ফকিরকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার সঙ্গে মগডেইল এলাকার সেলিম ফকির ছাড়াও নাছির উদ্দীন, কায়সার, মান্নান, বাপ্পি আকাশসহ আরও কয়েকজন জড়িত। এছাড়া স্থানীয়ভাবে পরিচিত রাইফেল আমিন ও আতাউল্লাহর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে মাতারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মোজাহের বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় সেলিম ফকিরকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।