১৪ জুন ২০২৬

খামেনির জানাজা ও দাফনের তারিখ জানাল ইরান

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
খামেনির জানাজা ও দাফনের তারিখ জানাল ইরান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে। জন্মস্থান মাশহাদে ৯ জুলাই করা হবে দাফন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা।

মার্চে খামেনিকে দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। নতুন সূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই থেকে তেহরানে তিন দিনের শোক এবং একাধিক জানাজা হবে। এরপর ৭ জুলাই পবিত্র নগরী কুমে আরেকটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হবে।

৮৬ বছর বয়সী খামেনি ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বাসভবন কমপাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন।

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন খামেনি। পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো ইসলামী বিপ্লবের আদর্শিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খোমেনি। অন্যদিকে খামেনি ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিও ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আহত হন। তাঁকে এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

তবে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় মোজতবা খামেনি আগের তুলনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে মনে হচ্ছে।

আজই ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের দাবি ট্রাম্পের, সংশয় প্রকাশ তেহরানের

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
আজই ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের দাবি ট্রাম্পের, সংশয় প্রকাশ তেহরানের

দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রোববারই (১৪ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তিটি সই হওয়ার পরপরই বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে চুক্তির চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে ট্রাম্প ও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, তেহরানের পক্ষ থেকে কিছুটা সতর্কতা ও সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, আগামীকালই (রোববার) চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। আর এটি সই হওয়ার সাথে সাথেই হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প আরও বলেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত হলে আমরা উপযুক্ত সময়ে সেখানে যাব এবং সমস্ত নিউক্লিয়ার ডাস্ট (সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) নিয়ে এসে তা ধ্বংস করব। তবে চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গড়িমসি করা হলে ওয়াশিংটনের হাতে ‘চূড়ান্ত বিকল্প’ প্রস্তুত রয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এই শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ট্রাম্পের সুরেই কথা বলেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, আমরা একটি শান্তি চুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি চূড়ান্ত হতে পারে এবং পাকিস্তান ইতিমধ্যেই ইলেকট্রনিক সাইনিং বা ডিজিটাল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন তাড়াহুড়োর বিপরীতে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সমঝোতা স্মারকটি ঠিক কোন তারিখে স্বাক্ষরিত হবে, তা জানতে আমাদের আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি যে আগামীকালই (রোববার) হচ্ছে না, তা নিশ্চিত। যদিও আগামী দিনগুলোতে চুক্তিটি সই হওয়ার সম্ভাবনা তিনি একেবারে উড়িয়ে দেননি।

এর আগে গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বড় চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। এই চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার লড়াইয়ের অবসান ঘটবে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চুক্তি সইয়ের পরে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতর্কিত বিমান হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সাথে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। গত এপ্রিলে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হলেও চলতি সপ্তাহেও উভয়পক্ষ একে অপরের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন স্বঘোষিত মুসলিম রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন স্বঘোষিত মুসলিম রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট

সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র সোমালিল্যান্ডের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহামেদ আব্দুল্লাহি (যিনি চিরো নামে সমধিক পরিচিত) প্রথমবারের মতো ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য জানিয়েছে।

স্বঘোষিত এই অঞ্চলটিকে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর, এটিই হবে সোমালিল্যান্ডের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম তেল আবিব সফর।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সোমালিল্যান্ডের কূটনীতিক ইসমাইল শিরওয়াক তেল আবিবে প্রদর্শিত সোমালিল্যান্ড ও ইসরায়েলের পতাকার একটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী মঙ্গলবারই (১৬ জুন) সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের ইসরায়েলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এডেন উপসাগরের তীরে এবং লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বারে অবস্থিত সোমালিল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এবং এই অঞ্চলে তেহরানের মিত্রদের মোকাবিলা করতেই মূলত সোমালিল্যান্ডকে তড়িঘড়ি করে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরায়েল। এর মাধ্যমে ওই কৌশলগত অঞ্চলে নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে চায় তেল আবিব।

এডেন উপসাগরের ঠিক উল্টো দিকে অবস্থিত ইয়েমেনের বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হুথিরা। হুথিদের এই আগ্রাসী ভূমিকার পর লোহিত সাগরে নিজেদের জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোমালিল্যান্ডের সাথে কৌশলগত জোট গঠন ইসরায়েলের জন্য এখন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে সম্ভাব্য এই উচ্চ-পর্যায়ের সফর নিয়ে সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় বা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা মন্তব্য করা হয়নি।

খামেনির জানাজা ও দাফনের তারিখ জানাল ইরান

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
খামেনির জানাজা ও দাফনের তারিখ জানাল ইরান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে। জন্মস্থান মাশহাদে ৯ জুলাই করা হবে দাফন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা।

মার্চে খামেনিকে দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। নতুন সূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই থেকে তেহরানে তিন দিনের শোক এবং একাধিক জানাজা হবে। এরপর ৭ জুলাই পবিত্র নগরী কুমে আরেকটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হবে।

৮৬ বছর বয়সী খামেনি ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বাসভবন কমপাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন।

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন খামেনি। পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো ইসলামী বিপ্লবের আদর্শিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খোমেনি। অন্যদিকে খামেনি ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিও ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আহত হন। তাঁকে এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

তবে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় মোজতবা খামেনি আগের তুলনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে মনে হচ্ছে।

ইরান চুক্তি করেছে বলে ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল তেহরান

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
ইরান চুক্তি করেছে বলে ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল তেহরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনা শুরু করার একটি খসড়া চুক্তিতে ‘অনুমোদন’ দিয়েছে তেহরান। এ কারণে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা বাতিলও করেছেন তিনি।

তবে, ইরানের সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরান এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দেয়নি। তবে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এতে স্বাক্ষর করার বিষয়টি তেহরান বিবেচনা করতে পারে, এমন একটি সম্ভাবনা রয়েছে।

আলোচিত এই শান্তি চুক্তির উদ্দেশ্য হলো- প্রণালিটি খুলে দেয়া এবং মার্কিন অবরোধ তুলে নেয়া, কিন্তু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে যেকোনো চুক্তির জন্য সম্ভবত আরও আলোচনার প্রয়োজন হবে।

সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সাথে আলোচনা দেশটির নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আনা হয়েছে এবং অনুমোদিত হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে আমি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে, আজ সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময়) ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত বোমা হামলা বাতিল করেছি।’

তিনি আরও দাবি করেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং মিশর।

ইরান যা বলেছে
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের সাথে যুক্ত ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স, ইরানের আলোচনা দলের ঘনিষ্ঠ এক অবহিত সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের কোনো খসড়া অনুমোদিত হয়নি।

দেশটির আরেক সংবাদ সংস্থা তাসনিম ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে নাকচ করে দিয়ে বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট অতীতেও একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, যতক্ষণ না ইরান একটি সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে ঘোষণা দিচ্ছে, এ বিষয়ে ট্রাম্পের যেকোনো খবরকে তার পূর্ববর্তী বার্তা হিসেবেই গণ্য করা উচিত।’

তবে, পরে ইরানের গণমাধ্যম জানায় যে ওয়াশিংটন তেহরানের প্রস্তাবিত খসড়া গ্রহণ করেছে এবং এর ফলে চুক্তিটি পুনরায় বিবেচনা ও পর্যালোচনা করতে পারে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি বলেন, ‘খসড়াটির বেশিরভাগ অংশই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আমেরিকানরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতেই থাকল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা তাদের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমায় কোনো আপস করে না। চুক্তির বিষয়ে ইরান এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

সৌদি-তুরস্ক রেল যোগাযোগ চুক্তি, হরমুজ এড়িয়ে যুক্ত করবে আরও ২ দেশকে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
সিরিয়ার দামেস্কে হেজাজ রেলস্টেশনের বাইরে ঐতিহাসিক এক লোকোমোটিভ বা রেল ইঞ্জিন। ছবি: এএফপি

তুরস্ক ও সৌদি আরব রেলপথ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে দুটি পৃথক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। গতকাল মঙ্গলবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত এই চুক্তির মাধ্যমে ঐতিহাসিক হেজাজ রেলপথ পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগে সৌদি আরব পরোক্ষভাবে যুক্ত হওয়া সর্বশেষ দেশ হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনরুজ্জীবিত হেজাজ রেলপথ ভবিষ্যতে তুরস্ক, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরবকে একই রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পারে। চুক্তি সইয়ের জন্য তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আবদুলকাদির উরালওগলু মঙ্গলবার রিয়াদ সফর করেন এবং সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উরালওগলু বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় অতিক্রম করছে। এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষায়, পরিবহন খাতের সামনে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা এখন একটি কৌশলগত প্রয়োজন।

উরালওগলু জানান, তুরস্ক সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাক হয়ে চলাচলকারী পরিবহন রুটগুলোকে সক্রিয় করতে চায়। তিনি বলেন, তুরস্ক থেকে শুরু হয়ে ইরাকের মধ্য দিয়ে সৌদি আরব পর্যন্ত পরিচালিত দুটি পরীক্ষামূলক পরিবহন যাত্রা ইতিমধ্যে এই রুটের কার্যকারিতা ও সম্ভাব্যতা প্রমাণ করেছে।

গত বছর থেকে তুরস্ক একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ঐতিহাসিক হেজাজ রেলপথ পুনরুদ্ধারে আগ্রহী। একসময় এই রেলপথ ইস্তাম্বুলকে সৌদি আরবের পবিত্র নগরীগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেছিল।

হরমুজ প্রণালির বিকল্প করিডর গড়ার পরিকল্পনা
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় হেজাজ রেলপথকে আরও সম্প্রসারণ করে ওমান এবং ভারত মহাসাগর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিকে পাশ কাটিয়ে একটি বিকল্প বাণিজ্য করিডর গড়ে তোলা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তুরস্ক উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। একই সঙ্গে দেশটি রেলভিত্তিক লজিস্টিকস হাব এবং জ্বালানি ও বাণিজ্য করিডরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তুরস্ক, সিরিয়া ও জর্ডান একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার, পরিবহনব্যবস্থার সমন্বয় এবং সীমান্তপারের পরিবহন সহজ করার জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো গড়ে তোলা হয়।

চুক্তিতে সড়ক, রেল, সমুদ্র, আকাশ এবং বহুমাত্রিক পরিবহনব্যবস্থাসহ সব ধরনের পরিবহন খাতে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিগরি মানের সমন্বয়, ডিজিটালাইজেশন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং পরিবহন করিডরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এক শতাব্দীর বেশি পুরোনো স্বপ্ন
হেজাজ রেলপথ ছিল উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। ১৯০০ সালে তিনি ইস্তাম্বুল থেকে মক্কা পর্যন্ত একটি রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। আরব উপদ্বীপের পশ্চিমাঞ্চলের হেজাজ অঞ্চলের নাম অনুসারে রেলপথটির নামকরণ করা হয়। এই অঞ্চলেই ইসলামের দুই পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা অবস্থিত।

রেলপথটি খুব দ্রুত নির্মিত হয়েছিল এবং এর অর্থায়ন সম্পূর্ণভাবে মুসলিম বিশ্বের অনুদানের মাধ্যমে করা হয়। যদিও কিছু অনুদান স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছিল, আবার কিছু ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও ছিল।

এই সময়ের মধ্যে ইস্তাম্বুলের সঙ্গে সংযুক্ত রেললাইনটি দামেস্ক থেকে মদিনা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। এ ছাড়া তৎকালীন ফিলিস্তিনের (বর্তমানে ইসরায়েলের দখলকৃত) হাইফা পর্যন্ত পৌঁছানো একটি শাখা রেললাইনও নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে তুরস্ক, সৌদি আরব, সিরিয়া ও জর্ডানের নতুন সহযোগিতা সেই ঐতিহাসিক রেলপথকে আবারও আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।