১৪ জুন ২০২৬

ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ছাড়তে সম্মতি ট্রাম্পের

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ছাড়তে সম্মতি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। তবে এ বিষয়ে এখনো ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সরাসরি নিশ্চিতকরণ আসেনি। শুক্রবার (১২ জুন) ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দেজফুল শহরে এক স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এ দাবি করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুক্তরাষ্ট্র এখন তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যেতে বাধ্য হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে রেজায়ি বলেন, দেশটির নীতিনির্ধারণে বিভিন্ন লবিস্ট গোষ্ঠীর প্রভাব বেড়েছে। তার দাবি, এই প্রভাবের কারণে ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

এর আগে শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ক্ষেত্রে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার শর্ত রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ছাড়তে সম্মতি ট্রাম্পের

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ছাড়তে সম্মতি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। তবে এ বিষয়ে এখনো ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সরাসরি নিশ্চিতকরণ আসেনি। শুক্রবার (১২ জুন) ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দেজফুল শহরে এক স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এ দাবি করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুক্তরাষ্ট্র এখন তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যেতে বাধ্য হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে রেজায়ি বলেন, দেশটির নীতিনির্ধারণে বিভিন্ন লবিস্ট গোষ্ঠীর প্রভাব বেড়েছে। তার দাবি, এই প্রভাবের কারণে ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

এর আগে শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ক্ষেত্রে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার শর্ত রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইসরাইলকে আর্জেন্টিনার সমর্থন, ইহুদিদের বসবাসের আমন্ত্রণ

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
ইসরাইলকে আর্জেন্টিনার সমর্থন, ইহুদিদের বসবাসের আমন্ত্রণ

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে ইসরায়েল ও ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি নিজেদের নীতিগত অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে আর্জেন্টিনা। সম্প্রতি রাজধানী বুয়েনোস আইরেসের পালাসিও লিবের্তাদ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে জুডেও-ক্রিশ্চিয়ান মূল্যবোধের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দেশটির ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।

প্রভাবশালী ইহুদি ধর্মীয় গুরু রাব্বি মেনাহেম মেন্ডেল শ্নিয়ারসনের মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ইহুদি প্রতিনিধির সামনে প্রধান বক্তা হিসেবে ইসরায়েলের প্রতি নিজের সর্বাত্মক সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ইহুদি ধর্মের চাবাদ আন্দোলনের কোনো বড় আনুষ্ঠানিক সমাবেশে অ-ইহুদি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মিলেইয়ের এমন শ্রদ্ধা নিবেদন এবারই প্রথম, যা ইসরায়েলি গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়েছে। নিজেকে 'নৈরাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী' হিসেবে পরিচয় দেওয়া মিলেই তার ৪০ মিনিটের বক্তব্যে বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে নিজের অর্থনৈতিক দর্শনের ভিত্তি তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জুডেও-ক্রিশ্চিয়ান আদর্শ ধারণ করলে মানুষের আধ্যাত্মিক ও জাগতিক জীবনের মাঝে একটি নিখুঁত সমন্বয় ঘটে।

ইউরোপীয় ইহুদিদের জন্য 'নতুন নিরাপদ আশ্রয়' আর্জেন্টিনা

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ক্রমবর্ধমান ইহুদি-বিদ্বেষী মনোভাব নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই ইহুদিদের জন্য আর্জেন্টিনাকে একটি নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে মিলেই প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কুইর্নো ব্রিটেনসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের ইহুদিদের উদ্দেশে এক বার্তায় আর্জেন্টিনায় স্থানান্তরের আহ্বান জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম ইহুদি সম্প্রদায়ের আবাসস্থল আর্জেন্টিনা কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি উদীয়মান রাষ্ট্রই নয়, বরং ইহুদি-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দেশটির অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। আর্জেন্টিনার এই অবস্থানকে সমর্থন করে দেশটিতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়াল সেলা বলেন, "ইহুদিদের বসবাসের জন্য ইসরায়েল সবসময়ই শ্রেষ্ঠ ভূমি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপের চেয়ে আর্জেন্টিনা তাদের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ ও চমৎকার জায়গা।"

ইসরায়েল সফর ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার

ইসরায়েল ও আর্জেন্টিনার এই নজিরবিহীন কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতার সূত্রপাত মূলত গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট মিলেইয়ের তেল আবিব সফরের মধ্য দিয়ে। সেই সফরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একাধিক কৌশলগত চুক্তি সই করেন মিলেই। ২০২০ সালের 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস'-এর আদলে করা এই চুক্তির অধীনে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বুয়েনোস আইরেস ও তেল আবিবের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের চূড়ান্ত ঘোষণাও দেন মিলেই। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি মডেল লাতিন আমেরিকাতেও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রনীতিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ছাঁচে ঢেলে সাজিয়েছেন হাভিয়ের মিলেই। এর অংশ হিসেবে ইরান এবং দেশটির সামরিক বাহিনী 'ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী' (আইআরজিসি)-র বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনা সম্প্রতি আইআরজিসি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

বুয়েনোস আইরেসের দাবি— ১৯৯২ সালে ইসরায়েলি দূতাবাসে হামলা এবং ১৯৯৪ সালে ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে আত্মঘাতী বোমা হামলার নেপথ্যে ইরানি কর্মকর্তা ও আইআরজিসির প্রত্যক্ষ হাত ছিল। তেহরান অবশ্য শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আইআরজিসি-কে নিষিদ্ধ করার পর ইরান পাল্টা অভিযোগে আর্জেন্টিনাকে 'অপরাধের অংশীদার' এবং 'ইতিহাসের ভুল পক্ষে অবস্থানকারী' দেশ হিসেবে আখ্যা দিলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকে। এর জবাবে বুয়েনস আয়ার্সে নিযুক্ত ইরানি কূটনৈতিক দূতকে বহিষ্কার করে আর্জেন্টিনা।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হামলা বন্ধের শর্তে

রবিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে : রয়টার্স

প্রকাশ: শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
রবিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে : রয়টার্স
ফাইল ছবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাত নিরসনে আগামী রবিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। চুক্তি সইয়ের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। পশ্চিমা একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এ চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।

দুই পক্ষই শনিবার (১৩ জুন) এর মধ্যে স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করতে আগ্রহী। এরপর রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ চুক্তিতে সই করতে পারেন বলে জানা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার পরিকল্পনা বাতিল করছেন। তার ভাষ্য ছিল, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি এখন প্রায় প্রস্তুত।

তবে শুক্রবার (১২ জুন) ইরানি কর্মকর্তাদের বর্ণিত শর্তগুলোতে দেখা যায়, তেহরান তাদের দীর্ঘদিনের বেশ কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নের কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রত্যাশিত বিষয়গুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দিয়েছিল।

শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, খসড়া চুক্তির আওতায় ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি দেশটির আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করা হবে। এছাড়া লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে হামলা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে পারমাণবিক ইস্যুতে এই সমঝোতা স্মারকে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত থাকছে না। বিষয়টি পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হবে। ওয়াশিংটন চায়, ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে—এমন নিশ্চয়তা। অন্যদিকে, তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা করছে না।

ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা। তবে এসবের বিনিময়ে ইরান কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দেবে, সে বিষয়ে সূত্রটি কোনো তথ্য দেয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির শর্তে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ছাড় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের অঙ্গীকার এবং যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ও রয়েছে।

মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেকর্ড, ছাড়িয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে

প্রকাশ: শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেকর্ড, ছাড়িয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে

চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ স্থায়িত্বের দিক থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মোট সময়সীমাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর গত ১১ জুন এই যুদ্ধ এক নতুন ও দীর্ঘস্থায়ী মাইলফলক স্পর্শ করল।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই শুরু হওয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫৬৭ দিন স্থায়ী হয়েছিল। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ ইতিমধ্যে সেই সময়সীমা পার করে আজ পর্যন্ত ১ হাজার৫৭০ দিনে পদার্পণ করেছে। আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংঘাতের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও আর্থিক বিপর্যয়

দীর্ঘস্থায়ী যেকোনো যুদ্ধের মতোই এই সংঘাতের সঠিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা কঠিন হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতি ও ব্যয়ের পরিমাণ ইতিমধ্যে ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলেছে।

আর্থিক ক্ষতির চেয়েও এই যুদ্ধে মানুষের প্রাণের ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব মতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত, বাস্তুচ্যুত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা হিসাব করলে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

এই যুদ্ধের আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। উন্নত জীবনের আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে রাশিয়ায় যাওয়া অন্তত ৪০ জন বাংলাদেশি তরুণ ইউক্রেন ফ্রন্টে সম্মুখ যুদ্ধে বাধ্য হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

আড়ালে পড়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ?

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা সাময়িকভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আড়ালে ঠেলে দিয়েছে। তবে মাঠের লড়াই কিংবা কূটনৈতিক টানাপোড়েন—কোনোটিই থেমে নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক চেষ্টা চালালেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

জেলেনস্কির খোলা চিঠি ও পুতিনের প্রতিক্রিয়া

যুদ্ধ বন্ধের নানামুখী তৎপরতার অংশ হিসেবে গত ৪ জুন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো নিরপেক্ষ দেশে পুতিনের সাথে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাব দেন। ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা এই প্রস্তাবকে সমর্থন করলেও এর সাথে কিছু শর্ত জুড়ে দেয়।

তবে ক্রেমলিন এই শর্তযুক্ত আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইউক্রেনের অধিকাংশ সাধারণ নাগরিক মনে করছেন আগামী বছরের আগে এই সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। ফলে যুদ্ধ এভাবে চলতে থাকলে এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্থায়িত্বের রেকর্ডকেও স্পর্শ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাজ্যে সুদানের অভিবাসীর ছুরিকাঘাত থেকে বিক্ষোভ-সহিংসতা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
যুক্তরাজ্যে সুদানের অভিবাসীর ছুরিকাঘাত থেকে বিক্ষোভ-সহিংসতা

যুক্তরাজ্যে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে এক অভিবাসীর ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়েছে। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাতে শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন, যাঁদের অধিকাংশই মুখে মাস্ক পরে ছিলেন। এ সময় একটি বাসসহ কয়েকটি গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া হয়। সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

বিবিসি এক খবরে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত সোমবার (৮ জুন) রাতে একটি হামলার সূত্র ধরে এই সহিংসতার শুরু। সুদানের নাগরিক হাদি আলোদিদের ছুরিকাঘাতে স্টিভেন ওগিলভি নামের একজন গুরুতর আহত হন। অভিযুক্তকে আটক করে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, এনএইচএসের একজন রেডিওগ্রাফারকে হত্যার হুমকি এবং ছুরি রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ বুধবার তাঁকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছ, সুদানের নাগরিক হাদি ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তাঁকে শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হয়।

স্টিভেন ওগিলভিকে হামলার একটি ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তেই শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় তারা ‘ফরেইনার্স আউট’ বা ‘বিদেশিরা বেরিয়ে যাও’ বলে স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়। তবে বেশির ভাগ হামলা হয়েছে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে। বেলফাস্টে এক আফ্রিকান পরিবারের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ইউক্রেন থেকে আসা এক কিশোরী জানান, তাঁদের বাড়ির সদর দরজায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলে তিনি পালিয়ে আসেন। আগুন দেওয়া হয় সিটি সেন্টারের একটি বাড়িতে। এর অধিবাসীরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে ডাস্টবিনে আগুন ধরায় এবং পরে পেট্রল বোমা ছুড়ে মারে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সতর্ক করে বলেছেন, ভুক্তভোগীদের জাতিগত পরিচয় জেনেই সহিংসতা চালানো হয়েছে। সরকার এসব বরদাশত করবে না।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই ধরনের সহিংসতা কাপুরুষোচিত। একদল লোক মাস্ক পরে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে মানুষকে ঘর ছাড়া করছে।

ও’নিল বলেন, বর্ণবাদ, ভীতি ছড়ানো এবং সহিংসতা সব সময়ই নিন্দনীয়। আজকের এই হামলার কোনো অজুহাত মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের শহরে এমন ঘটনা কেউ আর দেখতে চায় না। আমি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।