১৪ জুন ২০২৬

মরক্কোর গতি বনাম ব্রাজিলের সাম্বা; বিশ্বমঞ্চে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল দুই পরাশক্তি

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
মরক্কোর গতি বনাম ব্রাজিলের সাম্বা; বিশ্বমঞ্চে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল দুই পরাশক্তি

মাঠের তুমুল লড়াই আর রোমাঞ্চকর ফুটবলের পর শেষ পর্যন্ত ড্রয়ে অমীমাংসিত রইল ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি। প্রথমার্ধেই দুই দল জালের দেখা পেলেও ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ ব্যবধানের সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাতিন আমেরিকা ও উত্তর আফ্রিকার এই দুই পরাশক্তিকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে খেলতে শুরু করে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। বিশেষ করে প্রথমার্ধের প্রথম ১০ মিনিটে তাদের আক্রমণাত্মক ও হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল সেলেসাওদের রক্ষণভাগ। এই সময়ের মধ্যে মরক্কোর আক্রমণভাগ ব্রাজিলের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে দুটি বিপজ্জনক শট নিলেও ব্রাজিলিয়ানরা পাল্টা কোনো জোরালো আক্রমণ করতে পারেনি।

শুরুর সেই প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ব্রাজিল যখনই নিজেদের চিরচেনা গোছানো ফুটবল খেলা শুরু করে, ঠিক তখনই উল্টো গোল হজম করে বসে তারা। ম্যাচের ২১ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের বাড়িয়ে দেওয়া একটি নিখুঁত ও চমৎকার থ্রু পাস ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নেন মরক্কোর ইসমায়েল সাইবারি। সামনে থাকা ব্রাজিলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে পরাস্ত করতে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তার মাথার ওপর দিয়ে চিপ শটে বল জালে জড়িয়ে মরক্কোকে উল্লাসে ভাসান এই ফরোয়ার্ড।

১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে কিছুটা অগোছালো হয়ে পড়া ব্রাজিলের ত্রাণকর্তা হিসেবে তখন আবির্ভূত হন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সেলেসাওদের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলতে নামা এই তারকা ৩২ মিনিটে একক নৈপুণ্যে সমতা ফেরান। বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে মরক্কোর বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার। ক্লাব ফুটবলে স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে ভিনিসিয়ুস যেভাবে গোল করতে অভ্যস্ত, আজ যেন ঠিক সেই চেনা রূপেরই প্রতিফলন দেখা গেল বিশ্বমঞ্চে।

ভিনিসিয়ুসের এই জাদুকরী গোলের পর ম্যাচে সমতা ফিরলেও পরবর্তী সময়ে দুই দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আর কোনো গোল হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।

বিশ্বকাপ না জিতেও জার্সিতে সাত তারকা, মিশরকে সতর্ক করল ফিফা

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
বিশ্বকাপ না জিতেও জার্সিতে সাত তারকা, মিশরকে সতর্ক করল ফিফা

কখনও বিশ্বকাপ জেতেনি, কিন্তু জার্সিতে রয়েছে সাত তারকা। আর তাতেই মিশর ফুটবল দলকে সতর্ক করল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। জানিয়েছে, সাত তারকা সম্বলিত জার্সি পরে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে পারবে না মিশর। খবর ইএসপিএনের।

আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে সাতবার জয়ী হয়েছে মিশর। তাই মিশরের জার্সিতে সাত তারকা রয়েছে। তবে চলতি বছরের শুরুতেই এ নিয়ে মিশরকে সতর্ক করে দেয় ফিফা। এমনকি ফিফার গাইডলাইন মেনে পুমাকে ডিজাইনে পরিবর্তন আনতেও বলা হয়।

মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মিডিয়া কর্মকর্তা মোহামেদ মোরাদ ছাবেত বলেন, এটি ছিল একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। চার মাস আগে, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে জাতীয় দলের জার্সিতে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের তারকা চিহ্ন প্রদর্শন না করার বিষয়টি নিয়ে ফিফা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে অবহিত করেছিল।

তিনি বলেন, এটি ছিল শুধু একটি নোটিফিকেশন, অর্থাৎ একটি নিয়মিত আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ মাত্র। জাতীয় দল আগে থেকেই বিষয়টি অনুমান করেছিল এবং অনেক আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিল।

সাধারণত, অতীতের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য স্মরণে জার্সিতে তারকা যুক্ত করার বিষয়টি জাতীয় দলগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন এ সংক্রান্ত নির্দেশিকাগুলোকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে থাকে।

তবে বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে, ফিফা জোর দিয়ে বলে যে জাতীয় দলের জার্সিতে শুধুমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক হিসেবেই তারকা ব্যবহার করা যাবে।

এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম হলো উরুগুয়ে। দেশটি তাদের জার্সিতে চারটি তারকা ব্যবহার করার অনুমতি পেয়েছে—এর মধ্যে দুটি ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ জয়ের জন্য, আর বাকি দুটি ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয়ের জন্য। ওই দুটি অলিম্পিক ফুটবল প্রতিযোগিতাও ফিফার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত হয়েছিল।

২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ফিরছে মিশর। রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত সেই আসরে তারা গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল, কারণ প্রথম রাউন্ডের তিনটি ম্যাচই হেরেছিল। এর আগে তারা ১৯৩৪ ও ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনও কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি।

সিয়াটলে সোমবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মিশরের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে। এরপর ছয় দিন পর ভ্যানকুভারে তারা নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ ‘জি’-তে সিয়াটলেই নিজেদের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন ইরানের বিপক্ষে মাঠে নামবে মিশর।

মরক্কোর গতি বনাম ব্রাজিলের সাম্বা; বিশ্বমঞ্চে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল দুই পরাশক্তি

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
মরক্কোর গতি বনাম ব্রাজিলের সাম্বা; বিশ্বমঞ্চে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল দুই পরাশক্তি

মাঠের তুমুল লড়াই আর রোমাঞ্চকর ফুটবলের পর শেষ পর্যন্ত ড্রয়ে অমীমাংসিত রইল ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি। প্রথমার্ধেই দুই দল জালের দেখা পেলেও ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ ব্যবধানের সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাতিন আমেরিকা ও উত্তর আফ্রিকার এই দুই পরাশক্তিকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে খেলতে শুরু করে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। বিশেষ করে প্রথমার্ধের প্রথম ১০ মিনিটে তাদের আক্রমণাত্মক ও হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল সেলেসাওদের রক্ষণভাগ। এই সময়ের মধ্যে মরক্কোর আক্রমণভাগ ব্রাজিলের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে দুটি বিপজ্জনক শট নিলেও ব্রাজিলিয়ানরা পাল্টা কোনো জোরালো আক্রমণ করতে পারেনি।

শুরুর সেই প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ব্রাজিল যখনই নিজেদের চিরচেনা গোছানো ফুটবল খেলা শুরু করে, ঠিক তখনই উল্টো গোল হজম করে বসে তারা। ম্যাচের ২১ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের বাড়িয়ে দেওয়া একটি নিখুঁত ও চমৎকার থ্রু পাস ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নেন মরক্কোর ইসমায়েল সাইবারি। সামনে থাকা ব্রাজিলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে পরাস্ত করতে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তার মাথার ওপর দিয়ে চিপ শটে বল জালে জড়িয়ে মরক্কোকে উল্লাসে ভাসান এই ফরোয়ার্ড।

১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে কিছুটা অগোছালো হয়ে পড়া ব্রাজিলের ত্রাণকর্তা হিসেবে তখন আবির্ভূত হন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সেলেসাওদের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলতে নামা এই তারকা ৩২ মিনিটে একক নৈপুণ্যে সমতা ফেরান। বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে মরক্কোর বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার। ক্লাব ফুটবলে স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে ভিনিসিয়ুস যেভাবে গোল করতে অভ্যস্ত, আজ যেন ঠিক সেই চেনা রূপেরই প্রতিফলন দেখা গেল বিশ্বমঞ্চে।

ভিনিসিয়ুসের এই জাদুকরী গোলের পর ম্যাচে সমতা ফিরলেও পরবর্তী সময়ে দুই দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আর কোনো গোল হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।

গোল শোধ করে বিরতিতে ব্রাজিল

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
গোল শোধ করে বিরতিতে ব্রাজিল

ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটির প্রথমার্ধের লড়াই শেষ হয়েছে। ম্যাচের শুরুতে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়লেও বিরতির আগেই খেলায় ফিরেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জাদুকরী গোলে ১-১ সমতায় থেকে প্রথমার্ধের বিরতিতে গেছে দুই দল।

আজ ম্যাচের শুরু থেকেই কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো অত্যন্ত চড়াও মেজাজে খেলতে শুরু করে। বিশেষ করে প্রথম ১০ মিনিটে তাদের হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। এই সময়ে মরক্কো গোলপোস্ট লক্ষ্য করে দুটি জোরালো শট নিলেও ব্রাজিল প্রতিপক্ষের পোস্টে কোনো শটই রাখতে পারেনি।

তবে শুরুর সেই চাপ সামলে ম্যাচে যখনই লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা একটু গোছানো ফুটবল খেলতে শুরু করে, ঠিক তখনই গোল হজম করে বসে তারা। ম্যাচের ২১ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের মরক্কান তারকা ব্রাহিম দিয়াজের চোখধাঁধানো এক থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি। সামনে থাকা ব্রাজিলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে পরাস্ত করতে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তার মাথার ওপর দিয়ে চিপ শটে বল জালে জড়িয়ে মরক্কোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন সাইবারি।

১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর কিছুটা অগোছালো হয়ে পড়েছিল সেলেসাওরা। ম্যাচে ফিরতে তখন ব্রাজিলের প্রয়োজন ছিল বিশেষ কিছু। ঠিক ৩২ মিনিটে ব্রাজিলের সেই ত্রাতা হয়ে আসেন দলের প্রাণভোমরা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে মরক্কোর ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর দারুণ এক ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান এই রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার।

স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ঠিক যেভাবে বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে গোল করতে অভ্যস্ত ভিনিসিয়ুস, ব্রাজিলের জার্সিতেও আজ তার শতভাগ প্রতিফলন দেখা গেল। কাকতালীয়ভাবে, সেলেসাওদের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে আজ ভিনির এটি ছিল ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। মাইলফলকের ম্যাচটিকে গোল করে স্মরণীয় করে রাখলেন এই তারকা।

ভিনিসিয়ুসের এই সমতাসূচক গোলের পর ম্যাচে এখন পুরোপুরি 'গেম অন' আবহ। প্রথমার্ধের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের লড়াই আরও জমজমাট হবে বলেই আভাস মিলছে।

বিশ্বকাপে শুরুতেই ধাক্কা খেল কাতার; এমবোলোর পেনাল্টি গোলে লিড নিল সুইজারল্যান্ড

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
বিশ্বকাপে শুরুতেই ধাক্কা খেল কাতার; এমবোলোর পেনাল্টি গোলে লিড নিল সুইজারল্যান্ড

পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে গেছে সুইজারল্যান্ড। শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত ১০ টায় গ্রুপ ‘বি’-এর গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের ১৩ মিনিটে ব্রিল এমবোলোর সফল স্পট-কিকে লিড পায় ইউরোপীয় দলটি। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়ে যায় কাতার।

এর আগে আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া এক পরিস্থিতিতে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত আসে। ব্রিল এমবোলোর হেডে বল নিচে নামার পর সেটির দিকে দ্রুত এগিয়ে যান রেমো ফ্রয়লার। বলের কাছে পৌঁছাতে গিয়ে কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তিনি। রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে পেনাল্টির বাঁশি বাজালে সিদ্ধান্ত মেনে নেয় মাঠের পরিস্থিতি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন এমবোলো।


এই ম্যাচের আগে গ্রুপ ‘বি’ ইতোমধ্যে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় ছিল। আগের দিন স্বাগতিক কানাডা ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মধ্যকার ম্যাচ ১–১ গোলে ড্র হওয়ায়, কাতার ও সুইজারল্যান্ডের সামনে গ্রুপের শীর্ষে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।


কাতার এই ম্যাচে খেলছে ৪-৩-৩ ফরমেশনে। গোলপোস্টে আছেন মাহমুদ আবুনাদা। রক্ষণভাগে দায়িত্ব পালন করছেন আয়ুব আল উই, পেদ্রো মিগেল, বুয়ালেম খুখি ও হোমাম এল আমিন। মাঝমাঠে আছেন ইসা লায়ে, জাসেম গাবের ও আসিম মাদিবো। আক্রমণভাগে কাতারের প্রধান ভরসা আকরাম আফিফের সঙ্গে খেলছেন ইউসুফ আবদুরিসাগ ও এডমিলসন জুনিয়র।


ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় হিসেবে বেঞ্চে রাখা হয়েছে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলারকে। হাসান আল হাইদোস, আবদুলআজিজ হাতেম, মোহাম্মদ মুনতারি, করিম বুদিয়াফ, আলমোয়েজ আলি ও লুকাস মেন্ডেস সবাই পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন বলে মনে করা হচ্ছে।


অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড খেলছে ৩-৪-২-১ ফরমেশনে। গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল দায়িত্বে আছেন পোস্টের নিচে। তিনজনের রক্ষণভাগে আছেন নিকো এলভেদি, ম্যানুয়েল আকাঙ্কি ও ডেনিস জাকারিয়া। উইং-ব্যাক হিসেবে খেলছেন মিশেল এবিশার ও রিকার্ডো রদ্রিগেজ।

মাঝমাঠে সুইসদের সবচেয়ে বড় শক্তি গ্রানিত জাকা ও রেমো ফ্রয়লারের জুটি। তাদের সামনে আক্রমণ গড়ার দায়িত্বে আছেন রুবেন ভার্গাস ও ড্যান এনদোয়ে। একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে আছেন গোলদাতা ব্রিল এমবোলো।


সুইজারল্যান্ডের বেঞ্চেও রয়েছে শক্তিশালী বিকল্প। আর্দন জাশারি, নোয়া ওকাফর, জেকি আমদুনি, ডিজিব্রিল সো, ফ্যাবিয়ান রিডার ও সিলভান উইডমারের মতো ফুটবলাররা কোচ মুরাত ইয়াকিনের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।


ম্যাচ শুরুর আগে বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, কাগজে-কলমে সুইজারল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে। ইউরোপীয় এই দলের রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণ সব বিভাগেই অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার রয়েছে। বিশেষ করে জাকা, আকাঙ্কি ও এমবোলোর মতো খেলোয়াড়দের উপস্থিতি দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।

তবে কাতারও সহজে হার মানার দল নয়। ২০২২ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা ম্যাচে ফিরতে মরিয়া। আকরাম আফিফ, আলমোয়েজ আলি ও হাসান আল হাইদোসদের মতো অভিজ্ঞদের ওপর ভর করেই তারা সমতা ফেরানোর চেষ্টা করছে।


কাতার একাদশ
মাহমুদ আবুনাদা, আইয়ুব আল উই, পেদ্রো মিগেল, বুয়ালেম খৌখি, হোমাম এল আমিন; ইসা লায়ে, জাসেম গাবের, আসিম মাদিবো; এডমিলসন জুনিয়র, ইউসুফ আবদুরিসাগ, আকরাম আফিফ।


সুইজারল্যান্ড একাদশ
গ্রেগর কোবেল, নিকো এলভেদি, মানুয়েল আকাঞ্জি, ডেনিস জাকারিয়া; মিশেল এবিশার, রেমো ফ্রয়লার, গ্রানিত জাকা, রিকার্দো রদ্রিগেজ; রুবিন ভার্গাস, দান এনদোয়ে; ব্রিল এম্বোলো।

সুইসদের হারিয়ে আবারও চমক দিতে চায় কাতার

প্রকাশ: শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ 'বি'-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে সুইসদের হারিয়ে বড় ধরনের চমক দেখানোর ব্যাপারে আশাবাদী কাতারি শিবির।

চার বছর আগে ঘরের মাঠে আয়োজক দেশ হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল কাতার। তবে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং কঠিন এক সমীকরণের মুখোমুখি কোচ জুলেন লোপেতেগুইয়ের দল।

শনিবার রাতের এই ম্যাচে শক্তির বিচারে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে সুইসদের অবস্থান যেখানে ১৯ নম্বরে, সেখানে কাতার রয়েছে ৫৬তম স্থানে। এর আগে বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা সুইজারল্যান্ড এবারও কোচ মুরাত ইয়াকিনের অধীনে দারুণ ফর্মে রয়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল সান্ডারল্যান্ডের অভিজ্ঞ অধিনায়ক গ্রানিত জাকা এবং ইন্টার মিলানের ডিফেন্ডার আকুঞ্জির মতো তারকারা দলটির প্রধান ভরসা।

অন্যদিকে কাতারের বেশিরভাগ ফুটবলারই আল সাদ কিংবা আল আরবির মতো ঘরোয়া ক্লাবে খেলেন। ইউরোপিয়ান ফুটবলে খেলার অনভিজ্ঞতা দলটিকে কিছুটা ব্যাকফুটে রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাছাড়া বিশ্বকাপের প্রস্তুতির শেষ ম্যাচগুলোতে কাতারের পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। প্রস্তুতি ম্যাচে তারা রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছে এবং এল সালভাদরের সাথে গোলশূন্য ড্র করেছে। শেষ ৫ ম্যাচে কাতারের পা থেকে এসেছে মাত্র ১টি গোল। ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিংয়ের এই অদক্ষতা প্রধান কোচ লোপেতেগুইয়ের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিপরীতে বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া সুইজারল্যান্ড রীতিমতো উড়ছে। বাছাইপর্বের ৮ ম্যাচে ১৪ গোল করার পাশাপাশি তারা হজম করেছে মাত্র ২টি গোল। সুইসদের এই সুসংগঠিত ও কঠোর রক্ষণব্যূহ ভাঙা কাতারের আক্রমণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

তবে কাতার শিবির আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে অতীত ইতিহাস থেকে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে এই দুই দলের একমাত্র দেখায় আকরাম আফিফের করা একমাত্র গোলে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়েছিল কাতার। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন সান ফ্রান্সিসকোর মাঠে, যেখানে কাতার তাদের সেই পুরোনো ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করে সুইস ঘড়ির ছন্দ বিগড়ে দিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।