১৫ জুন ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেকর্ড, ছাড়িয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে

প্রকাশ: শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেকর্ড, ছাড়িয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে

চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ স্থায়িত্বের দিক থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মোট সময়সীমাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর গত ১১ জুন এই যুদ্ধ এক নতুন ও দীর্ঘস্থায়ী মাইলফলক স্পর্শ করল।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই শুরু হওয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫৬৭ দিন স্থায়ী হয়েছিল। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ ইতিমধ্যে সেই সময়সীমা পার করে আজ পর্যন্ত ১ হাজার৫৭০ দিনে পদার্পণ করেছে। আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংঘাতের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও আর্থিক বিপর্যয়

দীর্ঘস্থায়ী যেকোনো যুদ্ধের মতোই এই সংঘাতের সঠিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা কঠিন হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতি ও ব্যয়ের পরিমাণ ইতিমধ্যে ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলেছে।

আর্থিক ক্ষতির চেয়েও এই যুদ্ধে মানুষের প্রাণের ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব মতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত, বাস্তুচ্যুত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা হিসাব করলে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

এই যুদ্ধের আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। উন্নত জীবনের আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে রাশিয়ায় যাওয়া অন্তত ৪০ জন বাংলাদেশি তরুণ ইউক্রেন ফ্রন্টে সম্মুখ যুদ্ধে বাধ্য হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

আড়ালে পড়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ?

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা সাময়িকভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আড়ালে ঠেলে দিয়েছে। তবে মাঠের লড়াই কিংবা কূটনৈতিক টানাপোড়েন—কোনোটিই থেমে নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক চেষ্টা চালালেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

জেলেনস্কির খোলা চিঠি ও পুতিনের প্রতিক্রিয়া

যুদ্ধ বন্ধের নানামুখী তৎপরতার অংশ হিসেবে গত ৪ জুন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো নিরপেক্ষ দেশে পুতিনের সাথে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাব দেন। ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা এই প্রস্তাবকে সমর্থন করলেও এর সাথে কিছু শর্ত জুড়ে দেয়।

তবে ক্রেমলিন এই শর্তযুক্ত আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইউক্রেনের অধিকাংশ সাধারণ নাগরিক মনে করছেন আগামী বছরের আগে এই সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। ফলে যুদ্ধ এভাবে চলতে থাকলে এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্থায়িত্বের রেকর্ডকেও স্পর্শ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি, অস্বস্তিতে ইসরায়েল

নেতানিয়াহুর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা

প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
নেতানিয়াহুর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি নেতানিয়াহুকে ‘খুবই কঠিন মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি খুবই কঠিন একজন মানুষ। আর সত্যি বলতে, আমাদের প্রতি তার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ ইরানের যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তাহলে সেই অস্ত্রের সামনে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারত না।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইসরায়েল অংশ নেয়নি। চুক্তির বিভিন্ন শর্ত ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত এই চুক্তির ফলে শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক হামলা শুরু করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের আয়ের ২০ শতাংশের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের অভিভাবক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান তিনি।

দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুদ্ধ বন্ধে অবশেষে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছে ইসরায়েল।

এই সমঝোতার ঘোষণার পরই ইসরায়েলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব হয়েছে। কয়েক মাস আগেও যেসব গণমাধ্যম ট্রাম্পকে ইসরায়েলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে তুলে ধরেছিল, তারাই এখন তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত ৯

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গত চৌদ্দ দিনের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র রুশ বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই আকস্মিক হামলায় দেশটির আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা আশ্রমে আগুন লেগে যায়।
প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত ৯

সোমবার (১৫ জুন) ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিবৃতির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এই ধ্বংসাত্মক বিমান হামলার তথ্য প্রকাশ করেছে।

চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে বিশেষ আলোচনা করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মস্কো কিয়েভে এই বড় ধরনের হামলা চালায়। এর আগে রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক খাতের প্রধান প্রধান অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

রোববার ইউক্রেনের সেনারা রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল স্থাপনায় সফল আঘাত হানে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান যে ওই স্থাপনাটি মস্কোর জ্বালানি মজুত ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। একই সঙ্গে তিনি তুলা অঞ্চলের আজট রাসায়নিক কারখানাতেও সফল হামলার দাবি করেন যা রাশিয়ার বিস্ফোরক তৈরির অন্যতম মূল কেন্দ্র।

রাশিয়া তাদের দেশে ইউক্রেনীয় হামলার বিষয়টি আংশিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলের গভর্নর জানান যে ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় তাদের একটি শিল্প খাতের জ্বালানি সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মস্কোগামী সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে তুলা অঞ্চলের গভর্নর জানান যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নোভোমস্কভস্ক শহরের একটি কারখানার ভেতরে পড়েছে।

ইউক্রেন ছাড়া রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের লজিস্টিকস ও সামরিক সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতেও কিয়েভ বাহিনী একযোগে হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাতের মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধ করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্রেমলিন জানিয়েছে যে ফোনালাপে ট্রাম্প চলমান যুদ্ধের অবসানকে জরুরি বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও কথা বলেছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও নিশ্চিত করেছেন যে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তাদের এই ফোনালাপে মূলত যুদ্ধ বন্ধের নানা প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ব্রাজিলে মাঝআকাশে দুই হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষ; পাইলটসহ নিহত ৬

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে মাঝআকাশে দুটি হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হেলিকপ্টার দুটিতে থাকা ক্রু ও আরোহীসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন।
প্রকাশ: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
ব্রাজিলে মাঝআকাশে দুই হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষ; পাইলটসহ নিহত ৬

স্থানীয় সময় রোববার (১৪ জুন) সকালে শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় উপশহর রেক্রিও দোস বান্দেইরান্তেসের আকাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মাঝআকাশে সংঘর্ষের পর হেলিকপ্টার দুটি একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রির শোরুমের (ইভি ডিলারশিপ) পার্কিং লটে ভেঙে পড়ে। এর ফলে পার্কিং লটে থাকা প্রায় ২০টি বৈদ্যুতিক গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র ফাবিও কনট্রেইরাস জানান, বৈদ্যুতিক গাড়ির লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এই ধরনের ব্যাটারিতে আগুন লাগলে তা অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস নির্গত করে এবং আগুনের তীব্রতা ও তাপমাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। একটি সাধারণ গাড়ির তুলনায় এই বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর আগুন নেভাতে তিন থেকে চার গুণ বেশি পানির প্রয়োজন হয়।


ফায়ার সার্ভিস আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ ছিল। হেলিকপ্টার দুটি শোরুমের ফাঁকা পার্কিং লটে আছড়ে না পড়ে যদি আবাসিক এলাকায় পড়ত, তবে প্রাণহানির সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারত। উদ্ধারকারীরা পার্কিং লটের জ্বলন্ত বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর ভেতর থেকে একটি হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে, যার ভেতর পাঁচজন আরোহীর মরদেহ পাওয়া যায়। এর থেকে প্রায় ১০০ মিটার (৩২৮ ফুট) দূরে অন্য হেলিকপ্টারটি পাওয়া যায়, যেখানে শুধু পাইলটের মরদেহ ছিল।

ব্রাজিলে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। দেশটির অ্যারোনটিক্যাল অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড প্রিভেনশন সেন্টারের (সিইএনআইপিএ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে রোববারের এই দুর্ঘটনার আগ পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৮৪টি বিমান ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

পাহাড়ে আছড়ে পড়ল আমেরিকার ফাইটার জেট;

ধ্বংসাবশেষ থেকে ছড়িয়ে পড়ল দাবানল

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
ধ্বংসাবশেষ থেকে ছড়িয়ে পড়ল দাবানল

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ইয়াকিমা কাউন্টির পাহাড়ে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় দাবানলের সূত্রপাত হয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১২টার দিকে রিমরক লেকের কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ইয়াকিমা কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, পাইলট বিমান থেকে নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন। সামান্য আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান কর্মকর্তারা।

মার্কিন মেরিন কোরের এক বিবৃতির বরাতে কিরো টিভি জানায়, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল এফ/এ-১৮ হরনেট মডেলের। এটি ‘মেরিন এয়ারক্রাফট গ্রুপ ১১, তৃতীয় মেরিন এয়ারক্রাফট উইং’-এর অধীনে নিয়োজিত ছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানটি ওয়াশিংটনের সিয়াটল শহরের প্রায় ৫৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। তৃতীয় মেরিন এয়ারক্রাফট উইংয়ের ঘাঁটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে মেরিন কোর এয়ার স্টেশন মিরামারে অবস্থিত।

নাচেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার এবং ওকানোগান-ওয়েনাচি ন্যাশনাল ফরেস্ট ফায়ার সার্ভিসের অন্তত একটি ফায়ার ইঞ্জিন মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটুকু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এছাড়া বিমান বিধ্বস্তের কারণ সম্পর্কেও কোনও তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানান তারা।

ইসরাইলকে আর্জেন্টিনার সমর্থন, ইহুদিদের বসবাসের আমন্ত্রণ

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
ইসরাইলকে আর্জেন্টিনার সমর্থন, ইহুদিদের বসবাসের আমন্ত্রণ

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে ইসরায়েল ও ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি নিজেদের নীতিগত অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে আর্জেন্টিনা। সম্প্রতি রাজধানী বুয়েনোস আইরেসের পালাসিও লিবের্তাদ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে জুডেও-ক্রিশ্চিয়ান মূল্যবোধের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দেশটির ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।

প্রভাবশালী ইহুদি ধর্মীয় গুরু রাব্বি মেনাহেম মেন্ডেল শ্নিয়ারসনের মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ইহুদি প্রতিনিধির সামনে প্রধান বক্তা হিসেবে ইসরায়েলের প্রতি নিজের সর্বাত্মক সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ইহুদি ধর্মের চাবাদ আন্দোলনের কোনো বড় আনুষ্ঠানিক সমাবেশে অ-ইহুদি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মিলেইয়ের এমন শ্রদ্ধা নিবেদন এবারই প্রথম, যা ইসরায়েলি গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়েছে। নিজেকে 'নৈরাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী' হিসেবে পরিচয় দেওয়া মিলেই তার ৪০ মিনিটের বক্তব্যে বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে নিজের অর্থনৈতিক দর্শনের ভিত্তি তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জুডেও-ক্রিশ্চিয়ান আদর্শ ধারণ করলে মানুষের আধ্যাত্মিক ও জাগতিক জীবনের মাঝে একটি নিখুঁত সমন্বয় ঘটে।

ইউরোপীয় ইহুদিদের জন্য 'নতুন নিরাপদ আশ্রয়' আর্জেন্টিনা

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ক্রমবর্ধমান ইহুদি-বিদ্বেষী মনোভাব নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই ইহুদিদের জন্য আর্জেন্টিনাকে একটি নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে মিলেই প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কুইর্নো ব্রিটেনসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের ইহুদিদের উদ্দেশে এক বার্তায় আর্জেন্টিনায় স্থানান্তরের আহ্বান জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম ইহুদি সম্প্রদায়ের আবাসস্থল আর্জেন্টিনা কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি উদীয়মান রাষ্ট্রই নয়, বরং ইহুদি-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দেশটির অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। আর্জেন্টিনার এই অবস্থানকে সমর্থন করে দেশটিতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়াল সেলা বলেন, "ইহুদিদের বসবাসের জন্য ইসরায়েল সবসময়ই শ্রেষ্ঠ ভূমি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপের চেয়ে আর্জেন্টিনা তাদের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ ও চমৎকার জায়গা।"

ইসরায়েল সফর ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার

ইসরায়েল ও আর্জেন্টিনার এই নজিরবিহীন কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতার সূত্রপাত মূলত গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট মিলেইয়ের তেল আবিব সফরের মধ্য দিয়ে। সেই সফরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একাধিক কৌশলগত চুক্তি সই করেন মিলেই। ২০২০ সালের 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস'-এর আদলে করা এই চুক্তির অধীনে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বুয়েনোস আইরেস ও তেল আবিবের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের চূড়ান্ত ঘোষণাও দেন মিলেই। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি মডেল লাতিন আমেরিকাতেও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রনীতিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ছাঁচে ঢেলে সাজিয়েছেন হাভিয়ের মিলেই। এর অংশ হিসেবে ইরান এবং দেশটির সামরিক বাহিনী 'ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী' (আইআরজিসি)-র বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনা সম্প্রতি আইআরজিসি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

বুয়েনোস আইরেসের দাবি— ১৯৯২ সালে ইসরায়েলি দূতাবাসে হামলা এবং ১৯৯৪ সালে ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে আত্মঘাতী বোমা হামলার নেপথ্যে ইরানি কর্মকর্তা ও আইআরজিসির প্রত্যক্ষ হাত ছিল। তেহরান অবশ্য শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আইআরজিসি-কে নিষিদ্ধ করার পর ইরান পাল্টা অভিযোগে আর্জেন্টিনাকে 'অপরাধের অংশীদার' এবং 'ইতিহাসের ভুল পক্ষে অবস্থানকারী' দেশ হিসেবে আখ্যা দিলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকে। এর জবাবে বুয়েনস আয়ার্সে নিযুক্ত ইরানি কূটনৈতিক দূতকে বহিষ্কার করে আর্জেন্টিনা।