১২ জুন ২০২৬

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১৩

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১৩

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের নতুন বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) আফগান সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলমান ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষে ইতিমধ্যে কয়েক শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানান যে পাকিস্তানের এই সাম্প্রতিক বিমান হামলাগুলো মূলত আফগানিস্তানের খোস্ত, কুনার এবং পাক্তিকা প্রদেশকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ রয়েছেন। তবে এই বিমান হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা শিকারোক্তি পাওয়া যায়নি।


আফগানিস্তানের সীমান্ত ঘেঁষা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হাসান খেল এলাকায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে সন্দেহভাজন পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিদের হামলার ঠিক এক দিন পর এই বিমান হামলা চালানো হলো। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ওই তীব্র বন্দুকযুদ্ধে ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির ৬ জন সদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে ৮ জন হামলাকারীকে হত্যা করে এবং চেকপোস্ট দখলের চেষ্টা নসাৎ করে দেয়। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহসিন নাকভি পেশোয়ারে নিহতদের জানাজায় অংশ নিয়ে জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে আফগানিস্তান কর্তৃক পাকিস্তানের অভ্যন্তরে পাল্টা সীমান্ত হামলার পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পাকিস্তানে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে মার্চ মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয় বলে আফগানিস্তান দাবি করে। তবে পাকিস্তান এই দাবি অস্বীকার করে জানায় যে তারা কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নয়, বরং একটি গোলাবারুদের ডিপোতে আঘাত হেনেছিল।

এই নতুন সামরিক উত্তেজনা এমন এক সময়ে তৈরি হলো যার মাত্র কয়েক মাস আগে চীন উত্তর অঞ্চলের উরুমকিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একটি বিশেষ শান্তি আলোচনার আয়োজন করেছিল। ওই বৈঠকের পর বেইজিং জানিয়েছিল যে দুই দেশই সংঘাত আর না বাড়াতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে সম্মত হয়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তান তাদের মাটিতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা ‘টিটিপি’র মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে ক্রমাগত আত্মঘাতী হামলা চালাচ্ছে। তবে ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকা আফগান তালেবান প্রশাসন ইসলামাবাদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে।

সূত্র: এনডিটিভি

যুক্তরাজ্যে সুদানের অভিবাসীর ছুরিকাঘাত থেকে বিক্ষোভ-সহিংসতা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
যুক্তরাজ্যে সুদানের অভিবাসীর ছুরিকাঘাত থেকে বিক্ষোভ-সহিংসতা

যুক্তরাজ্যে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে এক অভিবাসীর ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়েছে। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাতে শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন, যাঁদের অধিকাংশই মুখে মাস্ক পরে ছিলেন। এ সময় একটি বাসসহ কয়েকটি গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া হয়। সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

বিবিসি এক খবরে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত সোমবার (৮ জুন) রাতে একটি হামলার সূত্র ধরে এই সহিংসতার শুরু। সুদানের নাগরিক হাদি আলোদিদের ছুরিকাঘাতে স্টিভেন ওগিলভি নামের একজন গুরুতর আহত হন। অভিযুক্তকে আটক করে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, এনএইচএসের একজন রেডিওগ্রাফারকে হত্যার হুমকি এবং ছুরি রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ বুধবার তাঁকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছ, সুদানের নাগরিক হাদি ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তাঁকে শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হয়।

স্টিভেন ওগিলভিকে হামলার একটি ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তেই শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় তারা ‘ফরেইনার্স আউট’ বা ‘বিদেশিরা বেরিয়ে যাও’ বলে স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়। তবে বেশির ভাগ হামলা হয়েছে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে। বেলফাস্টে এক আফ্রিকান পরিবারের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ইউক্রেন থেকে আসা এক কিশোরী জানান, তাঁদের বাড়ির সদর দরজায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলে তিনি পালিয়ে আসেন। আগুন দেওয়া হয় সিটি সেন্টারের একটি বাড়িতে। এর অধিবাসীরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে ডাস্টবিনে আগুন ধরায় এবং পরে পেট্রল বোমা ছুড়ে মারে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সতর্ক করে বলেছেন, ভুক্তভোগীদের জাতিগত পরিচয় জেনেই সহিংসতা চালানো হয়েছে। সরকার এসব বরদাশত করবে না।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই ধরনের সহিংসতা কাপুরুষোচিত। একদল লোক মাস্ক পরে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে মানুষকে ঘর ছাড়া করছে।

ও’নিল বলেন, বর্ণবাদ, ভীতি ছড়ানো এবং সহিংসতা সব সময়ই নিন্দনীয়। আজকের এই হামলার কোনো অজুহাত মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের শহরে এমন ঘটনা কেউ আর দেখতে চায় না। আমি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

ইরান আমাদের বোকা বানাচ্ছে, আজ আবার হামলা চালাব: ট্রাম্প

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
ইরান আমাদের বোকা বানাচ্ছে, আজ আবার হামলা চালাব: ট্রাম্প
ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইরানে নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছেন, আজ বুধবার আবারও ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতেও মার্কিন বাহিনী ইরানি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেন, পারমাণবিক চুক্তি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা টেবিলে ইরান মূলত ওয়াশিংটনকে কালক্ষেপণের মাধ্যমে ধোঁকা দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ইরান এত দিন ধরে আমাদের বোকা বানাচ্ছে। এবার আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত শক্ত আঘাত হানতে যাচ্ছি।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যদি আপনারা টেলিভিশন সেট অন না করার কারণে রাতের ঘটনা মিস করে থাকেন, তবে জেনে রাখুন—আজ আমরা তাদের ওপর আবারও কঠোর হামলা চালাতে যাচ্ছি। এরপর দেখা যাবে চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হয়।’

কেন এই উত্তেজনা
ইরানের ওপর চলমান নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গত সোমবার ওমান উপকূলের হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল আপাচি হেলিকপ্টার (এএইচ-৬৪) বিধ্বস্ত হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানি বাহিনী হেলিকপ্টারটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল। এর জবাবেই মূলত মঙ্গলবার রাত থেকে ইরানি রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

দুই মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের হামলাটি এমনভাবে পরিমাপ বা ক্যালিব্রেট করা হয়েছিল যাতে ইরানের কোনো সামরিক বা বেসামরিক নাগরিক হতাহত না হয়।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের একটি অত্যন্ত দামি হেলিকপ্টারে তারা গুলি চালিয়েছে। এই একটি ঘটনাই আমাদের তাদের ওপর পাল্টা আঘাত হানার পূর্ণ অধিকার এনে দিয়েছে। সৌভাগ্যবশত হেলিকপ্টারে থাকা দুই ক্রু সদস্য বেঁচে গেছেন।’

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মূর্তির মধ্যেও কূটনীতির পথ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন যাতে ভেঙে পড়া আলোচনা আবার শুরু করা যায়।

তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবের জন্য গত দুই সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করতে করতে ট্রাম্পের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।

ওভাল অফিসে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, আমরা একটা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কেবলই সময় নষ্ট করছে, আমাদের সঙ্গে ‘ট্যাপ, ট্যাপ, ট্যাপ’ (টালবাহানা) খেলছে। আমি জানি না তারা আসলে কী করতে চায়! তবে যুক্তরাষ্ট্রকে আর বোকা বানানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।

আপাতত আজ বুধবার ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইসরাইল-ইরান সংঘাত শান্তি চুক্তিতে প্রভাব ফেলবে না: ট্রাম্প

প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
ইসরাইল-ইরান সংঘাত শান্তি চুক্তিতে প্রভাব ফেলবে না: ট্রাম্প

ইসরাইলের হামলার জবাবে দেশটিতে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। পাল্টাপাল্টি এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, এই সংঘাত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

ট্রাম্প ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘চুক্তির ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। আমিই সব সিদ্ধান্ত নিই। তিনি (নেতানিয়াহু) কোনো সিদ্ধান্ত নেন না।’

ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাঁচ ঘণ্টা পরেও নেতানিয়াহু এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

এই সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সোমবারের প্রথম দিকের লেনদেনে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানিয়েছে, তারা নাজারেথের কাছে রামাট ডেভিড বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করে তা প্রতিহত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ফের পতন

প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ফের পতন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবার সুদহার বাড়ার আশঙ্কায় দাম কমেছে।

সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমার পাশাপাশি সাপ্তাহিক হিসেবেও পণ্যটি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩১৩.১১ ডলারে নেমেছে। এর আগে শুক্রবার স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে গত ২৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৩৬.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওয়ান্ডার (ওয়ান্ডা) জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আরো কঠোর অবস্থানের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিচ্ছে। এছাড়া মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ফলনও স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন আগের সেশনে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর আরো বেড়েছে। ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধারণের সুযোগব্যয়ও বেড়েছে।

এদিকে, ইসরাইল সোমবার জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ও মধ্য ইরানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানোর পরও এই হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো সুদবিহীন ধাতুর জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাজারের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে। বর্তমানে ডিসেম্বরের মধ্যে সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৭২ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

বেথ হাম্যাক বলেছেন, নতুন কর্মসংস্থান তথ্য দেখাচ্ছে শ্রমবাজার প্রায় পূর্ণ কর্মসংস্থানের অবস্থায় রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি উচ্চ থাকায় সেটি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিগগিরই সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি মূল্যবান ধাতুর বাজারে স্পট সিলভারের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭.৫৬ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১,৭৬৭.১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ১,২২৫.৬৬ ডলারে ছিল।

ফিলিপাইনে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়েছে ভবন

প্রকাশ: সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
ফিলিপাইনে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়েছে ভবন

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হেনেছে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। তীব্র এই কম্পনে কেঁপে ওঠে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা। ভূমিকম্পের পরপরই উপকূলীয় এলাকায় জারি করা হয়েছে সুনামির সতর্কতা এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। কম্পনের তীব্রতায় বেশ কিছু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং রাস্তাঘাটে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।

একের পর এক আফটারশক
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, মূল ভূমিকম্পটির পর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬টি আফটারশক (অনুকম্পন) রেকর্ড করা হয়েছে। এগুলোর মাত্রা রিখটার স্কেলে ১ দশমিক ৩ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৭ পর্যন্ত ছিল। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি থাকা জেনারেল সান্তোস সিটি থেকে। সরকারি বার্তা সংস্থা ফিলিপাইন ইনফরমেশন এজেন্সির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের বড় বড় ভবন ও বিপণিবিতান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিপাইনের অত্যন্ত জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড চেইন জলিবির অন্তত দুটি শাখা হুড়মুড় করে ভেঙে সড়কের ওপর ধসে পড়ছে। আতঙ্কিত মানুষকে এ সময় দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে দেখা যায়।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত একজন নিহত এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেনারেল সান্তোস সিটির একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

শহরের মাস্টার সার্জেন্ট রবার্ট ডাগন জানান, ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। তবে এই মুহূর্তে আমরা উদ্ধারকাজ নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকায় ঠিক কতগুলো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকারীরা।

সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি
ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ফিলিপাইন রেড ক্রস। এরই মধ্যে সংস্থাটির উদ্ধারকারী দল মাঠে নেমে কাজ শুরু করেছে।

এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ফিলিপাইন রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই করছেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় করা হচ্ছে।

উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রসৈকত থেকে দূরে এবং উঁচু স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।