১২ জুন ২০২৬

কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশপথে ধেয়ে আসা শত্রুপক্ষের বেশ কয়েকটি বৈরী লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে প্রতিহত করেছে। বুধবার (১০ জুন) ভোরে কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় তাদের ডিফেন্স সিস্টেম বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।

এর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনেও সম্ভাব্য বিমান হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে।


কুয়েত সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি জরুরি বার্তায় দেশের সাধারণ বাসিন্দাদের আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত সকল নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

একই সাথে যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি এড়াতে নাগরিকদের শুধুমাত্র অনুমোদিত সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। কুয়েত প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সামরিক ইন্টারসেপ্ট বা প্রতিহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত অন্য কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


উদ্ভূত এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘আইআরজিসি’ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে কুয়েত ও বাহরাইনে একযোগে ড্রোন হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে। আইআরজিসি দাবি করেছে যে আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে তারা কুয়েতে অবস্থিত ‘আলি আল সালেম’ ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে এই ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এর পাশাপাশি বাহরাইনে মোতায়েন থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী ও কৌশলগত পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করেও পৃথক একটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।

ইরানের এই বহুমুখী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানটি মূলত আজ বুধবার ভোরের দিকে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান বাহিনীর চালানো আকস্মিক বোমাবর্ষণের পর পরই সংগঠিত হয়। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এই পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বাড়ার পর আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বা ‘সেন্টকম’ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

মার্কিন সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা দক্ষিণ ইরানে তাদের ভাষায় একটি ‘আত্মরক্ষামূলক’ বিমান হামলা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। দুই পক্ষের এই সরাসরি সামরিক সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

কুয়েত-বাহরাইনের পর জর্ডান;

১২ ক্ষেপণাস্ত্র ফেলে এফ-৩৫সহ ৩ মার্কিন যুদ্ধবিমান গুঁড়িয়ে দিল ইরান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
১২ ক্ষেপণাস্ত্র ফেলে এফ-৩৫সহ ৩ মার্কিন যুদ্ধবিমান গুঁড়িয়ে দিল ইরান

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে তারা ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। খবর আলজাজিরার।

আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত এফ-৩৫, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ছিল। তারা দাবি করেছে, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ঘাঁটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে।

এই হামলার দাবি আসে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পর। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর হামলা চালায় বলে খবর প্রকাশিত হয়। এর জবাবে ইরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে।

তবে আইআরজিসির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আল-আজরাক অঞ্চলের দিকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং এতে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারাও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছেন।

আমেরিকার হামলার পাল্টা জবাব:

কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

দুই দেশে হামলা চালাল ইরান

মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি ও কুয়েতের আলি আল সালেম ও আহমদ আল জাবের বিমান ঘাঁটিতে ড্র্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। খবর আলজাজিরা।

পাশাপাশি এ হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, আইআরজিসি হরমুজে থাকা দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। হরমুজে সব ধরনের জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। এ ঘোষণার পরই তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে।

আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালি অবৈধভাবে পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে জোরালে হামলার হুমকি দেন। এর পর বন্দর আব্বাসসহ ইরানের কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা আঘাতে উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য;

সব ধরনের নৌযানের জন্য হরমুজ বন্ধ করল ইরান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
সব ধরনের নৌযানের জন্য হরমুজ বন্ধ করল ইরান

মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে ‘কঠোর’ বিমান হামলা শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই হামলা চালানো হয়।

বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে এবং ইরানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর এসব হামলা শুরু হয়।

সেন্টকমের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে হামলাগুলো চালানো হচ্ছে। পোস্টে বলা হয়, ‘ইরানের অযৌক্তিক ও অব্যাহত আগ্রাসনের জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।’

সংবাদ মাধ্যম ইউরো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পশ্চিম তেহরান, কিশ দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, কেশম ও মিনাবে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। পাশাপাশি ফার্স প্রদেশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের (ইরানের) ওপর হামলা চালাব, এবং খুব কঠোরভাবে হামলা চালাব।’

তিনি ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাই নতুন হামলার যৌক্তিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শান্তি আলোচনা নিয়ে তেহরানের প্রতিনিধিরা ‘আমাদেরকে বোকা বানাচ্ছে’। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে।

এদিকে, ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড তেলবাহী ট্যাংকার এবং বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো নৌযান এই প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করলে তাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশপথে ধেয়ে আসা শত্রুপক্ষের বেশ কয়েকটি বৈরী লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে প্রতিহত করেছে। বুধবার (১০ জুন) ভোরে কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় তাদের ডিফেন্স সিস্টেম বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।

এর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনেও সম্ভাব্য বিমান হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে।


কুয়েত সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি জরুরি বার্তায় দেশের সাধারণ বাসিন্দাদের আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত সকল নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

একই সাথে যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি এড়াতে নাগরিকদের শুধুমাত্র অনুমোদিত সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। কুয়েত প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সামরিক ইন্টারসেপ্ট বা প্রতিহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত অন্য কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


উদ্ভূত এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘আইআরজিসি’ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে কুয়েত ও বাহরাইনে একযোগে ড্রোন হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে। আইআরজিসি দাবি করেছে যে আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে তারা কুয়েতে অবস্থিত ‘আলি আল সালেম’ ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে এই ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এর পাশাপাশি বাহরাইনে মোতায়েন থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী ও কৌশলগত পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করেও পৃথক একটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।

ইরানের এই বহুমুখী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানটি মূলত আজ বুধবার ভোরের দিকে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান বাহিনীর চালানো আকস্মিক বোমাবর্ষণের পর পরই সংগঠিত হয়। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এই পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বাড়ার পর আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বা ‘সেন্টকম’ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

মার্কিন সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা দক্ষিণ ইরানে তাদের ভাষায় একটি ‘আত্মরক্ষামূলক’ বিমান হামলা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। দুই পক্ষের এই সরাসরি সামরিক সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

জর্ডানের একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিতে দূরপাল্লার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ‘আইআরজিসি’ মহাকাশ শাখা দাবি করেছে যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা ওই ঘাঁটিতে তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

এই হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি তাদের এক বিশেষ বিবৃতিতে দাবি করেছে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উক্ত ঘাঁটির প্রধান চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আক্রমণটি ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী হামলার জবাবে নেওয়া ইরানের এক বৃহত্তর পাল্টা সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত ধাপ।

এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তারা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে হামলা চালিয়েছে এবং একই সময়ে ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা আমেরিকার একটি ‘এমকিউ-৯’ ড্রোনও সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

বিবৃতির শেষাংশে আইআরজিসি মার্কিন প্রশাসনকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছে যে ওয়াশিংটনের পরবর্তী যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে তাদের সশস্ত্র বাহিনী আরও ‘বিধ্বংসী ও চূড়ান্ত’ প্রতিক্রিয়া জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এর বাইরে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে দুই পক্ষের মধ্যকার বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি যদি আরও উত্তপ্ত ও বিপজ্জনক রূপ নেয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার এককভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

ইরানের এই ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানের মধ্যেই পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েতের সেনাবাহিনী এক জরুরি বার্তা প্রকাশ করেছে। কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে যে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ‘আকাশপথে আসা শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু’ প্রতিহত করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি বিশেষ পোস্টে কুয়েতি সেনাবাহিনী দেশের সাধারণ বাসিন্দাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত সকল সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছে।

কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আরও অনুরোধ জানানো হয়েছে যে তারা যেন যুদ্ধের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে এবং সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য শুধুমাত্র অনুমোদিত সরকারি সূত্রের ওপরই পূর্ণ নির্ভর করেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই আকস্মিক ও বহুমুখী সামরিক সংঘাতের ফলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা