১২ জুন ২০২৬
ইতিহাসে প্রথমবার:

অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে বাংলাদেশের অর্থনীতি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে বাংলাদেশের অর্থনীতি

বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রথমবারের মতো ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চলতি মূল্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ৫০১ বিলিয়ন বা অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের সমান।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা, যা প্রায় ৪৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান ছিল।

বুধবার (১০ জুন) প্রকাশিত বিবিএসের সাময়িক প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে ৪.১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ৩.৪৯ শতাংশ। ফলে প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

খাতভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৭৮ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ২.৪২ শতাংশের তুলনায় ০.৩৬ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়েছে। সাময়িক হিসাবে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২.৮৬ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩.৭১ শতাংশের তুলনায় ০.৮৫ শতাংশ কম।

সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৫৯ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৪.৩৫ শতাংশ থেকে ০.২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জিডিপির সঙ্গে বিনিয়োগের অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ২৭.৯৩ শতাংশে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৮.৫৪ শতাংশ। একইভাবে দেশজ সঞ্চয় কমে ২১.৩৮ শতাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয় কমে ২৬.৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

এদিকে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা বা ৩,০২০ মার্কিন ডলারে। আগের অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা বা ২,৭৬৯ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবৃদ্ধির হার বাড়লেও বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করে।

প্রথমবার বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছাড়াল ৩ হাজার ডলার

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাথাপিছু আয় ৩ হাজার মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারও ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
প্রথমবার বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছাড়াল ৩ হাজার ডলার

বুধবার (১০ জুন) প্রকাশিত বিবিএসের সাময়িক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা, যা ডলারের হিসাবে ৩ হাজার ২০ ডলার। এর আগের অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা বা ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা।

এতে আরও জানানো হয়, একই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক গতি ফিরে এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশের তুলনায় বেশি।

বর্তমান বাজারমূল্যে দেশের অর্থনীতির আকারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা প্রায় ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য। আগের অর্থবছরে অর্থনীতির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবের এই তথ্য বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হলেও এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন হবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের মাধ্যমে।

ইতিহাসে প্রথমবার:

অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে বাংলাদেশের অর্থনীতি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে বাংলাদেশের অর্থনীতি

বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রথমবারের মতো ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চলতি মূল্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ৫০১ বিলিয়ন বা অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের সমান।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা, যা প্রায় ৪৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান ছিল।

বুধবার (১০ জুন) প্রকাশিত বিবিএসের সাময়িক প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে ৪.১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ৩.৪৯ শতাংশ। ফলে প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

খাতভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৭৮ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ২.৪২ শতাংশের তুলনায় ০.৩৬ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়েছে। সাময়িক হিসাবে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২.৮৬ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩.৭১ শতাংশের তুলনায় ০.৮৫ শতাংশ কম।

সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৫৯ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৪.৩৫ শতাংশ থেকে ০.২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জিডিপির সঙ্গে বিনিয়োগের অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ২৭.৯৩ শতাংশে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৮.৫৪ শতাংশ। একইভাবে দেশজ সঞ্চয় কমে ২১.৩৮ শতাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয় কমে ২৬.৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

এদিকে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা বা ৩,০২০ মার্কিন ডলারে। আগের অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা বা ২,৭৬৯ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবৃদ্ধির হার বাড়লেও বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করে।

১০ হাজার কোটি টাকা ধার চায় ইসলামী ব্যাংক

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
১০ হাজার কোটি টাকা ধার চায় ইসলামী ব্যাংক

সংকটে পড়ে আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত এক সপ্তাহে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকেরা পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত তুলে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকের চাহিদা সামাল দিতে মঙ্গলবার (১০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে জানান, ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানত কমেছে ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। এরপর গত দুই দিনেও আমানত আরও কমেছে বলে জানা যায়।

ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এরপর থেকেই ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ এর ব্যানারে চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলন চলছে। গ্রাহকদের ‘যৌক্তিক’ আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। টানা কর্মসূচির কারণে অনেক গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় তারা আমানত তুলে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মঙ্গলবারও (১০ জুন) নবম দিনের মতো কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের অভিযোগ, আর্থিক অনিয়ম ও বিতর্কের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ায় তারা আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

আন্দোলন করা গ্রাহকদের দাবির মধ্যে আরও রয়েছে ওমর ফারুক খানকে এমডি পদে পুনর্বহাল, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত কাউকে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদে না রাখা, ব্যাংক রেজোল্যুশন অ্যাক্ট থেকে ১৮ (ক) ধারা বাতিল, এস আলমের দখল করা মালিকানা ও দেশে থাকা সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থের সমন্বয়, শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, এস আলম যাতে কোনো ব্যাংকেই ফিরতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করা, ইসলামী ব্যাংকসহ সব ব্যাংক লুটকারীকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

জানা যায়, শেয়ারবাজার থেকে নামে–বেনামে শেয়ার কিনে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলম গ্রুপ। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি এস আলমের দখলমুক্ত হয়। এরপর থেকে ব্যাংকটি পরিচালনা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা।

ব্যাংকটির ৫০ শতাংশ ঋণ এখন খেলাপি। ব্যাংকটি এখন আর্থিক সংকটে ভুগছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে ব্যাংকটি। এর আগেও বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নানা ধরনের সুবিধা নিয়েছিল।

দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন

নয়াদিল্লীতে বিজিবি-বিএসএফ শীর্ষ বৈঠক; সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধের তাগিদ

তারকাঁটার বেড়া কেটে ফেলা ও সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ বিএসএফের, ১৫০ গজের মধ্যে স্থাপনা করতে চাইলে বিজিবিকে জানাতে হবে
প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
নয়াদিল্লীতে বিজিবি-বিএসএফ শীর্ষ বৈঠক; সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধের তাগিদ

ভারতের নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে দুই দেশের পক্ষ থেকে এজেন্ডাসমূহ উত্থাপন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় দুই দেশের প্রতিনিধি দলের ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়।

এর আগে গত সোমবার বিজিবির ডিজি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লীতে সম্মেলনে অংশ নিতে পৌঁছে। অপরদিকে বিএসএফের প্রধান প্রবীণ কুমারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।

সম্মেলন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সম্মেলনে বিজিবির ডিজি মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি ও এই পরিস্থিতির সমাধান নিয়ে বক্তব্য উত্থাপন করেন। ডিজি সম্প্রতি বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা নিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার জনগোষ্ঠীদের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এছাড়া সীমান্ত হত্যা নিয়েও উদ্বেগ জানান। এই হত্যার ঘটনা জিরোতে আনার জন্য দুই দেশকে আরো গভীরভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান।

বিএসএফের ডিজি প্রবীন কুমার তার বক্তব্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের অতীতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী দুই দেশের শক্রু। অপরাধীদের কোনো দেশ নেই।’

পরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিজিবির এডিজি (অপারেশন্স) বৈঠকের এজেন্ডা উত্থাপন করেন। ভারতীয় নাগরিক ও দুষ্কৃতকারী কর্তৃক সীমান্ত হত্যার তথ্য উত্থাপন করেন। সীমান্তে নন-ল্যাথাল (প্রাণঘাতি নয়) অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গটি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়। বলা হয় নন-ল্যাথাল অস্ত্র ব্যবহারের কথা থাকলেও সীমান্তে বেসামরিক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে।

পুশইন বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দুই দেশকে একমত হওয়ার আহবান জানানো হয়। এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধ, মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ অন্যান্য অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের এজেন্ডা উত্থাপন করা হয়।

বিশেষ করে সম্প্রতি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে জিরোলাইন থেকে ভারতের দেড়শ গজের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এজন্য ১৯৭৫ সালে দুই দেশের বিডিআর-বিএসএফ মধ্যে সীমান্ত চুক্তি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের নিষ্পত্তির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, উত্থাপন করা এজেন্ডাগুলোর মধ্যে তিনবিঘা করিডোর দিয়ে পাটগ্রাম থেকে দহগ্রাম পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন, আগরতলা থেকে আখাউড়াগামী ৪টি খালের বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ইটিপি স্থাপন, মুহুরীর চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান, তাদের কর্মকা্ল সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান ও সন্ত্রাসীদের তালিকা জমা দেওয়া হয়।

এছাড়া আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ ড্রোন ও হেলিকপ্টার উড্ডয়ন বন্ধ, ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল সম্পর্কে নেতিবাচক অপপ্রচার বন্ধ এবং উভয় বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

পরে বিএসএফের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি এজেন্ডা উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো বাংলাদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ করার প্রস্তাব দেয়া হয়। ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার সীমান্তে গত ৬ মাসে বাংলাদেশী নাগরিক দ্বারা বেশ কয়েকজন বিএসএফ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বলা হয়।

এছাড়া ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা প্রবেশ করে চুরি, ডাকাতি ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।

ভারতের সীমান্তে যেসব উন্নয়নমূলক কাজ বিজিবির বাধার মুখে বন্ধ হয়ে আছে, ওইসব কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য বিজিবির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এছাড়া আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, ভারতে অপরাধীদের প্রবেশ রোধ, বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, দুই বাহিনীর মধ্যে আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ এবং সংস্কার-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একাধিক এজেন্ডা বৈঠকে উত্থাপন করা হয় বিএসএফের পক্ষ থেকে।

রাশিয়ায় যাবে ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মী, সম্মত রুশ কর্তৃপক্ষ!

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে আগামী বছরের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি ১ লাখে উন্নীত করার বিষয়ে রা‌শিয়ার স‌ঙ্গে আলোচনা ক‌রেছে‌ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে রাশিয়া।

মঙ্গলবার (৯ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ের এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এ তথ্য জানা‌নো হয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি রাশিয়ায় কাজ করছেন। সেখানে জনশক্তি রপ্তানি এক লাখে উন্নীত করার বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব দেয়া হ‌লে তারা দ্রুত এ বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়। উভয়পক্ষ শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনশক্তি রপ্তানি ছাড়াও উভয়পক্ষ একমত হয়েছে যে, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও ওষুধের দ্রুত বৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর জোর দেন।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় বিশেষ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) সহ‌যো‌গিতা নি‌য়ে আলোচনা হ‌য়। কৃষি ও স্বাস্থ্যে এআই-এর প্রয়োগের বিষয়ে রা‌শিয়ার একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসার বিষ‌য়ে সম্মতি জানায়।

রাশিয়ান ফেডারেশনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল মস্কো সফর করেন। সফরকালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে রাজনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজ আয়োজন করেন।

মধ্যাহ্নভোজে দুই দেশের প্রতিনিধিরা অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত সাত বছরের মধ্যে এই প্রথম বাংলাদেশ থেকে এত উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিদলকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই সফর বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরো সুদৃঢ় করার অভিন্ন আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।