কখনও বিশ্বকাপ জেতেনি, কিন্তু জার্সিতে রয়েছে সাত তারকা। আর তাতেই মিশর ফুটবল দলকে সতর্ক করল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। জানিয়েছে, সাত তারকা সম্বলিত জার্সি পরে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে পারবে না মিশর। খবর ইএসপিএনের।
আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে সাতবার জয়ী হয়েছে মিশর। তাই মিশরের জার্সিতে সাত তারকা রয়েছে। তবে চলতি বছরের শুরুতেই এ নিয়ে মিশরকে সতর্ক করে দেয় ফিফা। এমনকি ফিফার গাইডলাইন মেনে পুমাকে ডিজাইনে পরিবর্তন আনতেও বলা হয়।
মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মিডিয়া কর্মকর্তা মোহামেদ মোরাদ ছাবেত বলেন, এটি ছিল একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। চার মাস আগে, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে জাতীয় দলের জার্সিতে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের তারকা চিহ্ন প্রদর্শন না করার বিষয়টি নিয়ে ফিফা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে অবহিত করেছিল।
তিনি বলেন, এটি ছিল শুধু একটি নোটিফিকেশন, অর্থাৎ একটি নিয়মিত আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ মাত্র। জাতীয় দল আগে থেকেই বিষয়টি অনুমান করেছিল এবং অনেক আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিল।
সাধারণত, অতীতের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য স্মরণে জার্সিতে তারকা যুক্ত করার বিষয়টি জাতীয় দলগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন এ সংক্রান্ত নির্দেশিকাগুলোকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে থাকে।
তবে বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে, ফিফা জোর দিয়ে বলে যে জাতীয় দলের জার্সিতে শুধুমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক হিসেবেই তারকা ব্যবহার করা যাবে।
এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম হলো উরুগুয়ে। দেশটি তাদের জার্সিতে চারটি তারকা ব্যবহার করার অনুমতি পেয়েছে—এর মধ্যে দুটি ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ জয়ের জন্য, আর বাকি দুটি ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয়ের জন্য। ওই দুটি অলিম্পিক ফুটবল প্রতিযোগিতাও ফিফার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত হয়েছিল।
২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ফিরছে মিশর। রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত সেই আসরে তারা গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল, কারণ প্রথম রাউন্ডের তিনটি ম্যাচই হেরেছিল। এর আগে তারা ১৯৩৪ ও ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনও কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি।
সিয়াটলে সোমবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মিশরের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে। এরপর ছয় দিন পর ভ্যানকুভারে তারা নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ ‘জি’-তে সিয়াটলেই নিজেদের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন ইরানের বিপক্ষে মাঠে নামবে মিশর।