বাংলাদেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিক পরিবারগুলোর ক্ষমতায়ন এবং তাদের টেকসই জীবিকা অর্জনে সহায়তা করতে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ‘কাতার চ্যারিটি’ (Qatar Charity)। সংস্থাটির এই আয়বর্ধক সম্পদ বিতরণ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে ৩৮০টি পরিবার—অর্থাৎ প্রায় ১,৯০০ জন মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
দরিদ্রতার চক্র ভেঙে স্বাবলম্বী জীবন গড়ার লক্ষ্যে সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর মাঝে ১৪০টি মোটরচালিত রিকশা, ১৪০টি কার্গো ট্রাইসাইকেল এবং ১০০টি গ্রাইন্ডিং মেশিন টুলস বিতরণ করা হয়েছে।
রাজশাহীর দুর্গাপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব আধুনিক জীবনধারণ সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে কাতার চ্যারিটির বাংলাদেশ কার্যালয়ের পরিচালক, স্থানীয় কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল কাতার চ্যারিটির এই উদ্যোগের উচ্চসিত প্রশংসা করে বলেন:
"সাহায্যকে শুধু সাময়িক ত্রাণ হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবারগুলোকে আয়বর্ধক সম্পদ প্রদান করা দারিদ্র্য মোকাবিলার একটি অত্যন্ত টেকসই পদ্ধতি। এটি অসহায় পরিবারগুলোকে মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দেয়। বাংলাদেশে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কাতার চ্যারিটি ও কাতারের উদারমনা জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।"
কাতার চ্যারিটির বাংলাদেশ কার্যালয়ের পরিচালক জাকারিয়া আল-মুতাইরি জানান, সহায়তানির্ভরশীলতা কমিয়ে মানুষকে উৎপাদনশীল সম্পদের মালিক বানানোই কাতার চ্যারিটির মূল লক্ষ্য।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কাতার চ্যারিটি সাময়িক ত্রাণের চেয়ে টেকসই আয়ের উৎস তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দেয়, যাতে সুবিধাভোগী পরিবারগুলো আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদা নিয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে। ভবিষ্যতেও সারা বাংলাদেশে এ ধরনের জীবনমান উন্নয়নমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উৎপাদনশীল সম্পদ হস্তান্তরের এই অনন্য উদ্যোগটি স্থানীয় দারিদ্র্য হ্রাস, ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং দেশের প্রান্তিক মানুষের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
আবেদনে কোনো ভুল বা প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি থাকলে তা বিবেচনায় সমস্যা হতে পারে।