২০ অক্টোবর ২০২৬
ওটেক্সার প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমল পৌনে ৬ শতাংশ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমল পৌনে ৬ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ সময়ে বাংলাদেশ থেকে ৪০১ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ এর চেয়ে বেশি ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) এই হিসাব জানিয়েছে।

তবে ছয় মাসের হিসাবে রপ্তানি কমলেও জুনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ৭৬ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের জুনের তুলনায় এ বছর জুনে আমদানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

বাংলাদেশের রপ্তানি কমার চিত্রটি বুঝতে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানির তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মূল্যের হিসাবে ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং পরিমাণের হিসাবে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানি যেখানে মূল্যের হিসাবে ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ কমেছে, সেখানে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে তার চেয়ে কম হারে।

তবে এই বাজার সংকোচনের মধ্যেও বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিযোগী দেশ রপ্তানি বাড়াতে পেরেছে। মূল্যমানের হিসাবে জানুয়ারি-জুন সময়ে কম্বোডিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়া থেকে বেড়েছে ৩ দশমিক ৪০ এবং ভিয়েতনাম থেকে ১ দশমিক ০৮ শতাংশ।

অন্যদিকে পাকিস্তান থেকে আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। বাংলাদেশের কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রে পতন ২৫ দশমিক ২৭ এবং চীনের ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ বড় সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভারতের পতন বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হলেও কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম এ সময় প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।

পরিমাণের হিসাবেও একই ধরনের প্রতিযোগিতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বিপরীতে কম্বোডিয়া থেকে আমদানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১০ দশমিক ৮৯, ভিয়েতনাম থেকে ৩ দশমিক ৩০ এবং পাকিস্তান থেকে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

ভারত ও চীন অবশ্য পরিমাণের দিক থেকে বড় পতনের মুখে পড়েছে। ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে ২২ দশমিক ৭৪ এবং চীন থেকে ২৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।

রপ্তানি মূল্যের পাশাপাশি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্যেও পরিবর্তন এসেছে। জানুয়ারি-জুন সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ২ দশমিক ১৫ শতাংশ। ভিয়েতনামের ক্ষেত্রেও একই হারে কমেছে। এ সময়ে কম্বোডিয়ার ইউনিট মূল্য কমেছে ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ভারতের ৩ দশমিক ২৮, পাকিস্তানের ৫ দশমিক ৬৩, ইন্দোনেশিয়ার ৬ দশমিক ৭৫ এবং চীনের ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমলেও চীন ও ভারতের তুলনায় পতনের হার কম। বাংলাদেশের পতন পাকিস্তানের কাছাকাছি।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার। তাই দেশটির সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমার মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি কমে যাওয়ার বিষয়টি খাতটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি: আবেদন শুরু হচ্ছে

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি: আবেদন শুরু হচ্ছে

প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই আবেদন করা যাবে। গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের শিক্ষাজীবনে সহায়তা এবং মেধার বিকাশে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরাসরি মন্ত্রীর ই-মেইলে অভিযোগ জানানোর আহ্বান

জানা যায়, শিক্ষাবৃত্তির জন্য আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।

বিশেষ করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কমাতে শিক্ষাবৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিদেশে গিয়ে নরকযন্ত্রণা, দেশে ফিরে সামাজিক কটূক্তি! বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের মানবেতর জীবন

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের যোগ্যতা, আবেদনপদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদনের শেষ তারিখ এবং শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার শর্তাবলি উল্লেখ রয়েছে।

আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞপ্তিটি ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

আবেদনে কোনো ভুল বা প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি থাকলে তা বিবেচনায় সমস্যা হতে পারে।

দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল বাংলাদেশ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল বাংলাদেশ

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁকে তলব করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ করার ঘটনা ও এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানান, ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বাংলাদেশ সরকারকে কিছু জানানো হয়নি। তবে চিঠির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। এ সময় সৌদি আরবে ঘটা এই ঘটনাকে ‘আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশ মিশনের শ্রম উইং থেকে পাঠানো বার্তা অনুযায়ী, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক বা ‘ব্যভিচার’ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন ওই দুই প্রবাসী—যা সৌদি আইনে অত্যন্ত গর্হিত ও গুরুতর অপরাধ।

সেই দেশের আইন অনুযায়ী আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকার এখনো কোনো নথিপত্র না পাওয়ায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। সৌদি আরবের তরফ থেকে জবাব এলে নিহতদের মরদেহ ফেরত আনা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

কিং খালিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসীর মৃত্যু: দেশে শোকের ছায়া

উল্লেখ্য, গত বুধবার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘সৌদি প্রেস এজেন্সি’ (এসপিএ) দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরটি নিশ্চিত করে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই প্রবাসী হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।

আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ায় ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতাগামী একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। রোববার, ১৮ অক্টোবর দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে উড়োজাহাজে থাকা অসুস্থ এক ভারতীয় নারীকে দ্রুত কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পথে মাঝ আকাশে উড়োজাহাজটির দরজা খুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পাইলট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। অবতরণের পর উড়োজাহাজে থাকা অসুস্থ নারীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নাশতায় নিয়মিত পাউরুটি খেলে কী হয়

যাত্রীতালিকা অনুযায়ী, ওই নারীর নাম অঞ্জনা ভৌমিক। তিনি ভারতের নাগরিক। তাঁর সঙ্গে উড়োজাহাজে ছিলেন চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান, প্যারামেডিক আজিম খান এবং দুই সঙ্গী সান্তা ভৌমিক ও দীপ জ্যোতি মিশ্র। যাত্রীতালিকায় তাঁদের সবার জাতীয়তা ভারতীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উড়োজাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসকেবি ইনফ্রাকন প্রাইভেট লিমিটেড। এর মডেল সি৯০এ এবং নিবন্ধন নম্বর ভিটি-এইচওয়াইএ। উড়োজাহাজটি ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতায় যাওয়ার পথে এ পরিস্থিতির মুখে পড়ে।

যাত্রীতালিকার তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির পাইলট ইন কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন পুণ্য অনুপ এবং সহকারী পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন তনুজ শর্মা। দুই পাইলটসহ উড়োজাহাজটিতে মোট সাতজন অবস্থান করছিলেন।

ঢাকা এয়ারপোর্টে লাগেজ নামানোর দৃশ্য সরাসরি দেখা যাবে

মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের দরজা খুলে যাওয়ার মতো ঘটনা যাত্রী ও ক্রুদের জন্য গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিরাপদে উড়োজাহাজ অবতরণ করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় পাইলট জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় উড়োজাহাজটি ঢাকায় অবতরণ করে এবং অসুস্থ নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

তবে উড়োজাহাজটির দরজা কী কারণে খুলে গিয়েছিল, সেটি যান্ত্রিক ত্রুটি, দরজার লকিং ব্যবস্থার সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। একইভাবে অঞ্জনা ভৌমিকের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটির পর উড়োজাহাজটির নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ার কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের ফলাফল পাওয়া না পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

যাত্রীশূন্য শাহজালাল বিমানবন্দর, বদলে গেছে চেনা চিত্র

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
যাত্রীশূন্য শাহজালাল বিমানবন্দর, বদলে গেছে চেনা চিত্র

সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাভাবিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একসময় যেখানে যাত্রী ও স্বজনদের ভিড়ে টার্মিনাল এলাকা ছিল সরগরম, সেখানে এখন বিরাজ করছে অনেকটা নীরবতা। ফাঁকা আগমনী ও বহির্গমন টার্মিনাল, গাড়িশূন্য পার্কিং এবং যাত্রীদের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের অনুপস্থিতিতে বিমানবন্দরের চেনা চিত্রই যেন বদলে গেছে।

রবিবার, ১৮ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, আগমনী ও বহির্গমন টার্মিনালের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের উপস্থিতি খুবই কম। বিমানবন্দরের সামনের গাড়ি পার্কিং এলাকাও ছিল প্রায় ফাঁকা। আগে যেখানে যাত্রীদের নিতে আসা স্বজনদের ভিড়, গাড়ির চাপ এবং টার্মিনালে প্রবেশের তাড়াহুড়ো দেখা যেত, সেখানে এখন অনেকটাই নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় দেশে প্রবাসীদের আসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে সৌদিগামী অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বহির্গমন টার্মিনালেও যাত্রীর চাপ কমে গেছে।

সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসীদের ফ্লাইট অবতরণের সময় বিমানবন্দরে স্বজনদের ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। একজন প্রবাসীকে নিতে অনেক সময় সাত থেকে আটজন পর্যন্ত স্বজন বিমানবন্দরে আসেন। এতে টার্মিনালের বাইরের অংশ এবং গাড়ি পার্কিং এলাকায় প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। জায়গার অভাবে অনেককে যেখানে-সেখানে গাড়ি রাখতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিচিত দৃশ্য অনেকটাই অনুপস্থিত।

দুবাই থেকে আসা ভাইকে নিতে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, আগেও একাধিকবার বিমানবন্দরে এসেছেন, তবে এবারকার মতো এতটা ফাঁকা পরিবেশ আগে দেখেননি।

বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে দায়িত্ব পালনকারী এপিবিএনের সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, যাত্রী কম থাকায় বিমানবন্দর এখন অনেকটাই ফাঁকা। আগে যাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের সামলাতে যে চাপ ছিল, বর্তমানে তা নেই। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারও যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে।

বহির্গমন টার্মিনালেও একই চিত্র দেখা গেছে। সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের উপস্থিতি কমেছে। কিছু ওমরাহযাত্রী দেখা গেলেও আগের মতো ভিড় ছিল না। কাতারের দোহাগামী যাত্রী আকবর হোসেন জানান, দুই মাস আগে বিমানবন্দরে এসে যে ভিড় দেখেছিলেন, এবার তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র চোখে পড়েছে।

যাত্রী কমে যাওয়ায় কাস্টমস, ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারাও আপাতত কাজের চাপ কম অনুভব করছেন। তবে দীর্ঘদিনের ব্যস্ত পরিবেশে অভ্যস্ত কর্মীদের কাছে এই অস্বাভাবিক নীরবতা কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে আট দিনে শাহজালাল বিমানবন্দরে ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং ১৭ হাজারের বেশি প্রবাসী আটকা পড়েন। একই সঙ্গে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন আরও হাজারো প্রবাসী।

স্বামী প্রবাসে, অন্য ব্যক্তির ভাড়া বাসায় মিললো স্ত্রীর মরদেহ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেফতার

মাঝ আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেফতার

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেফতার

দুর্নীতির মামলায় বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে গত বছর পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রথম মামলায় অভিযোগে বলা হয়, শেখ আব্দুল হান্নান বৈধ আয়ের বাইরে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।

স্বামী প্রবাসে, অন্য ব্যক্তির ভাড়া বাসায় মিললো স্ত্রীর মরদেহ

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার লেনদেন সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই মামলায় তাহমিদা বেগমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং তাকে সহায়তা করার অভিযোগে শেখ আব্দুল হান্নানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ