২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ!

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ!

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকলেও দেশের বহিঃখাতের স্থিতিশীলতার চিত্র রিজার্ভের বর্তমান অবস্থায় প্রতিফলিত হচ্ছে।

এদিকে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহও বেড়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।

গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

শুধু ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর—এই তিন দিনে দেশে এসেছে ১৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। ১২২ টাকা দরে এর পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৭৭০ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৯৩ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা ১২২ টাকা দরে প্রায় ৮২ হাজার ৫৮২ কোটি টাকার সমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস ১৯ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৯৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ১২২ টাকা দরে এর পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা।

শতাংশের হিসাবে, এ সময়ে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ!

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ!

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকলেও দেশের বহিঃখাতের স্থিতিশীলতার চিত্র রিজার্ভের বর্তমান অবস্থায় প্রতিফলিত হচ্ছে।

এদিকে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহও বেড়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।

গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

শুধু ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর—এই তিন দিনে দেশে এসেছে ১৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। ১২২ টাকা দরে এর পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৭৭০ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৯৩ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা ১২২ টাকা দরে প্রায় ৮২ হাজার ৫৮২ কোটি টাকার সমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস ১৯ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৯৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ১২২ টাকা দরে এর পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা।

শতাংশের হিসাবে, এ সময়ে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা অডিটে বাড়লো বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর পয়েন্ট!

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা অডিটে বাড়লো বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর পয়েন্ট!

যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের (ডিএফটি) সাম্প্রতিক এক এভিয়েশন সিকিউরিটি অডিটে বাংলাদেশের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। অডিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছে।

গত বছর শাহজালালের স্কোর ছিল ৯৩ শতাংশ এবং ওসমানীর ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্কোর ১ শতাংশ পয়েন্ট এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্কোর ৪ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যমুখী ফ্লাইট, যাত্রী, কার্গো ও মেইল বা ডাক চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে ডিএফটি এই মূল্যায়ন পরিচালনা করে।

বেবিচক আরও জানায়, কার্গো নিরাপত্তার ক্ষেত্রে 'অ্যাডিশনাল মেজারস অ্যাসেসমেন্ট'-এ শতভাগ কমপ্লায়েন্স অর্জন করেছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপের ফলেই অতিরিক্ত এই নিরাপত্তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

সংস্থাটির মতে, এই বর্ধিত স্কোর দেশের এভিয়েশন সিকিউরিটি ব্যবস্থার ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রতিফলন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিমান চলাচলের সাথে যুক্ত এয়ারলাইন্স, যাত্রী এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

তাছাড়া এই ফল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২০১৭ সালে আরোপিত 'হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল' (এইচআরসিএম) সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে পারে। ইইউমুখী কার্গো ও মেইলের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হলে সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় হবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছে, তবে সিদ্ধান্তটি নির্ভর করবে ইইউ-এর ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর।

আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম-কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (ইউএসএপি-সিএমএ)-এর জন্য এই অডিট ফল বিশেষ সহায়ক হবে। চলতি বছরের আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য আইসিএও অডিটে বেবিচক সদর দপ্তরসহ শাহজালাল ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ডিএফটি অডিটের প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষণগুলো আইসিএও মূল্যায়নের আগে বাকি থাকা ঘাটতিগুলো চিহ্নিত ও দূর করতে ভূমিকা রাখবে।

বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নিবিড় তদারকি, বেবিচক নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য অংশীদারদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

গত ৪৩ মাসে ৭২ হাজারেরও বেশি শিশু নিখোঁজ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
গত ৪৩ মাসে ৭২ হাজারেরও বেশি শিশু নিখোঁজ

কুমিল্লায় নিখোঁজের পরদিন গত শনিবার মরদেহ পাওয়া গেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ১৩ বছরের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের। একই দিন সুনামগঞ্জে অচেতন বাবার পাশ থেকে তিন ভাই-বোনের মরদেহ এবং মানিকগঞ্জে মা-বাবার মরদেহের পাশ থেকে দেড় বছরের আলিজা নূরের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনা পৃথক হলেও এই পাঁচ শিশুই হয়েছে নৃশংসতা ও হত্যার শিকার।

প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও শিশুরা হত্যা, নৃশংসতার শিকার হচ্ছে। নিখোঁজ হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, গত তিন বছর সাত মাসে (৪৩ মাস) ৭২ হাজার ৪৮৯ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। অবশ্য নিখোঁজ শিশুদের ৯০ শতাংশের বেশি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। তবে তাদের কতজনকে জীবিত ও কতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই তথ্য আলাদাভাবে করা নেই পুলিশ সদর দপ্তরে।

বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলেছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সারা দেশে ২৫৪ শিশু খুন হয়েছে। তাদের মধ্যে নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ৩৬ শিশুর।

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গত বৃহস্পতিবার নিখোঁজ হয়েছে হাবিবুল্লাহ নাঈম নামে ১২ বছরের এক শিশু। এ ঘটনায় তার মা থানায় জিডি করেছেন। তবে গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত তার সন্ধান পায়নি পরিবার। তাদের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গার নাটোর গ্রামে। বাবা বাবুল ইসলাম ও শরীফা খাতুনের সঙ্গে খিলক্ষেতের কুর্মিটোলা স্কুল রোড এলাকায় থাকত।

নিখোঁজ নাঈমের চাচা গোলাম হুসাইন বলেন, নাঈমের কাছে থাকা মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ‎‎

খিলক্ষেত থানার ওসি মো. সোহরাব আল হোসাইন গতকাল বলেন, শিশুটিকে খুঁজে পেতে অভিযান চলছে।

৯ সেপ্টেম্বর সকালে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার গাজীপুরা কাজীপাড়ার সুমন মার্কেট এলাকা থেকে নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু আলিফের খোঁজও পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় জিডি হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ৪৭৪টি। তাদের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৪০৬ জন। ৬৮ জন উদ্ধার হয়নি। একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩ জন। তাদের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ২৭৩ জন। উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন। অর্থাৎ এ সময়ে শূন্য থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট ১৫ হাজার ৭১৭ নিখোঁজ শিশুর মধ্যে উদ্ধার হয়নি ২ হাজার ৩৮ জন; যা মোট নিখোঁজের ১৩ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে সারা দেশে ২২ হাজার ৫৫০ জন, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪ জন এবং ২০২৩ সালে ১৭ হাজার ৮০৮ জন শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর নিখোঁজের ৯০ শতাংশের বেশি শিশু উদ্ধার হয়।

শিশু নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ ভুলে, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা এবং একাকী বাসায় ফিরতে গিয়ে অন্য স্থানে চলে যাওয়া ইত্যাদি কারণে নিখোঁজ হয়।

১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা অভিমান করে, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের কৌশল, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব ইত্যাদি কারণে নিখোঁজ হয়।

তবে নিখোঁজ অনেক শিশুর পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজের পরপর থানার পুলিশকে বিষয়টি জানালেও তাদের তৎপরতা তাৎক্ষণিক শুরু হয় না। কখনো কখনো পুলিশ জিডি নিতেও অনীহা দেখায়। তারা আগে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খুঁজতে বলে। এরপর না পাওয়া গেলে জিডি করার পরামর্শ দেয়।

চাঁদপুরের মতলব থেকে ৫ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসাছাত্র সাবের ইসলাম শাফি (১০) মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে দুদিন পর স্থানীয় থানায় শিশুটির বাবা সোহেল প্রধান জিডি করেন।

শাফির পোশাকশ্রমিক মা সাথী আক্তার গতকাল কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমি থানায় গেলে পুলিশ কেবল বলে দেখতেছি। কিন্তু রাস্তার সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত একবার দেখল না তারা। ১৫ দিনেও পুলিশ কিছু বলতে পারছে না।’

সাথী আক্তারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই জিডির তদন্ত কর্মকর্তা ও মতলব থানার উপপরিদর্শক শুভজিৎ পল বলেন, ‘ছেলেটা রাগ করে হয়তো চলে গেছে, হয়তো লেখাপড়া ভালো লাগে না, তাই নিজে কোথাও পালিয়ে আছে। তার সঙ্গে মোবাইল নেই, তাই কোনো কিছু পাচ্ছি না।’

নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে পেতে সহযোগিতা করছে মুন অ্যালার্ট নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। তারা শিশুদের নিখোঁজের বিষয়ে অ্যাপস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যালার্ট জারি করে। এই প্ল্যাটফর্মের উদ্যোক্তা জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশন। দুই বছর ধরে সংস্থাটি কাজ করছে।

ওই ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. সাদাত রহমান বলেন, নিখোঁজদের পরিবার থানায় গেলে জিডি করা নিয়ে একটি জটিলতা সৃষ্টি হয়। আবার জিডি হলেও দ্রুত খোঁজার কাজে বিলম্ব হয়। নিখোঁজের তিন ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার করা সহজ। ওই সময় পেরিয়ে গেলে বিষয়টি জটিল হয়। কিন্তু পুলিশ সাড়া দেয় বিলম্বে। কখনো কখনো থানা থেকে আগে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খুঁজে এসে জিডি করতে বলা হয়। তিনি বলেন, নিখোঁজদের খুঁজে পেতে পুলিশের আলাদা সেল গঠন করতে হবে। যেন সঙ্গে সঙ্গে তারা কাজ শুরু করতে পারে। সেই লজিস্টিক সাপোর্টও তাদের থাকতে হবে।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ২৫৪ শিশু খুন হয়েছে। এর মধ্যে নিখোঁজের পর ৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২৪ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা ৬৮ জনকে, গৃহে নির্যাতনের পর খুন ৪৯ জন, বিভিন্ন সময় মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ২৩ জনের। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা, আত্মহত্যা, গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে খুন, শিক্ষকের নির্যাতনে নিহত, অপহরণের পর হত্যা এবং যৌন নির্যাতনের পর আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, নিখোঁজের পর পুলিশ তৎপর হলে এত নৃশংস ঘটনা ঘটত না। থানা-পুলিশ জিডি ও মামলা নিতে চায় না। কারণ, ঊর্ধ্বতনেরা এটাকে অপরাধ হিসেবে মূল্যায়ন করে। তাই অপরাধ কম দেখাতে এসব জিডি নিতে চায় না। নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশকে আন্তরিক হতে হবে। তিনি বলেন, নিখোঁজ হওয়া ঠেকানোর জন্য রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারকে শিশুদের জন্য আস্থার জায়গা হতে হবে।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন আজকের পত্রিকাকে বলেন, নিখোঁজের ঘটনায় করা ৯০ শতাংশ জিডির সমাধান হয় এবং তাদের খুঁজে পাওয়া যায়। বাকিদের বিভিন্ন কারণে খুঁজে পাওয়া যায় না। এর মধ্যে কেউ পালিয়ে বিয়ে করে, কেউ আত্মগোপনে থাকে। তাই তাদের বিষয়ে সমাধান করা যায় না।

সৌদি-হুথি সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগে বাংলাদেশ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
সৌদি-হুথি সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগে বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস ধরে চলমান অস্থিরতা গত কয়েকদিনে নতুন ও উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইয়েমেন ফ্রন্ট। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরব।

ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলার বিপরীতে সৌদি ভূখণ্ডে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হুথিরা। একই সঙ্গে লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের কৌশলগত দখল এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় সংঘাতের পরিধি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি দুটোই বেড়েছে। সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার চলমান যুদ্ধাবস্থা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশেরও।

সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস। একই সঙ্গে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী দেশটি। সৌদি আরব থেকে বড় অংকের বিনিয়োগ আনার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে সৌদি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করলে এর নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের রেমিট্যান্স, শ্রমবাজার, জ্বালানি ব্যয় ও বিনিয়োগেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশী কর্মরত রয়েছেন। শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ বাংলাদেশী কর্মসংস্থানের জন্য সৌদি আরবে গেছেন, যা ওই বছর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। চলতি বছর প্রথম আট মাসে সৌদি আরবে গেছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৭ জন। দেশটি একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স উৎস। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা ছিল ৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাইয়েও দেশটি থেকে এসেছে ৫৮ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

যুদ্ধের কারণে সৌদি আরবের নির্মাণ, সেবা ও অন্যান্য শ্রমঘন খাতে প্রকল্পের গতি কমা, নতুন কর্মী নিয়োগ হ্রাস কিংবা বিদ্যমান কর্মীদের আয় ও কাজের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সে রকম কিছু হলে দেশটি থেকে আসা রেমিট্যান্স কমে যেতে পারে। আর তাতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি চাপ তৈরি হবে। বিশেষ করে বিদেশী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক জনশক্তি সৌদি আরবে কাজ করে। ফলে অনেকে চাকরি হারিয়ে দেশে ফেরত এলে শ্রমবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হবে। তখন রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি করবে। রেমিট্যান্স যেভাবে আসছিল, সেটি ব্যাহত হলে রিজার্ভ বাড়ার গতিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কভিডের সময় আমরা দেখেছি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হলে সেবা ও শিল্প—দুই খাতেই শ্রমের চাহিদা কমে যায় এবং অনেক প্রবাসীকে দেশে ফিরে আসতে হয়। সৌদি আরবের এ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের সংকোচন ঘটালে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সামগ্রিকভাবে আমাদের অর্থনীতিতে একটা চাপ সৃষ্টি হতে পারে।’

সম্প্রতি হুথিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের চার শহরে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। খামিস মুশাইতে একটি বিমানঘাঁটি এবং আবহা, নাজরান ও জিজানে সৌদি আরামকোর সংশ্লিষ্ট স্থাপনা আক্রান্ত হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর নাজরান, খামিস মুশাইত, জিজান ও আবহায় জরুরি সতর্কতা জারি করে সৌদি সিভিল ডিফেন্স।

পরদিন মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফেও বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে নিরাপদ থাকতে বলা হয়। একই দিনে জেদ্দা, আবহা, জিজান, আলউলা, তায়েফ ও গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি বন্দর ইয়ানবুতেও সতর্কতা জারি হয়েছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মক্কা নগরীর কাছাকাছি ড্রোন ধ্বংসের ঘটনায়। মক্কায় হামলার চেষ্টাকে ‘রেড লাইন’ বলে উল্লেখ করেছে সৌদি আরব। অবশ্য হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গতকালও তায়েফ প্রদেশে আটকানো একটি হুথি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হয়েছে। একের পর এক হামলা ও জরুরি সতর্কতায় সৌদি আরবের স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত দৈনন্দিন জীবন অনেকটা স্বাভাবিক।

মক্কায় অবস্থানরত বাংলাদেশী সাব্বির রহমান গতকাল বলেন, ‘মসজিদুল হারামে প্রথমবারের মতো জরুরি সতর্কতার সাইরেন বাজানোর পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমরা সবাই মনে করতাম, সংঘাত যতই হোক, মক্কা নগরীতে হামলার মতো কোনো ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু এখন কাছাকাছি এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা ও ড্রোনের খবর আসায় সেই ধারণা বদলেছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই বাইরে বের হচ্ছেন না। আমরা সতর্কভাবে চলাফেরা করছি।’

শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সের পাশাপাশি সৌদি সংকটে বাংলাদেশের উদ্বেগের আরেকটি বড় জায়গা জ্বালানি তেল। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস সৌদি আরব। দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৬৫-৭০ লাখ টন। এর মধ্যে ১৪-১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত সৌদি আরামকোর ‘অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড’ আসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন। এ অপরিশোধিত তেল দেশের রিফাইনারিতে পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, বিটুমিন ও পেট্রলসহ ১৩ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করা হয়।

চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের জ্বালানি সরবরাহ অবকাঠামোও এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইউরোপের বিভিন্ন রিফাইনারিতে তেল সরবরাহ বন্ধ করেছে সৌদি আরব। সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত বেশ কয়েকটি কার্গোও বাতিল করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সৌদি অপরিশোধিত তেল সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা দেখছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়ে সৌদির সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

একই সঙ্গে বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে হুমকি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় উচ্চ হারে বাড়তে পারে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

সৌদি আরব নিজেও এ সংকটের অর্থনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত নয়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ ও তেল পরিবহনের সীমাবদ্ধতার মধ্যে দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ফেব্রুয়ারির দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল থেকে আগস্টে নেমে প্রায় ৬২ লাখ ব্যারেলে এসেছে, যা তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। দেশটির ২০২৬ সালের বাজেটে ১৬৫ বিলিয়ন রিয়াল বা প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি ধরা হয়েছিল।

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ানো এবং তেল রফতানি সীমিত করার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। সৌদি অর্থনীতির ওপর চাপ যদি স্বল্পস্থায়ী হয়, তাহলে বাংলাদেশী কর্মীদের ওপর বড় প্রভাব নাও পড়তে পারে। কিন্তু সরকার বা বেসরকারি খাত নতুন প্রকল্প, নির্মাণ ও সেবা খাতে ব্যয় কমালে নতুন কর্মী নিয়োগের গতি এবং বিদ্যমান শ্রমিকের কাজ ও আয়—দুটিই প্রভাবিত হতে পারে। সেই প্রভাব শেষ পর্যন্ত রেমিট্যান্সেও পৌঁছাতে পারে।

সৌদি আরবের জেদ্দায় ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসা করেন ফেনীর নুরুল আফসার। তিনি বলেন, ‘কভিডের পর সৌদি অর্থনীতিতে যে স্থবিরতা নেমে এসেছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ব্যবসা-বাণিজ্য আগের অবস্থায় ফিরতে না ফিরতেই নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে প্রবাসী ব্যবসায়ীরা আরো চাপে পড়েছি। সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তা সতর্কতার পর দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে, বেচাকেনাও অনেক কম। এখন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ব্যবসার আয় দিয়ে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, দোকান ভাড়া ও অন্যান্য নিয়মিত খরচ মেটানো কঠিন। পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে আমাদের ক্ষতি আরো বাড়বে।’

সৌদি আরব থেকে বড় অংকের বিনিয়োগ আকর্ষণে সাম্প্রতিক সময়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে সরকার। জুলাইয়ে বাংলাদেশ সফর করা সৌদি আরবের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বন্দরসহ বিভিন্ন খাতে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে আগ্রহের কথা জানায়। রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল বে টার্মিনাল নির্মাণে ১৮ কোটি ডলার বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশের বন্দর খাতে মোট বিনিয়োগ ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

গত আগস্টে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে ওই সফরের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে সৌদির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন অস্থির থাকলে নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়সূচিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

সৌদিতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের ওপর নানামুখী প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে সৌদি আরব থেকে। একই সঙ্গে ইউরোপে আমাদের যে পরিমাণ পণ্য রফতানি হয়, সংঘাতের কারণে সেখানেও বিঘ্ন তৈরি হতে পারে। সংঘাতের বিস্তৃতি ঘটলে প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। পরিস্থিতির খুব বেশি অবনতি হলে তাদের সরিয়ে আনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। আমাদের মতো তুলনামূলক কম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশের জন্য এটি বড় ঝুঁকি।’

দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। সৌদি সরকারের তথ্যভাণ্ডার ডেটাসৌদির হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে সৌদি আরবের রফতানি ছিল ১৪০ কোটি ডলার। এর বড় অংশ ছিল সার, খনিজ জ্বালানি ও তেল এবং প্লাস্টিক। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব ৪৫ দশমিক ৮ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার প্রধান অংশ তৈরি পোশাক। ফলে যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত হলে এর প্রভাব বাণিজ্য ও শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহের ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এখনই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। কেজ বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক ও ফ্রান্সভিত্তিক জিওপলিটিক্স স্ট্র্যাটেজি ল্যাবের প্রধান ড. সাজ্জাদ মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যুদ্ধ আরো বড় আকার ধারণ করার দিকে যাচ্ছে। এতে সৌদি আরবের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি হতে পারে। হুথিদের প্রশ্নে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি এখন তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে। তারা একের পর এক এলাকা দখল করছে। আপাতদৃষ্টিতে সৌদি আরবের পক্ষে এককভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রও এখনই এ সংঘাতে জড়াতে ইচ্ছুক নয়। সে সুযোগে হুথিরা জাতিসংঘ ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারকে আরো কোণঠাসা করে ফেলতে পারে।’

হুথিদের সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার আবহা, নাজরান ও জিজানসহ সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী কাজ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রচুর বাংলাদেশী কৃষি, খামার ও ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ফলে এসব এলাকায় পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে প্রথমে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হতে পারে। সংঘাত তীব্র হলে দেশে ফেরত পাঠানোর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। যার নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত রেমিট্যান্সেও পড়বে। এতে প্রবাসীদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোও চাপে পড়বে। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হবে।’

চলমান সংঘাতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে গত রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: বণিক বার্তা

অপ্রতিমকে যেভাবে হত্যা করা হয়, লোমহর্ষক বর্ণনা দিলো পুলিশ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
অপ্রতিমকে যেভাবে হত্যা করা হয়, লোমহর্ষক বর্ণনা দিলো পুলিশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করার দাবি করেছে জেলা পুলিশ।

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হলেও, এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত চালানো হচ্ছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) সহ অন্য আসামিদের বয়সের বেশ ফারাক ছিল। আসামি তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজ থেকে ড্রপআউট, আর বাকিদের মধ্যে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল ময়নামতি কারিগরি স্কুলের নবম শ্রেণি এবং সিয়াম আব্দুল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। বয়সে বড় ও বখাটে স্বভাবের এসব তরুণের সঙ্গে অপ্রতিমের একধরনের ‘অসম বন্ধুত্ব’ গড়ে উঠেছিল।

পুলিশ সুপার জানান, প্রধান আসামি তুহিনের বাড়ি থেকে নিহত অপ্রতিমের উদ্ধারকৃত আইফোনটি জব্দ করা হয়েছে। তবে কেবল দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়াই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল, নাকি এর পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের টিকটক বা অন্য কোনো দ্বন্দ্ব ছিল-তা নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রাখা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা ছিল না বলেও জানান তিনি।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত কিশোর ও তরুণদের এনআইডি কার্ড যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের একটি অংশ কিশোর অপরাধচক্রের (গ্যাং) সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের বয়স নিহতের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বেশি।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম গত শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ির নিজ বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।