২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রবাসীদের বিদেশযাত্রার খরচে নতুন চাপ, কল্যাণ ফি বেড়ে ৫৫০০ টাকা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
প্রবাসীদের বিদেশযাত্রার খরচে নতুন চাপ, কল্যাণ ফি বেড়ে ৫৫০০ টাকা

বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্রের সঙ্গে দিতে হবে বাড়তি কল্যাণ ফি। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রোববার এক পরিপত্রে নতুন ফি নির্ধারণের বিষয়টি জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের জন্য সেবার পরিধি ও ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। কর্মীদের সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম চালু রাখা এবং ডলারের বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজনেই ফি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

কাতার প্রবাসীর স্ত্রী হত্যায় আসামি মিলনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

রেমিট্যান্সের নতুন রেকর্ড: সেপ্টেম্বরের ২১ দিনেই দেশে এলো ২০৬ কোটি ডলার!

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর থেকেই নতুন হারে কল্যাণ ফি আদায় শুরু হবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে বিদেশগামী কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র নেওয়ার সময় এই ফি দিতে হয়। ২০১৫ সালে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য কল্যাণ ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। দীর্ঘ সময় পর এবার সেই হার বাড়ানো হলো।

কল্যাণ ফির পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের আরও ১ হাজার টাকা বীমা ফি দিতে হয়। তবে বিএমইটির স্মার্ট কার্ডের জন্য আগে ৫০০ টাকা নেওয়া হলেও বর্তমানে সেই ফি আর দিতে হয় না।

কল্যাণ ফির বিনিময়ে যেসব সুবিধা

কল্যাণ ফি থেকে পাওয়া অর্থের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য বিভিন্ন ধরনের সেবা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কোনো প্রবাসী কর্মী বিদেশে মারা গেলে তার মরদেহ ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে দাফন ও মরদেহ পরিবহনের জন্য ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কর্মীর মৃত্যুর পর তার পরিবারকে এককালীন ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।

প্রবাসী কর্মীদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা, তাদের সন্তানদের শিক্ষা উপবৃত্তি এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের ডেটাবেজে তথ্য সংযোজনসহ বিভিন্ন ধরনের তদারকি ও কল্যাণমূলক সেবাও দেওয়া হয়ে থাকে।

ফলে নতুন হারে কল্যাণ ফি কার্যকর হলে বিদেশগামী কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র নেওয়ার সময় আগের তুলনায় আরও ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

প্রবাসীদের বিদেশযাত্রার খরচে নতুন চাপ, কল্যাণ ফি বেড়ে ৫৫০০ টাকা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
প্রবাসীদের বিদেশযাত্রার খরচে নতুন চাপ, কল্যাণ ফি বেড়ে ৫৫০০ টাকা

বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্রের সঙ্গে দিতে হবে বাড়তি কল্যাণ ফি। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রোববার এক পরিপত্রে নতুন ফি নির্ধারণের বিষয়টি জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের জন্য সেবার পরিধি ও ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। কর্মীদের সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম চালু রাখা এবং ডলারের বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজনেই ফি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

কাতার প্রবাসীর স্ত্রী হত্যায় আসামি মিলনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

রেমিট্যান্সের নতুন রেকর্ড: সেপ্টেম্বরের ২১ দিনেই দেশে এলো ২০৬ কোটি ডলার!

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর থেকেই নতুন হারে কল্যাণ ফি আদায় শুরু হবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে বিদেশগামী কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র নেওয়ার সময় এই ফি দিতে হয়। ২০১৫ সালে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য কল্যাণ ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। দীর্ঘ সময় পর এবার সেই হার বাড়ানো হলো।

কল্যাণ ফির পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের আরও ১ হাজার টাকা বীমা ফি দিতে হয়। তবে বিএমইটির স্মার্ট কার্ডের জন্য আগে ৫০০ টাকা নেওয়া হলেও বর্তমানে সেই ফি আর দিতে হয় না।

কল্যাণ ফির বিনিময়ে যেসব সুবিধা

কল্যাণ ফি থেকে পাওয়া অর্থের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য বিভিন্ন ধরনের সেবা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কোনো প্রবাসী কর্মী বিদেশে মারা গেলে তার মরদেহ ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে দাফন ও মরদেহ পরিবহনের জন্য ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কর্মীর মৃত্যুর পর তার পরিবারকে এককালীন ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।

প্রবাসী কর্মীদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা, তাদের সন্তানদের শিক্ষা উপবৃত্তি এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের ডেটাবেজে তথ্য সংযোজনসহ বিভিন্ন ধরনের তদারকি ও কল্যাণমূলক সেবাও দেওয়া হয়ে থাকে।

ফলে নতুন হারে কল্যাণ ফি কার্যকর হলে বিদেশগামী কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র নেওয়ার সময় আগের তুলনায় আরও ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

নাটোরে কাতার চ্যারিটির কর্মসংস্থানমূলক উপকরণ বিতরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
নাটোরে কাতার চ্যারিটির কর্মসংস্থানমূলক উপকরণ বিতরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

নাটোরের গুরুদাসপুরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবিকা ও জীবনমান উন্নয়নে কাতার চ্যারিটির উদ্যোগে ২১টি বিভিন্ন কর্মসংস্থানমূলক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে গ্রাম পুলিশের মাঝে নতুন পোশাক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ১১ জন দুস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন মানুষের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কাতার চ্যারিটির অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র পরিবারের মাঝে সাতটি কর্নফ্লাওয়ার মিলিং মেশিন, সাতটি টুকটুক সিএনজি এবং সাতটি মালবাহী ট্রাইসাইকেল প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান, গ্লোবাল উন্নয়ন সেবা সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম ও গুরুদাসপুর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সহায়তা পাওয়া সালমা আক্তার, মুক্তার হোসেন ও আক্কেল আলী জানান, এসব উপকরণ তাঁদের পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার আশা প্রকাশ করে তাঁরা কাতার চ্যারিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এদিকে একই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গ্রাম পুলিশের সদস্যদের হাতে পোশাক তুলে দেওয়া হয়। একই সাথে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১১ জন সুবিধাভোগীর মাঝে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

বিতরণ শেষে অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের শারীরিক ও সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেন।

শাহজালালে বাংলাদেশ বিমানের টয়লেটে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ৫.৮ কেজি সোনা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
শাহজালালে বাংলাদেশ বিমানের টয়লেটে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ৫.৮ কেজি সোনা

হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিঙ্গাপুর থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটের টয়লেট থেকে ৫০টি স্বর্ণবার জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফ্লাইটটিতে শতাধিক স্বর্ণবার থাকার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানটি অবতরণের পরপরই কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তল্লাশি শুরু করেন।

প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্যে ফ্লাইটটিতে ১০০টিরও বেশি স্বর্ণবার থাকার সম্ভাবনার কথা জানা গিয়েছিল। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী টানা অভিযান ও তল্লাশির একপর্যায়ে উড়োজাহাজের টয়লেটের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৫০টি স্বর্ণবার শনাক্ত ও উদ্ধার করা হয়। অবশ্য শুরুতে ১০০টি বার উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছিল এনবিআর।

আরও পড়ুন

যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা অডিটে বাড়লো বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর পয়েন্ট!

উদ্ধার করা প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন ১০ তোলা। সেই হিসাবে ৫০টি বারের মোট ওজন ৫০০ তোলা বা প্রায় ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা।

স্বর্ণগুলো কোনো যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে নয়, বরং উড়োজাহাজের টয়লেটে লুকানো অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্বর্ণগুলো সেখানে কারা রেখেছিল, কার মাধ্যমে বিমানবন্দর থেকে বের করে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং এর নেপথ্যে কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র রয়েছে কি না, তা উদ্‌ঘাটনে অনুসন্ধান করা হবে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর স্বর্ণ চোরাচালানের আরও বড় চালান শনাক্ত ও জব্দ এবং এর নেপথ্যের চক্রকে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখবে।

ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থানে টাকা, সাড়ে ৫ বছরে সর্বোচ্চ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

টানা সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে এই মুহূর্তে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের মুদ্রা সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ কমেছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতার নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ০ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে।

চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকার মূল্য আরও ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে সাড়ে পাঁচ বছর ধরে চলা টাকার মূল্যমানের ধারায় পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ডলারের দর ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। ধারাবাহিকভাবে বেড়ে তা ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় উঠেছিল। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সেই প্রবণতা ঘুরতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে নিবিড় নজরদারির ফলে দেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থানে উন্নতি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স প্রবাহ, আমদানি পরিশোধ এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এর ফলে বাড়তি ডলারের সরবরাহ যাতে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় এবং বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণ হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে অর্থপাচার, বাণিজ্যভিত্তিক আর্থিক অনিয়ম এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অপব্যবহার ঠেকাতেও লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্যাংক ও অনুমোদিত ডিলার শাখাগুলোর নিয়মিত তদারকিও অব্যাহত রয়েছে।

রেমিট্যান্স সম্পর্কে আরিফ হোসেন খান বলেন, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং দেশের বৈদেশিক অবস্থানও শক্তিশালী হচ্ছে।

আমদানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃত আমদানির প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অনিয়ম বন্ধে আমদানি-সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ার সময় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। এতে আগের বৈদেশিক মুদ্রার চাপের সময়ে কমে যাওয়া রিজার্ভ পুনর্গঠনেও সহায়তা হয়েছে।

তার মতে, রিজার্ভের শক্তিশালী অবস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্য ইতিবাচক। একই সঙ্গে আমদানি ও অন্যান্য বৈদেশিক পরিশোধের দায় মেটাতে দেশের সক্ষমতাও বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৭ দশমিক ৭০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যা ছিল ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই বছরে রিজার্ভ বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ একই সময়ে ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতির জন্য টাকার সাম্প্রতিক শক্তিশালী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তুলনামূলক শক্তিশালী টাকা থাকলে জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির মতো আমদানি পণ্যের স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমে। একই সঙ্গে বিদেশি মুদ্রায় নেওয়া দায় পরিশোধের ক্ষেত্রেও টাকার হিসাবে ব্যয়ের চাপ কমে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং রিজার্ভ বৃদ্ধির সঙ্গে টাকার সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতাও বাড়ছে।

৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ!

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ!

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকলেও দেশের বহিঃখাতের স্থিতিশীলতার চিত্র রিজার্ভের বর্তমান অবস্থায় প্রতিফলিত হচ্ছে।

এদিকে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহও বেড়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।

গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

শুধু ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর—এই তিন দিনে দেশে এসেছে ১৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। ১২২ টাকা দরে এর পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৭৭০ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৯৩ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা ১২২ টাকা দরে প্রায় ৮২ হাজার ৫৮২ কোটি টাকার সমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস ১৯ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৯৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ১২২ টাকা দরে এর পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা।

শতাংশের হিসাবে, এ সময়ে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ।