২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক পার্শ্ব বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব প্রস্তাব দেন তিনি। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ ভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ মানবিকতার জায়গা থেকে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী যে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন, সেগুলো হলো—

১. প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ:

আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিজ নিজ প্রভাব কাজে লাগাতে হবে।

২. সহিংসতা বন্ধ ও অধিকার নিশ্চিত:

রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা পান।

৩. মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা:

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘদিনের আতিথেয়তার কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

৪. ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত

টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে), আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থাকে অব্যাহত সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেন।

৫. আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলা

মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

‘প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপে যেতে হবে’

তারেক রহমান বলেন, এখন সহমর্মিতা থেকে সংকটের মূল কারণ ও সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে বাস্তুচ্যুতির অবসানের দিকে যেতে হবে।

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। ২০১৭ সালের সহিংসতার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসছে।Geographic Reference

বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিবিরগুলোতে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে নতুন একটি প্রজন্ম যুক্ত হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ

শরণার্থী শিবিরে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে শিশুদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষ্য, ভবিষ্যতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের পুনঃএকীভূত হওয়ার জন্য এসব উদ্যোগ সহায়ক হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য শরণার্থী শিবির কোনো আদর্শ স্থান নয়।

দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে বাংলাদেশ ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর সঙ্গে মানবপাচার, মাদকপাচার, অবৈধ অভিবাসন ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকিও বাড়ছে।

‘মানবিক সহায়তা সংকুচিত হচ্ছে’

রোহিঙ্গা শিবিরে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা চাওয়া হলেও ২০২৬ সালের জন্য সেই আবেদন কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনতে হয়েছে।

জাতিসংঘ ও অংশীদারদের ২০২৫-২৬ সালের যৌথ পরিকল্পনায় ২০২৬ সালে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন ধরা হয়েছে, যা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ ১৬ লাখ মানুষের সহায়তায় ব্যবহারের কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তার ঘাটতি রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। একইভাবে অনির্দিষ্টকাল শুধু বাংলাদেশের ওপর এই দায়িত্ব বহন করার প্রত্যাশাও করা যায় না।

‘সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই’

রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি।

বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজ কেনায় বাংলাদেশ ও তুরস্ক নিয়ে ট্রাম্পের উচ্ছ্বাস!

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজ কেনায় বাংলাদেশ ও তুরস্ক নিয়ে ট্রাম্পের উচ্ছ্বাস!

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হওয়ার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) ট্রুথ স্যোশালে দেওেয়া পোস্টে ট্রাম্প বাংলাদেশ ও তুরস্কের সঙ্গে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির দিনকে বোয়িংয়ের জন্য ‘বড় দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

একই সঙ্গে তিনি উড়োজাহাজ কেনাবেচার এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের দেশীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্যও এক বিশাল সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন,বোয়িং ও আমেরিকান প্রস্তুতকারক খাতের জন্য বড় দিন।বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং বাণিজ্য বিভাগের সহায়তায় তুরস্ক এবং বাংলাদেশ মোট ১১১টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছে। এর সাথে আরও ৫০টি বিমান কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই হাজার হাজার কোটি ডলারের বিশাল বিক্রি ও বিপুল পরিমাণ মার্কিন রপ্তানি দেশজুড়ে আমাদের হাজার হাজার মার্কিনির কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করবে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি এবং দেশীয় কর্মসংস্থানকে সহায়তা করাটা কোম্পানিগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। তিনি বলেন, বোয়িং এবং এর অসাধারণ কর্মীদের অভিনন্দন।

দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও শ্রমশক্তি নির্ভর নীতির প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, বোয়িং এবং আমি যা শুরু থেকেই জানতাম, বাজার এখন সেটাই স্বীকার করছে। আপনি যখন আমেরিকায় তৈরি করবেন, আমেরিকা থেকে রপ্তানি করবেন এবং মার্কিন শ্রমিকদের সমর্থন জানাবেন, তখন আপনার প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বোয়িং ও তাদের অসাধারণ কর্মীদের অভিনন্দন।

উল্লেখ্য, গতকাল জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কাছ থেকে নতুন করে ১১টি বিমান কেনার একটি চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। এই এই চুক্তির আওতায় পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কিনবে বিমান।

একদিকে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা, অন্যদিকে ‘ডাবল গেম’ খেলছে ভারত: মত বিশ্লেষকদের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
একদিকে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা, অন্যদিকে ‘ডাবল গেম’ খেলছে ভারত: মত বিশ্লেষকদের

চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন। ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই শুরু ঢাকা-দিল্লি টানাপড়েন। তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রায় সব সংবাদ সম্মেলনে এসেছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। তাতে বরাবরই দেওয়া হয়েছে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা।

তবে মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। কখনও সীমান্ত হত্যা, কখনও পুশইন-চেষ্টা। এ উত্তেজনার পারদ আরও উপরে ওঠে ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্য, এনডিটিভিতে সাক্ষাৎকার ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভার্চুয়াল সভার পর। এ নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন—ঢাকার সঙ্গে ডাবল গেম খেলছে দিল্লি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক রহমত উল্লাহ জানান, আমার কাছে মনে হয়, ভারতের একটি ডাবল গেম। ভারত একদিকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ একটি সম্পর্কের কথা বলছে, অন্যদিকে ভারতে আশ্রয় নেয়া শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে তারা সংঘটিত করে বিভিন্নভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করা আওয়ামী লীগের জনশক্তিকে চাঙ্গা করার, সংঘটিত করার চেষ্টা করছে বলে আমার মনে হয়।

এ ছাড়া এনডিটিভির অডিও সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী সম্বোধনকেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একইসঙ্গে তার উগ্রবাদসংশ্লিষ্ট বক্তব্যকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বাড়ার শঙ্কা দেখছেন এই বিশ্লেষক।

রহমত উল্লাহ আরও বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বর্তমান সরকার—এই নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন।

ভারত আওয়ামী লীগকে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে সক্রিয় করতে চায় এবং সেই সক্রিয় করার প্রেক্ষাপটে কিছু অঘটন, কিছু রাজনৈতিক সংকট তৈরি করা প্রয়োজন হয়ে পড়বে। আর তার অংশ হিসেবে হয়তো জঙ্গি ইস্যুটি সামনে আসতে পারে।

সাবেক কূটনীতিকরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশের এমন আচরণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও তলানিতে নিয়ে যেতে পারে।

তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ বলেন, বর্ডার কিলিং; এরপর আমরা দেখছি অ্যাটেম্পটেড পুশ-ইন। গত ৫ আগস্ট যেটা হয়েছে দিল্লিতে, এটি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করেছে দুই দেশের সম্পর্ক। যতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, তার থেকেও আরও নিচে নামিয়ে দিয়েছে।

সে কারণে দুই দেশের স্বার্থেই দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার তাগিদ বিশ্লেষকদের।

সূত্র: স্টার নিউস

বিমানের বহরে আরও ১১ বোয়িং যুক্ত হচ্ছে, বোয়িংয়ের সঙ্গে বড় চুক্তি সই!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

বাংলাদেশ বিমান (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স) আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার এ চুক্তি ঘোষণা করা হয়। বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্ডারের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিমান ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দিয়েছিল। নতুন ১১টি যুক্ত হওয়ায় ২০২৬ সালে বিমানের ঘোষিত বোয়িং উড়োজাহাজের অর্ডারের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টি।

নিউইয়র্কে চুক্তি স্বাক্ষর

নিউইয়র্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বোয়িংয়ের প্রতিনিধিরা চুক্তি সম্পন্ন করেন। অনুষ্ঠানে বিমানের পক্ষে চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের পক্ষে কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং বোয়িংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাদী আমিন।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি উইলিয়াম কিমিট, বোয়িং গ্লোবালের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসন, বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেনসের প্রেসিডেন্ট ও সিইও স্টেফানি পোপ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুর, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বোয়িংয়ের সেলস ডিরেক্টর কান্থি ভূবনাগিরি এবং ইউরেশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘি।

বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, নতুন এই চুক্তি বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ। তিনি বলেন, নতুন উড়োজাহাজগুলো যাত্রী, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

বোয়িং জানিয়েছে, নতুন ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজগুলো বিমানের সিঙ্গেল-আইল বহরে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও দূরপাল্লার সুবিধা দেবে। অন্যদিকে ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলো বিমানের বিদ্যমান ৭৮৭ বহরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক রুটে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াবে। বোয়িংয়ের দাবি, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো প্রতিস্থাপিত উড়োজাহাজের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট

বিমানের নতুন উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের বৃহত্তর আলোচনার মধ্যেই হলো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ১১টি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ায় বিমানের ঘোষিত বোয়িং অর্ডারের সংখ্যা ২৫টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে আলোচনায় অগ্রসর হচ্ছে। তবে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিটি বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে কোনো সরকারি চুক্তি নয়। এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ক্রয়চুক্তি। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজের পরিকল্পনা

চলতি বছর ঘোষিত দুটি অর্ডার মিলিয়ে বিমানের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনায় রয়েছে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ড্রিমলাইনারের পাশাপাশি ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের উড়োজাহাজ। বিমান কর্তৃপক্ষের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সংকটে কাতার থেকে আরও ২ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
জ্বালানি সংকটে কাতার থেকে আরও ২ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা ও চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় কাতার থেকে আরও দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনছে সরকার। আগামী ৬ ও ২২ নভেম্বর কার্গো দুটি বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। দীর্ঘমেয়াদি সরকারি পর্যায়ের চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হবে।

অতিরিক্ত দুই কার্গোর মূল্য বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির দামের চেয়ে ভিন্নভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশে গ্যাসের ঘাটতি কমাতে সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর আরও ছয় কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি অক্টোবর থেকে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে প্রতি মাসে দুটি করে মোট ১৮ কার্গো এলএনজি কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিকে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এখনো কাঙ্ক্ষিত গ্যাসচাপ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ কমাতে এলএনজির সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ জোরদার করছে সরকার।

মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের দ্য সেন্ট রেজিস নিউইয়র্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেখানে মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো অনুষ্ঠানের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

মেলানিয়া ট্রাম্পের ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বিশ্বের শিশুদের জন্য শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা। সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এ উদ্যোগে।

নিউইয়র্কের এ অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমানের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে এ আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে এসেছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এও মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

ওয়াশিংটনের ওই সম্মেলনে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান। শিশুদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের গুরুত্বের ওপর তিনি জোর দেন।

ওই সম্মেলনে মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমানের সাক্ষাৎও হয়েছিল। সে সময় দুজনকে করমর্দন করতে এবং পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে দেখা যায়।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ অনুষ্ঠানটি মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার পরবর্তী পর্যায়ের অংশ। মার্চে ওয়াশিংটনে উদ্বোধনী সম্মেলনের পর নিউইয়র্কের এ আয়োজনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে শিশুদের ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ও প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পেয়েছে।