বাংলাদেশ বিমান (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স) আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার এ চুক্তি ঘোষণা করা হয়। বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্ডারের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিমান ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দিয়েছিল। নতুন ১১টি যুক্ত হওয়ায় ২০২৬ সালে বিমানের ঘোষিত বোয়িং উড়োজাহাজের অর্ডারের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টি।
নিউইয়র্কে চুক্তি স্বাক্ষর
নিউইয়র্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বোয়িংয়ের প্রতিনিধিরা চুক্তি সম্পন্ন করেন। অনুষ্ঠানে বিমানের পক্ষে চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের পক্ষে কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং বোয়িংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাদী আমিন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি উইলিয়াম কিমিট, বোয়িং গ্লোবালের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসন, বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেনসের প্রেসিডেন্ট ও সিইও স্টেফানি পোপ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুর, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বোয়িংয়ের সেলস ডিরেক্টর কান্থি ভূবনাগিরি এবং ইউরেশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘি।
বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, নতুন এই চুক্তি বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ। তিনি বলেন, নতুন উড়োজাহাজগুলো যাত্রী, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
বোয়িং জানিয়েছে, নতুন ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজগুলো বিমানের সিঙ্গেল-আইল বহরে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও দূরপাল্লার সুবিধা দেবে। অন্যদিকে ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলো বিমানের বিদ্যমান ৭৮৭ বহরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক রুটে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াবে। বোয়িংয়ের দাবি, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো প্রতিস্থাপিত উড়োজাহাজের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
বিমানের নতুন উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের বৃহত্তর আলোচনার মধ্যেই হলো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ১১টি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ায় বিমানের ঘোষিত বোয়িং অর্ডারের সংখ্যা ২৫টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে আলোচনায় অগ্রসর হচ্ছে। তবে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিটি বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে কোনো সরকারি চুক্তি নয়। এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ক্রয়চুক্তি। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজের পরিকল্পনা
চলতি বছর ঘোষিত দুটি অর্ডার মিলিয়ে বিমানের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনায় রয়েছে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ড্রিমলাইনারের পাশাপাশি ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের উড়োজাহাজ। বিমান কর্তৃপক্ষের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।