২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী ও গুতেরেসের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যু নিয়ে আলোচনা!

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী ও গুতেরেসের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যু নিয়ে আলোচনা!

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ২৭তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সহযোগিতা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত অবদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে জাতিসংঘের সহযোগিতা ও সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একইসাথে তিনি বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের সাথে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী ও গুতেরেসের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যু নিয়ে আলোচনা!

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী ও গুতেরেসের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যু নিয়ে আলোচনা!

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ২৭তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সহযোগিতা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত অবদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে জাতিসংঘের সহযোগিতা ও সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একইসাথে তিনি বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের সাথে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোট আরসেপে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোট আরসেপে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশ ছাড়াও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তিদের নিয়ে গঠিত এই মেগা বাণিজ্যিক জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হতে পারে।

বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য জোট রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসেপ) বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। বাংলাদেশসহ চার দেশ ও অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ বা অ্যাডহক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সুপারিশ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দিয়েছেন জোটের বাণিজ্যমন্ত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৫ম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা আরসেপ যৌথ কমিটির (আরজেসি) দেওয়া এ সুপারিশে আনুষ্ঠানিক সম্মতি জানান। বাংলাদেশের পাশাপাশি এ তালিকায় রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা এবং হংকং (চীন)।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, আরসেপ চুক্তি একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জোটের পরিধি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশ ছাড়াও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তিদের নিয়ে গঠিত এই মেগা বাণিজ্যিক জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হতে পারে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখা, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ এবং দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমেই একটি কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি নিশ্চিত করা সম্ভব বলে জানানো হয়।

এসময় সদস্যপদ চেয়ে আবেদন করা দেশগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদ্যমান অপ্রয়োজনীয় বাধা দূরীকরণ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি এবং নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য ড. শেন রেটি এ যৌথ বৈঠকে সহ-সভাপতিত্ব করেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ মেরামতে ‘থ্রি-আর’ কৌশল তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
জাতিসংঘে বাংলাদেশ মেরামতে ‘থ্রি-আর’ কৌশল তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগে বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সরকার রিকভারি, রেস্টারেশন ও রিকনস্ট্রাকশন অর্থাৎ থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের (ইউএনজিএ) সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় দেওয়া তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়া গুম খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগে বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।'

তারেক রহমান বলেন, 'ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে 'ম্যানুফ্যাকচারিং হাব' হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তারিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ তাঁর উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়।'

তিনি জানান, 'দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকার চলতি অর্থ বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে।'

প্রবাসীদের অভিযোগ সরাসরি মন্ত্রী ও সচিবের দপ্তরে পৌঁছানোর বিশেষ ব্যবস্থা চালু।

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
প্রবাসীদের অভিযোগ সরাসরি মন্ত্রী ও সচিবের দপ্তরে পৌঁছানোর বিশেষ ব্যবস্থা চালু।

বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সমাধানের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এই সেলের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ বা আবেদন সরাসরি নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে পারবেন।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ই-মেইলে পাওয়া অভিযোগগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রাপ্ত আবেদন ও অভিযোগগুলো দৈনিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে সরাসরি উপস্থাপন করা হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সেলের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

প্রবাসীদের অভিযোগ ও সমস্যার বিষয়ে যোগাযোগের জন্য নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানা:([email protected]](mailto:[email protected])

প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার শেষ সুযোগ, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন না হলে আবেদন বাতিল

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার শেষ সুযোগ, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন না হলে আবেদন বাতিল

অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করেও বায়োমেট্রিক না দেওয়ায় ১৪ হাজারের বেশি প্রবাসীর ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। এসব আবেদন কার্যকর রাখতে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে বায়োমেট্রিক গ্রহণ শেষ করতে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন না হলে আবেদনগুলো বাতিল করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার জন্য পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন তৈরি, মাঠপর্যায়ের কার্যালয় নিয়মিত পরিদর্শন ও কার্যক্রম তদারকি, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন ও ফরম-২ আপলোডের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিতে গতি আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মাসিক সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

সভায় নিবন্ধন ও প্রবাসী অধিশাখার পরিচালক খান আবি শাহানুর খান জানান, অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ১৪ হাজার ১৯৯ প্রবাসী ভোটারের বায়োমেট্রিক এখনো সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোতে গ্রহণ করা হয়নি। তাদের বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে তিন মাসের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করার জন্য চিঠি পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব প্রবাসীর বায়োমেট্রিক গ্রহণ না করা হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো বাতিল করতে হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরন্টো; জাপানের টোকিও; যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট; দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া; সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও বাহরাইনসহ মোট ১৭টি দেশের ২৭টি স্টেশনে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে। প্রবাসে এনআইডি কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৪১৯ জন প্রবাসী।

ফরম-২ আপলোড ও এনআইডি সংশোধনে গতি

ফরম-২ আপলোড ও এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। এনআইডির সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন সভাকে জানান, ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত ফরম-২-এর মোট সংখ্যা ৬ কোটি ৭৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৮টি। এর মধ্যে স্ক্যান করা হয়েছে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫২৫টি ফরম। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত আপলোড করা হয়েছে ৫ কোটি ২৩ লাখ ২৫৩টি ফরম।

আপলোড করা ফরম-২-এর বিচারিক সিদ্ধান্ত বা অ্যাডজুডিকেশন কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সিস্টেম ম্যানেজার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জুম মিটিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এ ছাড়া উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস ভবনগুলোর মেরামতসংক্রান্ত তথ্য এন্ট্রির জন্য সফটওয়্যার প্রস্তুতের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় গাইডলাইন

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়েও সভায় আলোচনা করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা। ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন তৈরি করে কমিশন সভায় উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোর কার্যক্রম তদারকির জন্য আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাসভিত্তিক অফিস পরিদর্শনসূচি প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিজ নিজ অফিস পরিদর্শন করে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

অপ্রয়োজনীয় মালামাল দ্রুত নিষ্পত্তি

মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ের গোডাউনে সংরক্ষিত অপ্রয়োজনীয় ও নিষ্পত্তিযোগ্য মালামাল দ্রুত সরিয়ে ফেলার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানান উপসচিব (সাধারণ সেবা-২)। অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করার পাশাপাশি সেগুলো মণ্ড তৈরির কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ ও অর্থ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী ও সচেতন হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কমপ্লেক্সে ইসির কক্ষ

নতুন সৃষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনগুলোতে নির্বাচন কমিশনের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ বরাদ্দের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। এ বিষয়ে উপপ্রধান (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সভাকে জানান, প্রয়োজনীয় কক্ষ বরাদ্দের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে সভা আয়োজনের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। সভায় এ যোগাযোগ অব্যাহত রেখে দ্রুত সভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিতে তাগিদ

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ের বিভিন্ন অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ায় নিরীক্ষা শাখার কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কার্যালয় থেকে ব্রডশিট জবাব যথাযথভাবে ও নির্ধারিত সময়ে সচিবালয়ে পাঠানোর বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতি মাসে দৈবচয়নের ভিত্তিতে তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন কার্যক্রম পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যালোচনার প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১ তারিখে আগের মাসের তথ্য হিসেবে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।

সকাল ৯টার মধ্যে সব অফিসিয়াল যানবাহন সচিবালয়ে প্রবেশ এবং সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে অফিস কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে আগে জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ যথাযথভাবে প্রতিপালন এবং বদলি-সংক্রান্ত তদবিরের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষ-এ সেপ্টেম্বর মাসের সমন্বয় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে অতিরিক্ত সচিব আলোচ্যসূচির বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করেন। এ সময় গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভার কার্যবিবরণী তুলে ধরা হয়।