১ অক্টোবর ২০২৬

অনিয়মের কারণে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
অনিয়মের কারণে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে কয়েকটি এজেন্সির অফিস সিলগালা করা হয়েছে এবং আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বৈধ অভিবাসন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা ও সাংবাদিকদের নিয়ে শিগগিরই একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে।

সাক্ষাতে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের রেমিট্যান্সে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর সরকারের লক্ষ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বিপুলসংখ্যক জনশক্তি পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান।

মিলার নৈতিক ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং অতিরিক্ত ব্যয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে বৈধ উপায়ে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ পান, সে লক্ষ্যে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’সহ বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থা জোরদারে কাজ করবে ইইউ।

এ ছাড়া বাংলাদেশে ‘ইউরোপিয়ান ট্রেইনিং ফাউন্ডেশন’ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে ইইউর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। সাক্ষাতে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইনে ট্রেড ইউনিয়ন বা দল গঠনের স্বাধীনতা, ইপিজেড আইনের সঙ্গে সাধারণ শ্রম আইনের সামঞ্জস্যতা, শিশুশ্রম নির্মূল এবং নিয়মিত কারখানা পরিদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানান, রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই ও নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য একাধিক পরিদর্শক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

এ সময় ইতালির সঙ্গে চলমান বৈধ অভিবাসন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেইজ’ প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়।

বাংলাদেশ বিমান আটকে দেওয়ার কারণ জানাল পাকিস্তান

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
বাংলাদেশ বিমান আটকে দেওয়ার কারণ জানাল পাকিস্তান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সেটি বাংলাদেশে আসেনি।

তবে কেন বাংলাদেশের ওই বিমানটিকে উড়তে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের দাবি, আকাশসীমা বন্ধের বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয় বরং ফ্লাইটের রুট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়।

মঙ্গলবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের সব আবেদন দেশটির প্রচলিত নিয়ম, বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক প্রটোকল এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হয়।

হাইকমিশন জানায়, রূপপুরের জ্বালানি পরিবহন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো যে বিষয়টির কথা বলছে, সেটি মূলত ফ্লাইটের রুট ও আকাশসীমার অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত।

এ ধরনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পাকিস্তান বলেছে, বিষয়টিকে যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং এমন কোনো প্রতিবেদন বা বয়ানকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, যা দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, রূপপুরের জ্বালানি বহনকারী বিমানটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল।

কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সেটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি। তখন পাকিস্তান কেন অনুমতি দেয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

একাধিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অনুমতি না মেলায় ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয় বলে জানান রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা। তবে রোসাটম জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে পুনরায় ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু হয়ে বছরের শেষ নাগাদ সব চালান সম্পন্ন করা হবে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইইউভুক্ত ৭ দেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইইউভুক্ত ৭ দেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্র ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বঙ্গভবনে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকে অভিনন্দন জানান। অভিনন্দন বার্তার জন্য রাষ্ট্রপতি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ অংশীদারত্ব বর্তমানে বহুমাত্রিক রূপ লাভ করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর সদস্য দেশগুলোর অব্যাহত সহযোগিতা ও অবদানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এ সুসম্পর্ক আরও গভীর করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমান সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ আরও বাড়ানোরও আহ্বান জানান। অভিবাসন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে তিনি দক্ষ জনশক্তির জন্য বৈধ অভিবাসনের পথ আরও সম্প্রসারণ এবং আরও ইইউ সদস্য রাষ্ট্রকে ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূতরা পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরও জোরদারে বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা বাণিজ্য, সুশাসন, জলবায়ু কার্যক্রম ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশ ও ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সমান সুযোগ সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগে অব্যাহত সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশ্বাস দেন। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ইইউর অব্যাহত ও বর্ধিত মানবিক সহায়তা কামনা করেন। মিয়ানমারে তাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সাথে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে ইইউ-র আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূতরা তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ রূপান্তর, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, সামুদ্রিক বিষয়াবলি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে মতবিনিময় হয়। উভয়পক্ষ গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে এবং বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করে। ইইউ রাষ্ট্রদূতরা রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে ইইউয়ের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে, জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লৎস, ইটালির রাষ্ট্রদূত আন্তেনিও আলেসান্দ্রো, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ইউরিছ ভান বোসেল, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়াগা ওচহোয়া ডি চিনচিত্রু ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স। এছাড়া সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

অনিয়মের কারণে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
অনিয়মের কারণে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে কয়েকটি এজেন্সির অফিস সিলগালা করা হয়েছে এবং আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বৈধ অভিবাসন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা ও সাংবাদিকদের নিয়ে শিগগিরই একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে।

সাক্ষাতে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের রেমিট্যান্সে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর সরকারের লক্ষ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বিপুলসংখ্যক জনশক্তি পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান।

মিলার নৈতিক ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং অতিরিক্ত ব্যয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে বৈধ উপায়ে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ পান, সে লক্ষ্যে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’সহ বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থা জোরদারে কাজ করবে ইইউ।

এ ছাড়া বাংলাদেশে ‘ইউরোপিয়ান ট্রেইনিং ফাউন্ডেশন’ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে ইইউর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। সাক্ষাতে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইনে ট্রেড ইউনিয়ন বা দল গঠনের স্বাধীনতা, ইপিজেড আইনের সঙ্গে সাধারণ শ্রম আইনের সামঞ্জস্যতা, শিশুশ্রম নির্মূল এবং নিয়মিত কারখানা পরিদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানান, রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই ও নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য একাধিক পরিদর্শক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

এ সময় ইতালির সঙ্গে চলমান বৈধ অভিবাসন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেইজ’ প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়।

প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে শক্তিশালী বাংলাদেশের বৈদেশিক খাত

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে শক্তিশালী বাংলাদেশের বৈদেশিক খাত

প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উন্নতি এবং সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত—এই তিন সূচকে বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যের উদ্বৃত্ত আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতেও প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে ৬৬১ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩৯ কোটি ডলার।

প্রবাসী আয়েও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। গত আগস্টে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ২৪২ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আগস্টের প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। জুলাইয়ের ২৮৬ কোটি ডলারের তুলনায় আগস্টে আয় বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট দুই মাসে দেশে প্রায় ৫৮৩ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের জন্য ইতিবাচক। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আস্থারও প্রতিফলন ঘটছে এতে। আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ ও আকর্ষণীয় করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মার্চ থেকে আগস্ট—এই ছয় মাসে দেশে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।

প্রবাসী আয় বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষে দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ডলার। জুলাইয়ের শেষে তা ছিল ৩ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের আগস্ট শেষে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১১৭ কোটি ডলার।

আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভও বেড়েছে। আগস্ট শেষে এ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার, জুলাই শেষে যা ছিল ৩ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার। এক বছর আগে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বিপিএম৬ পদ্ধতির হিসাবে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৬২৭ কোটি ডলার।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজারেও তুলনামূলক স্থিতিশীলতা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেনভিত্তিক রেফারেন্স রেট অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ টাকা ১৭ পয়সা। আগস্টের শেষে এ হার ছিল প্রায় ১২৩ টাকা ২১ পয়সা।

এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে ৬৬১ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি ও চলতি হিসাবে কিছু ঘাটতি থাকলেও আর্থিক হিসাবে প্রায় ৭৯০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত থাকায় সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ইতিবাচক হয়েছে।

বৈদেশিক খাতের উন্নতির পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রমেও গতি ফিরেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বিশেষ করে মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।

এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, আমদানি বৃদ্ধির ধরন গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনশীল উপকরণের আমদানি বাড়লে তা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্য সহায়ক হতে পারে। বৈদেশিক খাতের উন্নত অবস্থান আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায় পরিশোধে বাড়তি সক্ষমতা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত, মুদ্রানীতির বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে।

বাজার আরও শক্তিশালী করতে গত আগস্টে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ ও আন্তব্যাংক লেনদেন পরিচালনার জন্য ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট বা এফএক্সএম মডিউলের সরাসরি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও কিছু সুবিধা চালু করা হয়েছে।

আলী হোসেন প্রধানিয়ার মতে, প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ছে এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহের চাপ কমছে। এই ধারা বজায় রাখতে স্থিতিশীল বিনিময় হার, আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর সেবা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’

সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ কয়েকটি অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে কমিটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জনগণের কাছ থেকে ম্যান্ডেট পাওয়া বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ৮ অনুচ্ছেদে যুক্ত হওয়া ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনর্বহাল করা হবে। এটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি।

সাংবাদিকদের মতামত নেবে কমিটি

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন তফসিল এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে বিস্তারিত মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। অনেকে লিখিত প্রস্তাবও দেবেন।

এসব প্রস্তাব ও আলোচনার বিষয়বস্তু প্রতিবেদন ও পুস্তিকা আকারে সংকলন করা হবে বলে জানান তিনি।

বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবাদিকদের অনেকে বিরোধী দলের সদস্যদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কমিটিও এ বিষয়ে একমত।

তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোকে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে, এখনো জানানো হচ্ছে। তারা কমিটিতে যোগ দিলে স্বাগত জানানো হবে। বিভক্তি এড়িয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে চায় কমিটি।

যেসব অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা

গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।

তিনি জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সংশোধনী আনা হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে জনগণের গণভোটের প্রয়োজন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংসদে বিল পাসের পর এ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রস্তাব

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুরক্ষায় গণভোটের প্রস্তাব প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যেন সহজে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলোতে এমন বিধান যুক্ত করা যেতে পারে, যাতে এ বিষয়ে পরিবর্তন আনতেও গণভোটের প্রয়োজন হয়।

ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য

সংবিধান সংশোধনের সময়সীমা সম্পর্কে কমিটির আহ্বায়ক জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই সংশোধন কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের জোর প্রচেষ্টা চলছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি সংশোধনী বিল প্রণয়ন করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদের বছরের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে। এরপর বিলের ওপর আলোচনা ও সংশোধনী প্রক্রিয়া শেষে তা পাস হলে গণভোটের মাধ্যমে সংশোধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে।

সবশেষে গণমাধ্যম ও সম্পাদকদের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোকে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।