কক্সবাজার থেকে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে এয়ার এশিয়া। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগের মধ্যেই এ অগ্রগতি এলো।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে এয়ার এশিয়া নিশ্চিত করেছে।’ তবে কবে থেকে ফ্লাইট চালু হবে এবং সপ্তাহে কতটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন ও বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আরো কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুট চালুর কাজ করছে।
এর মধ্যে কক্সবাজার-কাঠমাণ্ডু-কক্সবাজার সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে পর্যটক আকর্ষণ করাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানান মন্ত্রী।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রীর ভাষ্য, কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটকদের গন্তব্য হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ এসব আন্তর্জাতিক রুট।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিকীকরণের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধানে নির্মিত নতুন যাত্রী টার্মিনাল গত সোমবার থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য চালু হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হলে নতুন টার্মিনাল দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নতুন টার্মিনালে প্রাথমিকভাবে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের সেবা দেওয়া হবে। পরে সমন্বিত ব্যবস্থায় টার্মিনাল পরিচালনা করা হবে।
প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালের আয়তন প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার। এতে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, লাগেজ বেল্ট, নিরাপত্তা তল্লাশি, লিফট, এসকেলেটর, বোর্ডিং ব্রিজসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।
টার্মিনাল সম্প্রসারণের ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিচালন সক্ষমতা প্রায় সাত লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করছে বেবিচক।
এ ছাড়া বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বর্ধিত রানওয়েটি বর্তমানে দেশের দীর্ঘতম। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও বড় আকারের উড়োজাহাজ চলাচলের উপযোগী করেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে।
কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটক বাড়ার পাশাপাশি হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটন অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করছে সরকার। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সাবেক সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের কার্যক্রমের পাশাপাশি যৌক্তিক বিমানবন্দর ফি ও পর্যটন গন্তব্যের উন্নয়ন জরুরি।
এয়ার এশিয়ার পেনাং ফ্লাইট চালুর উদ্যোগকে কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।