৬ অক্টোবর ২০২৬

অক্টোবরের প্রথম ৩ দিনেই দেশে এল ২৫৩৩ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৬
অক্টোবরের প্রথম ৩ দিনেই দেশে এল ২৫৩৩ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

চলতি বছরের অক্টোবর মাসের শুরুতেই দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে ব্যাপক উল্লম্ফন দেখা গেছে। মাসের প্রথম তিন দিনেই দেশে ২০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

দেশীয় মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৩৩ কোটি ৮০ হাজার টাকা। রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমের কাছে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার অক্টোবরের শুরুতে প্রবাসী আয় বহুগুণ বেড়েছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম তিন দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এ বছরের প্রথম তিন দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় চার গুণ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুধু অক্টোবরের শুরুতেই নয়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে একটি টেকসই ও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সামগ্রিক চিত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৮৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের ঠিক একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৭৬৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের এই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির হার ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণেই বৈধ পথে ডলার আসার এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

অক্টোবরের প্রথম ৩ দিনেই দেশে এল ২৫৩৩ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৬
অক্টোবরের প্রথম ৩ দিনেই দেশে এল ২৫৩৩ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

চলতি বছরের অক্টোবর মাসের শুরুতেই দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে ব্যাপক উল্লম্ফন দেখা গেছে। মাসের প্রথম তিন দিনেই দেশে ২০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

দেশীয় মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৩৩ কোটি ৮০ হাজার টাকা। রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমের কাছে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার অক্টোবরের শুরুতে প্রবাসী আয় বহুগুণ বেড়েছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম তিন দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এ বছরের প্রথম তিন দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় চার গুণ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুধু অক্টোবরের শুরুতেই নয়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে একটি টেকসই ও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সামগ্রিক চিত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৮৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের ঠিক একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৭৬৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের এই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির হার ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণেই বৈধ পথে ডলার আসার এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

শাহজালালে ৪.৫ কেজি স্বর্ণসহ মালয়েশিয়ান নাগরিক আটক

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
শাহজালালে ৪.৫ কেজি স্বর্ণসহ মালয়েশিয়ান নাগরিক আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আসা এক মালয়েশিয়ান নাগরিকের কাছ থেকে ৪ দশমিক ৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে আজ মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকাগামী এমএইচ-০১৯৬ ফ্লাইটে আসা যাত্রী মি. ইয়াং ডন সিউ (৪৩)-কে নজরদারিতে রাখা হয়।

ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণের পর বিমান থেকে নামার পর থেকেই ওই যাত্রীকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে যাত্রীরা বেল্ট থেকে ব্যাগেজ সংগ্রহ করে গ্রিন চ্যানেল-১ অতিক্রম করার সময় তাকে আলাদা করে তল্লাশি করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে তল্লাশির সময় রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে তার শরীর থেকে স্বর্ণবারগুলো উদ্ধার করা হয়।

কাস্টমস জানায়, প্রতিটি এক কেজি ওজনের চারটি এবং ১০০ গ্রাম ওজনের পাঁচটি- মোট নয়টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়েছে। স্বর্ণবারগুলো ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধতার। অভিনব কায়দায় কালো কাপড়ের একটি বেল্টে মুড়িয়ে শার্টের নিচে লুকিয়ে এগুলো বহন করছিলেন ওই যাত্রী।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ওই যাত্রী কোনো ব্যাগেজ ঘোষণা দেননি এবং উদ্ধার করা স্বর্ণের বিষয়ে ‘কাস্টমস আইন ২০২৩’ ও ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ কন্ট্রোল অ্যাক্ট, ১৯৪৭’ অনুযায়ী কোনো নথি বা দলিল দেখাতে পারেননি।

আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের লক্ষ্যে ‘কাস্টমস আইন ২০২৩’-এর ১৯১ ধারা অনুযায়ী স্বর্ণগুলো সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত যাত্রীর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

অবৈধ স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধ ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় কাস্টমস হাউস, ঢাকা ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সৌদি আরবের মদিনায় হুথি ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সৌদি আরবের মদিনায় হুথি ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হুথি ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

মহানবী (সা.)-এর পবিত্র মসজিদকে সেবা প্রদানকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বেসামরিক অবকাঠামোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ইসলাম ধর্মের পবিত্রতার ওপর একটি অগ্রহণযোগ্য আঘাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পূর্ণ সংহতি রয়েছে।

আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে—এমন যে কোনো ধরনের আগ্রাসন বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় এলো ২৭৬ কোটি ডলার

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০২, ২০২৬
সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় এলো ২৭৬ কোটি ডলার

টানা ৪ মাস ধরে মাসওয়ারি প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলারের নিচে আছে। এর আগে সর্বশেষ মে মাসে প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল। গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে। গত আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আয় কমে গেছে। আগস্ট মাসে আয় এসেছিল ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।

তবে গত বছরের একই সময়ের (সেপ্টেম্বর) চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। পরবর্তী মাস আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুবিধা ও ডলারের আনুষ্ঠানিক দর স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসী আয়ের ধারা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ দেশের বৈচিত্র্যময় বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ও রিজার্ভ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখছে।

এদিকে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ওই অর্থবছরে ১২ মাসের মধ্যে ৬ মাসেই ৩০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল।

দুই বছর আগে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে হঠাৎ করে প্রবাসী আয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা যায়। তাতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয় প্রায় ২৭ শতাংশ। ওই অর্থবছরে প্রথমবারের মতো প্রবাসী আয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। সেই ধারাবাহিকতায় গত অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড হয়েছে।

চলমান সংকটের মধ্যেও অর্থনীতির মূল চাকা সচল রাখতে এই শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ বড় ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। এতে দেশের ডলারের বাজারে স্বস্তি বজায় রয়েছে।

কক্সবাজার থেকে পেনাং সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে এয়ার এশিয়া

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০২, ২০২৬
কক্সবাজার থেকে পেনাং সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে এয়ার এশিয়া

কক্সবাজার থেকে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে এয়ার এশিয়া। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগের মধ্যেই এ অগ্রগতি এলো।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে এয়ার এশিয়া নিশ্চিত করেছে।’ তবে কবে থেকে ফ্লাইট চালু হবে এবং সপ্তাহে কতটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন ও বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আরো কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুট চালুর কাজ করছে।

এর মধ্যে কক্সবাজার-কাঠমাণ্ডু-কক্সবাজার সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে পর্যটক আকর্ষণ করাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানান মন্ত্রী।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রীর ভাষ্য, কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটকদের গন্তব্য হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ এসব আন্তর্জাতিক রুট।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিকীকরণের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধানে নির্মিত নতুন যাত্রী টার্মিনাল গত সোমবার থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য চালু হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হলে নতুন টার্মিনাল দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নতুন টার্মিনালে প্রাথমিকভাবে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের সেবা দেওয়া হবে। পরে সমন্বিত ব্যবস্থায় টার্মিনাল পরিচালনা করা হবে।

প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালের আয়তন প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার। এতে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, লাগেজ বেল্ট, নিরাপত্তা তল্লাশি, লিফট, এসকেলেটর, বোর্ডিং ব্রিজসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।

টার্মিনাল সম্প্রসারণের ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিচালন সক্ষমতা প্রায় সাত লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করছে বেবিচক।

এ ছাড়া বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বর্ধিত রানওয়েটি বর্তমানে দেশের দীর্ঘতম। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও বড় আকারের উড়োজাহাজ চলাচলের উপযোগী করেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটক বাড়ার পাশাপাশি হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটন অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করছে সরকার। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সাবেক সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের কার্যক্রমের পাশাপাশি যৌক্তিক বিমানবন্দর ফি ও পর্যটন গন্তব্যের উন্নয়ন জরুরি।

এয়ার এশিয়ার পেনাং ফ্লাইট চালুর উদ্যোগকে কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।