৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু : দিনে গড়ে ১৪টির বেশি মরদেহ এসেছে, কোন দেশে বেশি

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু : দিনে গড়ে ১৪টির বেশি মরদেহ এসেছে, কোন দেশে বেশি

কম্বোডিয়ার টাইলস কারখানায় কাজ করতেন পাবনার আল আমিন। কাজের সময় শতাধিক টাইলসের নিচে চাপা পড়ে মারা যান তিনি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে আসে তাঁর মরদেহ। তিনি মারা যান ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল। মরদেহ দেশে আসতে সময় লেগে যায় প্রায় দেড় বছর।

মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকায় এসে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সহায়তায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করে আল আমিনের শ্যালক মাসুম খান।

তিনি বলেন, কম্বোডিয়ায় দূতাবাস নেই। কল্যাণ বোর্ড থেকে আবেদনটি পাঠানো হয় থাইল্যান্ডে। মরদেহটি কোথায় আছে, তা খুঁজে বের করতে পারেনি দূতাবাস। এটি জানতে পেরে তিনি প্রবাসীদের মাধ্যমে দেশটির স্থানীয় পুলিশের নম্বর সংগ্রহ করে কল্যাণ বোর্ডকে সহায়তা করেন।

মরদেহ আনতে এমন হয়রানির ঘটনা অহরহ নয়। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচি বলছে, বিদেশে প্রবাসী কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। সৌদি আরবে কিছু কর্মীকে দাফন করা হয় স্থানীয়ভাবে। তবে অধিকাংশ মরদেহ দেশে আনতে চায় পরিবার। নিয়মিত কর্মী হলে মরদেহ মোটামুটি সময়মতো দেশে আসে; কিন্তু কর্মী কোনো কারণে অনিয়মিত হয়ে গেলে (বৈধ কাগজ না থাকা) দীর্ঘ সময় লেগে যায় মরদেহ আনতে।

প্রবাসে কোনো কর্মী মারা গেলে তাঁর মরদেহ দেশে আনার দায়িত্ব নেয় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মরদেহ আনার আগে একাধিক দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে হয়। এতে কিছুটা সময় লেগে যায়। তবে এটি আগের চেয়ে কমেছে; আর যেসব দেশে দূতাবাস নেই, সেখান থেকে মরদেহ আনতে বেশি সময় লাগে।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে ৩ হাজার ৬৫১ প্রবাসীর মরদেহ আসে দেশে। ২০২০ সালে এটি কমে হয় ৩ হাজার ১৪০ জন। মূলত করোনা মহামারির সময় অনেকে মরদেহ দেশে না এনে স্থানীয়ভাবে দাফন করেন। ২০২১ সাল থেকে দেশে আসা মরদেহ বাড়তে থাকে। করোনাকাল বাদ দিয়ে সাধারণ সময় মৃতের ১ শতাংশের কম দাফন হয় গন্তব্য দেশগুলোতে।

এ বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে ৪ হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে। এ বছর দেশটিতে মারা গেছেন প্রায় ২ হাজার। যদিও বিদেশে বৃহত্তম কর্মসংস্থান হলো সৌদি আরব। এ বছরও সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন দেশটিতে। এরপর সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা গেছেন মালয়েশিয়ায়। দেশটিতে গত আড়াই বছর ধরে কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে আছে।

অভিবাসন খাত নিয়ে নিয়মিত কাজ করে, এমন বেসরকারি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মী যে দেশে মারা যান, সেখান থেকে মৃত্যুর একটি কারণ লিখে পাঠানো হয়। রোগসহ স্বাভাবিক মৃত্যু দেখানো হয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন, খুন, আত্মহত্যায় বাধ্য করার অভিযোগ আছে; কিন্তু বিদেশে কর্মীদের মৃত্যুর কোনো কারণ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয় না। এভাবে দায়সারাভাবে মৃত্যুর কারণ বলে দেওয়াটা পরিবারের জন্য অসম্মানজনক।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ১ অক্টোবর প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রবাসীদের চিকিৎসাসহায়তা বাড়ানো হয়েছে। মৃতদেহ দ্রুত দেশে আনতে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। যাঁরা অনিয়মিত কর্মী, তাঁদের মরদেহ আনতেও সরকার যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিদেশে মৃত্যুর কারণ যাচাই করতে করণীয় ঠিক করা হবে।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বলছে, মৃত্যুর পর কর্মীর পরিবার থেকে আবেদন করতে হয়। কর্মী যদি দেশ থেকে বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে গিয়ে থাকেন বা বিদেশে যাওয়ার পর দূতাবাস থেকে সদস্য নিবন্ধন নেন; তাহলে তাঁর মরদেহ আনার খরচ কল্যাণ বোর্ডের। এর কোনোটি না থাকলেও বোর্ডে আবেদন করতে পারে পরিবার। সে ক্ষেত্রে বোর্ড থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় থেকে মরদেহ দেশে আনতে খরচ দেওয়া হয়, এটি প্রতিবছর বাজেটে বরাদ্দ থাকে।

দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১৬ শতাংশের বেশি

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, আগে প্রায় ৭০ শতাংশ মরদেহের সঙ্গে আসা কাগজপত্রে কারণ হিসেবে স্বাভাবিক মৃত্যু লেখা থাকত। এ বছর প্রথম ৯ মাসে ৬৬ শতাংশের মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক উল্লেখ করা হয়েছে; আর দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে বাকি ৩৪ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে।

মোট মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা, কাজের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, আগুনে পোড়া, ভবন থেকে পরে যাওয়া ও বিদ্যুতায়িত হয়ে এ বছর মারা গেছেন ১৬ শতাংশের বেশি।

এর আগে ২০২৩ সালে প্রবাসে মৃত কর্মীদের পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ড। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে ১৮ হাজার ১৬৬টি মরদেহ দেশে আসে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, আগুনে পোড়া, ভবন থেকে পড়ে যাওয়া ও বৈদ্যুতিক শকে মারা গেছেন ৩ হাজার ৬৯৮ জন।

সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৪৯ জন। সব মিলিয়ে ২০ শতাংশের বেশি প্রবাসী মারা যান কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন দুর্ঘটনায়। কর্মক্ষেত্রে আসা–যাওয়া ও কাজের সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

নোয়াখালীর ফয়েজ আহম্মেদ ১০ বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করতেন। সাত মাস ধরে তাঁর সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছিলেন ছোট ভাই সুজন আহম্মেদ। দুজন মিলে একই গাড়িতে করে খেজুর পরিবহনের কাজ করতেন। গত ১৬ জুলাই এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান দুই ভাই। ২৮ জুলাই দেশে আসে মরদেহ। তাঁদের বাবা আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, হঠা সব শেষ হয়ে গেল। মরদেহ দাফনে ৩৫ হাজার টাকা করে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছে কল্যাণ বোর্ড।

দেশে আসা প্রতিটি মৃতদেহ দাফনে ৩৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেয় কল্যাণ বোর্ড। এরপর তিন লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এর বাইরে এখন জীবন বিমার সুবিধা পায় কর্মীর পরিবার; আর বিদেশে কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি থাকলে তা দূতাবাসের মাধ্যমে আদায় করে দেওয়া হয়। মৃত কর্মীর বকেয়া থাকলে তা-ও আদায়ের উদ্যোগ নেয় দূতাবাস। কল্যাণ বোর্ডের তথ্য বলছে, এ বছর প্রথম ৬ মাসে মরদেহ দাফনে ৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে; আর আর্থিক অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৬১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। কর্মীদের বিমাসুবিধা দেওয়া হয়েছে ৪৪ কোটি টাকার বেশি। বিদেশ থেকে ক্ষতিপূরণ, বকেয়া ও বিমা আদায় করে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা।

কর্মীদের আর্থিক অনুদান, ক্ষতিপূরণ, বিমাসুবিধা আদায় নিয়ে নানা অভিযোগ আছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আবেদন করার পর দিনের পর দিন কল্যাণ বোর্ডে ঘুরতে হয়। কারও কারও সহায়তা পেতে পেতে পরিবারের অবস্থা শোচনীয় হয়ে যায়; আর বিদেশ থেকে সব হারিয়ে ফিরে আসা অনিয়মিত কর্মীরা সরকারের এসব সুবিধা পান না।

কারণ জানা গেলে কমতে পারে মৃত্যু

অভিবাসন খাতের গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বড় অংশ কাজ করে মূলত অবকাঠামো নির্মাণ খাতে। দিনের বেলায় প্রচণ্ড তাপের মধ্যে তাঁদের কাজ করতে হয়। এতে তাপজনিত নানা রোগে শুধু কিডনি নয়, মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে শরীরের সব অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব দেশে তাপ আরও বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে অতিরিক্ত তাপ। প্রচণ্ড তাপ ও সূর্যালোকে দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে তাঁদের দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। যে জন্য আজীবন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। দিনে ও রাতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি শরীরে ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করে এবং শ্বাসতন্ত্র, হৃদ্‌রোগ, বহুমূত্র ও কিডনি রোগের প্রভাবকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এতে অকালমৃত্যুও ঘটে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব মৃত্যুর কারণ জানা গেলে প্রতিরোধে নানা ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে বিএমইটি প্রশিক্ষণ দেয়। এতে গন্তব্য দেশের নিয়মকানুন, আচার-আচরণসহ নিরাপত্তা সচেতনতা বিষয়ে বিদেশগামী কর্মীদের ধারণা দেওয়া হয়। এটি মাত্র তিন দিনের কর্মশালা, যাতে কোনো কিছুই ভালো করে শেখানো হয় না। যে দেশে কাজে যাচ্ছেন, সে দেশের কাজের ধরন, পরিবেশ ও চাপ সামলানোর কৌশল, কর্মঘণ্টা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণাসহ কীভাবে ভিন্ন পরিবেশে নিজেকে সুস্থ রাখা যায়, তার প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, প্রতিবছর মৃত্যু বাড়ছে। ২৫ থেকে ৩০ বছরের যুবকেরাও মারা যাচ্ছেন। ৭০ শতাংশের বেশি মরদেহ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, সৌদি থেকেই বেশি। প্রতিটি মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ জানা গেলে মৃত্যু কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে সরকার; আর জীবনযুদ্ধে লড়াই করা নারীরা বিদেশে যান।

তাঁদের আত্মহত্যার কারণগুলো অবশ্যই জোরালোভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি আরও বলেন, মরদেহ দেশে আনতে কোনোভাবেই কালক্ষেপণ করা যাবে না। অনিয়মিত কর্মী হলেও তাঁর মরদেহ আনার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

প্রথম আলো

প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু : দিনে গড়ে ১৪টির বেশি মরদেহ এসেছে, কোন দেশে বেশি

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু : দিনে গড়ে ১৪টির বেশি মরদেহ এসেছে, কোন দেশে বেশি

কম্বোডিয়ার টাইলস কারখানায় কাজ করতেন পাবনার আল আমিন। কাজের সময় শতাধিক টাইলসের নিচে চাপা পড়ে মারা যান তিনি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে আসে তাঁর মরদেহ। তিনি মারা যান ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল। মরদেহ দেশে আসতে সময় লেগে যায় প্রায় দেড় বছর।

মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকায় এসে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সহায়তায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করে আল আমিনের শ্যালক মাসুম খান।

তিনি বলেন, কম্বোডিয়ায় দূতাবাস নেই। কল্যাণ বোর্ড থেকে আবেদনটি পাঠানো হয় থাইল্যান্ডে। মরদেহটি কোথায় আছে, তা খুঁজে বের করতে পারেনি দূতাবাস। এটি জানতে পেরে তিনি প্রবাসীদের মাধ্যমে দেশটির স্থানীয় পুলিশের নম্বর সংগ্রহ করে কল্যাণ বোর্ডকে সহায়তা করেন।

মরদেহ আনতে এমন হয়রানির ঘটনা অহরহ নয়। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচি বলছে, বিদেশে প্রবাসী কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। সৌদি আরবে কিছু কর্মীকে দাফন করা হয় স্থানীয়ভাবে। তবে অধিকাংশ মরদেহ দেশে আনতে চায় পরিবার। নিয়মিত কর্মী হলে মরদেহ মোটামুটি সময়মতো দেশে আসে; কিন্তু কর্মী কোনো কারণে অনিয়মিত হয়ে গেলে (বৈধ কাগজ না থাকা) দীর্ঘ সময় লেগে যায় মরদেহ আনতে।

প্রবাসে কোনো কর্মী মারা গেলে তাঁর মরদেহ দেশে আনার দায়িত্ব নেয় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মরদেহ আনার আগে একাধিক দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে হয়। এতে কিছুটা সময় লেগে যায়। তবে এটি আগের চেয়ে কমেছে; আর যেসব দেশে দূতাবাস নেই, সেখান থেকে মরদেহ আনতে বেশি সময় লাগে।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে ৩ হাজার ৬৫১ প্রবাসীর মরদেহ আসে দেশে। ২০২০ সালে এটি কমে হয় ৩ হাজার ১৪০ জন। মূলত করোনা মহামারির সময় অনেকে মরদেহ দেশে না এনে স্থানীয়ভাবে দাফন করেন। ২০২১ সাল থেকে দেশে আসা মরদেহ বাড়তে থাকে। করোনাকাল বাদ দিয়ে সাধারণ সময় মৃতের ১ শতাংশের কম দাফন হয় গন্তব্য দেশগুলোতে।

এ বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে ৪ হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে। এ বছর দেশটিতে মারা গেছেন প্রায় ২ হাজার। যদিও বিদেশে বৃহত্তম কর্মসংস্থান হলো সৌদি আরব। এ বছরও সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন দেশটিতে। এরপর সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা গেছেন মালয়েশিয়ায়। দেশটিতে গত আড়াই বছর ধরে কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে আছে।

অভিবাসন খাত নিয়ে নিয়মিত কাজ করে, এমন বেসরকারি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মী যে দেশে মারা যান, সেখান থেকে মৃত্যুর একটি কারণ লিখে পাঠানো হয়। রোগসহ স্বাভাবিক মৃত্যু দেখানো হয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন, খুন, আত্মহত্যায় বাধ্য করার অভিযোগ আছে; কিন্তু বিদেশে কর্মীদের মৃত্যুর কোনো কারণ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয় না। এভাবে দায়সারাভাবে মৃত্যুর কারণ বলে দেওয়াটা পরিবারের জন্য অসম্মানজনক।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ১ অক্টোবর প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রবাসীদের চিকিৎসাসহায়তা বাড়ানো হয়েছে। মৃতদেহ দ্রুত দেশে আনতে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। যাঁরা অনিয়মিত কর্মী, তাঁদের মরদেহ আনতেও সরকার যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিদেশে মৃত্যুর কারণ যাচাই করতে করণীয় ঠিক করা হবে।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বলছে, মৃত্যুর পর কর্মীর পরিবার থেকে আবেদন করতে হয়। কর্মী যদি দেশ থেকে বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে গিয়ে থাকেন বা বিদেশে যাওয়ার পর দূতাবাস থেকে সদস্য নিবন্ধন নেন; তাহলে তাঁর মরদেহ আনার খরচ কল্যাণ বোর্ডের। এর কোনোটি না থাকলেও বোর্ডে আবেদন করতে পারে পরিবার। সে ক্ষেত্রে বোর্ড থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় থেকে মরদেহ দেশে আনতে খরচ দেওয়া হয়, এটি প্রতিবছর বাজেটে বরাদ্দ থাকে।

দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১৬ শতাংশের বেশি

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, আগে প্রায় ৭০ শতাংশ মরদেহের সঙ্গে আসা কাগজপত্রে কারণ হিসেবে স্বাভাবিক মৃত্যু লেখা থাকত। এ বছর প্রথম ৯ মাসে ৬৬ শতাংশের মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক উল্লেখ করা হয়েছে; আর দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে বাকি ৩৪ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে।

মোট মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা, কাজের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, আগুনে পোড়া, ভবন থেকে পরে যাওয়া ও বিদ্যুতায়িত হয়ে এ বছর মারা গেছেন ১৬ শতাংশের বেশি।

এর আগে ২০২৩ সালে প্রবাসে মৃত কর্মীদের পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ড। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে ১৮ হাজার ১৬৬টি মরদেহ দেশে আসে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, আগুনে পোড়া, ভবন থেকে পড়ে যাওয়া ও বৈদ্যুতিক শকে মারা গেছেন ৩ হাজার ৬৯৮ জন।

সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৪৯ জন। সব মিলিয়ে ২০ শতাংশের বেশি প্রবাসী মারা যান কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন দুর্ঘটনায়। কর্মক্ষেত্রে আসা–যাওয়া ও কাজের সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

নোয়াখালীর ফয়েজ আহম্মেদ ১০ বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করতেন। সাত মাস ধরে তাঁর সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছিলেন ছোট ভাই সুজন আহম্মেদ। দুজন মিলে একই গাড়িতে করে খেজুর পরিবহনের কাজ করতেন। গত ১৬ জুলাই এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান দুই ভাই। ২৮ জুলাই দেশে আসে মরদেহ। তাঁদের বাবা আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, হঠা সব শেষ হয়ে গেল। মরদেহ দাফনে ৩৫ হাজার টাকা করে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছে কল্যাণ বোর্ড।

দেশে আসা প্রতিটি মৃতদেহ দাফনে ৩৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেয় কল্যাণ বোর্ড। এরপর তিন লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এর বাইরে এখন জীবন বিমার সুবিধা পায় কর্মীর পরিবার; আর বিদেশে কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি থাকলে তা দূতাবাসের মাধ্যমে আদায় করে দেওয়া হয়। মৃত কর্মীর বকেয়া থাকলে তা-ও আদায়ের উদ্যোগ নেয় দূতাবাস। কল্যাণ বোর্ডের তথ্য বলছে, এ বছর প্রথম ৬ মাসে মরদেহ দাফনে ৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে; আর আর্থিক অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৬১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। কর্মীদের বিমাসুবিধা দেওয়া হয়েছে ৪৪ কোটি টাকার বেশি। বিদেশ থেকে ক্ষতিপূরণ, বকেয়া ও বিমা আদায় করে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা।

কর্মীদের আর্থিক অনুদান, ক্ষতিপূরণ, বিমাসুবিধা আদায় নিয়ে নানা অভিযোগ আছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আবেদন করার পর দিনের পর দিন কল্যাণ বোর্ডে ঘুরতে হয়। কারও কারও সহায়তা পেতে পেতে পরিবারের অবস্থা শোচনীয় হয়ে যায়; আর বিদেশ থেকে সব হারিয়ে ফিরে আসা অনিয়মিত কর্মীরা সরকারের এসব সুবিধা পান না।

কারণ জানা গেলে কমতে পারে মৃত্যু

অভিবাসন খাতের গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বড় অংশ কাজ করে মূলত অবকাঠামো নির্মাণ খাতে। দিনের বেলায় প্রচণ্ড তাপের মধ্যে তাঁদের কাজ করতে হয়। এতে তাপজনিত নানা রোগে শুধু কিডনি নয়, মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে শরীরের সব অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব দেশে তাপ আরও বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে অতিরিক্ত তাপ। প্রচণ্ড তাপ ও সূর্যালোকে দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে তাঁদের দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। যে জন্য আজীবন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। দিনে ও রাতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি শরীরে ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করে এবং শ্বাসতন্ত্র, হৃদ্‌রোগ, বহুমূত্র ও কিডনি রোগের প্রভাবকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এতে অকালমৃত্যুও ঘটে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব মৃত্যুর কারণ জানা গেলে প্রতিরোধে নানা ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে বিএমইটি প্রশিক্ষণ দেয়। এতে গন্তব্য দেশের নিয়মকানুন, আচার-আচরণসহ নিরাপত্তা সচেতনতা বিষয়ে বিদেশগামী কর্মীদের ধারণা দেওয়া হয়। এটি মাত্র তিন দিনের কর্মশালা, যাতে কোনো কিছুই ভালো করে শেখানো হয় না। যে দেশে কাজে যাচ্ছেন, সে দেশের কাজের ধরন, পরিবেশ ও চাপ সামলানোর কৌশল, কর্মঘণ্টা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণাসহ কীভাবে ভিন্ন পরিবেশে নিজেকে সুস্থ রাখা যায়, তার প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, প্রতিবছর মৃত্যু বাড়ছে। ২৫ থেকে ৩০ বছরের যুবকেরাও মারা যাচ্ছেন। ৭০ শতাংশের বেশি মরদেহ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, সৌদি থেকেই বেশি। প্রতিটি মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ জানা গেলে মৃত্যু কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে সরকার; আর জীবনযুদ্ধে লড়াই করা নারীরা বিদেশে যান।

তাঁদের আত্মহত্যার কারণগুলো অবশ্যই জোরালোভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি আরও বলেন, মরদেহ দেশে আনতে কোনোভাবেই কালক্ষেপণ করা যাবে না। অনিয়মিত কর্মী হলেও তাঁর মরদেহ আনার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

প্রথম আলো

রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে

গড় খরচ ১.৭৮ থেকে বেড়ে ১.৮২ শতাংশে উঠেছে * বিদেশে দেশি ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ খোলার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে

বিদেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এ খরচ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক। বিদেশি ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর সেবার খরচ বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স পাঠাতে বিদেশের নানা ধরনের ফি বা কর আরোপের কারণে এ খরচ বেড়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামার কারণেও এ খাতে খরচ বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠাতে গড়ে খরচ হতো ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে পাঠাতে খরচ হচ্ছে গড়ে ১ দশমিক ৮২ শতাংশ। তিন মাসের ব্যবধানে এ খাতে খরচ বেড়েছে দশমিক ০৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ১ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠাতে খরচ হতো ১৭ দশমিক ৮০ ডলার। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এ খরচ হয়েছে ১৮ দশমিক ২০ ডলার। অর্থাৎ খরচ বেড়েছে দশমিক ৪০ ডলার। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বাড়লে হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠানোর ঝোঁক বেড়ে যেতে পারে।

এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আগেই সতর্ক হতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা যেতে পারে। বিদেশে এখনো প্রবাসীদের ব্যাংকিং সুবিধা খুব সীমিত। এটি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে দেশি ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউজ খোলা হলে এ খাতে খরচ কমানো সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০ ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স পাঠাতে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে খরচ হয়েছে ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ২০০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত পাঠাতে একই সময়ের ব্যবধানে খরচ সামান্য কমে দশমিক ৯৬ থেকে দশমিক ৯৪ শতাংশ হয়েছে।

৫০০ ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে খরচ একই সময়ে সামান্য বেড়ে দশমিক ৪৯ থেকে দশমিক ৫০ শতাংশে উঠেছে। অর্থাৎ ছোট অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠাতে খরচ বেশি, বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠাতে খরচ কম হচ্ছে।

জানা যায়, বেশির ভাগ দেশ থেকেই ২০০ ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে। আবার কয়েকটি দেশ থেকে কমেছেও। কমার মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, কুয়েত, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর। বাড়ার তালিকায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কাতার, ইতালি, ওমান ও যুক্তরাজ্য।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সার্বিকভাবে বেশির ভাগ দেশ থেকেই রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে। বিশেষ করে ২০০ ডলার থেকে যে কোনো অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে খরচ বেড়েছে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ ছিল গড়ে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তা বেড়ে ২ দশমিক ২৭ শতাংশে ওঠে। একই সময়ের ব্যবধানে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে খরচ ২ দশমিক ৭৫ থেকে বেড়ে ২ দশমিক ৯২ শতাংশে উঠেছে। মালয়েশিয়া থেকে খরচ ১ দশমিক ০৪ থেকে বেড়ে ১ দশমিক ১২ শতাংশ হয়েছে।

কাতার থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ একই সময়ে ১ দশমিক ২২ থেকে বেড়ে ১ দশমিক ২৮, ইতালি ১ দশমিক ১৪ থেকে ১ দশমিক ২৭, ওমান ১ দশমিক ৩৯ থেকে ১ দশমিক ৪০ এবং যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়ে ১ দশমিক ১৮ থেকে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশে উঠেছে।

অবশ্য কয়েকটি দেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমেছে। এর মধ্যে কুয়েত থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ একই প্রান্তিকে ১ দশমিক ৬১ থেকে কমে ১ দশমিক ৫১ শতাংশে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ দশমিক ৩৩ থেকে কমে ১ দশমিক ১১ শতাংশ হয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ সবচেয়ে বেশি কমেছে।

জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে পাঠাতে গড়ে খরচ হতো ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তা কমে দশমিক ৯৮ শতাংশে নেমেছে। এর বাইরেও অনেক দেশ থেকে রেমিট্যান্স আসছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ দেশ থেকেই রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে।

এদিকে দেশের ভেতরের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীদের আত্মীয়স্বজনের কাছে রেমিট্যান্সের অর্থ পাঠানোর খরচ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে দেশের ভেতরে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কিছুটা কমেছে।

যুগান্তর

১০টি এয়ারবাস কিনতে আজ চুক্তি সই করবে বিমান

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
১০টি এয়ারবাস কিনতে আজ চুক্তি সই করবে বিমান

বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার লক্ষ্যে আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) ফরাসি উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারবাস’-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এ চুক্তি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় বিমান বহরে ৪টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি এবং ৬টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ যুক্ত হবে।

কর্মকর্তারা জানান, নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর উপস্থিত থাকবেন।

গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের ‘উৎসব হল’-এ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আগামী এক দশকে যাত্রী পরিবহণের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই এয়ারবাসগুলো যুক্ত হলে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ উড়োজাহাজ বহর আরও সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় হবে। এর আগে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী অক্টোবরের মধ্যেই ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি সম্পাদন হবে বলে নিশ্চিত করেছিলেন।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরেই চুক্তি সই হবে।’

মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ২০৩৩ সাল থেকে উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ শুরু হয়ে তা ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে।

আশা করা হচ্ছে, ৪টি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ বিমানের ভবিষ্যৎ দূরপাল্লার ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে, ৬টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ ব্যবহৃত হবে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে। এই ক্রয়ের মাধ্যমে বোয়িং ও এয়ারবাস— দুই ধরনের উড়োজাহাজের সংমিশ্রণে তৈরি হবে বিমানের একটি বহুমুখী বহর।

বিমান এর আগে ১৪টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নেয়, যার মধ্যে রয়েছে ৮টি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। পরবর্তীতে এই তালিকায় আরও ১১টি বোয়িং যুক্ত করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি ৭৮৭-১০ এবং ৬টি ৭৩৭-৮। এতে মোট বোয়িং ক্রয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫টিতে।

প্রস্তাবিত ১০টি এয়ারবাস কেনা সম্পন্ন হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহরে মোট ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হবে; যার মধ্যে ১৯টি ওয়াইড-বডি এবং ১৬টি ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ। নতুন উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ শুরুর আগের মধ্যবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা ধরে রাখতে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা

বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে জাপানের বিশ্বখ্যাত অটোমোবাইল কোম্পানি টয়োটা। ২০২৭ সালে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (এইচইভি) কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে ২০২৯ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এ পরিকল্পনার কথা জানায় টয়োটা তুশো কর্পোরেশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

টয়োটা তুশো কর্পোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ করে।

বৈঠকে বাংলাদেশে টয়োটার কার্যক্রম সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারা।

প্রতিনিধিদলটি জানায়, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য’ –এই উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে দেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন করা হবে।

এর মাধ্যমে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি শিল্পায়নের প্রসার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও এটি বড় ভূমিকা রাখবে।

টয়োটার বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের এ আগ্রহকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকে বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব খাতে টয়োটা তুশো করপোরেশন বিনিয়োগে আগ্রহী হলে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও সহায়তা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

এ সময় টয়োটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সব বিভাগীয় পর্যায়ে তাদের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের সব অঞ্চলে টয়োটার সেবা ও কার্যক্রম আরও সহজলভ্য হবে।

এছাড়া, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও অবদান রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে তরুণদের কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করে ভবিষ্যৎ শিল্পের উপযোগী দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে টয়োটা কাজ করবে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, টয়োটা তুশো কর্পোরেশনের মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমমিত সিংসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবরের প্রথম ৩ দিনেই দেশে এল ২৫৩৩ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৬
অক্টোবরের প্রথম ৩ দিনেই দেশে এল ২৫৩৩ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

চলতি বছরের অক্টোবর মাসের শুরুতেই দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে ব্যাপক উল্লম্ফন দেখা গেছে। মাসের প্রথম তিন দিনেই দেশে ২০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

দেশীয় মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৩৩ কোটি ৮০ হাজার টাকা। রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমের কাছে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার অক্টোবরের শুরুতে প্রবাসী আয় বহুগুণ বেড়েছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম তিন দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এ বছরের প্রথম তিন দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় চার গুণ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুধু অক্টোবরের শুরুতেই নয়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে একটি টেকসই ও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সামগ্রিক চিত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৮৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের ঠিক একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৭৬৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের এই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির হার ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণেই বৈধ পথে ডলার আসার এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।