১০ অক্টোবর ২০২৬

প্রাণ বাঁচাতে ধানক্ষেতে দৌড়, তবুও রক্ষা পেল না তাজমিন

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
প্রাণ বাঁচাতে ধানক্ষেতে দৌড়, তবুও রক্ষা পেল না তাজমিন

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার ঘটনাস্থলজুড়ে তাণ্ডবের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের অন্তত চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করেছিল কিশোরীটি। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। পরে অটোরিকশাটি জব্দ করে পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া নির্জন পাকা সড়কের দুই পাশে বিস্তৃত ফসলি জমি। সড়কের আশপাশের কয়েকটি ধানক্ষেতে গাছ এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। এসব ক্ষেতের বিভিন্ন স্থানে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখা যায়। সড়কের এক পাশে ধানক্ষেতে পড়ে ছিল সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি। পরে স্থানীয়রা সেটি টেনে সড়কের ওপর তোলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, সকালে আশপাশের মানুষের কাছে ধানক্ষেতে একটি সিএনজি পড়ে থাকার খবর পান তিনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে সিএনজিটির ২০ থেকে ৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান। আশপাশের ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখে সামনে এগিয়ে একটি ধানক্ষেতে নারীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। লাশটি মাথা কাদায় গোঁজানো ছিল এবং গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। শরীর বস্ত্রহীন অবস্থায় থাকায় তিনি একটি গামছা দিয়ে লাশ ঢেকে দেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুহিন বলেন, ধানক্ষেতের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, মেয়েটিকে অনেক কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে সে চেষ্টা করেছিল বলে ধারণা করছেন তিনি। তবে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ধানক্ষেতে পড়ে থাকার কারণ এবং সেটি কার, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পুলিশি তদন্তে ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশাটি নিবন্ধিত। এর সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।

এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাজমিনের লাশ নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনরা। যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা এলাকায় নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যায়নি। তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বাবাকে পাঠায় লাইভ লোকেশন! সিসিটিভিতে ধরা পড়ল তাজমিনের শেষ মুহূর্ত

বাবাকে পাঠায় লাইভ লোকেশন! সিসিটিভিতে ধরা পড়ল তাজমিনের শেষ মুহূর্ত

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
বাবাকে পাঠায় লাইভ লোকেশন! সিসিটিভিতে ধরা পড়ল তাজমিনের শেষ মুহূর্ত

রাত ১১টা ৪০ মিনিট। কক্সবাজার থেকে আসা বাস থেকে নেমে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে আসে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন। পরনে গোলাপি কামিজ ও জিন্স প্যান্ট। হাতে মুঠোফোন, বাঁ হাতে ঝোলানো ভ্যানিটি ব্যাগ। সেখানে একটি কনফেকশনারির দোকানির সাথে কথা বলে সে। একপর্যায়ে দোকান থেকে বেরিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দিকে এগিয়ে যায়। মৃত্যুর আগে হোটেল নুরজাহানের সামনে জান্নাতুল তাজমিনের সর্বশেষ অবস্থানের এ চিত্রটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। তারা কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকায় ভাড়াবাসায় থাকত। সেই বাসা থেকে গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে যায় তাজমিন। এরপর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উদ্ধার করা হলো তার লাশ। ১৫ বছর বয়সী তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ জানায়, সে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় তাজমিন। রাতে পদুয়ার বাজারে পৌঁছে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে সে। সিসিটিভি ফুটেজে ওই এলাকায় তার অবস্থান ও দোকানির সাথে কথা বলার দৃশ্য দেখা গেলেও সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরদিন তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, বুধবার গভীর রাতে মেয়ের কাছ থেকে একটি বার্তা ও লাইভ লোকেশন পান তিনি। মেয়েটি তাকে সেখানে গিয়ে নিয়ে আসতে বলেছিল। তবে তখন ঘুমিয়ে থাকায় সাথে সাথে বার্তাটি দেখতে পারেননি। পরে লোকেশন দেখে সেখানে গিয়ে দেখতে পান তাজমিনের নিথর লাশ।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার একটি ফসলি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। কাছেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়া যায়। গাড়ির ভেতরে থাকা একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও শার্ট মেয়ের বলে শনাক্ত করেন তার বাবা।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, তাজমিনের মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সাথে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজে তাজমিনের গতিবিধির একটি অংশ দেখা গেছে। বিভিন্ন তথ্য ও আলামত যাচাই করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

প্রাণ বাঁচাতে ধানক্ষেতে দৌড়, তবুও রক্ষা পেল না তাজমিন

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
প্রাণ বাঁচাতে ধানক্ষেতে দৌড়, তবুও রক্ষা পেল না তাজমিন

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার ঘটনাস্থলজুড়ে তাণ্ডবের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের অন্তত চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করেছিল কিশোরীটি। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। পরে অটোরিকশাটি জব্দ করে পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া নির্জন পাকা সড়কের দুই পাশে বিস্তৃত ফসলি জমি। সড়কের আশপাশের কয়েকটি ধানক্ষেতে গাছ এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। এসব ক্ষেতের বিভিন্ন স্থানে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখা যায়। সড়কের এক পাশে ধানক্ষেতে পড়ে ছিল সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি। পরে স্থানীয়রা সেটি টেনে সড়কের ওপর তোলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, সকালে আশপাশের মানুষের কাছে ধানক্ষেতে একটি সিএনজি পড়ে থাকার খবর পান তিনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে সিএনজিটির ২০ থেকে ৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান। আশপাশের ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখে সামনে এগিয়ে একটি ধানক্ষেতে নারীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। লাশটি মাথা কাদায় গোঁজানো ছিল এবং গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। শরীর বস্ত্রহীন অবস্থায় থাকায় তিনি একটি গামছা দিয়ে লাশ ঢেকে দেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুহিন বলেন, ধানক্ষেতের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, মেয়েটিকে অনেক কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে সে চেষ্টা করেছিল বলে ধারণা করছেন তিনি। তবে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ধানক্ষেতে পড়ে থাকার কারণ এবং সেটি কার, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পুলিশি তদন্তে ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশাটি নিবন্ধিত। এর সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।

এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাজমিনের লাশ নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনরা। যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা এলাকায় নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যায়নি। তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বাবাকে পাঠায় লাইভ লোকেশন! সিসিটিভিতে ধরা পড়ল তাজমিনের শেষ মুহূর্ত

প্রবাসীদের আয় পাঠানোর জোয়ার! অক্টোবরের প্রথম ৭ দিনেই রেকর্ড

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
প্রবাসীদের আয় পাঠানোর জোয়ার! অক্টোবরের প্রথম ৭ দিনেই রেকর্ড

চলতি মাস অক্টোবরের প্রথম সাত দিনে ৭৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ৯ হাজার ৫২০ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, অক্টোবর মাসের সাতদিনে ৭৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। যা তার আগের মাসের একই সময়ে এসেছিল ৬৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের চেয়েছে ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি এসেছে এখন পর্যন্ত।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৯৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে ৮২৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ।

এর আগে, সদ্য বিদায় সেপ্টেম্বর মাসের পুরো সময়ে দেশে মোট ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ (২.৭৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থবছরের পরের মাস আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।

শাহজালালে ট্রলির অপব্যবহার ও ওভারচার্জিং: হানা দিলেন ‘ফাটাকেষ্ট’ খ্যাত ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
শাহজালালে ট্রলির অপব্যবহার ও ওভারচার্জিং: হানা দিলেন ‘ফাটাকেষ্ট’ খ্যাত ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ট্রলির অপব্যবহার, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, যাত্রীসেবা বিঘ্নিত করা ও নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দাম রাখার অভিযোগে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এ অর্থদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান।

এদিন রাত ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এ তথ্য জানান তিনি।

মূলত যাত্রী হয়রানি, লাগেজ চুরি কিংবা বিমানবন্দরের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান দ্রুতই নওশাদ খানকে পরিচিত করে তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার পাশাপাশি যাত্রীদের কাছ থেকে তিনি পান ‘ফাটাকেষ্ট’ নাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে তার পদবি সিনিয়র সহকারী সচিব।

বুধবার রাতে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, বিমানবন্দর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত এসব অভিযানে আগে গোপনে লোক পাঠিয়ে যাত্রীদের সহযোগিতায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়। অভিযোগের সত্যতা হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ার পর উপস্থিত সাক্ষী ও সংশ্লিষ্টদের দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড করা হয়।


যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিমানবন্দরে চারজন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে যাত্রীদের ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করতে ‘টিম এয়ারপোর্ট’-এর সহযোগিতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের ট্রলি সংকট কমাতে বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ট্রলি এনে মেরামত করে প্রায় ৫০০টি ট্রলি নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আরও ১ হাজার ট্রলি সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষভাবে সুপারিশ করা হয়েছে।

ট্রলির যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ টিম। কোন পয়েন্টে কখন কতটি ট্রলি রয়েছে, তা সরাসরি যাচাই ও মনিটরিং করতে শিফটভিত্তিক বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও চালু করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি রানওয়ে মেরামতের কারণে রাতে কয়েক ঘণ্টা ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকার পর পিক আওয়ারে একসঙ্গে বেশি ফ্লাইট অবতরণ করছে। এতে কোনো কোনো সময়ে বিমানবন্দরে থাকা মোট ট্রলির তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেশি হয়ে যাচ্ছে। ফলে ট্রলি সংগ্রহের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এ ভোগান্তি কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রলি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।


বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বছরে ৮০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে বিমানবন্দরটি ব্যবহার করছেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী। তাদের সাথে আসা-যাওয়া করেন আরও প্রায় ২ কোটি মানুষ। বিপুল মানুষের উপস্থিতির কারণে বিমানবন্দরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ এবং যাত্রীদের অধিকার সুরক্ষায় নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এদিকে লাগেজ নিয়ে হয়রানি ও চুরির অভিযোগের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে শেষ মুহূর্তে কোনো যাত্রী উপস্থিত না থাকলে নিরাপত্তার স্বার্থে লাগেজ পরীক্ষা করা হয়। এ সময় টিপ তালা বা মাস্টার কি দিয়ে খোলা সম্ভব নয়- এমন তালা খুলে নিষিদ্ধ বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত সামগ্রী জব্দ করার ঘটনাও ঘটে। তবে এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থেকে যাত্রীকে নোটিশ না দেওয়ায় অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিষয়টি প্রতিরোধে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির মাধ্যমে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

যাত্রীর লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। এছাড়া লাগেজ থেকে চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে কিংবা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে বিমানবন্দরের দ্বিতীয় তলায় ১ নম্বর টার্মিনালের ১ নম্বর গেট সংলগ্ন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ করা যাবে।

সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দায়িত্বে থাকেন। প্রতিটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে লাগেজ চুরির সাথে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে এ ধরনের অপরাধে একাধিক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত এক বছরে চার এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন অপরাধে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ৫২৪ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। বিমানবন্দরে অপরাধ প্রতিরোধ এবং যাত্রীদের অধিকার সুরক্ষায় নিয়মিত অভিযান ও তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা ভূমিকা রাখছে।

দ্য ইকোনমিস্ট

শীতে গ্যাস-সংকট তীব্র হওয়া শঙ্কা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ এশিয়া

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
শীতে গ্যাস-সংকট তীব্র হওয়া শঙ্কা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ এশিয়া

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সংকটে পড়েছে বিশ্ব। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন শীত মৌসুমে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু ইউরোপ নয়, এই সংকটের ধকল পোহাতে হতে পারে এশিয়ার দেশগুলোকেও। রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে কাতারের গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছিল ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। কিন্তু সেই বিকল্প সরবরাহও এখন ঝুঁকির মুখে। ফলে এলএনজি সংকটে ইউরোপের তুলনায় এশিয়ার দেশগুলো আরও বেশি চাপে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত মার্চে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এরপর কাতার চুক্তিবদ্ধ ক্রেতাদের জানিয়ে দেয়, তারা চুক্তি অনুযায়ী সব এলএনজি সরবরাহ দিতে পারছে না। এরপর থেকে মাত্র ৯৮ কার্গো এলএনজি পাঠিয়েছে দেশটি।

২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৫৩৬টি এলএনজি কার্গো কম পাঠিয়েছে কাতার। ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ টন। এটি গত বছরের বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় ৯ শতাংশ। সংকট এখনও কাটেনি।

এশিয়ায় এলএনজির দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে প্রায় ২৫ ডলারে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় যা ১৪০ শতাংশ বেশি। তবে পরিস্থিতি এখনও ২০২২ সালের মতো ভয়াবহ হয়নি। সে বছর এলএনজির দাম সর্বোচ্চ প্রায় ৭০ ডলারে উঠেছিল।

চলতি বছর এশিয়ার দেশগুলো এখন পর্যন্ত ১৯ কোটি ৩০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৭০ লাখ টন কম।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষেও এলএনজি সংগ্রহ করা কঠিন হতে পারে। যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে দেশে এ সংকট শুরু হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী এলএনজি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দেশে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শীতকালে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে গেলে এ পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ইউরোপে উদ্বেগ

ইউরোপের গ্যাসের মজুত এখন মাত্র ৭২ শতাংশ পূর্ণ আছে। বছরের এই সময়ে যা সর্বনিম্ন। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের একই সময়ে গড় মজুত ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। জার্মানির মজুত মাত্র ৫৭ শতাংশ।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিক্স ওয়ান কমোডিটিজ গত ১০ বছরের শীতের আবহাওয়ার তথ্য পরীক্ষা করে মডেলিং করেছে। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির এত অবনতি হতে পারে যে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ইউরোপীয় কমিশন অবশ্য এখনো নভেম্বরের মধ্যে গ্যাসের মজুত ৯০ শতাংশে উন্নীত করার বাধ্যবাধকতা পুনর্বহাল করেনি। যুদ্ধের কারণে এই নিয়ম শিথিল করা হয়েছিল।

শীত বাড়লে দাম উঠতে পারে ৪০ ডলারে

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের বিশ্লেষক ঝি শিন চং মনে করেন, শীত বেশি না পড়লে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে কাতারের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ইউরোপ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। তাতে গ্যাসের দাম কমে আসবে। তবে এই দুটি শর্তে অনিশ্চয়তা আছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, নভেম্বরে অপ্রত্যাশিতভাবে ঠান্ডা পড়লে ইউরোপে এলএনজি কেনার প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে। তখন প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের দাম ৩০ থেকে ৪০ ডলারে উঠতে পারে। শীত আরও দীর্ঘ হলে এশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের প্রতিযোগিতা বাড়বে। সেই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি তো আছেই।

কাতারের বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব

কাতার এখনো এলএনজি উৎপাদনকেন্দ্রগুলো পুরোপুরি চালু করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে না তারা।

কাতারের এলএনজি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী শীতের আগে ইউরোপের মজুত পূরণ করতে অতিরিক্ত প্রায় ২ কোটি টন এলএনজি প্রয়োজন হতে পারে। ফলে ২০২৭ সাল জুড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বাড়তি থাকতে পারে, এমন আশঙ্কা আছে।

তবে বর্তমান সংকটের মধ্যে এলএনজি বাজারে আরেকটি বড় পরিবর্তন শুরু হয়েছে। যুদ্ধের আগে ধারণা করা হয়েছিল, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে এলএনজির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকবে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সেই হিসাব পাল্টে দিয়েছে।

অন্যদিকে সরবরাহ বাড়াতে বিভিন্ন দেশে যেসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বেশ কিছু এখনো চলছে। ফলে বর্তমান সংকটের পর ভবিষ্যতে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ হতে পারে।