১৬ অক্টোবর ২০২৬

‘প্রবাসীদের শ্রম ও ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব!’ রাষ্ট্রপতির ঐতিহাসিক বক্তব্য

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
‘প্রবাসীদের শ্রম ও ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব!’ রাষ্ট্রপতির ঐতিহাসিক বক্তব্য

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের প্রাণশক্তি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রেমিট্যান্স শুধু লাখো পরিবারের জীবন পরিবর্তন করছে না, দেশের অর্থনীতিতেও শক্তি জোগাচ্ছে। প্রবাসীদের শ্রম, ঘাম, ত্যাগ ও অর্জনকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

অভিবাসন ব্যয় কমানো, প্রতারণা ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে শ্রমিকবান্ধব ও তৎপর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীতে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি ও ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অভিবাসন খাতে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন সম্মাননা দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা ছিল অভূতপূর্ব।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তাদের ভূমিকা প্রমাণ করে, প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া এবং অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমবাজারে বৈচিত্র্য আনতে ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় মধ্যপ্রাচ্যে খাদ্দামা হিসেবে নারী কর্মী পাঠানোর ভুল নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরো কার্যকর করতে সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত জাতীয় কৌশল গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সি ও কিছু ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভুয়া ভিসা দিয়ে প্রতারণাসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে সরকার অবগত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বিদেশে যেতে জমিজমা বিক্রি করেও চাকরির নিশ্চয়তা না পাওয়ার দুর্ভোগ কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নারী কর্মীদের জন্য হোস্টেল, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয় বহন এবং কর্মীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রবাসী কার্ডধারীরা পাবেন ৩% রেমিট্যান্স প্রণোদনা: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
প্রবাসী কার্ডধারীরা পাবেন ৩% রেমিট্যান্স প্রণোদনা: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

প্রবাসী কার্ডের আওতায় কী কী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কর্মীদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার ১১টি খাত চিহ্নিত করেছে।

শরণার্থী ও অভিবাসন আন্দোলনবিষয়ক গবেষণা ইউনিটের (আরএমএমআরইউ) ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

প্রবাসী কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণ সম্পন্ন হলে কার্ডধারীরা প্রবাসী আয়ে বা রেমিট্যান্সে ৩ শতাংশ প্রণোদনা পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'প্রবাসী কার্ড চূড়ান্ত করে বিতরণ করা হলে কর্মীরা ৩ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য হবেন।'

রাজধানীর একটি হোটেলে শরণার্থী ও অভিবাসন আন্দোলনবিষয়ক গবেষণা ইউনিটের (আরএমএমআরইউ) ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

বর্তমানে বৈধ মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠালে প্রবাসীরা সরকারের কাছ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা পান।

প্রবাসী কার্ডের আওতায় কী কী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কর্মীদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার ১১টি খাত চিহ্নিত করেছে।

তিনি আরও জানান, চারটি দেশে বর্তমানে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে।

এদিকে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর জন্য নিয়োগকারী সংস্থাগুলোকে টাকা দেওয়ার পরও কর্মীদের অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কিছু কর্মী বিদেশে গিয়ে কাজ পান না। তাদের দেশে ফিরে আসতে হয় এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য সংগ্রাম করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও জীবিকা চালানোর জন্য টাকা পাঠাতে হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমরা নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছি।'

তিনি আরও বলেন, এ ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে সর্বোচ্চ ৫০০টি নিয়োগকারী সংস্থা টিকে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, 'নিয়োগকারী সংস্থাগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে না পারলে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন অভিবাসনপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা কঠিন হবে।'

নুর আরও জানান, বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর পাঠ্যক্রম সংশোধনের কাজ করছে সরকার।

মক্কায় মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
মক্কায় মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির সরকার। গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) মক্কা অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এই দণ্ড কার্যকর করা হয়।

সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'আজেল নিউজ'-এর প্রতিবেদন ও দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক বিবৃতির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক হলেন—নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির এবং সিতি আক্তার।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের দায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের হাতেনাতে আটক করে।

পরবর্তীতে নিবিড় তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা পেয়ে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অপরাধের চরম গুরুতরতা এবং পবিত্র স্থানের মর্যাদা মারাত্মকভাবে লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিচারিক সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

উচ্চতর আদালত রায়ের আইনি বৈধতা বহাল রাখার পর রাজকীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়। হিজরি ১৪৪৮ সালের ৩ জমাদিউল আউয়াল (১৪ অক্টোবর ২০২৬) বুধবার মক্কা অঞ্চলে এই সাজা কার্যকর করা হয়।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামী শরিয়াহ আইন কার্যকর করতে সরকার পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

যেকোনো উপাসনালয়ের পবিত্রতা লঙ্ঘন বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, এই ধরনের গুরুতর অপরাধে জড়িত হলে আইনের কঠোরতম সাজা ভোগ করতে হবে।

১৫ হাজার প্রবাসী অনিশ্চয়তায়! সৌদি রুটে বিমান চলাচল নিয়ে নতুন জরুরি বার্তা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
১৫ হাজার প্রবাসী অনিশ্চয়তায়! সৌদি রুটে বিমান চলাচল নিয়ে নতুন জরুরি বার্তা

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালনাগত বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১০০টি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।

এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল ও কিছু স্থগিত হয়েছে। এসব ফ্লাইট ঢাকা না ছাড়ায় ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ফ্লাইট চলাচলে।

বুধবার সন্ধ্যায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৭টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, সালাম এয়ারের ৭টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ২টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট চলাচলে প্রভাব পড়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।

‘প্রবাসীদের শ্রম ও ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব!’ রাষ্ট্রপতির ঐতিহাসিক বক্তব্য

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
‘প্রবাসীদের শ্রম ও ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব!’ রাষ্ট্রপতির ঐতিহাসিক বক্তব্য

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের প্রাণশক্তি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রেমিট্যান্স শুধু লাখো পরিবারের জীবন পরিবর্তন করছে না, দেশের অর্থনীতিতেও শক্তি জোগাচ্ছে। প্রবাসীদের শ্রম, ঘাম, ত্যাগ ও অর্জনকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

অভিবাসন ব্যয় কমানো, প্রতারণা ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে শ্রমিকবান্ধব ও তৎপর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীতে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি ও ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অভিবাসন খাতে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন সম্মাননা দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা ছিল অভূতপূর্ব।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তাদের ভূমিকা প্রমাণ করে, প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া এবং অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমবাজারে বৈচিত্র্য আনতে ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় মধ্যপ্রাচ্যে খাদ্দামা হিসেবে নারী কর্মী পাঠানোর ভুল নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরো কার্যকর করতে সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত জাতীয় কৌশল গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সি ও কিছু ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভুয়া ভিসা দিয়ে প্রতারণাসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে সরকার অবগত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বিদেশে যেতে জমিজমা বিক্রি করেও চাকরির নিশ্চয়তা না পাওয়ার দুর্ভোগ কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নারী কর্মীদের জন্য হোস্টেল, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয় বহন এবং কর্মীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় পাঠানো ৩০ জনের ২০ জনই নিহত যুদ্ধক্ষেত্রে: এসআরবি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় পাঠানো ৩০ জনের ২০ জনই নিহত যুদ্ধক্ষেত্রে: এসআরবি

যুদ্ধে যাওয়ার প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় নিহত হন ১৭ জন, সংবাদ সম্মেলনে বলেছে এসআরবি।

নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার কথা বলে রাশিয়া নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। পরে জোর করে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে। এমন ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে ২০ জনের নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার পরপরই জোর করে তাদের স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণ শেষে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে। আর যুদ্ধে যাওয়ার প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় নিহত হন ১৭ জন। পরে আরও তিনজন মারা যান।

বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান এসব তথ্য দেন।

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় আহত হয়ে ফিরে আসা একজনের বাবার দায়ের করা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এসআরবি এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে বলে তুলে ধরেন তিনি।

চাকরি দেওয়ার কথা বলে যারা তাদের রাশিয়ায় পাঠিয়েছেন এমন দুইজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও দেন এসআরবি এর এই কর্মকর্তা।

গ্রেপ্তার দুজন হচ্ছেন- মিজানুর রহমান (৫৫) ও আবু তাহের লেন্টু (৫০)।

রাশিয়া ও কিরগিজস্তানের দুইজনের সহায়তায় বাংলাদেশের এ চক্র গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গাজীপুর থেকে তরুণ ছেলেদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধ ক্ষেত্রে পাঠায়।

এ চক্রে আর কারা আছে তাদের খুঁজে বের করতে এসআরবি মাঠে কাজ করছে বলে তুলে ধরেন তিনি।

এসআরবি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, রাজন হোসেন (২১) নামের একজনকে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ দেওয়ার কথা বলে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। এজন্য তার কাছে সোয়া ৮ লাখ টাকা নেয়।

“গত ৭ মে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর রাজনসহ প্রায় ৩০ জনকে জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়। ড্রোন হামলায় রাজনের কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং দুই পায়ের শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। চার দিন কষ্ট করে হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসা নেন রাজন। একপর্যায়ে আহত অবস্থায় তিনি পালিয়ে দূতাবাসের সহায়তায় গত ২৩ অগাস্ট দেশে ফিরে আসেন।”

দেশে এসে ক্ষতিপূরণ দাবি করায় রাজনের পরিবারকে গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় মিজানুর রহমান।

এরপর রাজনের বাবা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, এ মামলায় সংশ্লিষ্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তা সহায়তা চাইলে এসআরবি তদন্তে যুক্ত হয়। পরে মঙ্গলবার ফরিদপুরের নগরকান্দা থানাধীন আটাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান (৫৫) এবং ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ থেকে আবু তাহের লেন্টুকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। এদের প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল।

এসআরবি ১০ এর অধিনায়ক প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বলেন, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের প্রতিশ্রুত কাজে নিয়োগ না দিয়ে রাশিয়া সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্য করা হয়।

এই ৩০ জনের মধ্যে প্রায় ২০ জন যুদ্ধক্ষেত্রে মারা যান এবং দুইজন কোনো রকমে পালিয়ে দেশে ফেরত আসেন বলে তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, এদের বাইরে বর্তমানে মস্কোর একটি হাসপাতালে দুজন চিকিৎসাধীন এবং অন্য ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন।

ফিরে আসাদের বরাতে তার ভাষ্য, “বাংলাদেশ থেকে যাদের পাঠানো হয়েছিল তাদের কেউ যুদ্ধ করার মতো শারীরিক সক্ষমতা, প্রশিক্ষণ কিংবা কৌশলগত প্রস্তুতি ছিল না।”

যে দু’জন আহত অবস্থায় দেশে ফিরেছেন তাদের একজন রাজন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসাদুজ্জামান বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের আঘাতে তার কোমর ভেঙে যায় এবং শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে পড়ে।

“এমন অবস্থায় বুকের ওপর ভর দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রাজন ক্যাম্পে পৌঁছে।”