১৮ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্ব, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অবিচল সংহতি এবং তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।

শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের 'মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ফিলিস্তিন প্রশ্নসহ' শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান এ আহ্বান জানান। আজ ঢাকায় পাওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের অব্যাহত দুর্ভোগ এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার তীব্র নিন্দা জানান।

রাষ্ট্রদূত খান পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ভূমি দখল, সহিংসতা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ বৃদ্ধিতেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, 'নিরাপত্তা পরিষদে অচলাবস্থার কারণে ইসরাইল দায়মুক্তি নিয়ে কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পেয়েছে।'

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নিরাপত্তা পরিষদকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ভূখণ্ড দখল, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আইরিন খান বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঢাকা দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে।

তিনি ফিলিস্তিনিদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নিকটপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা, ইউএনআরডব্লিউএ'র কার্যপরিধির প্রতি পূর্ণ সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ঝুঁকিতে থাকা ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে জরুরি সহায়তা দিতে মানবিক সংস্থাগুলোকে অবশ্যই তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুযোগ দিতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আইরিন খান সিরিয়া ও লেবাননে ইসরাইলের হামলা ও দখলদারিত্বের নিন্দা জানান। এসব কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি লেবাননে জাতিসংঘের পর্যাপ্ত উপস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমর্থনের কথা জানান।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলারও তীব্র নিন্দা জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ, তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীরাও হতাহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা বেসামরিক মানুষের জীবন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত খান সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আরও বিস্তার ঠেকানো এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্ব, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অবিচল সংহতি এবং তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।

শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের 'মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ফিলিস্তিন প্রশ্নসহ' শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান এ আহ্বান জানান। আজ ঢাকায় পাওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের অব্যাহত দুর্ভোগ এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার তীব্র নিন্দা জানান।

রাষ্ট্রদূত খান পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ভূমি দখল, সহিংসতা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ বৃদ্ধিতেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, 'নিরাপত্তা পরিষদে অচলাবস্থার কারণে ইসরাইল দায়মুক্তি নিয়ে কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পেয়েছে।'

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নিরাপত্তা পরিষদকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ভূখণ্ড দখল, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আইরিন খান বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঢাকা দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে।

তিনি ফিলিস্তিনিদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নিকটপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা, ইউএনআরডব্লিউএ'র কার্যপরিধির প্রতি পূর্ণ সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ঝুঁকিতে থাকা ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে জরুরি সহায়তা দিতে মানবিক সংস্থাগুলোকে অবশ্যই তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুযোগ দিতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আইরিন খান সিরিয়া ও লেবাননে ইসরাইলের হামলা ও দখলদারিত্বের নিন্দা জানান। এসব কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি লেবাননে জাতিসংঘের পর্যাপ্ত উপস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমর্থনের কথা জানান।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলারও তীব্র নিন্দা জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ, তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীরাও হতাহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা বেসামরিক মানুষের জীবন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত খান সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আরও বিস্তার ঠেকানো এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

লাগেজ হারানো ও চুরির দিন শেষ! ফ্লাইটের ব্যাগ নামানোর দৃশ্য সরাসরি দেখবেন প্রবাসীরা

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
লাগেজ হারানো ও চুরির দিন শেষ!  ফ্লাইটের ব্যাগ নামানোর দৃশ্য সরাসরি দেখবেন প্রবাসীরা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, লাগেজের নিরাপত্তা জোরদার এবং লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এই ব্যবস্থার আওতায় বিমানবন্দরের ৮টি লাগেজ বেল্ট এলাকায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ৬৫ ইঞ্চি আকারের ১৮টি মনিটর স্থাপন করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন এই উদ্যোগের ফলে বিমানবন্দরে নামার পর যাত্রীরা লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, নির্ধারিত স্থানে পরিবহন, বাছাই করা এবং শেষ পর্যন্ত লাগেজ বেল্টে পৌঁছানো—পুরো প্রক্রিয়ার দৃশ্য বসানো মনিটরগুলোতে সরাসরি (লাইভ) দেখতে পাবেন যাত্রীরা।

এর মাধ্যমে যাত্রীরা তাদের লাগেজ পরিবহনের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন এবং লাগেজ সংগ্রহের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকতে পারবেন। এই প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগের ফলে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় সার্বিক স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

বেবিচকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষা, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীসহ দেশি-বিদেশি সব যাত্রী যেন ভ্রমণ শেষে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই নির্বিঘ্নে ও নিশ্চিন্তে তাদের লাগেজ সংগ্রহ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে প্রযুক্তি নির্ভর ও যাত্রীবান্ধব সেবার সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

দেশের প্রধান এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার সার্বিক মান আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে বেবিচকের এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: আগে জানত না বাংলাদেশ, তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: আগে জানত না বাংলাদেশ, তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় মসজিদ এলাকায় ‘অনৈতিক’ কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি আগে জানত না বাংলাদেশ।

গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ বিষয়টি জানতে পেরেছে। এরপর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গতকাল বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কলস্যুলেটের সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর গতকাল জেদ্দার কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তথ্য নিশ্চিত করে। জানা গেছে, মৃত্যদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করেছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে ওই দুজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ অর্থাৎ বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধানে আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং যে পরিস্থিতিতে অপরাধ ঘটেছে, তা বিবেচনায় নিয়েই বিচারক এ শাস্তি দেন বলে জানানো হয়েছে। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত রূপ পায় এবং রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ জারি হয়।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সৌদি আরব থেকে বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। আর বিচারপ্রক্রিয়া চলার সময় বাংলাদেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন।

প্রসঙ্গত কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদে পক্ষভুক্ত বাংলাদেশ ও সৌদি আরব দুই দেশই। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে গ্রেপ্তার হলে বন্দীর অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে তার দেশের কনস্যুলেটকে জানাতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে বন্দীরা কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশিকে আটক করে খুব দ্রুত মৃত্যদণ্ড কার্যকর করেছে, এমনটা হওয়ার কথা নয়। এখন আটক দুজনের পক্ষে কেউ মিশনে যোগাযোগ করল না কেন, সেটাও রহস্যজনক।

নিহত দুজনের সৌদি আরবে অবস্থানের ধরন ও মেয়াদ, বিচারে কোনো আইনি সহায়তা বা আপিলের সুযোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, এসব বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: প্রথম আলো

সৌদিতে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, চরম বিপাকে ১৬ হাজার যাত্রী

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সৌদিতে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, চরম বিপাকে ১৬ হাজার যাত্রী

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী মোট ১০৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অন্তত ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী।

গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বেবিচক জানায়, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৪৪টি সরাসরি এবং ৬৩টি ট্রানজিট রুটের।

সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, সৌদিয়ার ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে।

অন্যদিকে ট্রানজিট রুটে ইন্ডিগো, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, সালামএয়ার ও ফ্লাইদুবাইসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ৬৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সৌদির অনেক বিমানবন্দর বন্ধ বা কার্যক্রম সীমিত করায় যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ভিসা জটিলতায় থমকে গেছে বৈদেশিক কর্মসংস্থান

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ভিসা জটিলতায় থমকে গেছে বৈদেশিক কর্মসংস্থান

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা এবং আন্তর্জাতিক ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতায় একের পর এক বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত।

একদিকে যুদ্ধের অভিঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারগুলোতে নতুন নিয়োগের গতি কমেছে, অন্যদিকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেয়েও ভিসা, দূতাবাসের সাক্ষাৎকার ও বিমান চলাচলের জটিলতায় আটকে যাচ্ছেন অনেক কর্মী।

ছুটিতে দেশে এসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়ায় কর্মস্থলে ফিরতে না পারার অভিযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজের অনুমতিপত্র পেয়েও ভারতে গিয়ে পাসপোর্ট জমা দিতে না পারায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেকে। এর সঙ্গে সৌদি আরবে নিরাপত্তাঝুঁকি ও ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি চাকরি হারানো, নিয়োগ বাতিল, আর্থিক ক্ষতি এবং দেশে ফিরে আসার আশঙ্কা বাড়ছে। অথচ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয় এখনো ঊর্ধ্বমুখী। তবে অর্থনীতির এই আপাত স্বস্তির আড়ালে নতুন কর্মী বিদেশে যাওয়ার ধারাবাহিক পতন ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি নিয়ে সংশয় তৈরি করছে।

অপরদিকে জনশক্তি রপ্তানিতে চট্টগ্রাম একসময় দেশের অগ্রগামী জেলাগুলোর একটি থাকলেও তাতে ধস দেখা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের প্রবাসী পরিবারগুলোর বিস্তৃত যোগাযোগ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রতিষ্ঠিত নেটওয়ার্ক থাকলেও এখন হিসেব–নিকেশ পাল্টে গেছে। বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরের মতো কয়েকটি জেলার তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম। তবে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে এখনো দেশের অন্যতম শীর্ষ জেলা চট্টগ্রাম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জেলায় ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় এসেছে ৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসেছে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিয়োগের পরিবর্তন এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা জেলার বৈদেশিক কর্মসংস্থান ক্রমে কমে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা থেকে ৮৭ হাজার ৫২৪ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। একই সময়ে কুমিল্লা থেকে গেছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৩ জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩৮ জন। বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিবেশী কয়েকটি জেলার তুলনায় চট্টগ্রামের অবস্থান পিছিয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে বিদেশে কর্মী যাওয়ার প্রবণতায় পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে উল্লেখ করে বিএমইটির কর্মকর্তারা জানান, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের প্রতি আগ্রহ, সব ধরনের পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রবণতা না থাকা এবং নিজ জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায় বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ কমে আসছে।

বিদেশের শ্রমবাজারে চাহিদা, নিয়োগের ব্যয়, দক্ষতার ঘাটতি, ভিসা পাওয়ার সুযোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি কমছে।

২০২৫–২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবাসী আয় এসেছে ৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। ওই অর্থবছরে দেশে মোট প্রবাসী আয় ছিল প্রায় ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। ফলে জাতীয় প্রবাসী আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে চট্টগ্রামের ব্যাংক শাখাগুলোর মাধ্যমে। চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের হিসাবেও এ প্রবাহের ধারাবাহিকতা দেখা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবাসী আয় এসেছে ২০১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। আগস্টে ১৯৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন এবং সেপ্টেম্বরে ১৯৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার। তিন মাসে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৫৯৮ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে সংকট তৈরি করেছে। চট্টগ্রামের প্রবাসীদের বেশির ভাগ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ বা ব্যবসা করেন। বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ওইসব দেশের ওপর নির্ভরশীল।

যুদ্ধসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে উপরোক্ত দেশগুলোতে নতুন নিয়োগ কমে গেছে। শুধু মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত শ্রমবাজারের ওপর নির্ভর না করে ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়ানো গেলে এই পরিস্থিতির উত্তরণ সম্ভব বলে মন্তব্য করে সূত্র বলেছে, বিশেষ করে কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা অর্জন এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সুফল মিলবে।

দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে এমন খাতগুলো চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে জেলার তরুণদের জন্য বিদেশে কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘মান্থলি ইকোনমিক ট্রেন্ডস, সেপ্টেম্বর ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিদেশে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে। জুলাইয়ে ৭১ হাজার ৮৪ জন কর্মী বিদেশে গেলেও আগস্টে এ সংখ্যা নেমে আসে ৬২ হাজার ৯২৯ জনে।

এক মাসে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এর আগে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে বিদেশে গিয়েছিলেন ১ লাখ ৬০ হাজার ২৮৩ জন। সাম্প্রতিক মাসগুলোর পরিসংখ্যানে বিদেশে কর্মী পাঠানোর গতি ধারাবাহিকভাবে কমে আসার ক্ষেত্রে যুদ্ধকেন্দ্রিক বৈশ্বিক সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের অভিঘাতে গত মার্চ থেকে মে মাসে বিদেশে গেছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৬ জন বাংলাদেশি কর্মী। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৩৮ জন। এক বছরের ব্যবধানে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে অর্ধেকের কাছাকাছি।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে বিদেশগামী পুরুষ কর্মীর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ লাখ ৮ হাজার ১৭৮ জন কমেছে।

তবে একই সময়ে বিদেশে যাওয়া নারী কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। ৪৭টি দেশে গত পাঁচ মাস ১৫ দিনে ২৫ হাজার ৯১৫ জন নারী কর্মী গেছেন। আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৯৩৬ জন।

সূত্র বলেছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। দেশটিতে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সৌদি আরব থেকে দেশে ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স এসেছে, যা দেশের মোট প্রবাসী আয়ের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। আগের অর্থবছরে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল প্রায় ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।

সৌদি আরবে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে তা শুধু কর্মসংস্থান নয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বায়রার (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ) একাধিক কর্মকর্তা।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরা, নতুন কর্মীদের যোগদান এবং যাত্রী পরিবহন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও বিঘ্নের কারণে অনেক ফ্লাইট ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে; যার খেসারত দিতে হচ্ছে হাজার হাজার প্রবাসীকে। এদের অনেকের নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও পারেননি।

নতুন টিকিট কেনা, ভিসার মেয়াদ নিয়ে জটিলতা এবং অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয়ও তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। সৌদি আরব এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হলেও সেখানে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ১ মার্চ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৬৪ জন বাংলাদেশি কর্মী। আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৬৪ জন। শুধু সৌদি আরবেই কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২০০ জন।

বায়রার একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের বড় অংশের নিয়োগপ্রক্রিয়া যুদ্ধ শুরুর আগেই অনুমোদিত চাহিদা ও সম্পন্ন হওয়া ভিসার ভিত্তিতে এগোচ্ছে। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মী নেওয়ার চাহিদা কমে যাওয়ায় পরবর্তী মাসগুলোতে এই সংকট আরো প্রকট হবে।

তারা বলেন, সৌদি আরব ছাড়া বাংলাদেশের জন্য বড় শ্রমবাজারগুলোতে নিয়োগের সুযোগ সীমিত। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী নেওয়া হয় কম। কাতার ও কুয়েতে নিয়োগের পরিমাণও বেশি নয়। মালয়েশিয়ার বড় শ্রমবাজার এখনো পুরোপুরি চালু না হওয়ায় পরিস্থিতি সংকটজনক করে তুলছে। এছাড়া বিকল্প বাজার না থাকায় সংকট আরো জটিল হচ্ছে।

ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ছুটিতে দেশে আসা প্রবাসীদের একটি অংশের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে। তারা আর কাজে ফিরে যেতে পারেননি।

শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপে কাজের সুযোগ পাওয়া কর্মীদেরও বিদেশযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং কনস্যুলার জটিলতা বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ইউরোপের কয়েকটি দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলার কার্যক্রমের অংশ ভারতের দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে পরিচালিত হওয়ায় বাংলাদেশি আবেদনকারীদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেখানে গিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া বা পাসপোর্ট জমা দিতে হয়।

কিন্তু ভারতের ভিসা পেতে সীমাবদ্ধতা থাকায় নির্ধারিত সময়ে সেখানে যেতে পারছেন না অনেক আবেদনকারী। এতে কাজের অনুমতিপত্র পাওয়ার পরও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা যাচ্ছে না। একই সমস্যায় পড়ছেন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও।

সাক্ষাৎকারের সময় পেরিয়ে যাওয়া, নতুন তারিখের জন্য অপেক্ষা এবং শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়সীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা তাদের পরিকল্পনাকে অনিশ্চিত করছে।

বিদেশে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমলেও প্রবাসী আয়ে এখনো ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৫৮২ কোটি ৫৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি। শুধু আগস্ট মাসে এসেছে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এর আগে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩ জুন পর্যন্ত বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছিল ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।

তবে এই আয় কমে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, প্রণোদনা এবং প্রবাসীদের সঞ্চয় দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার কারণে কেউ কেউ ভবিষ্যতের ঝুঁকি বিবেচনায় সঞ্চিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

বর্তমানে প্রবাসী আয়ের বড় অংশ আসছে আগে থেকে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে। নতুন কর্মী যাওয়ার সুযোগ সংকুচিত থাকলে এবং বিদেশে অবস্থানরত শ্রমিকদের আয় কমে গেলে প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধি ধসে যাবে।

সৌদি আরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি একপর্যায়ে প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করে সূত্র বলেছে, এই মুহূর্তে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

কারণ সৌদি আরবে প্রবাসীদের মাঝে শঙ্কা তৈরি হলে তারা দলে দলে দেশে ফিরে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জনশক্তি রপ্তানির জন্য নতুন বাজার খোঁজা এবং বিদ্যমান বাজারগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অবশ্য মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়াতে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে বলে সরকার জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো, পর্যটন, হোটেল ও সেবাখাতে ভবিষ্যতে নতুন চাহিদা তৈরি হলে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ভিসা ও কনস্যুলার জটিলতা নিরসন জরুরি মন্তব্য করে তারা কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।