যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি শুল্ক সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে শর্ত পালনের বাধ্যবাধকতা

Loading...

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি

দীর্ঘ নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে দরকষাকষির পর এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের জন্য শুল্ক সুবিধার পূর্বশর্ত হিসেবে বেশকিছু ধারা যুক্ত করেছে মার্কিন পক্ষ।

দেশটি থেকে কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির থেকে শুরু করে সংবেদনশীল প্রযুক্তির সরবরাহ চেইনে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়সংক্রান্তসহ নানা খাতে বেশকিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি সংস্থার (ইউএসটিআর) ওয়েবসাইটে এ চুক্তির যাবতীয় শর্ত এরই মধ্যে প্রকাশ করেছে দেশটি।

কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন

Loading...

চুক্তির নথিতে দেখা যায়, এতে মোট ছয়টি সেকশন বা ধারার আওতায় বিভিন্ন অনুচ্ছেদে নানামুখী শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধারাটি ট্যারিফ ও কোটাসংক্রান্ত, দ্বিতীয়টি নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার্স বা অশুল্ক বাধা ও সংশ্লিষ্ট নানা পদক্ষেপসংক্রান্ত, তৃতীয় ধারায় উঠে এসেছে ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, চতুর্থটিতে আছে অর্থনীতি ও জাতীয় অর্থনীতিবিষয়ক শর্তাবলি, পঞ্চমটিতে বাণিজ্যিক বিবেচনা ও সম্ভাবনা এবং ষষ্ঠ বা সর্বশেষ ধারায় চুক্তির শর্তাবলির বাস্তবায়ন, প্রয়োগ ও চূড়ান্ত বিধি তুলে ধরা হয়েছে।

চুক্তির প্রথম ধারা বা ‘শুল্ক ও বাজার প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত অংশে’ বাংলাদেশকে দেয়া সুবিধাগুলোর উল্লেখ রয়েছে। পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে এ ধারার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাড়ে চার হাজার শ্রেণীর পণ্য আমদানিতে আরোপিত শুল্কের (কাস্টমস শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক) হার শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে বাংলাদেশকে। আর ধাপে ধাপে শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে ২ হাজার ২১০ শ্রেণীর পণ্যে।

এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮ শ্রেণীর পণ্য রফতানিতে ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক পরিশোধ করতে হবে না, যা মোট রফতানি পণ্যের ৮৫-৮৬ শতাংশ। ১৯ শতাংশ রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করা হবে বাকি ১৪-১৫ শতাংশ রফতানি পণ্যের ওপর। তবে উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যমান স্বাভাবিক আমদানি শুল্ক বহাল থাকবে।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা বাড়ানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে তা কেনা কমিয়ে আনতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে দেশটি। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে বলে উল্লেখ করা রয়েছে।

এছাড়া রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত উড়োজাহাজ, এর যন্ত্রাংশ ও সেবা ক্রয় বাড়ানোর শর্তও চুক্তিতে জুড়ে দেয়া রয়েছে। বিমান এরই মধ্যে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ও এর অতিরিক্ত কেনারও সুযোগ রয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন

Loading...

চুক্তির চতুর্থ ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি অর্থনৈতিক বা জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় নিজ সীমান্তে কোনো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেয় বা বাণিজ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে, বাংলাদেশকেও সেই ব্যবস্থার সমর্থনে পরিপূরক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়া বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর সঙ্গে সহযোগিতা ও সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী, দেশটির আরোপিত যেকোনো বিধিনিষেধ লঙ্ঘন হতে পারে এমন লেনদেন সীমিত করা এবং এ-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের বাধ্যবাধকতাও থাকছে বাংলাদেশের।

পারস্পরিক এ বাণিজ্য চুক্তির মূলধারা ও সংযোজনীতে উঠে আসা অনুচ্ছেদগুলো বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ চুক্তি একদিক থেকে নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক ও নীতিগত সুবিধা নিশ্চিত করলেও আরেকদিকে একাধিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে; যেটি সামনের দিনগুলোয় অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কসহ সংবেদনশীল নানা বিষয়ে জটিলতার কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে

Loading...

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘চুক্তির বিষয়গুলো গভীরভাবে যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে যা মনে হচ্ছে, চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ অনেকগুলো বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়েছে।

পাল্টা শুল্ক ১ শতাংশ কমেছে এটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখানে অন্যান্য বিষয়ও আছে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেমন হবে, সেগুলোও প্রভাবিত হওয়ার শঙ্কা আছে। এমন একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার প্রভাব ব্যাপক পড়বে, সেটা এত তাড়াহুড়া করে—বড় কোনো আলাপ-আলোচনা না করে; সে বিষয়ে চুক্তি করে ফেলাটা কতটা যৌক্তিক হলো এ প্রসঙ্গও রয়ে গেল।

নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্টের নামে পরামর্শ করার প্রক্রিয়াটি এড়িয়ে যাওয়া মনে হয় সমীচীন হয়নি। এটি আমাদের জন্য ধারাবাহিক কিছু প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। চুক্তিটি সাতদিনের মধ্যে প্রয়োগযোগ্য করতে হবে এমন একটি বিষয় আছে। কিন্তু মার্কিনদের সঙ্গে চুক্তি সই হয়ে যাওয়ার পর এর বাইরে কিছু করার শক্তি বাংলাদেশের সরকারের হবে বা সরকার তেমন চিন্তা করবে, সেটি আমার মনে হয় না।’

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে

Loading...

ডিজিটাল বাণিজ্যসংক্রান্ত ধারায় বাংলাদেশের সঙ্গে ইলেকট্রনিক উপায়ে আদান-প্রদানকৃত লেনদেন বা কনটেন্টের ওপর কোনো ধরনের শুল্ক আরোপ করা হয়নি। বিনিময়ে ডিজিটাল বাণিজ্য সহজীকরণ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে।

চুক্তিতে উল্লিখিত শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জ্বালানি বাণিজ্য। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি কেনার উদ্যোগ নেবে অথবা বাংলাদেশী কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে তা কেনার ব্যবস্থাকে আরো সহজ করবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি একটি অফটেক চুক্তির শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে, যার সম্ভাব্য মূল্য ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

দেশটি থেকে কৃষিপণ্য আমদানির বিষয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নিজে অথবা বাংলাদেশী কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কেনার উদ্যোগ নেবে অথবা এ-সংক্রান্ত ব্যবস্থাকে আরো সহজ করবে।

এর মধ্যে রয়েছে গম, সয়াবিন ও সয়াজাত পণ্য ও তুলা। এর মধ্যে পাঁচ বছর ধরে গম ক্রয় (প্রতি বছর অন্তত সাত লাখ টন) এবং বছরে কমপক্ষে ১২৫ কোটি ডলার বা ২৬ লাখ টন (যেটি কম) সয়াবিন ও সয়াজাত পণ্য আমদানির বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। চুক্তিতে কৃষিজাত পণ্যের মোট মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার।

Loading...

ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স আরোপ না করার শর্ত মানতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি বাতিল করে পারস্পরিক শুল্ক পুনরায় আরোপ করতে পারবে।

শ্রম ও পরিবেশসংক্রান্ত ধারায় বাংলাদেশের ওপর শ্রম আইন সংস্কার, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) শ্রম অধিকার নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ আইন প্রয়োগ জোরদার এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

শর্ত অনুযায়ী, সমুদ্রবন্দর, বন্দর টার্মিনাল, লজিস্টিকস ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক এবং বাণিজ্যিক নৌবহরে বাংলাদেশ এমন ডিজিটাল লজিস্টিকস প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে হবে; যা যথাযথ সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তথ্য ফাঁস ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেবে। পাশাপাশি এসব প্লাটফর্ম-সংশ্লিষ্ট তথ্যে বিদেশী সরকারগুলোর অননুমোদিত প্রবেশকেও প্রতিরোধ করবে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, মার্কিন এক্সপোর্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেগুলেশনসের (ইএআর) আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত বা দেশটির নিয়ন্ত্রিত পণ্যের অননুমোদিত রফতানি, পুনঃরফতানি বা দেশের অভ্যন্তরে হস্তান্তর সীমিত করায় ব্যবস্থা নিতে হবে বাংলাদেশকে।

এক্ষেত্রে রফতানিকারককে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটির (বিআইএস) পুনঃরফতানির অনুমোদনপত্র উপস্থাপন করতে হবে অথবা প্রমাণ করতে হবে যে এখানে বিআইএসের অনুমোদন প্রয়োজন নেই।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

শর্তমাফিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেয়ার পর মার্কিন অর্থনীতি বা জাতীয় সুরক্ষার জন্য প্রাসঙ্গিক মনে হলে যুক্তরাষ্ট্র সে বিষয়ে বাংলাদেশকে জানানোর উদ্যোগ নেবে। এ ধরনের নোটিস পাওয়ার পর উভয় পক্ষের মধ্যে পরামর্শক্রমে, স্থানীয় আইন ও বিধিবিধানের ভিত্তিতে বাংলাদেশ মার্কিন পদক্ষেপের সমর্থনে একটি সম্পূরক বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা নেবে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, সংবেদনশীল প্রযুক্তির সরবরাহ চেইনে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের নকশা, উন্নয়ন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের (বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র) জন্য জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের উৎস হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোর সম্পৃক্ততা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি যেখানে সম্ভব এ সরবরাহ চেইনে স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

Loading...

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা বলছেন, সার্বিকভাবে এ চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য সুবিধা হিসেবে বাজার প্রবেশাধিকার, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ দেয়া হয়েছে ঠিকই। কিন্তু দেশটির সঙ্গে নীতিগত সমন্বয়, বাণিজ্যিক ক্রয়, রফতানি নিয়ন্ত্রণ, সামরিক ক্রয়ে সীমাবদ্ধতা আরোপসহ আইন সংস্কারসংক্রান্ত একাধিক বাধ্যবাধকতাও এ চুক্তিতে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ চুক্তি বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটা অস্বাভাবিক সময়ে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ধরনের চুক্তি বাংলাদেশসহ আরো অনেক দেশের সঙ্গেই সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিমান এরই মধ্যে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ও এর অতিরিক্ত কেনারও সুযোগ রয়েছে। পরিষ্কারভাবে বলা যায় যে এটি এক ধরনের বৈষম্যমূলক চুক্তি। একই ধরনের চুক্তি শুধু বাংলাদেশ না, আরো অনেক দেশের সঙ্গে সই হয়েছে। ওইসব দেশেও এ চুক্তি নিয়ে এক ধরনের সমালোচনা আছে। কারণ গত বছর এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্প রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের নামে যে ধরনের একতরফা ট্যারিফ ঘোষণা করেছেন, সেটি সারা বিশ্বের বাণিজ্য ব্যবস্থাকে বড় ধরনের সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ ট্যারিফের কারণে, তাদের পক্ষে ডব্লিউটিওতে যাওয়াটাও খুব কঠিন। ফলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানিকে ধরে রাখার জন্য যেসব বিষয়ে একমত হয়েছে, সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।’

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে

Loading...

তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি যে সাময়িকভাবে এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য হয়তো এ ধরনের একটি চুক্তি হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে আমি নিশ্চিত যে এ চুক্তি নিয়ে নতুন সরকার নিশ্চয়ই আরো চিন্তাভাবনা করবে।

চুক্তির আওতায় বাণিজ্য বা অর্থনীতির বাইরে ভূরাজনৈতিক যেসব বিষয় যুক্ত রয়েছে, সেগুলো একটা দেশের স্বাধীন অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমার মনে হয় যে এটা কোনো টেকসই চুক্তি না। আমার দৃষ্টিতে ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন ঘটলে তারাও সেটি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।’

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে

Loading...

আরো পড়ুন

বণিক বার্তা

Loading...

Loading