ইরাকে যেমন হয়েছিল ইরানেও কি তেমনই হবে
Loading...

ইরাকে যেমন হয়েছিল ইরানেও কি তেমনই হবে
মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। ওয়াশিংটনের সামরিক প্রস্তুতি আর তেহরানকে ঘিরে কঠোর ভাষণে স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসছে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের স্মৃতি। সিএনএন এক বিশ্লেষণে প্রশ্ন তুলেছে ট্রাম্পের হামলায় ইরান কি ইরাক হয়ে উঠবে
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া মার্কিন নেতৃত্ব কাঠামোর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা নড়বড়ে না করলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতার উত্থান কঠিন হতো। সেই প্রেক্ষাপটে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আলোচনা এক ধরনের ঐতিহাসিক বিদ্রুপ হিসেবেই দেখা দিচ্ছে
কাতারের সব আপডেট হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে ক্লিক করুন
Loading...
ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও ইরানে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এমন তথ্য নেই। তবে তাঁর নির্দেশে ওই অঞ্চলে বড় ধরনের নৌ ও বিমান শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে যা ইরাক আক্রমণের পর সবচেয়ে বড় সমাবেশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৩ সালে সেই অভিযানে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল
জেনেভায় শুরু হওয়া আলোচনায় ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশল হিসেবেও এই সামরিক উপস্থিতি ব্যবহৃত হতে পারে। কিন্তু কূটনৈতিক অগ্রগতি না হলে এবং কোনো সংঘর্ষ ছাড়াই বাহিনী ফিরিয়ে নিতে হলে তা ট্রাম্পের রাজনৈতিক মর্যাদায় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন আন্দোলনের ভিত্তিই ছিল বিদেশি যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা
Loading...
বিশ্লেষণে বলা হয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত থাকলেও জনমত এখনো প্রস্তুত নয়। ইরাক আক্রমণের আগে জর্জ ডব্লিউ বুশ দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তুলেছিলেন যদিও পরে তা ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল বলে প্রমাণিত হয়। ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত সুসংহত ব্যাখ্যা দিতে পারেনি
স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প আবারও বলেন ইরানকে কখনোই পারমাণবিক বোমা পেতে দেওয়া হবে না। অথচ এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলায় ইরাকে শত শত মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন
Loading...
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপ ও বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এবং শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম হতে পারে। বিশ্লেষণে বলা হয় এই বক্তব্য ইরাক যুদ্ধের আগে বুশ প্রশাসন ও টনি ব্লেয়ারের সরকারের তোলা হুমকির ভাষার প্রতিধ্বনি বহন করে
২০০২ সালে সিনসিনাতি ও ন্যাশভিলে দেওয়া ভাষণে জর্জ ডব্লিউ বুশ ও ডিক চেনি ইরাকি ক্ষেপণাস্ত্র ও সম্ভাব্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন তা পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত হয়ে ওঠে
Loading...
বিশ্লেষণে আরও বলা হয় ইরাক যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার একটি ছিল যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অবহেলা। ইরান রাষ্ট্র হিসেবে ইরাকের তুলনায় বেশি সংগঠিত হলেও রেজিম পরিবর্তন হলে পরবর্তী পরিস্থিতি কী হবে তা স্পষ্ট নয়
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন তেহরানে রেজিম পরিবর্তনের ফল পূর্বানুমান করতে পারছেন না। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের মতে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে
Loading...
ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিজ্ঞতাও উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্লেষণে। প্রতিপক্ষের আচরণ ভুলভাবে মূল্যায়ন করার কারণে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বহুবার চাপে পড়েছে বলেও সেখানে বলা হয়
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
স্টিভ উইটকফ ফক্স নিউজকে বলেন প্রেসিডেন্ট বুঝতে পারছেন না কেন ইরান চাপে নতি স্বীকার করছে না। তাঁর ভাষ্য এত চাপের মধ্যেও তারা আত্মসমর্পণ করেনি কেন সেটি প্রশ্ন
ইরান গণবিধ্বংসী অস্ত্র না থাকা স্বৈরশাসকদের পরিণতি দেখেছে উল্লেখ করে বিশ্লেষণে বলা হয় শাসন টিকিয়ে রাখতে তারা অস্ত্র কর্মসূচি ছাড়তে অনীহা দেখাতে পারে
Loading...
ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে লিখেছেন সামরিক সিদ্ধান্ত হলে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান সহজেই জেতা যাবে। তবে বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে বাস্তবতা সবসময় পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয় না
ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় বৈঠকে স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও অস্ত্র মানের উপকরণ মজুত নিয়ে কিছু সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও ক্ষেপণাস্ত্র প্রশ্নে জটিলতা রয়েছে
বিশ্লেষণে বলা হয় ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়েছে এবং দেশের ভেতরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতাও বাড়ছে। তবে সামরিক পদক্ষেপে মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে
কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর
Loading...
ট্রাম্প আগে সৌদি আরবে বলেছিলেন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, নিরাপত্তা, সম্প্রীতি, সুযোগ ও উদ্ভাবনের ভবিষ্যৎ নাগালের মধ্যে। ইরানের শাসনব্যবস্থা পতন হলে সেটি তাঁর পররাষ্ট্রনীতির বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হতে পারে
তবে বিশ্লেষণের উপসংহার একটাই ইতিহাস সতর্ক করছে। ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে ইরান প্রশ্নে যেকোনো সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ডেকে আনতে পারে
ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকতে লাইক দিন এখানে
Loading...
আরো পড়ুন
Loading...






