২০ অক্টোবর ২০২৬

কাতারে জন্ম নেওয়া প্রবাসীদের ‘জাতীয় সেবা’র সুযোগ, মিলবে স্থায়ী বসবাসের অগ্রাধিকার

প্রকাশ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
কাতারে জন্ম নেওয়া প্রবাসীদের ‘জাতীয় সেবা’র সুযোগ, মিলবে স্থায়ী বসবাসের অগ্রাধিকার

কাতারে বসবাসরত প্রবাসী ও কাতারি মায়েদের সন্তানদের জন্য দেশটির সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের এক অভাবনীয় সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক ঐতিহাসিক ঘোষণায় জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অ-কাতারি বাসিন্দা (প্রবাসী) এবং কাতারি মায়েদের সন্তানরা এখন থেকে জাতীয় সেবা কর্মসূচিতে (ন্যাশনাল সার্ভিস প্রোগ্রাম) যোগ দিতে পারবেন।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে।

আবেদনের জন্য কী কী যোগ্যতা লাগবে?

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে আবেদনকারীদের অবশ্যই নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:

  • জন্মস্থান ও বয়স: আবেদনকারীকে অবশ্যই কাতারে জন্মগ্রহণ করতে হবে এবং বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।

  • চরিত্র ও অপরাধের রেকর্ড: প্রার্থীকে সচ্চরিত্র ও সুনামের অধিকারী হতে হবে। অসততা বা বিশ্বাসভঙ্গের মতো কোনো অপরাধের রেকর্ড থাকা যাবে না। এছাড়া পূর্বে কোনো চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার ইতিহাস থাকা চলবে না।

  • শারীরিক যোগ্যতা: শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হবে এবং ভর্তি সাক্ষাৎকারে সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে হবে।

  • বৈধতা: আবেদনকারীর কাতারে থাকার জন্য একটি বৈধ রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিপত্র (কাতার আইডি) থাকতে হবে।

বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা

এই কর্মসূচিতে যারা যোগ দেবেন, তারা বেশ কিছু আকর্ষণীয় ও দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা পাবেন:

  • মেয়াদ ও ভাতা: এই সেবার মেয়াদ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। কর্মসূচিকালীন প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৭,০০০ কাতারি রিয়াল পর্যন্ত আর্থিক প্রণোদনা বা ভাতা দেওয়া হবে।

  • চাকরির অগ্রাধিকার: এই সেবা সফলভাবে শেষ করার পর অংশগ্রহণকারীরা কাতার সশস্ত্র বাহিনীতে স্থায়ীভাবে নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

  • স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ: সেবা সম্পন্ন করার পর কাতারের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রবাসীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

কীভাবে আবেদন করবেন?

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগ্রহী প্রার্থীদের সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে 'নিয়োগ' (রিক্রুটমেন্ট) অপশনটি বেছে নিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

  • কাতার আইডি কার্ডের অনুলিপি।

  • একটি বৈধ পাসপোর্টের অনুলিপি।

  • কাতারে জন্মগ্রহণকারীদের জন্য জন্ম সনদের অনুলিপি।

  • কাতারি মায়েদের সন্তানদের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে মায়ের পাসপোর্ট ও জন্ম সনদের অনুলিপি।

তেল-গ্যাসের বিশ্ববাজারে আসতে চলেছে বড় বিপর্যয়! কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
তেল-গ্যাসের বিশ্ববাজারে আসতে চলেছে বড় বিপর্যয়! কাতার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্বে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় ধাক্কা এখনও আসেনি বলে সতর্ক করেছেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি।

তার আশঙ্কা, আগামী দিন ও মাসগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

সোমবার দোহায় গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আল থানি বলেন, জ্বালানির ক্ষেত্রে আমরা এখনও সংকটের চূড়ায় পৌঁছাইনি। আগামী দিন ও মাসগুলোতে এর আরও প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

কাতার ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সামনে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তাঝুঁকি তুলে ধরে আল থানি বলেন, এর মধ্যে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কাও রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকা-েও প্রভাব পড়তে পারে।

গত মার্চে কাতারের রাস লাফান শিল্প কমপ্লেক্সে ইরানের হামলায় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব স্থাপনা মেরামত করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আল থানি বলেন, আমরা বিস্মিত হয়েছিলাম।

তবে ওই ঘটনার পর ইরানের সঙ্গে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ হামলা থেকে কাতার শিক্ষা নিয়েছে উল্লেখ করে আল থানি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো অপ্রত্যাশিত হামলা থেকে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপের বিরোধিতা করেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ট্রানজিট ফি আরোপ করা উচিত নয়। এই নৌপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা শেষ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেনি কাতার : ইরানের হামলার পরও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে দোহা বলে জানিয়েছেন আল থানি। তার ভাষায়, আমরা কখনোই যোগাযোগ বন্ধ করি না। দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

হামলার আগে ইরানের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ককে আস্থাভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেন আল থানি। দুই দেশের অভিন্ন সমুদ্রতলীয় গ্যাসক্ষেত্র এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে তার মতে, টেকসই সমাধানের জন্য আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংলাপ প্রয়োজন।

এতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্যদেশগুলো, পাকিস্তান ও তুরস্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মিত্রদেরও যুক্ত করতে হবে। আল থানি বলেন, আমাদের আস্থা তৈরি করতে হবে।

ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কয়েক দশকের বৈরিতার পর ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে গড়ে ওঠা সহযোগিতার উদাহরণ তুলে ধরেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইরান আমাদের প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে বসবাসের উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

আরও পড়ুন

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

কাতারের কাছ থেকে যেভাবে বিমান উপহার পেয়েছিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে কাতার : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন আল থানি। তার দাবি, গত তিন থেকে চার দশকে দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা সামরিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির ফলে ৯০ শতাংশের বেশি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও চলছে বলে জানান তিনি। এ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি অন্য অংশীদার দেশগুলোর সামরিক কর্মীরাও অবস্থান করেন। চলমান সংঘাতের সময় ইরান এই ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছিল।

কাতারের দাবি, মার্চের শুরুর দিকে একটি হামলার সময় তারা ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এ ছাড়া নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আল থানি। তিনি বলেন, কাতার এখন আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা ও সাইবার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

আল থানি বলেন, আজ আমি আনন্দের সঙ্গে আরও ঘোষণা করছি, শিগগিরই আমরা একটি নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেব। তবে এ উদ্যোগে কোন কোন আঞ্চলিক দেশ যুক্ত থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে নিজেদের ভূখ- রক্ষার প্রস্তুতি থাকবে না। তার ভাষায়, মধ্যস্থতা করার অর্থ এই নয় যে আমাদের পক্ষ থেকে যেকোনো প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত নয়- এমনটা ভাবতে হবে।

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক উত্তেজনা, শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা এবং দেশটির ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বিভিন্ন লঙ্ঘনের বিষয়টি বৈরুত সফরে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি।

লেবানন সফরকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর বিষয়ে আল থানি বলেন, ইসরায়েলের ক্রমাগত উত্তেজনা সৃষ্টির বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর পাশাপাশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা এবং লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের লঙ্ঘন নিয়েও কথা হয়েছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার উপায় এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিও আলোচনায় এসেছে।

আল থানি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পাদিত সব চুক্তি বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন তিনি।

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে কাতারের এই অবস্থান সামনে এল। আল থানি বলেন, প্রস্তাবটির পাশাপাশি জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বিতভাবে হওয়া সব চুক্তি কার্যকর করাও গুরুত্বপূর্ণ।

অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে কাতার ও মিসর। সম্প্রতি মিশরের রাজধানী কায়রোতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত বৈঠকে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি এবং মিসরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহমুদ তৌফিক নিজ নিজ দেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন।

সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে অপরাধ দমন এবং নিরাপত্তা ইস্যু যৌথভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে উভয় দেশ একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

লেবাননের দুর্বল হয়ে পড়া জ্বালানি খাত পুনরুজ্জীবিত করা এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট সমাধানে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কাতার।

এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন লেবানন ও কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

লেবানন সফরকালে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেন, জ্বালানি খাতে সহযোগিতার জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং বাস্তবসম্মত সমাধান উপস্থাপনে তাঁরা একমত হয়েছেন।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেবাননের সঙ্গে এ প্রকল্প নিয়ে বহু বছর ধরেই আলোচনা চলছে। এটি পুরোনো একটি উদ্যোগ হলেও এখন বাস্তবায়নের মুখ দেখতে যাচ্ছে।

জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ কাতারের এই উদ্যোগ লেবাননের দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সমস্যার সমাধানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

দেশটির জ্বালানি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে প্রকল্পটির বিস্তারিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সূত্র: ডন

সৌদির ওপর হামলায় কাতারের কড়া হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সৌদির ওপর হামলায় কাতারের কড়া হুঁশিয়ারি

সৌদি আরবের নিরাপত্তা কাতার তথা সমগ্র উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) যৌথ নিরাপত্তার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতারের মন্ত্রিসভা।

একই সাথে সাম্প্রতিক শূরা কাউন্সিলে দেওয়া মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির ভাষণকে সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মূল দিকনির্দেশনা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দোহায় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল থানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার শুরুতেই সম্প্রতি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বারংবার হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

একে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের মারাত্মক লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সাধারণ নাগরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে কাতার। নিজেদের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সৌদি আরবের গৃহীত যেকোনো পদক্ষেপে কাতারের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের সামাজিক কৌশল (২০২৫-২০৩০)-এর অংশ হিসেবে প্রস্তুতকৃত শিশুদের অধিকারবিষয়ক নতুন খসড়া আইন এবং শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষাসংক্রান্ত খসড়া আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিশুদের নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই খসড়া আইনটি সর্বসাধারণের মতামতের জন্য কাতারের 'আল মিযান' আইনি পোর্টাল ও 'শারিক' প্ল্যাটফর্মে ১০ দিনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

এছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং কাতারএনার্জির যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুতকৃত তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ক একটি খসড়া নির্দেশিকাও মন্ত্রিসভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে।

পারমাণবিক বা তেজস্ক্রিয় উপাদানের ব্যবহার, পরিবহন ও সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মানদণ্ড নিশ্চিত করতে এটি প্রস্তুত করা হয়।

সভা শেষে কাতার-আর্মেনিয়া বিচারিক সহযোগিতা এবং কাতার-বাহরাইন পরিবহন ও লজিস্টিকস সেবাসংক্রান্ত কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকও অনুমোদন প্রদান করা হয়।